চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৫ আশ্বিন ১৪২৫। ৯ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৩। তোমার সম্বন্ধে তো তাই বলা হয় যা বলা হতো তোমার পূর্ববর্তী রাসূলদের সম্পর্কে। তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল এবং কঠিন শাস্তিদাতা।

৪৪। আমি যদি আজমী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করতাম তবে তারা অবশ্যই বলতো, এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা হয়নি কেন? কী আশ্চর্য যে, এর ভাষা আজমী, অথচ রাসূল আরবীয়। বল : মু’মিনদের জন্যে এটা পথ-নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার; কিন্তু যারা অবিশ^াসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্যে অন্ধত্ব। তারা এমন যে, যেন তাদেরকে আহ্বান করা হয় বহু দূর হতে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


যে গৃহে মা নেই, সে গৃহের কোনো আকর্ষণ নেই।                    


-হাওয়ার্ড জনসন।


কারো অসাক্ষাতে নিন্দা করলে ওজু ও রোজা নষ্ট হয়ে যায়।



 


ফটো গ্যালারি
আলঝাইমার রোগের দশটি লক্ষণ এবং করণীয়
হাসান আলী
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আলঝাইমার হলো মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির স্মৃতি লোপ পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারে না। দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। দিন তারিখ মনে করতে পারে না, চেনা স্থানকে অচেনা মনে হয়। দৃষ্টিগত দূরত্ব নির্ধারণের সমস্যা ও যোগাযোগ করতে সমস্যা হয়। ভুলস্থানে জিনিসপত্র রাখা, বিচার বিবেচনা বোধ কমে যাওয়া, সামাজিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া, মেজাজ এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটা হচ্ছে এ রোগের অন্যান্য লক্ষণ। কেন এই রোগ হয় এর কারণ জানা যায়নি। প্রবীণ ব্যক্তিদের মধ্যেই এ রোগটি দেখা যায়। পরিবারের কেউ আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকলে অন্য সদস্যদের কিছুটা ঝুঁকি থেকে যায়। পুরুষের চাইতে নারীরা বেশি এ রোগে আক্রান্ত্র হন। কারণ পুরুষের চাইতে নারীরা বেশিদিন বাঁচে। আলঝাইমার রোগটি শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা নেই। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞসহ একদল চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমে রোগটি সনাক্ত করা সম্ভব। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিটি কতদিন বাঁচে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া অনেক জটিল। এটা নির্ভর করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও সেবাপ্রাপ্তির উপর। সাধারণত ৮ থেকে ২০ বৎসর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।



আলঝাইমার রোগের চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। রোগটি যেন দ্রুত বেড়ে গিয়ে রোগীর স্বাভাবিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্যে কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কতটা কার্যকর সে নিয়ে নানান প্রশ্ন রয়েছে। আমেরিকায় মানুষের মৃত্যুর কারণ হিসেবে আলঝাইমার ষষ্ঠ স্থান দখল করে আছে। এটা স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের চাইতে সংখ্যায় বেশি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মরণব্যাধি যক্ষ্মা, কলেরা, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। যথাসময়ে চিকিৎসাা নিলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা নব্বই ভাগ। অন্যদিকে আলঝাইমার রোগটির চিকিৎসা নেই, মৃত্যুর সম্ভাবনা শতভাগ। অন্যন্য রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও আলঝাইমার রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। দিন দিন এই রোগটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আমেরিকায় বর্তমান (২০১৮) ৫৭ লাখ মানুষ আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত। ধারণা করা হয় ৫৫ লক্ষ লোক যারা ৬৫ বৎসর অতিক্রান্ত তারা এ রোগে আক্রান্ত। মোট প্রবীণ জনসংখ্যার দশভাগ মানুষ আলঝাইমার রোগী। বিপুল সংখ্যক আলঝাইমার রোগীর সেবা যত্ন-দেখাশোনা করার জন্য অনেক দক্ষ সেবা কর্মীর প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশে প্রায় চার লক্ষ মানুষ আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত। আলঝাইমার রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে দশটি সতর্কতামূলক লক্ষণ সাধারণ মানুষের নজরে আনা খুবই জরুরি বিষয়।



১। সাম্প্রতিক ঘটনা মনে করতে পারবে না কিংবা ভুলে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ দিন তারিখের ঘটনা ভুলে যাবে। একই প্রশ্ন বারবার করতে থাকবে। মনে রাখার জন্যে ইলেকট্রনিঙ্ সামগ্রীর উপর নির্ভরতা বাড়বে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে নাম-ঘটনা-তারিখ তাৎক্ষণিক মনে না পড়লেও পরে সবকিছু মনে পড়বে।



