চাঁদপুর, মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ২০২০, ১০ চৈত্র ১৪২৬, ২৮ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৭-সূরা মুল্ক


৩০ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হইয়া তোমার দিকে ফিরিয়া আসিবে।


৫। আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করিয়াছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং উহাদিগকে করিয়াছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং উহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছি জ্বলন্ত অগি্নর শাস্তি।


 


 


বই পড়তে যে ভালোবাসে তার শত্রু কম।


-চালর্স ল্যাম্ব।


 


 


রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে সাক্ষাৎকারে অনূর্ধ্ব জাতীয় ১৬ দলের ক্রিকেটার মাহফুজ
চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীর কারণেই জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একেবারেই হাসিখুশি নিয়ে চলাফেরা করা, বড়দের শ্রদ্ধা করা এবং ছোটদের থেকে ভালোবাসা আদায় করে নেয়াই যেনো একজন ভালো মানুষের এবং ভালো ক্রিকেটারের লক্ষ্য। এরকম সকল কিছুই মেনে তিনিও চলাফেরা করছেন। আর সেটা নিজ প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি হোক কিংবা নিজ জন্মস্থান চাঁদপুর জেলা শহরে হোক। প্রতিটি স্থানেই তাকে একইভাবে দেখা যায়। এ বছর তিনি ঢাকার বিকেএসপি থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন মানবিক বিভাগ থেকে। পরীক্ষা শেষে বর্তমানে তিনি তার বাবা ও মায়ের সাথে বসবাস করছেন চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকার ডায়াবেটিক হাসাপাতালের সামনে ভাড়াটিয়া বাড়িতে। চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীর মাধ্যমে তার ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয়। আর এই ক্রিকেটারটি হলেন মোঃ ফয়সাল খান মাহফুজ। তার বাবার নাম মোঃ মোস্তফা কামাল। তিনি একসময় পুলিশ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ৬ বছর আগে তার বাবা পুলিশের চাকুরি থেকে অবসর নেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার এলাকার ধামতি। ২ বোন, ১ ভাই, বাবা ও মা নিয়ে তাদের সংসার। বড় বোন মাহমুদা খানম পুষ্প বিবাহিতা ও ছোট বোন মাসুমা খানম মিম পড়াশোনা করছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনার্সে। মাহফুজের মা গৃহিণী। মাহফুজ ডানহাতি পেস বোলার। তিনি পড়াশোনা শুরু করেন বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে পড়ালেখা শুরু হয় চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবং ওই বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই সুযোগ মিলে ঢাকার জিরানী বাজারে অবস্থিত বিকেএসপিতে। সেখানে থেকে খেলাধুলা সহ পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্রীড়াকণ্ঠের এ প্রতিবেদকের সাথে রোববার রাতে চাঁদপুর জেলার ক্রিকেটের কর্ণধার ও ক্রিকেট কোচ শামিম ফারুকীর আদর্শ মুসলিম পাড়ার বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি তুলে ধরেন তার খেলোয়াড়ি জীবনের শুরু থেকে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন কথা। আর সেই কথাগুলো ক্রীড়ামোদী পাঠকদের জন্যে হুবহু তুলে ধরা হলো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আস্সালামুআলাইকুম, কেমন আছেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : জ্বি ওয়ালাইকুম আস্সালাম, ভালো আছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : এখন কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, না ছুটিতে এসেছেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : অল্প ক'দিন আগে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আর পরীক্ষা শেষেই প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসেছি বাবা ও মার কাছে। এখানে যে এসেছি তাও অল্প কয়েকদিন হলো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কখন থেকে আপনি খেলাধুলায় জড়িয়ে পড়েন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আসলে আমি ছোটকাল থেকেই খেলাধুলাকে ভালোবাসতাম, বিশেষ করে ক্রিকেট