চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১২ মে ২০২০, ২৯ বৈশাখ ১৪২৭, ১৮ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৪। ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহারা এই বাণীকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদিগকে, আমি উহাদিগকে ক্রমে ক্রমে ধরিব এমনভাবে যে, উহারা জানিতে পারিবে না।


 


 


 


-এ. ডাবিস্নউ হ্যারি।


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


 


 


সময়ের সাথে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের খেলাগুলো
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম/মোস্তফা কামাল খান সুজন
১২ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমরা এখন যে যেই বয়সী হই না কেন, শৈশবের সময়গুলোতে আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলে এসেছি। বিনোদনের জন্যে আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে নানা খেলায় মেতে উঠতাম। খেলাগুলো ছিল নির্মল বিনোদনে ভরপুর। তখনকার সময়ে তো আর মোবাইলে গেম খেলার উপায় ছিল না!



বর্তমান প্রজন্মকে আমরা শৈশবের কিছু খেলাধুলার সাথে পরিচিত করিয়ে দিবো, যেগুলো এখন আর তেমন খেলা হয় না, অথবা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় খেলাগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সাথে সাথে, সেগুলো কীভাবে খেলতে হবে, তা-ও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এতে অবসরে আপনিও নির্মল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে খেলাগুলো বেছে নিতে পারেন, অথবা ছোটদের শেখানোর মাধ্যমে তাদের নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। সাবেক বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদ ও বিভিন্ন অনলাইনের ক্রীড়াবিষয়ক বিভিন্ন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণখেলার উপর থেকেও এ লেখাটিতে বেশ কিছু তথ্য নেয়া হয়েছে।



গোল্লাছুট : নাম থেকেই বোঝা যায় যে, এ খেলায় গোল্লা থাকবে, যারা কি না ছুটবে। হ্যাঁ, এমনটাই। খেলায় একজন রাজা থাকবে, যিনি কি না প্রধান, আর বাকি সদস্যরা হলো 'গোল্লা'। দুটি দলে বিভক্ত হয়ে খেলতে হয়। উভয় দলে সমান সংখ্যক খেলোয়াড় থাকে। বড় আয়তাকার একটি জমির সমান খেলার মাঠ থাকবে। চারপাশে দাগ দেয়া থাকবে। চারপাশে দাগ টেনে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। গোল্লা এবং রাজাকে বিপরীতপাশের দাগ পার হতে হয়। গোল্লা যখন দৌড়ে বিপরীত দাগ ছুঁতে যাবে, তখন দাগের বাইরে যাওয়া যাবে না। দাগের বাইরে গেলে বা গোল্লাকে ছুঁয়ে দিলে খেলা থেকে বসিয়ে রাখা হবে। আর রাজা দৌড়ানোর সময় ছুঁয়ে দিলে প্রথম দল পরাজিত হবে এবং অপর পক্ষ খেলার সুযোগ পাবে।



শুরুর দিকে দাগের ভেতরে প্রথম পক্ষ নিরাপদভাবে অবস্থান করে এবং শেষ দাগ পার হবার জন্যে চেষ্টা করে। শুরুর দিকের দাগের ভেতরে থেকে অপরপক্ষের কাউকে ছুঁয়ে দিলে অপরপক্ষের ঐ খেলোয়াড়কে খেলা থেকে বসিয়ে রাখা হয়। যখন প্রথমপক্ষ পরাজিত হয়, তখন আবার খেলতে পারে। রাজা শেষ প্রান্ত অতিক্রম করলে প্রথমপক্ষ এক পয়েন্ট পাবে। আর সব গোল্লা শেষ প্রান্ত অতিক্রম করলে যতজন গোল্লা সফলভাবে অতিক্রম করেছে, সবাই শুরুর প্রান্ত থেকে একটা করে লাফ দিবে শেষ প্রান্তের দিকে। এখন শেষ প্রান্তের অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে। এখান থেকে আবার শেষ প্রান্তের দিকে দৌড়ে যেতে হবে। যে কয়জন সফল হবে, তারা আবার লাফ দিবে শেষ প্রান্তের দিকে। শেষ প্রান্ত পেয়ে গেলে এক পয়েন্ট অর্জন করবে প্রথম পক্ষ। তবে খেলাটির সাথে যারাই জড়িত থাকেন তাদেরকে অনেক পরিশ্রমী হতে হয়।