২। পরিকল্পনা মাফিক কোনো কাজ করতে পারবে না কিংবা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে অপারগ হবে। অতি পরিচিত রান্নার প্রণালী ভুলে যাবে। মাসিক বিলপত্র দেয়ার কথা মনে থাকবে না। যে কোনো কিছুতেই মনঃসংযোগ রাখা কষ্টকর হবে। কোনো কাজ শেষ করতে আগের চাইতে বেশি সময় লাগবে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে সাধারণ ভুলভ্রান্তি হবে কিন্তু বড় ধরনের ভুল ভ্রান্তি হবার সম্ভাবনা নাই।



৩। পরিচিত কাজগুলো নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা কঠিন হবে কিংবা দীর্ঘ সময় লাগবে। পরিচিত জায়গা খুঁজে পাবে না। বাজেট অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে না। প্রিয় খেলার নিয়মকানুন ভুলে যাবে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে মাঝে মাঝে ইলেকট্রনিঙ্ কাজে অন্যদের সহায়তা লাগবে।



৪। সময়, তারিখ, ঋতু এগুলো নিয়ে বিভ্রান্তিতে ভুগবে। কোথায় আসছে, কিভাবে নিয়ে আসছে এগুলো মনে করতে পারবে না। স্বাভাবিক বার্ধক্যে মাঝে মধ্যে দিনক্ষণ, তারিখ, ঋতু মনে করতে না পারলেও কিছু সময় পর ঠিক মনে করতে পারবে।



৫। পড়তে সমস্যা হবে। কোনো ছবি দেখে ছবির বিষয় বুঝতে পারবে না। কোনো কিছুর মাঝখানে দূরত্ব, গভীরতা, উচ্চতা বুঝতে অক্ষম হবে। কোন্টা কোন্ রং বুঝতে পারবে না কিংবা পার্থক্য ধরতে পারবে না। স্বাভাবিক বার্ধক্যে চোখে ছানি অপারেশন করলে পরিষ্কার দেখতে পাবে।



৬। কথা বলতে কিংবা লিখতে খেই হারিয়ে ফেলবে। কথার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবে না। সঠিক শব্দ চয়ন করতে পারবে না। একই কথা বারবার বলবে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে মাঝে মধ্যে সঠিক শব্দ খুঁজে পায় না।



৭। কোনো জিনিসপত্র ভুল জায়গায় রাখা। কিছুক্ষণ আগে করা কাজের বর্ণনা দিতে পারবে না। জিনিসপত্র খুঁজে না পেয়ে মনে করবে কেউ নিয়ে গেছে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে কিছু সময় পর কাজের বর্ণনা দিতে পারবে এবং জিনিসপত্র খুঁজে পাবে।



৮। বিচার বিবেচনা বোধ কমতে থাকবে। ভুল লোককে টাকা দেবে। প্রতারণার শিকার হয় বেশি। নিজের শরীরের যত্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকা এগুলোর গুরুত্ব দেবে না। স্বাভাবিক বার্ধক্যে মাঝে মধ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রতারণার শিকার হয়।



৯। সামাজিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেবে। শখের কাজ, বেড়াতে যাওয়া, আড্ডা দেয়া, খেলাধুলা থেকে বিরত থাকবে। স্বাভাবিক বার্ধক্যে পরিবার ও সমাজের প্রতি বিরক্ত হয়ে মাঝে মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেবে।



১০। মেজাজ এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন শুরু হবে। বিভ্রান্তি, বিষণ্ন, সন্দেহপ্রবণ, আতঙ্কিত হওয়া, দুশ্চিন্তা বেড়ে যাবে। অনাবশ্যক উত্তেজিত হয়ে যাবে। স্বাভাাবিক বার্ধক্যে কোনো কিছু করার নিজস্ব নিয়ম পদ্ধতি ভঙ্গ করলে উত্তেজিত হবে। সবসময় নিয়ম মাফিক করার প্রবণতা থাকে, এর ব্যত্যয় হলে রেগে যায়।



উপরের এই দশটি লক্ষণ আপনার কিংবা আপনার প্রিয়জনের মধ্যে লক্ষ্য করলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে চলে আসুন। আলঝাইমার থেকে বাঁচার জন্যে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম করা, পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, ইতিবাচক চিন্তা এবং সৃষ্টিশীল কাজকর্ম সম্পাদন করা।



 



লেখক : সভাপতি,



এজিং সাপোর্ট ফোরাম, বাংলাদেশ।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ১৯২৩০৭
    পুরোন সংখ্যা