চাঁদপুর, বুধবার ২৫ মার্চ ২০২০, ১১ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৭-সূরা মুল্ক


৩০ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৬। যাহারা তাহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি, উহা কত মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।


 


 


শিল্পকে ব্যবসার আত্মা এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি বলা হয়।


-ডিকেন্স।


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
আলোকিত মানুষ ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
মোঃ জাহিদ হাসান
২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী একজন মানুষ ড. বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। অধিকাংশের কাছে বি.কে জাহাঙ্গীর নামে পরিচিত এ মানুষটি প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে সাহিত্যের নানা শাখায় চষে বেড়িয়েছেন দাপটের সঙ্গে। সৃষ্টিশীলতা ও মননশীল সাহিত্যচর্চার জগতে যুগপৎ সাবলীল পরিভ্রমণে সক্ষম গুটি কয়েকজনের মধ্যে বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর নিজ গুণে অনন্য। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষক, কবি, কথাশিল্পী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, শিল্প সমালোচক, অনুবাদক, মননশীল প্রাবন্ধিক ও প্রতিথযশা বুদ্ধিজীবী। তিনি অতি অল্প বয়সে গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে দ্বি-জাতিতত্ত্বের পাকিস্তানের অবচ্ছন্নতামুক্ত থেকে মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে সমাজ রূপান্তরের বোধসম্পন্ন চিন্তার সংস্পর্শে আসেন। সেই থেকে শিল্প সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর মেধাবী পদচারণা ছিলো প্রায় ছয় দশক। তিনি তাঁর চিন্তা এবং কর্মকে নিজ ভূ-খ-ে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রতিটি কর্মে বৈশ্বিক ও বাস্তবিক প্রেক্ষাপটকে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন। আর সেজন্য তাঁর সুনাম-সুখ্যাতি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও ব্যাপৃত।



বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ১৯৩৬ সালের ৯ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার কচুয়া উপজেলার গুলবাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মেঘনাপাড়ের ছেলে বি.কে. জাহাঙ্গীরের শৈশব-কৈশোরের মানস গঠনের কাঁদা-জলের প্রয়োজন খরস্রোতা মেঘনা যোগালেও তা নিরবচ্ছিন্ন হয়নি। পিতার চাকুরিস্থল ঝালকাঠিতেই অতিবাহিত হয় তাঁর শৈশব ও কৈশোরের অধিকাংশ সময়। জীবনের প্রথম দিকে স্বদেশী আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষের প্রত্যক্ষ প্রভাব অবলোকনকারী মানুষ বি.কে. জাহাঙ্গীর। তিনি ১৯৫০ সালে ঢাকা সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭৪ সালে তিনি ইংল্যান্ডের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তাঁর পিএইচডির বিষয় ছিলো 'উরভভবৎবহঃরধঃরড়হ, চড়ষধৎরুধঃরড়হ ধহফ ঈড়হভৎড়হঃধঃরড়হ রহ জঁৎধষ ইধহমষধফবংয্থ. পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে তিনি শিক্ষকতাকেই বেছে নেন। প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরে এ বিভাগে তিনি অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ পদে থেকে তিনি অবসরগ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন।



বি.কে. জাহাঙ্গীর ছিলেন আধুনিক কবি। কবিতাকে অনুষঙ্গ করে তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয়েছিলো অতি অল্প বয়সে। ১৫ বছর বয়সী বি.কে. জাহাঙ্গীর দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালীন ১৯৫০ সালে প্রকাশিত 'নতুন কবিতা কাব্য' সংকলনের তাঁর কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। এ সংকলনের সমসাময়িক অন্যান্য কবি শামসুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। স্মৃতি ও সমকাল ছিলো তাঁর কবিতার প্রধান উপাদান। তিনি প্রতিদিনের জীবনে যা দেখতেন এ দুইকে অবলম্বন করে শিল্পের তুলিতে তা কবিতায় তুলে আনতেন। তাঁর কবিতা যেমন মানবিক চেতনার ধারক, তেমনি জীবনের সাথে সম্পর্কিতও বটে। কবিতায় ফুটে ওঠা দেশ, দেশের সমাজ আর সমাজের মানুষের চিত্র মূলত বাস্তবিক সমাজ চিত্রেরই প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের কবিতাচর্চায় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আমাদের মুখ' প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। যা থেকে পাঠক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কবিতার হৃদ্স্পন্দন সম্পর্কে জানতে পারে। কবি শামসুর রাহমান তাঁর এ কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে বলেন, 'তাঁর কবিতা সকলের কবিতা থেকে আলাদা এবং তাঁর কবিতায় তাঁর নিজের উপস্থিতি বিদ্যমান'। কবিতা ছাড়াও প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, অনুবাদ, গবেষণা সম্পাদনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর অসংখ্য সৃষ্টি। তিনি বহু গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এসব সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। গ্রহণ করেছেন নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। সাহিত্যে অবদানের জন্যে তিনি ১৯৬৯ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো ও ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ফল অব অনার, ২০০৫ সালে কলকাতায় কমরেড মুজাফফর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০০৯ সালে শিক্ষা ও গবেষণায় একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।



বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরকে বলা হয় শিল্পের ব্যবচ্ছেদকারী বা চিত্র সমালোচক। এ খ্যাতি শুধুমাত্র দেশেই নয়। তাঁর এ পরিচিতি দক্ষিণ এশিয়া তথা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। ঢাকায় তখনও আর্ট স্কুল স্থাপিত হয়নি। তখন কলকাতা ছেড়ে আসা জয়নুল আবেদিনসহ অন্যান্য যাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে আর্ট স্কুল খোলার চেষ্টায় ছিলেন বি.কে. জাহাঙ্গীর তাঁদের সাথে মিলে কাজ করা শুরু করেন। সে সময় জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, সফিউদ্দিন আহমেদ কীভাবে ছবি অাঁকতেন তা তিনি পাশে থেকে দেখতেন। সরল আর বক্র রেখাগুলো কীভাবে ছবি হয়ে যেতো তা তিনি শুধুমাত্র দেখতেনই না, মনের মধ্যে জন্ম দিতেন নতুন অনুভব। তখন তিনি তাঁদের চিত্রিত নদী, পাহাড়, বৃষ্টি, ঘরবাড়ি প্রভৃতির ভেতরে থাকা আসল সত্যটাকে অনুধাবন করতেন। প্রকৃত সত্যকে আবিষ্কার করতে গিয়ে হাতে নিলেন রং আর তুলি। চিত্রিত এসব দৃশ্যলোকের ভেতরে থাকা গভীর উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন শিল্পের ব্যবচ্ছেদক বা চিত্র সমালোচক। শিল্পের ভেতরে থাকা সত্য আর দর্শনকে খুঁজতে তিনি বিশ্বভ্রমণ করেছেন, পর্যবেক্ষণ করেছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্পালয় আর শিল্পকর্ম। তিনি এখানেই ক্ষান্ত হননি। কালের চক্রে হারিয়ে যাবে না এমন দেশী-বিদেশী বিভিন্ন চিত্রকর্মের মূলকপি সংগ্রহও করেছেন। চীনা মাটি, কাঠের তৈজসপত্র আর নানা রকম শৈল্পিক কাজের সংগ্রহ দেখলে বোঝা যায় তিনি কত বড় মানের সংগ্রাহক ছিলেন। তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল চিত্রশিল্পীদের কর্মে তিনি যেমনি প্রশংসা করতেন, তেমনি আনন্দিত হতেন। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেন দক্ষিণ এশিয়ার একজন খ্যাতিমান চিত্রসমালোচক।



