চাঁদপুর, রোববার ৪ আগস্ট ২০১৯, ২০ শ্রাবণ ১৪২৬, ২ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৩। তখন নূহকে আরোহন করাইলাম কাষ্ঠ ও কীলক নির্মিত এক নৌযানে,


১৪। যাহা চলিত আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে; ইহা পুরস্কার তাহার জন্য, যে প্রত্যাখ্যাত হইয়াছিল।


 


 


 


মেঘ যদি না থাকতো তবে আমরা সূর্যকে এমনভাবে উপভোগ করতে পারতাম না। -জন রে।


 


 


নিশ্চয় খোদা তার বিশ্বাসী বান্দাকে তওবা দ্বারা পরীক্ষা করতে ভালোবাসেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
হে আল্লাহ বিনয়ী এ মানুষটাকে সুস্থ করে দাও
এএইচএম আহসান উল্লাহ
০৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বছরটি ২০০৪ কি ২০০৫। আমি তখন চাঁদপুর প্রবাহে সাংবাদিকতা করছি। ব্যক্তিগত কাজে একদিন ঢাকা গেলাম। কাজ শেষ করে শ্রদ্ধেয় দীপু আপার সাথে সাক্ষাৎ করবো এ ইচ্ছা থেকে ঢাকা পৌঁছে আপাকে ফোন দিলাম। বললাম, আপা ঢাকা আসছি, আপনার সাথে একটু দেখা করতে চাচ্ছি। আপা বললেন, ঠিক আছে আমার অফিসে গিয়ে বস্, তোর দুলাভাই আছে সেখানে, আমি তাঁকে বলে দিচ্ছি। সময়টা তখন দুপুর ২টার পর। দীপু আপার ল’ চেম্বার তখন বনানী এলাকায়। আমি তাঁর অফিসে গেলাম। তখন সময় হবে প্রায় ৩টা। আমার এই প্রথম ওই অফিসে যাওয়া। গেইটের সামনে থাকা এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি ডাঃ দীপু মনি ম্যাডামের অফিস? লোকটি হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে বললেন, আপনি কি ম্যাডামের কাছে এসেছেন? কোত্থেকে এসেছেন? আমি তখন বললাম, হ্যাঁ আমি আপার কাছে এসেছি, চাঁদপুর থেকে এসেছি। তখন তিনি আসেন ভেতরে আসেন বলে আমাকে গেইট দিয়ে ঢুকিয়ে অফিসের প্রথম কক্ষে বসতে দিলেন। এরপর তিনি ভেতরে গেলেন। পরক্ষণেই সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি পরা ফর্সা এক ভদ্রলোক ভেতর থেকে এসে আমার দিকে এগিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি কি চাঁদপুর থেকে এসেছেন? আপনার নাম কি আহসান? আমি তখন সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গিয়ে ওনাকে সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করলাম। অবশ্য তিনিই আগে আমাকে সালাম দিয়েছেন। সালাম বিনিময়ের পর বললাম, জ্বি আমি আহসান। তখন তিনি সহাস্যে বললেন, থ্যাংক ইউ। বসেন। দীপু বলেছে আপনার কথা। তখন আর আমার বুঝার বাকি রইল না যে, ইনি দুলাভাই। পরক্ষণেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, খাবার খেয়েছেন? আমি বললাম, জ্বি খেয়েছি। এরপর তিনি অফিসের লোক দিয়ে চা নাশতা আনালেন। চা বিস্কুট খেলাম। খানিকক্ষণ আমার সাথে উনি খোশগল্প করলেন। অল্প সময়ের আলাপচারিতায় আমি মুগ্ধ হলাম। মনে মনে বলছি, দুলাভাই এতো ভালো মানুষ, এতো মজার মানুষ !