কানামাছি : 'কানামাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছোঁ।' এই বিখ্যাত ছড়াটুকু আশা করি সবারই মনে আছে। ওই একজনের চোখ বেঁধে কানা সাজানো হতো, আর বাকিরা মাছির মতো ঘুরতে থাকতো। চোখ বাঁধার পর সেটা আবার সামনে আঙ্গুল নাড়িয়ে পরীক্ষাও করে নেয়া হতো। তারপর বারকয়েক ঘুরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। চোখ বাঁধা অবস্থায় যাকে ছুঁয়ে দেবে এবং তার নাম বলতে পারলে ওই ধৃতজনই হবে পরেরবারের জন্যে কানামাছি। এক সময়ে এ খেলাটির অনেক জনপ্রিয়তা ছিলো।



দাঁড়িয়াবান্ধা/বদন খেলা : এই খেলার জন্যে দরকার উন্মুক্ত জায়গা। এটাও বেশ জনপ্রিয় খেলা ছিল বৈকি। দুটো দলে ভাগ হয়ে খেলতে হয়, যেখানে প্রতি দলে সচরাচর চার থেকে ছয়জন সদস্য প্রয়োজন পড়ে। এই খেলায় প্রথমে কাঠি/কঞ্চি দিয়ে অনেকটা ব্যাডমিন্টন কোর্টের আদলে আটটি ঘর টেনে নেওয়া হয়। এক ঘর থেকে আর এক ঘরে যাওয়ার সময়ে অন্য দলের বাধা অতিক্রম করতে হয়। ঘর পরিবর্তনের সময়ে প্রতিপক্ষের কেউ পা দিয়ে ছুঁয়ে দিলে সে খেলার বাইরে বসে থাকবে। এভাবে শেষে দলনেতাকেও ছুঁয়ে দিলে অন্য দল খেলার সুযোগ পাবে। শীতকালে দাঁড়িয়াবান্ধা খেলার জমজমাট আড্ডা হতো একসময়। তবে এ খেলাটি মাঝে মধ্যে বিশেষ কোনো কারণে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ছোট পরিসরে আয়োজন করে থাকে।



গোলাপ-টগর খেলা : খেলায় দুটো দল থাকতো। আর দুই দলেরই একজন করে দলনেতা থাকতো, যারা ঠিক করতো তারা কোন্ বিষয় নিয়ে নামকরণ করবে। হয়তো এক দল ঠিক করলো, তারা ফুলের নাম নেবে, আর এক দল ঠিক করলো তারা ফলের নাম নেবে। তারপর দুই দল দু'দিকে চলে গিয়ে ঠিক করতো, দলের কার কী নাম। নাম করা হয়ে গেলে দু'দলের সদস্যরা দু'দিকে লাইন করে বসতো। ফুলের দলের দলনেতা ফলের দলে গিয়ে ঐ দলের কারোর চোখ বন্ধ করে নিজের দলের কারোর নাম ধরে ডাকতো, "আয় তো আমার টগর"। টগর যার নাম হবে, সে গিয়ে যার চোখ বন্ধ করা আছে, তার মাথায় টোকা মেরে নিজের জায়গায় এসে পেছন ফিরে বসবে। তার সঙ্গে ফুলের দলের বাকিরাও পেছন ফিরে বসবে। এবার যার চোখ বন্ধ করা হয়েছিল সে আসবে ফুলের দলের কাছে এবং খুঁজে বের করবে কে মাথায় টোকা দিয়ে এসেছে। এইভাবেই চলতে থাকবে।



কাঠিছোঁয়া খেলা : চক দিয়ে ছোট একটা গোল করতে হয়। গোলের মধ্যে অনেক ম্যাচের কাঠি একসাথে নিয়ে ফেলে দেয়া হতো। অন্য কোনো কাঠি না নড়িয়ে একটা একটা করে কাঠি গোলের বাইরে আনতে হতো। অন্য কাঠি নড়ে গেলে বা কাঠি দাগের ওপর পড়লে আউট হয়ে যেত। এই খেলাটাকে 'কাঠি-কাঠি'ও বলা হত। এক সময় গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির মাঠে বিকেলে খেলতে দেখা যেতো শিক্ষার্থীদেরকে।