আগেই বলেছি, স্বদেশী আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষকে খুব কাছ থেকে অবলোকন করা মানুষ বি.কে. জাহাঙ্গীর। ঠিক তেমনি ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলো তাঁর অসাধারণ ভূমিকা। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করলেও পাকিস্তানের একাংশ (পূর্ব পাকিস্তান) বর্তমান বাংলাদেশের মানুষ পূর্বেকার ন্যায় অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও অত্যাচারিত হতে থাকে। হায়েনারা মাতৃভাষা বাংলার উপর প্রথমে আঘাত হানলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার যুদ্ধে সহযোদ্ধা হয়ে উঠেন তিনি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার ঘটনা ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বি.কে. জাহাঙ্গীরকে মারাত্মকভাবে ব্যথিত করে। মায়ের ভাষা বাংলাকে রক্ষায় তিনি সেদিন বন্ধু অগ্রজ হাসান হাফিজুর রহমানের পরামর্শে জেলখানায় লিফলেট বিতরণের দায়িত্ব নেন। জেলখানার বিপরীত পাশে মসজিদে বসে তিনি ছোট ছোট ইটের টুকরোর সাথে লিফলেট বেঁধে জেলখানার ভেতরে ছুঁড়ে মারেন। এমন সাহসিকতার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেন একজন ভাষাসৈনিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিলো অনেকটা বুদ্ধিদীপ্ত। মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধক্ষেত্রে উজ্জীবিত করার চেষ্টায় তিনি 'স্বাধীনতা' নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন। যা পরে 'প্রতিরোধ' নামে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। ঢাকার গেরিলাযুদ্ধে অবরুদ্ধ ঢাকায় পাকিস্তানিদের পরাজিত করতে গেরিলাদের নিকট প্রেরণ করেন ঢাকা শহরের মানচিত্র। তাঁর এ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও সাহসিকতার পরিচয় দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথকেই সুগম করেনি তাঁকেও ইতিহাসে স্থান করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর সাহসী ভূমিকা প্রয়োজনের সময় পরিলক্ষিত হয়। দেশের রাজনৈতিক ও সামজিক সমস্যা আর স্বৈরশাসকদের নানা অপতৎপরতা রুখে দিতে তাঁকে বরাবরই সোচ্চার দেখা যায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ১/১১ প্রেক্ষাপটে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতিবাচক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর লেখনিতে সাহসী ভূমিকা পালন করেন।



ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, এ লেখা বি.কে. জাহাঙ্গীরের মতো একজন প্রজ্ঞাবান মানুষকে মূল্যায়নের জন্যে নয়। বরং তা এ প্রজন্মের কাছে তাঁর মতো একজন সৎ সাহসী লেখক ও একজন কর্মবীর মানুষের বর্ণিল জীবনের কিছু অংশ তুলে ধরা মাত্র। বি.কে. জাহাঙ্গীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার দীর্ঘ জীবনে অগণিত শিক্ষার্থীদের তত্ত্বকে ভেঙ্গে দেখানো, তত্ত্বকে বাস্তব জ্ঞানের সাথে মিলিয়ে উপস্থাপন করা আর সেই বিষয়ে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের আলোকে সর্বশেষ পর্যালোচনার পথ দেখিয়েছেন। একজন সাহসী লেখক হিসেবে তিনি বিপ্লব, জাতীয়তাবাদ, মৌলবাদ, কৃষক সমাজ, ধনতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, লড়াই সংগ্রামে নারীর ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে অবিরাম লেখনির মাধ্যমে পাঠকসমাজে সমাদৃত হয়েছেন। চিত্রকলা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শুধুমাত্র দেশেই নয় বরং আন্তর্জাতিক পরিম-লকেও স্পর্শ করেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও তিনি কর্মপরিধি বৃদ্ধি করেছেন দেশের নৃবিজ্ঞান চর্চায়। দেশের ইতিহাসে নৃবিজ্ঞান চর্চায় তিন দশক ধরে অনন্য অবদান রেখেছেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'সমাজ নিরীক্ষণ কেন্দ্র'।



বি.কে. জাহাঙ্গীর একজন সব্যসাচী লেখক। দেশ, সমাজ, সংসার আর মানুষের পক্ষে মানবধর্মের উদার নৈতিকতার প্রতি রয়েছে তাঁর আকুণ্ঠ সমর্থন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সকল অসততার বিরুদ্ধে এ লড়াকু সৈনিক ও কলমযোদ্ধা আজ আমাদের মাঝে নেই। গত ২৩ মার্চ ২০২০খ্রিঃ তারিখে মৃত্যুর অমোঘ নিয়মে সাড়া দিয়ে চলে যান না-ফেরার দেশে। তাঁর এ চলে যাওয়ায় দেশ হারালো তার এক অকৃত্রিম বন্ধুকে। আমরা এ মহান মানুষটির জন্যে দোয়া করি, আল্লাহ যেনো এ মহান মানুষটিকে ওপারে ভালো রাখেন।



 



মোঃ জাহিদ হাসান : শিক্ষক ও কলাম লেখক।



jahidhasan278@yahoo.com



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৬৫৬৬
পুরোন সংখ্যা