খেলাটাকে অনেক পছন্দ করতাম। যখনই অবসর থাকতাম তখনই আব্বু ও আম্মুকে জ্বালাতন করতাম ক্রিকেটের সরঞ্জাম কিনে দিতে । অবশ্য আব্বু যখনই বাড়িতে আসতেন আমার জন্যে খেলাধুলার জিনিস নিয়ে আসতেন। মূলত সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়ই আমার সকল কিছুর যাত্রা যেনো শুরু হতে থাকে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীতে কিভাবে আসলেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আমি যখন হাসান আলী হাইস্কুুলের সপ্তম শ্রেণীতে পড়াশোনা করি, তখন আমার বাবা অবশ্য পুলিশের চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন। আমি আমার আম্মুকে বেশ কয়েকদিন একাডেমীতে ভর্তি করার কথা বলি। পরবর্তীতে আব্বু আমাকে একদিন বিকেলে নিজেই আমার প্রিয় ক্রিকেট স্যার শামিম ফারুকীর কাছে নিয়ে আসলেন এবং তার সাথে পরামর্শ করে আমাকে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীতে ভর্তি করিয়ে দিলেন। আমি তখন থেকেই স্যারের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন শুরু করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : একাডেমীতে অনুশীলন শুরুর পর কী লক্ষ্য নিয়েছিলেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আসলে বলতে কী, বাবার চাকুরির কারণে এ জেলায় আমার জন্মগ্রহণ হয়। ছোটকাল থেকে দাদা ও নানার বাড়িতে তেমন যাওয়া হয়নি আমার। তারপরও পড়ালেখার মাঝে মাঝে খেলাধুলায় জড়িয়ে ছিলাম। এ একাডেমীতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমার লক্ষ্য ছিলো বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া এবং একজন ভালো মানের ক্রিকেটার হওয়া। আমি ছোটকাল থেকেই স্বপ্ন দেখতাম একজন ভালো মানের পেস বোলার হওয়া। আমি যখনই একাডেমীতে অনুশীলনে আসতাম, তখন শামিম স্যার সহ একাডেমীর অন্যান্য স্যার আমার খেলার ব্যাপারে অনেক সহযোগিতা করতেন। খেলার যে কোনো বিষয় জানতে চাইলে স্যার নিজে এসে আমাকে হাতেকলমে দেখিয়ে দিতেন। আমি একাডেমীতে ভর্তি হওয়ার পর যে স্বপ্ন নিয়ে এগুতে ছিলাম সেই স্বপ্ন নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি সকলের দোয়া নিয়ে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছিলেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আমি চাঁদপুর অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট দলের হয়ে প্রথমে চট্টগ্রাম মহিলা কমপ্লেঙ্ েখেলায় অংশ নেই। ওই খেলা খেলার পরই অনেক সুযোগ আসে বিভাগীয় পর্যায়ে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ঢাকায় বিকেএসপিতে কিভাবে সুযোগ পেলেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : প্রতিবছরই ডিসেম্বরের শেষদিকে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আসে। অবশ্য আমি ওই সময় বিভাগীয় ক্রিকেটে চট্টগ্রাম দলের হয়ে খেলি। আমি ক্রিকেট বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেই, আমি সুযোগ পেয়ে ওইখানে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হই। এখন পর্যন্ত বিকেএসপিতে আছি এবং বিকেএসপির হয়ে অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ভালো বোলিং উপহার দেই।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রিকেটে?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আমি চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম পর্যায়ে ৪দিনব্যাপী চ্যালেঞ্জার্স ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে পারি নি। ওই সময় আমি ঢাকায় বিকেএসপিতে পরীক্ষা দেয়ার জন্য। এরপর আবারও বিভাগীয় পর্যায়ে ১০ দিন ব্যাপী চ্যালেঞ্জার্স টেনিং শুরু হয়, যেখানে ক্রিকেট কোচের দায়িত্বে ছিলেন শামিম স্যার। আর পুরো দলের মূল দায়িত্বে ছিলেন নূরুল আবেদীন নোভেল। আমাকে ১০ দিনের ক্যাম্পে না দেখে শামিম স্যারকে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন। তখন স্যার বলেছিলেন প্রথম পর্যায়ের ১৮ জনের ট্রেনিংয়ের সময় আমি ঢাকাতে ছিলাম। তাই এই ট্রেনিংয়ের ১৪ জনের দলে আমার সুযোগ হয়নি। পরবর্তীতে নোভেল স্যার বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে আমাকে সেই ট্রেনিংয়ের সুযোগ করে দেন।