লুকোচুরি : প্রথমে দশ, বিশ, ত্রিশ এভাবে একশ' পর্যন্ত গণনা করা হতো। যার কাছে এসে একশ' বলা হতো, সে উঠে অন্যত্র সরে দাঁড়াবে। শেষে যে পড়ে থাকবে, সে হবে এই খেলার চোর। যে চোখ বন্ধ করে উল্টো গণনা করে, আর সেই সময়ের মধ্যে বাকিরা বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে পড়ে। যে চোর হয়, তার কাজ বাকিদের খুঁজে বের করা। খেলার সবচেয়ে মজার অংশটি হলো ধাপ্পা দেওয়া। এর অর্থ, খুঁজতে আসা চোরকে পেছন থেকে ধরে ফেলা। তখন আবার নতুন করে উল্টো গণনা করতে হতো এবং সবাই আবার লুকিয়ে পড়তো। এভাবেই খেলা চলতে থাকতো। এখনও খেলাটির কিয়ৎ প্রচলন থাকলেও সেই জনপ্রিয়তা আর নেই। এ খেলাটি এই রকম ছিলো যে, অনেক সময় এই খেলার সাথীদেরকে ঠিকমতো খুঁজে পাওয়া যেতো না।



কুমিরডাঙ্গা : প্রথমে লটারি করে যে চোর নির্ধারণ হবে, সে হবে কুমির। কুমিরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, জল নেবে নাকি ডাঙ্গা। কুমির কোনো একটি বেছে নিলে সেই হিসেবে বাকিরা চেষ্টা করে কুমিরের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার জন্য। যদি কুমির ডাঙ্গা নেয়, সেক্ষেত্রে বাকিরা জলে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। আর যদি কুমির জল নেয়, তবে সেক্ষেত্রে ঘটবে ঠিক উল্টোটা। কুমির যাকে ছুঁয়ে দেবে, সে হবে পরবর্তী কুমির। এভাবেই একজনের পর একজনের উপর সেই দায়িত্ব পড়ে।



ডাঙ্গুলি : একটি এক-দেড়হাত পরিমাণ লাঠি এবং একটি ছোট লাঠির টুকরা লাগবে। একটা গর্তে ছোট লাঠির টুকরোটা রেখে বড় লাঠি দিয়ে অনেক দূরে ছুঁড়ে মারা হতো। এরপর দূর থেকে ঢিল মেরে বড় লাঠিটি লাগাতে হত। বড় লাঠি গর্তের উপর রাখা থাকে। বিভিন্ন ভঙ্গিতে ছোট লাঠির টুকরা ছুঁড়ে মারা হয়। এই খেলাটি এখন শীতের সময় বিশেষ করে গ্রামে এবং শহরের বিভিন্ন ছোট ছোট মহল্লায় শিশুদের খেলতে দেখা যায়।



এক্কা-দোক্কা খেলা : এক্কাদোক্কা খেলাটি গ্রামে 'কুতকুত খেলা' নামেও বহুল পরিচিত। ছোটবেলায় এই খেলাটি কম-বেশি সবাই খেলে। বাড়ির উঠোন, ঘরের ছাদ বা যেকোনো খোলা জায়গায় এটি খেলা যায়। এই খেলাটি খেলার জন্য প্রথমে আয়তাকার আকৃতির দুটি ও বর্গাকৃতির একটি ঘর করতে হয়। বর্গাকৃতির ঘর কোণাকুণিভাবে দাগ টেনে চারভাগ করা হয়। কমপক্ষে দুজন খেলোয়াড় প্রয়োজন হয়, তবে একাও খেলা যায়। আগে স্কুল চলাকালীন মাঝ-বিরতিতে মেয়েরা স্কুলের মাঠেই তাদের সহপাঠীদের নিয়ে নিয়মিত খেলতেন।



মাটির হাঁড়ির ভাঙ্গা টুকরা বা এমন কিছু যা এক পায়ে টোকা দিয়ে সরানো যাবে, এই উপকরণটিকে 'চাড়া' বলা হয়। এবার একজন চাড়াটি প্রথম ঘরে ফেলে এক পায়ে দাঁড়িয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে টোকা দেয়ার সময় 'কুত কুত' বলতে বলতে একটি করে ঘর অতিক্রম করবে। সব ঘর ঘুরে চাড়াটি দাগের বাইরে নিয়ে আসতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ঘরে চাড়া ফেলে চাড়াটি টোকা দিয়ে সব ঘর অতিক্রম করতে হবে। এভাবে একটি একটি করে সব ঘরে চাড়া ফেলতে হয়। যে নিয়ম মেনে সব ঘরে চাড়া ফেলে সবার আগে অভিযান সম্পন্ন করবে, সে-ই জয়ী হবে। এই প্রক্রিয়ার কোথাও চাড়া বা পায়ের কোনো অংশ ঘরগুলোর দাগে স্পর্শ করলে, টোকা দেয়ার সময় একটি ঘর বাদ রেখে অন্য ঘরে চাড়া চলে গেলে, কিংবা দম ফুরিয়ে গেলে, তখন অন্য খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবে। স্থানভেদে ঘর কম-বেশি বা ভিন্নরকম করে অাঁকানো হয়, কিন্তু খেলার অন্যান্য নিয়ম প্রায় একই। এ ক্ষেত্রে এ খেলায় যারা অংশগ্রহণ করে তাদেরও দম থাকতে হয় বেশি। শ্বাসকষ্টের রোগীরা এ খেলাটি পছন্দ করেনা তেমন।



