চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০১৯, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।


 


ফটো গ্যালারি
শেষ পর্যন্ত কী হবে?
মজিবর রহমান মুজিব
১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জ্ঞান অন্বেষণের অভিপ্রায় থেকেই পড়ালেখার প্রচলন হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। জগতের জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাদের আহরিত জ্ঞান তাদের রচিত বই-পুস্তকে লিপিবদ্ধ করে রাখেন। আর সেইসব বইপুস্তক সমাজের অন্য জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিরা পাঠ করে উপকৃত হয়। বই পড়ে সমাজ-সংস্কার সম্পর্কে নানাবিধ তত্ত্ব ও তথ্য জানতে পারে। আগের দিনে গুরু গৃহে বসে জ্ঞানের চর্চা হত। তারও আগে হত পাহাড়ের গুহায়। মানুষ ধ্যান যোগে দিব্যজ্ঞান লাভ করতেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হেরা পর্বতের গুহায় বসে ধ্যান করতেন। গৌতম বুদ্ধ কবিলা বস্তু গ্রামে বৃক্ষতলায় ধ্যান করেছেন। হয়েছেন বুদ্ধ বা জ্ঞানী।



পরবর্তীতে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের স্পৃহা বেড়ে যায়। মানুষ প্রচলন করে টোলে লেখাপড়ার ব্যবস্থা। চীন দেশেই এক সময় স্কুলঘর তৈরি করে লেখাপড়া শেখানোর প্রচলন গড়ে উঠে। যার ফলশ্রুতি মহানবী (সাঃ)-এর সেই ছোট্ট ও বিখ্যাত হাদিসটি, বিদ্যা শিক্ষার জন্যে চীন দেশে যেতে হলেও যাও। চৈনিক সভ্যতা থেকে শুরু করে গ্রিক, রোমানীয়, মিশরীয় এমনকি ভারতীয় সকল সভ্যতায় লেখাপড়া শেখানোকেই জ্ঞান লাভের একমাত্র সেরা পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সেই আমলে যারা টোল চালাতেন, নিজ গৃহে রেখে শিষ্য তৈরি করতেন, পরবর্তীতে যারা স্কুল ঘর তৈরি করে লেখাপড়া শেখাতেন তাদের আর্থিক সঙ্গতি বোধ করি কোনদিনই সুবিধের ছিল না। তারা সমাজে কোনো রকম সাদাসিধে ধরনের জীবন-যাপন করতেন। যাকে বলে কোন রকমে ডাল-ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করা। তাদের কাছে ধনের চেয়ে মান বড়-এটাই ছিল মুখ্য কথা। ধন যার তার কাছে থাকতে পারে কিন্তু বিদ্যা সবার কাছে থাকে না। মানুষকে মানুষ করে তোলা মোটেও সহজ কর্ম নয়। তাছাড়া বিদ্যাচর্চা ও বিদ্যাদান করতে যেয়ে তারা হয়ত ধন উপার্জনের কথাটাই ভুলে যেতেন। তখন দিন শেষে শাকান্ন গ্রহণ করেই তৃপ্ত হতেন। অথবা তাদের চিন্তা-চেতনায় ধন লাভের চেয়ে অন্য কিছু স্থান পেত, যা আমাদের চিন্তায় পায় না। রবীন্দ্রনাথের এক কবিতায় আছে-রাজার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করতে যেতে কবি বলেছেন, নানা লোকে নানা পেয়েছে রতন, আমি আনিয়াছি করিয়া যতন তোমার কণ্ঠে দেবার মতন রাজকণ্ঠের মালা। কবির ঘরে খাদ্যের অভাব ছিল; অথচ কবি সে কথা না ভেবে অতি সম্মানিত পুরস্কার লাভ করতে চেয়েছেন। এ কথাটা হয়ত আমরা প্রাধান্য নাও দিতে পারি। আমরা শিখেছি পেটে থাকলে পিঠে সয়। আমাকে যতই গালমন্দ করুক, তুচ্ছ ভাবুক, পিটুনি দিক ক্ষতি নেই। পকেটে টাকা দিলেই হল।