ক্রীড়াকণ্ঠ : অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগীয় ক্রিকেটে কোন্ দলের হয়ে খেলেছিলেন? কতটি উইকেট নেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : হ্যাঁ আমি ২০১৮ সালে বিকেএসপির হয়ে অনূর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেটে অংশ নেই। আমি বিকেএসপির হয়ে বেশ ক'টি দল ও জেলার সাথে ম্যাচ খেলি। ওই বছর আমি বোলিংয়ে ১৭টি উইকেট লাভ করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : শুনেছিলাম অনূর্ধ্ব ১৭ দলে আপনার নাম ছিলো?



ফয়সাল খান মাহফুজ : হ্যাঁ, আমি পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং স্ট্যান্ডবাইও আমাকে রাখা হয়।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রিকেটে আপনার লক্ষ্য কী?



ফয়সাল খান মাহফুজ : ক্রিকেটে আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে একজন পেস বোলার হিসেবে নিয়মিত একাদশে খেলা এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। আর আমার মাধ্যমে আমার জেলা চাঁদপুরকে আরো সুন্দরভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রিকেটের যাত্রা এবং হাতেখড়ি কার মাধ্যমে বা কোন্ একাডেমীতে ?



ফয়সাল খান মাহফুজ : ক্রিকেটে আমার যাত্রা চাঁদপুরের আমার একজন অভিভাবক ও ক্রিকেট কোচ শামিম ফারুকীর মাধ্যমে। তাঁর কারণেই আজকে আমি বিকেএসপি ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি। আসলে শামিম স্যার ও চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীর কারণেই আজ আমার স্বপ্ন জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা। আর একাডেমী বলতে গেলে আমার প্রিয় একাডেমী ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীর তো বিকল্প নেই। আর ক্রিকেট কোচ শামিম ফারুকী স্যার তো সকল কিছুতেই যেনো অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করছেন।



ক্রীড়াকণ্ঠ : বিকেএসপিতে কোন্ স্যারের সহযোগিতা পেয়েছেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আমি বিকেএসপিতে আখিনুর জামান রুশো স্যারের অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এছাড়াও আমার সাথের অনেক খেলোয়াড়ের সহযোগিতা পেয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ছোটকাল থেকে যে আপনি পেস বোলিং করেন, কোন্ দেশের কোন্ বোলারকে অনুকরণ করেন?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আমি ছোটকাল থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলার টিম সাউদিকে অনুসরণ করি। তিনি আমার ক্রিকেটের আদর্শের একজন। তাঁর বোলিং আমার সবসময় ভালো লাগে। আমি তাঁর খেলা নিয়মিতভাবে দেখি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের ক্রিকেট ও সহযোগিতার ক্ষেত্র?



ফয়সাল খান মাহফুজ : আসলে চাঁদপুরের ক্রিকেটের উন্নতি করতে হলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত টুর্নামেন্ট ও লীগের আয়োজন করতে হবে। আমাদের এ জেলায় ক্রিকেট কিংবা অন্যান্য খেলাধুলার আয়োজন একেবারেই কম হয়। আর ক্রিকেট খেলা তো এ বছর শুরু হলে কোন্ বছর যে ফাইনাল হয় তা বলাই মুশকিল। আমি বলবো যারা ক্রিকেট খেলতে চায় তারা সকল কিছু বাদ দিয়ে নিয়মিত অনুশীলনসহ বিভিন্ন ম্যাচে বাইরে গিয়ে অংশ নিতে হবে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।



ফয়সাল খান মাহফুজ : জ্বি আপনাদের এ পত্রিকাটিতে শুধুমাত্র খেলাধুলার খবর দেয় এবং বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অবস্থান তুলে ধরে। এজন্যে আপনাদের পত্রিকার সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানাই।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮১২৯৬
পুরোন সংখ্যা