স্যান্ডেল চোর : সবার স্যান্ডেলগুলো সরলরেখার মতো করে রাখতে হয়। অপরপাশে আরেকটা দাগের ভেতর থেকে দম নিয়ে শব্দ করতে করতে স্যান্ডেলগুলোর কাছে আসবে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় এই স্যান্ডেলগুলো পাহারা দেবে। দম থাকতে জুতার সমান্তরাল রেখার বাইরে থেকে ভেতরে থাকা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়। এরপর যেই না স্যান্ডেল নিয়ে যেতে থাকে, তখন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় চোরকে ছুঁয়ে দেয়। নিজেদের দাগের ভেতর স্যান্ডেল নিয়ে সফলভাবে চুরি করা সম্ভব হলে এক পয়েন্ট অর্জিত হয়। আর যদি কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছুঁতে গিয়ে দম হারিয়ে ফেলে তাহলে পয়েন্ট কর্তন হয়ে যায়।



চারগুটি : শোলা এক আঙুল পরিমাণ কেটে দুই ভাগ করতে হয়। এ রকম চারটা টুকরা প্রয়োজন হয় এই খেলায়। চারটা অর্ধ টুকরা বা গুটি হাতের মধ্যে নিয়ে উপর থেকে ফেলতে হয়। চারটা গুটির সমান্তরাল পাশই উপর দিক হয়ে পড়লে একেকটা গুটি ধরতে পারলে চার পয়েন্ট পাবে। যে ফেলে সে ছাড়া অন্যরা এতে কাড়াকাড়ি করে ধরার চেষ্টা করে। আর যদি চারটার কোনোটা পাশেরটায় পড়ে তাহলে যে গুটিগুলো ফেলেছে সে চার পয়েন্ট পাবে এবং খেলা শুরু হয়ে যাবে। টোকা দেবার সময় একটা গুটি দিয়ে একটা গুটিই টোকা দেয়া যাবে। একের অধিক গুটি ছোঁয়া লাগলেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবে। একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টের টার্গেটে যে পৌঁছাবে, সে জয়ী হবে। আর একটু ভুল করলেই টার্গেট মতো পেঁৗছা যায় না।



মার্বেল খেলা বা গুটি খেলা : মার্বেল হল কাচের বা প্লাস্টিকের তৈরি ছোট ছোট বল। গ্রাম বাংলার ছেলে-মেয়েরা এই কাচের মার্বেল দিয়ে নানা ধরনের খেলা খেলত। খেলার মূল ধারণাটি ছিল আঙ্গুলের সাহায্যে একটি মার্বেল দিয়ে অপর একটি লক্ষ্যে মার্বেলকে আঘাত করা। আরেকটি নিয়ম ছিল দুটি দাগ টানা হত। দুটি দাগের বাইরে পা রেখে বসে থেকে অন্য দাগের বাইরে গুটি চালা হতো। এরপর একটা গুটি দিয়ে অনেক গুটির মাঝে শুধু একটি গুটিকেই লাগাতে হতো। যদি একের অধিক গুটিতে স্পর্শ লাগে, তাহলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা খেলার সুযোগ পাবে। আর একটি গুটিতে লাগলে নির্দিষ্ট সংখ্যক গুটি যে চালবে, তাকে দিতে হতো। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে খেলাটির নানা ধরনের নিয়ম আছে এবং খেলোয়াড়রাও নিজেদের কিছু শর্ত বা নিয়ম তৈরি করে। এ খেলাটি আগে বিভিন্ন গ্রামের সাপ্তাহিক মেলাগুলোতে বেশি দেখা যেতো। যা লটারীর মাধ্যমে শিশুরা খেলতো।