প্রায় ঘণ্টা খানেক পর আপা আসলেন। ভেতরে আপাসহ ওনার রুমে চলে গেলাম। আপা স্বভাবগতভাবেই জিজ্ঞেস করলেন, কী খবর কেমন আছিস্? খেয়েছিস্ কিছু? বললাম, জ্বি আপা, দুলাভাই অনেক কিছু খাইয়েছেন। বললেন, তোর দুলাভাইয়ের সাথে পরিচয় হইছে? আমি বললাম, জ্বি আপা, পরিচয় হইছে মানে, অনেক কথা হলো, দুলাভাই খুব মজার মানুষ। আপা হেসে দিলেন। এবার আপা চা বিস্কুট আনতে বললেন। আপার সাথে আবার নাশতা করলাম। এরপর নানা বিষয়ে কথা বললাম আপা আর আমি। আপা আমার কাছে ঈদের কিছু শুভেচ্ছা কার্ড দিলেন চাঁদপুরের জন্যে। দলীয় নেতা এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্যদের এই শুভেচ্ছা কার্ডগুলো আপার পক্ষ থেকে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করলেন। চাঁদপুর এসে আমি আপার অনুরোধকে নির্দেশনা হিসেবে নিয়ে দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করলাম।

পাঠক, এবার চলে আসি আমার মূল কথায়। যাঁকে উদ্দেশ্য করে আমার এই নিবেদনটির শিরোনাম, এবং যাঁকে এতক্ষণ দুলাভাই বললাম, তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির স্বামী সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তৌফিক নাওয়াজ। সদা হাস্যোজ্জ্বল, অত্যন্ত বিনয়ী এই ভালো মানুষটির সাথে আমার প্রথম পরিচয় এবং খানিকক্ষণ আড্ডা দেয়ার স্মৃতিচারণটুকু করলাম। এরপর দুলাভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ ২০০৮ সালে আপার নির্বাচনের সময়, যখন তিনি চাঁদপুরে এসেছেন এবং সর্বশেষ গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি একদিন চাঁদপুর এসেছিলেন। সেদিন আপার বর্তমান বাসায় দুলাভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ। অনেক বছর পর দুলাভাইকে দেখা। শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল মনে হলো তখন। কিন্তু কথাবার্তা, আলাপচারিতা ও খোশগল্পে সেই আগের মতোই। কাউকে আপনি ছাড়া সম্বোধন করলেন না। ওনার আগে কাউকে সালাম দেয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ কারো সাথে দেখা হওয়ামাত্র নিজেই আগে সহাস্যে সালাম দিবেন। সেদিন বিকেলেই দুলাভাই ঢাকা চলে গেলেন। আমরা কজন আপার বাসার নিচ পর্যন্ত নেমে দুলাভাইকে বিদায় জানালাম।

এমন একজন নিরহঙ্কার সাদা মনের মানুষটি আজ প্রায় বিশ দিনের মতো হয় শয্যাশায়ী। ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এই মানুষটি ১৭ জুলাই রাতে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমদিকে অতটা সিরিয়াস ছিলো না। কিন্তু যদ্দুর জেনেছি, ১৯ জুলাই রাতে তিনি শোয়া অবস্থায় আবার স্ট্রোক করেছেন। আর এই স্ট্রোকটিতেই তাঁর অবস্থা অবনতির দিকে চলে যায়। তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। ২০ জুলাই তাঁকে সিঙ্গাপুর নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা ওনার অবস্থা জেনে সম্মতি দেন নি। এরপর বলতে গেলে সবাই আশা ছেড়ে দেন। তারপরও প্রাণান্তকর চেষ্টা চলে। বিশ্বখ্যাত নিউরোলজি সার্জারি আনা হয়। দিল্লির গৌরভ গোয়েল বাংলাদেশে আসেন এবং দুলাভাই তৌফিক নাওয়াজের মাথায় সফল অস্ত্রোপচার করেন। আমার যতটুকু জানা, এই অস্ত্রোপচারের দ্বারা দুলাভাইয়ের মাথায় যে রক্তক্ষরণ হয়েছিল তা দূর করা এবং মাথায় বিকল্প পথে রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। আমি জনাব জাফর ইকবাল মুন্নার কাছ থেকে আরো যা জানলাম তা হচ্ছে, এই অস্ত্রোপচারের দ্বারা দুলাভাইয়ের বর্তমান অবস্থা থেকে আর অবনতির দিকে যাবে না হয়ত, তবে অবস্থার উন্নতিও হতে পারে। এর জন্যে সময় লাগবে।  