ছোটবেলা থেকে একটা কথা শুনে আসছি সত্যি কিনা জানিনে। মিথ্যে হলে ক্ষমা করবেন। শুনেছি ধনের দেবী, আর বিদ্যাদেবী নাকি একঘরে একসাথে থাকে না। যে লক্ষ্মীর পূজা করে সে সরস্বতীকে নয়। অর্থাৎ যার বিদ্যা আছে, তার ধন নেই। আজকালকার জ্ঞানী ব্যক্তিরা এ তত্ত্ব মানতে নারাজ। তারা ধন ও বিদ্যা একসাথেই পেতে চায়, পেয়েও যায়। বিদ্যাকে উপজীবিকা করে তারা ধন উপার্জনে নেমে পড়েছে। তারা পড়াচ্ছে, টাকা রোজগার করছে। অর্থের পাহাড় গড়ে তুুলছে বিদ্যাকে তারা পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করছে। বিদ্যা সার্বজনীন হয়েছে বলেই হয়ত এ ব্যবসাটা চালিয়ে চাকরিতেই বিশেষ করে সরকারি চাকরিতে একটা বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা আছে। নেই কেবল শিক্ষকতায়। স্কুলগুলোতে ঘুষ নেই, বকশিস নেই। যেটা আছে সেটা হল প্রাইভেট পড়ানো বা কোচিং বাণিজ্য। অতএব শিক্ষক মহোদয়রা সেটাই করছে। পাঁচজনের জায়গায় পঞ্চাশজন পড়াচ্ছে। বইয়ের পরিবর্তে সিট তৈরি করে দিচ্ছে, কেউ কেউ নিজে কুলিয়ে উঠতে না পারলে বউ, ছেলেমেয়েকে কাজে লাগাচ্ছে। তারা ওই সিট দেখে দেখে ছাত্র-ছাত্রীকে পড়িয়ে দিচ্ছে বা মুখস্ত করিয়ে দিচ্ছে। মাস শেষে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করছে না। প্রশাসন না, স্কুল কর্তৃপক্ষ না। অভিভাবকবৃন্দও না। উপরন্তু তাদের সন্তানদেরকে অহেতুক ভালো চাইতে গিয়ে, মিথ্যে ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার কথা চিন্তা করে শিক্ষকদের বাণিজ্যের ফাঁদে পা দিয়ে নিজ সন্তানকে পাঠাচ্ছে কোচিং সেন্টারে। মাসে মাসে গুনছে বাড়িতে ব্যয়ের বোঝা। সবকিছু যেন চলছে এক অদৃশ্য সুতোর টানে। সবাই কেমন যেন গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। কারো মধ্যে কোন বাদ-প্রতিবাদ নেই। সমাজ থেকে এই অপসংস্কৃতি বা দুর্নীতি দূর করার কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারি তরফ থেকে মাঝে মধ্যে একটু হুমকি-ধমকি দেয়। তারপর আবার যেই লাউ সেই কদু। সমাজের মানুষেরা যেন এখন দুর্নীতিকেই নীতি ভেবে এগোতে চাচ্ছে। যেন রবীন্দ্রনাথের গানের মত আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান।



কিন্তু সবকিছুরই যে একটা শেষ আছে। কাল তার গর্ভে জমা করে রাখে না, কিছুই ছুঁড়ে ফেলে দেয় দূরে। সময় বড় জাঁহাবাজ-এমন একটা কথা কোথায় যেন পড়েছিলাম। যে যাই করুক একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে তাকে ফিরে আসতেই হবে। ঘুড়ি যতই উপরে উঠুক একটা সময় পরে সে নিচে আসতে বাধ্য হয়। আইনকে যতই ফাঁকি দেয়া হোক বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হোক, গায়ের জোড়ে অথবা মানুষ জোড়ে ঠুঁটো জগন্নাথ ভাবা হোক এক সময় না এক সময় আইনের প্যাঁচে তাকে পড়তেই হবে। তখন আর কেউ তাকে বাঁচাতে পারবে না। অনেক সময় দুনিয়ার আইন থেকে বাঁচতে পারলেও প্রকৃতির হাত থেকে নয়। জোর করে প্রাইভেট বা কোচিং করানোওয়ালা কতজনকে দেখেছি শেষ পর্যন্ত পাগল হয়ে গেছে। শিক্ষকতাও গেছে, বাণিজ্যও গেছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে ফোরটি নাইন, ফোরটি টু, ফোরটি থ্রি গুনছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭২৯৬৫
পুরোন সংখ্যা