দেশলাই ও সিগারেটের বাঙ্ দিয়ে খোলা খেলা : সিগারেটের বাঙ্কে দুভাগ করা হত। প্রতিটা আলাদা ব্রান্ডের সিগারেটের জন্য আলাদা ধরনের দাম নির্ধারণ করা হত। কাচের বা মাটির হাঁড়ির ভাঙ্গা টুকরা দিয়ে খেলা হতো। কারো খোলা বা ভাঙা টুকরা সেটা হাত দিয়ে দূরে ফেলা হতো এবং বলা হতো, এত টাকা দেবো। কারো খোলাকে দূর থেকে ছুড়ে স্পর্শ করতে পারলে সে ঐ পরিমাণ টাকা পেতো। এই টাকা সিগারেটের বাঙ্রে কারেন্সিতে পরিশোধ করা হতো। এক সময় এ খেলাটির জন্য স্কুল-পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বাড়ি যাওয়ার পথে দামি কোনো সিগেরটের প্যাকেট পেলে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে যেতো। আবার কিছু ছোট ছোট ছেলেরা সারাদিন সিগেরেটের প্যাকেট সংগ্রহ করে যারা খেলতো তাদের কাছে বিক্রি করতো।



লাটিম খেলা : লাটিম বাংলাদেশের অন্যতম গ্রামীণ খেলা। আগে সুতার মিস্ত্রিরাই গ্রামের কিশোরদেরকে লাটিম বানিয়ে দিত। তারা সাধারণত পেয়ারা ও গাব গাছের ডাল দিয়ে এই লাটিম তৈরি করতো। এতে লাটিম অনেক শক্ত হয়। নির্বাচিত পাট থেকে লাটিমের জন্য লতি বা ফিতা বানানো হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তুলাজাতীয় নরম কাঠ দিয়ে লাটিম এবং গেঞ্জির কাপড় দিয়ে লাটিমের ফিতা বানানো হয়। এই খেলাটি এখনও জনপ্রিয় রয়েছে। তবে শহরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের চেয়ে গ্রামের ছেলে-মেয়েদের লাটিম খেলাটি অনেক সুন্দর হয়।



ষোল গুটি ও বাঘ বকরি খেলা : দুটি খেলার ঘর অাঁকানোর নিয়ম একই। দুই পাশে ১৬টি করে গুটি সাজানো থাকে। একটি গুটি সামনে পেছনে বামে ডানের নিকটতম বিন্দুতেই শুধুমাত্র চাল দেওয়া যায়। অপরপক্ষের গুটি থাকলে চাল দেয়া যায় না। তবে অপরপক্ষের গুটি একটি সরলরেখার দ্বিতীয় বিন্দুতে, নিজের গুটি প্রথম বিন্দুতে ও তৃতীয় বিন্দু ফাঁকা থাকলে আপনার গুটি তৃতীয় বিন্দুতে রাখতে পারবেন। এই নিয়মে এক বা একাধিক গুটি খাওয়া যায়। এ খেলায় অপরপক্ষের গুটি সবক'টি খেতে পারলে আপনি জয়ী হবেন।



এ তো গেল ষোল গুটির কথা। বাঘ-বকরি বা বাঘবন্দী খেলায় একটিমাত্র গুটি থাকে, যাকে বাঘ বলে। এই বাঘকে ছাগল খেতে পারে না। একে আটকানোর চেষ্টা করা হয়, যেন কোনোদিক গুটি সরাতে না পারে। আরেকপক্ষে ১৬টি ছাগল, তথা গুটিগুলো ষোলগুটির নিয়মেই সাজানো থাকে। ঐ একই নিয়ম, বাঘ-বকরি খেলার ঘরের মধ্যে যে বিন্দুগুলো থাকে, গুটিগুলো ঐ বিন্দুগুলো দিয়েই নড়াচড়া করবে। ধরা যাক একটি সরল রেখার তিনটি বিন্দুর মাঝে প্রথম বিন্দুতে কোনো গুটি নেই, দ্বিতীয় বিন্দুতে ছাগলের গুটি আর তৃতীয় বিন্দুতে বাঘের গুটি রয়েছে। এক্ষেত্রে বাঘের চাল দেয়ার সময় হলে বাঘ তৃতীয় বিন্দু থেকে গুটি সরিয়ে প্রথম বিন্দুতে রাখবে এবং ছাগলকে ঘরের বাইরে রেখে দেবে, যাকে 'গুটি খেয়ে দেয়া' বলে। এভাবে গুটি সব খেলে বাঘপক্ষ জিতবে। আবার বাঘের চাল দেয়া আটকাতে পারলে ছাগলপক্ষ জিতে যাবে।



