চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১২ মে ২০২০, ২৯ বৈশাখ ১৪২৭, ১৮ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৪। ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহারা এই বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদিগকে, আমি উহাদিগকে ক্রমে ক্রমে ধরিব এমনভাবে যে, উহারা জানিতে পারিবে না।


 


 


 


-এ. ডাবিস্নউ হ্যারি।


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


 


 


মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান পরিচালক মনসুর আলী
খেলার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া সহজ
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১২ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাইমচর উপজেলার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের ছেলে মনসুর আলী। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ১৯৮৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মনসুর স্পোর্টিং ক্লাব। রাজধানী ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশের অনেক ফুটবলারই সৃষ্টি হয়েছে এ ক্লাবের মাধ্যমে। দেশের ফুটবলের ক্ষেত্রে সকল ক্রীড়া সংগঠক ও দেশসেরা ফুটবলারদের কাছে এ ক্লাবটি এক নামে পরিচিত।



ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফুটবল দিয়েই যাত্রা শুরু। খেলাধুলাকে অধিকতর জনপ্রিয় করে তোলা আর এর সঠিক মূল্যায়নের দিকটা খেয়াল রেখেই মনসুর আলী আত্মপ্রকাশ করেন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলাকে ভালোবাসতেন। ৪৮ বছরের এ উদ্যমী ক্রীড়াপ্রেমীর প্রতিষ্ঠিত মনসুর স্পোর্টিং ক্লাব ইতিমধ্যেই বেশ সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু নিজের ক্লাবই নয়, তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়দের।



চাঁদপুর জেলার সন্তান মনসুর আলী জার্মানী, জাপান, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশের প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে এবং দেশের গোলাম সারোয়ার টিপু, আব্দুস সাদেক, আব্দুর রহিম চাঁনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে পেয়েছেন প্রশংসাপত্র। এছাড়াও খেলাধুলায় বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্যে তিনি অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে প্রশংসাপত্র অর্জন করেছেন। বাংলাদেশে তাঁর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক হাজারের উপরে খেলোয়াড় আছে।



মনসুর আলীর বাবা তাঁকে সহযোগিতা করেছেন অকৃত্রিমভাবে, প্রেরণা যুগিয়েছেন সবসময়। ১৯৯৪ সালে বাবা ও মায়ের মৃত্যুতে মনসুর হয়ে পড়েন শোকাহত ও মর্মাহত। তিনি ২০১৯ সালে বর্ষসেরা তৃণমূল ক্রীড়াব্যক্তিত্বের সনদ ও সাপোর্টারস ফরম সনদ অর্জন করেন। মনসুরের মহতী উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে যাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা হলেন : আলহাজ নাসির উদ্দিন নাসির, আলহাজ এমএ বাতেন চৌধুরী, মোঃ হারুনুর রশীদ, মোঃ শরিফুল আলম, মোঃ নাসির মিয়া, মোঃ কামরুল হাসান গরিব, মোঃ মান্নান মিয়া, আলহাজ সালেহ্ জামান সেলিম, মোঃ ফজলুল কবির জিল্লু, মোঃ মাসুদ হাসান লিটন, মোঃ সাবি্বর হোসেন, মোঃ কামরুল হাসান রিপন, হাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ মোবারক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব দাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লোকন চন্দ্র শীল, এবিএম ফরিদ খাজা আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিঃ লুৎফর রহমান, আবুল কালাম জমাদ্দার, মোঃ ফজলুর রহমান বাবু, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ মনির মিয়া, মোঃ শাহজালাল, সৈয়দ মির্শাদ আলী, মোঃ নাসির মিয়া, মোঃ নুর ইসলাম নুরু, তুহিন আব্বাস, মোঃ সজিব, চাঁদপুরের ক্রীড়া সংগঠক ও অনেক ফুটবলারের ওস্তাদ, সংস্কৃতিমনা অ্যাডঃ আবুল কালাম সরকার, মোঃ হারুন, মোঃ মিজান, মোঃ জসিম উদ্দিন মিয়াজী, মোঃ ফাহাদ আলী, মোঃ হাবিবুল্লাহ্ খান পাপ্পু, মোঃ হাসান মাহমুদ, মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম রয়েল, আব্দুল জলিল, মোঃ আব্দুল গণি খান, মোতালেব খান, রাহুল ইসলাম প্লাবন, রহমত উল্লাহ্ খোকন, ইসকান্দার মির্জা, মোঃ জালাল উদ্দিন জালুসহ অনেক ক্রীড়া সংগঠকসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ক্রীড়া সাংবাদিকগণ।



মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট দল, ১ম বিভাগ হ্যান্ডবল ও ১ম বিভাগ টেবিল টেনিস দল এবং রয়েছে ব্যাডমিন্টন দল ও রাগবি দল। এটা একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার যে, ব্যক্তিনামে ৬টি ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত ক্রীড়া সংগঠন বাংলাদেশের কোথাও নেই, এমনকি পৃথিবীর কোথাও আছে কি না সন্দেহ। বর্তমানে মনসুর তাঁর ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। মনসুর স্পোর্টিং ক্লাব ও বহুব্রীহি সংসদের দল ছাড়াও তিনি আরো ৪টি দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।



উল্লেখ্য, ফুটবল যাদুকর দোলন মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবের ৯নং জার্সিধারী খেলোয়াড় এবং ফিফা রেফারি মিজান ও সাগর এই ক্লাবেরই সদস্য। এ দলের খেলোয়াড়রা খেলাধুলা ছাড়াও বিভিন্ন কাজে জড়িত রয়েছেন।



ক্রীড়া সংগঠক মনসুর আলী ক্রীড়াকণ্ঠের এ প্রতিবেদককে বলেন, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যে কোনো খেলা, খেলোয়াড় বা সংগঠনকে জনপ্রিয় করে তোলা যায়। এ দেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক ক্রীড়াপ্রতিভা লুকিয়ে আছে। যোগাযোগব্যবস্থা, সুযোগ ও ভালো মাঠের অভাবে এসব প্রতিভা বড় হতে পারছে না। এ ব্যাপারে তিনি ক্রীড়ামোদী মহল এবং ব্যবসায়ীমহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, খেলোয়াড়দের খেলার মাধ্যমেই নিজের দেশকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া সবচেয়ে সহজ।



তিনি বলেন, এখনও সময় আছে, চেষ্টা করার পাশাপাশি যদি ভালো মানের পৃষ্ঠপোষকতা পায় বাংলাদেশ ফুটবল দল, তাহলে একদিন বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে পারবে। এছাড়া ঠিকমতো সাহায্য-সহযোগিতা পেলে অন্যান্য খেলাতেও খেলোয়াড়রা ভালো ফলাফল অর্জনে সক্ষমতা অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ।



চাঁদপুর জেলা শহরসহ উপজেলা এবং অন্য জেলার ক'জন সিনিয়র ও উদীয়মান ফুটবলারের সাথে আলাপকালে তারা জানান, মনসুর স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড়রা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগ ও পাইনিওনিয়ার লীগে খেলে থাকে। এছাড়াও মনসুর আলীর খেলোয়াড়রা রয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। মনসুর আলী বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে আসেন গ্রাম থেকে। আমরা এ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠকের উত্তরোত্তর উন্নতি ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৫৭৯০৪
পুরোন সংখ্যা