গত ক’দিন আগে দুলাভাইকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে আসা হয়। এ কেবিন আইসিইউর সকল সুযোগ সম্বলিত। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা গেলাম দুলাভাইকে দেখার উদ্দেশ্যে। সাথে ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান। ঢাকা গিয়ে একসাথ হলাম চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, মৈশাদীর কৃতী সন্তান জুয়েল ঢালী ও বন্ধু রুস্তম ঢালীসহ। বিকেলে আমরা এই ক’জন ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম। হাসপাতালে নিচে দেখা হলো তরপুরচ-ী ও রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে। তাদের সাথে দু চারটি কথা বলে আমরা কজন ছয় তলায় গেলাম। সেখানে গিয়ে কেবিন ব্লকের সামনে অভ্যর্থনার জায়গায় বসলাম। কিছুক্ষণ পর মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর পিও সোহেল রানার সাথে সাক্ষাৎ হলো। প্রিয় ছোট ভাই সোহেল রানা তখন আপার কাছে গিয়ে আমাদের কথা জানালেন। আপা তখন দুলাভাইয়ের কেবিনের পাশেই রুমে ছিলেন। পরক্ষণেই সোহেল এসে আমাদের বললো, ভাই আপনারা আপার সাথে সাক্ষাৎ করলে আপার রুমের সামনে গিয়ে বসতে হবে। আপা এক্ষুণি রুম থেকে বের হয়ে দুলাভাইয়ের কেবিনে যাবেন। সোহেল এ কথা বলামাত্র আমরা সবাই আপার রুমের সামনে গিয়ে সোফায় বসলাম। এক মিনিটের মাথায়ই আপা রুম থেকে বের হলেন। রুম থেকে বের হয়ে তিনি আমাদের দিকে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কীরে কী খবর কেমন আছিস তোরা। তখন আসলে আমি আমার কথাই বলবো, নিজেকে সামলে নিতে কষ্ট হয়েছে। এই অবস্থায়ও আপা আমাদের খবর আগে জানতে চাইলেন। এর দ্বারা আসলে আপাকে যে কী বিশেষণে বিশেষায়িত করবো তা বুঝাতে পারবো না। যাই হোক, সবাই খুব বেদনার্ত, ভয়কাতর ও বিনয়ী হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলে বিষয়টা তখন এমন ছিলো যে, আপাকে কী বলবো, কী জিজ্ঞেস করবো তা হয়ত আমরা ভেবেই পাচ্ছিলাম না। সাহস করে আমি নিজেই একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করলাম, “আপা দুলাভাই এখন কেমন আছেন?” আপাও ছোট্ট করে জবাব দিলেন, আছে... দোয়া কর। আল্লাহই ভালো জানেন। সময় লাগবে হয়ত। সাহস করে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, আপা দুলাভাই চোখ খুলে? আপা বললেন, 'না মানে শরীরের যন্ত্রপাতিগুলো যখন নাড়াচাড়া করা হয় তখন চোখের পাতা সামান্য একটু খোলে।' ব্যস, এতটুকুই। এরপর আপা ‘ভালো থাকিস, দোয়া করিস’ বলে আমাদের বিদায় জানিয়ে দুলাভাইয়ের কেবিনের দিকে চলে গেলেন। আমরাও চলে আসলাম।

আসলে পৃথিবীতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যে সত্তাগত কী মায়া-মমতা, প্রেম-ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা, দায়িত্ববোধ থাকা উচিত, তার দৃষ্টান্ত হতে পারে দীপু মনি-তৌফিক নাওয়াজ দম্পতির জীবনপ্রবাহ।

পাঠক, আবারো ফিরে যাচ্ছি আমার এই নিবেদনটির শিরোনামের দিকে। এ কথা নির্দ্বিধায় বলবো, চাঁদপুরবাসীসহ দেশবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দোয়ার ফলে দুলাভাই এ পর্যন্ত আমাদের মাঝে আছেন। সকলের কাছে আমার বিনীত আর্জি-আমরা আরো বেশি বেশি করে দুলাভাইয়ের জন্যে দোয়া করি, পরম করুণাময় রাব্বুল আলামিন যেনো আমাদের প্রিয় দুলাভাইকে পূর্ণ সুস্থ করে দেন, দীপু আপাসহ দেশবাসীর মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেন। আল্লাহর প্রিয় হাবীব, প্রিয় বন্ধুর উছিলা নিয়ে আমরা সবাই যেনো মাওলার কাছে দুলাভাইয়ের পূর্ণ সুস্থতার জন্য দোয়ার দরখাস্ত করি। আল্লাহ্ যেনো তাঁর হাবীবের উছিলায় তাঁকে শেফা দেন। আমিন, বেহুরমাতে রাহমাতুল্লিল আলামিন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০১৪৩২
পুরোন সংখ্যা