ষোল ঘুটি খেলাটি আগের সময়ে বেশি খেলতে দেখা যেতো বিভিন্ন বিড়ি-শ্রমিক ও বড় বড় নৌকার মাঝি-মাল্লাদের। তারা বিকেল হলেই বিভিন্ন কারখানার মাঠে কিংবা বড় ঘাসি নৌকার উপরে বিভিন্ন কাঠের ছোট-টুকরা কিংবা ইটের টুকরা ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে খেলতে বসতো।



বালিশ খেলা : গোল হয়ে বসতে হয়। একজন না দেখে একটু পরপর বাঁশি দিবে। বাঁশি দিলে যার কাছে বালিশ থাকবে, সে বাদ পড়বে। এভাবে শেষজন যিনি হবেন সে খেলার জয়ী। এ খেলাটি এখনও শহর এবং গ্রামঞ্চলে হয়ে থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ভাবে এ খেলার আয়োজন করা হয়। চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে গত কয়েক বছর ধরে বার্ষিক ফ্যামিলি ডে-র ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এ আয়োজনটি করা হয়। এ আয়োজনে ব্যাপক উপস্থিতি থাকে বিশেষ করে নারীদের।



রুমালচোর : চোরকে উল্টোদিক হয়ে থাকতে হয়, আর অন্যরা গোল হয়ে বসে থাকে। এ সময় চোরের অজ্ঞাতে একজনের কাছে গোপনে রুমাল রাখা হয়। রুমাল রাখা হলে সবার দিকে পাশ ফিরতে হয়। এবার চোরের কাজ হলো, যার কাছে রুমাল রাখা আছে, নির্ভুলভাবে তার নাম বলা। যদি ভুল হয়, তাকে আবার চোর সাজতে হয় আগের মতো করে। এভাবে ভুল করলে রুমাল খোঁজার জন্য চারপাশে অনেকবার ঘুরতে হয়।



ঘুড়ি উড়ানো : আকাশে ঘুড়ি উড়ানোর প্রচলনটা সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন খুব কমই ঘুড়ি উড়ানো দেখতে পাওয়া যায়। আগে বিভিন্ন জেলায়ই এ ঘুড়ির প্রতিযোগিতা হতো। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষাথীরা বিকেল বেলায় মাঠে ঘুড়ি নিয়ে চলে আসতো। এরপর কে কার ঘুড়ি কাটবে এই নিয়ে প্রতিযোগিতা চলতো। আর স্কুল বন্ধ পেলেই বাজার থেকে সাগুদানা, বোতল ভাঙ্গা মিশিয়ে জাল দিয়ে লেই বানিয়ে ঘুড়ি উড়ানো সুতাতে মিশিয়ে রোদে বসে থাকতো, কখন সুতা শুকাবে এবং মাঞ্জাটা ভালো হবো যাতে করে প্রতিপক্ষের সাথে ঘুড়ি উড়িয়ে তারটা কেটে দেয়া যায়। চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক এলাকা পুরাণাবাজার মোমফ্যাক্টরী এলাকায় লেদার ঘুড়ি ছিলো সবচেয়ে প্রচলিত। তিনি পাংখা ঘুড়ি, লেজকাটা ঘুড়ি, শাপের লেজ মার্কা ঘুড়ি বানাতেন এবং ঘুড়ি উড়ানোর মওসুমে তার ভাড়াটিয়া বাসাতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ও পাড়া-মহল্লার ছেলেদের ভীড় লেগেই থাকতো।



কাবাডি : কাবাডি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এবং জাতীয় খেলা। কাবাডি খেলাটি বাংলাদেশে 'হাডুডু' নামেও পরিচিত। জমজমাট আসর বসতো এই খেলাকে কেন্দ্র করে। প্রতিযোগিতার আয়োজনও হতো। এই খেলার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। মাঝে মাঝে বিশেষ করে বাঙালির বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত কয়েকবছর ধরে চাঁদপুর শহরের বড়স্টেশন লাগোয়া মোলহেডে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজন করে থাকে। তবে এ কাবাডি খেলা ও প্রতিযোগিতার সাথে মূলকমিটির দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি। এ জন্যে গত কয়েকবছর ধরেই যে জেলাতেই এ খেলাটির আয়োজন করা হয় , সেখানে জেলা পুলিশের দল সহ তাদের সহযোগিতা থাকে সবচেয়ে বেশি।



ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা : এই খেলায় একজন চোর হবে। অন্যরা আশেপাশেই ঘুরঘুর করবে। দম নিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে দৌড়ে চোর যাকে ছুঁয়ে দেবে, পরবর্তীতে সে-ই হবে চোর। দম নিয়ে আবার সেই নির্দিষ্ট স্থানে ফেরত আসতে হবে চোরকে। চোরের দম ফুরিয়ে গেলে, ঘরে বা নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করার আগে অন্য কেউ চোরকে ছুঁয়ে দিলে সে আবার চোর হবে। এ খেলায় যার সবচেয়ে বেশি দম বড় থাকে সে নিজ নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সবচেয়ে বেশি।



পাঁচগুটি/কড়ি খেলা : পাঁচটা কড়ি পাথর দিয়ে হাতের নানান কসরতে পাঁচগুটি খেলা হত। হাতের করে কখনো একটা গুটি রেখে বাকি চারটা উপর ছুঁড়ে দিয়ে ধরতে হয়, নিচে পড়ে গেলে প্রতিপক্ষ খেলার সুযোগ পায়। আগে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনদের মধ্যে এ খেলাটির প্রচলন ছিলো। বিশেষ করে চরাঞ্চলের সমস্ত জেলে নদীতে মাছ ধরা শেষে বিকেলের অবসর সময়েই নদীর পাড়ে বা অনেক সময় জেলে নৌকায় বসেই কড়ি নিয়ে খেলতে বসতে। অবশ্য এখন আর এ সমস্ত খেলোয়াড় চোখে পড়ে না।



টাগ অব ওয়ার : দুই দলের মাঝখানে একটি দাগ দিতে হয়। একটি লম্বা ও শক্ত দড়ি লাগবে। এরপর দুই দল দড়ি ধরে টানাটানি করবে। যে দল নিজের দিকে দড়ি টেনে নিয়ে আসবে এবং অপরপক্ষকে দাগ অতিক্রম করতে বাধ্য করবে, তখন ওই পক্ষ খেলায় জিতে যাবে। এ খেলাটি অবশ্য এখন বিভিন্ন ব্যাংকের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেখা যায়। গ্রামাঞ্চলে বর্ষবরণ ও ঈদের দিনের বিকেল বেলায় এ খেলাতে নেমে পড়েন ঈদে বাড়ি ফেরা বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বয়সী পুরুষেরা।



টায়ার দৌড়ানো : মার্বেল খেলার মতো নিষেধাজ্ঞায় জড়ানো একটি মজার খেলা টায়ার দৌড়ানো। রিঙ্া, ভ্যান কিংবা ছোট তিন চাকার যানের চাকাগুলো নিয়ে অনেকেই গ্রামের পথে-ঘাটে দৌড়ে বেড়িয়েছেন শৈশবে। অবশ্য এর জন্য প্রচুর বকাঝকাও শুনতে হয়েছে। অবশ্য এখন শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার , বিশেষ করে বেদে পল্লী, কিংবা বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসকারী বিভিন্ন বয়সী ছেলেরা রিঙ্ার চাকা কিংবা মোটরসাইকেলের চাকা নিয়ে খেলতে থাকে। এ খেলাটি যে খেলে তার শরীরের জন্যে সেটি খুব সহায়ক হিসেবে কাজ করে।



লাঠি খেলা : লাঠি খেলার প্রচলন এখনো আছে। কিন্তু এই খেলা শেখার আগ্রহ তরুণদের মাঝে কমে যাচ্ছে। যার কারণে পুরানো খেলোয়াড়রা বয়স্ক হয়ে পড়লে খেলোয়াড় সংকট দেখা দেবে এবং আগের মতো খেলা দেখায় আর মজা পাওয়া যাবে না। লাঠি দিয়ে আরেকজনকে মারতে হয়, আর সেই খেলোয়াড় লাঠি দিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করে। তারপরও দুই-একটা লাঠির আঘাত খেতেই হয়। এ খেলাটি চাঁদপুর জেলা শহরে নিয়মিত দেখা না গেলেও মহরম মাসে চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার রিফিউজি কলোনীর সাবেক বিহারীদের সন্তানদের হাতেগোণা কয়েকজন তাজিয়া মিছিল নিয়ে বের হলে কিংবা রাতের বেলা নিজেরা-নিজেরাই এ খেলাটি খেলে দর্শকদের আনন্দ দেয়।



মোরগ লড়াই : মোরগের লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, বর্ষাকালে নৌকাবাইচ, গ্রীষ্মকালে ঘোড়দৌড়, গরুর গাড়ির দৌড়-এই খেলাগুলোর প্রচলনও আস্তে আস্তে আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখিত কিংবা অনুল্লেখিত নাম না জানা আরো অনেক খেলাই রয়েছে, যা আমাদেরকে নির্মল বিনোদন দেয়। শুধু বিনোদনই নয়, শৈশবে এই খেলাগুলোর মাধ্যমে মানসিক বিকাশ হওয়ার পাশাপাশি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষতাও বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করে। আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালনা হওয়ায় সেগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।



নৌকা বাইচ : এ খেলাটি গ্রাম-বাংলার জনপ্রিয় একটি খেলা। চাঁদপুর জেলায় এ খেলাটি নিয়মিত আয়োজন করা না হলেও মুন্সিগঞ্জ সহ উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলাতেই এ খেলাটির আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জের অনেক লোকজনই নৌকাবাইচে অংশ নেয় বেশি। বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর পৃষ্ঠপোষকতায় নদীতে এ ধরনের আয়োজন করা হয়। কয়েক বছর আগে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নৌকা-বাইচের আয়োজন করেছিলো।



ষাঁড়ের লড়াই : এ খেলাটির এখনও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এখনও বাংলা বর্ষবরণ ও বিভিন্ন পৌষ সংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে উত্তরাঞ্চলের লোকজন এ খেলাটির আয়োজন করে থাকে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এ খেলাটির আয়োজন করা হয়। দেশী এবং বিদেশী প্রজাতির বিভিন্ন জাতের ষাঁড় নিয়ে প্রতিযোগীরা খেলাতে অংশ নেয়।



ঘোড়া দৌড় : এ খেলাটি অবশ্যই বিশেষ কোনো দিবসে আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে এ প্রতিযোগিতায় যে সমস্ত ঘোড়া অংশগ্রহণ করে সেই ঘোড়াগুলো সবসময়ই একটু আলাদা পরিসরে রাখা হয় বিশেষ যত্ন সহকারে। বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে এ খেলার আয়োজন করে ডিফেন্সে কর্মরত কর্তা ব্যক্তিগণ। এ খেলার আয়োজনের আগে প্রত্যেক প্রতিযোগীকে অনেক কঠোরভাবে অনুশীলন করে যেতে হয়। কারণ যে ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে তার সাথে প্রতিযোগীকে মানিয়ে নিতে হবে। রাজশাহীতে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার সারদা'য় গেলে দেখা যাবে বড় বড় অনেক সুঠাম দেহের ঘোড়া। এ সমস্ত ঘোড়া কিন্তু সাধারণ মানুষ ঠিকমতো দেখতেও পায় না। এ প্রতিবেদক তার পত্রিকার শ্রদ্ধেয় প্রধান সম্পাদক চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীর মহাপরিচালক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত ও জেলার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ঘুরতে গিয়ে রাজশাহীতে পুলিশের ট্রেনিং সেন্টার সারদা'য় সেই ঘোড়াগুলো দেখার সুযোগ মিলে। যে স্থানে ঘোড়াগুলো নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় সেই স্থানটিও ঘুরে দেখেছেন। অবশ্য এ সকল কিছুর জন্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে চাঁদপুর জেলার দুঃসময়ের সাহসী পুলিশ সুপার ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে তখন কর্মরত শ্রদ্ধেয় আমির জাফরের নিকট। ওই সফরে চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটওয়ারী, ছানাউল্লা খান, অজিত সাহা ও বাসুদেব মজুমদার ছিলেন।



শৈশবের এই খেলাগুলো বাঁচিয়ে রাখা আমাদেরই দায়িত্ব। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে খেলাগুলো শিখানোর মাধ্যমে আমরা এই নির্ভেজাল আনন্দের খেলাগুলো হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি। অবশ্য বর্তমানে মোবাইলের কারণে এখন আর সেই শৈশবের খেলাগুলো নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীরই আগ্রহ দেখা যায় না। এছাড়া বর্তমানে কোথাও আয়োজন করা হয় না। এছাড়া বিভিন্ন স্কুলে কর্মরত ক্রীড়া শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর তেমন কোনো আয়োজন করতে দেখা যায় না। প্রত্যেক স্কুলের বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে যদি সপ্তাহে দু-একদিনও প্রতিটি বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক ও শিক্ষিকারা দায়িত্ব নিয়ে খেলার আয়োজন করে, তাহলে গ্রামবাংলার এ খেলাগুলো বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭০৮৯৬১
পুরোন সংখ্যা