চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪। ইহা এইজন্য যে, উহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল, এবং কেহ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করিলে আল্লাহ তো শাস্তিদানে কঠোর।


 


 


আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
বিস্মৃতির অতলে অরুণ নন্দী!
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরো একটি বছর। দেখতে দেখতে চলতে গেলো অনেক বছর। এ সময়ের মধ্যে একবারের জন্যেও অরুণ নন্দীর নাম উচ্চারিত হয়নি। না সাঁতারে, না ক্রীড়াঙ্গনে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, মুক্তিযোদ্ধা সাঁতারু অরুণ নন্দী ইহলোক ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য বিশ্ব জনমত গঠন ও সমর্থন আদায়ের জন্যে তিনি যে অবদান রেখেছিলেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালের ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর কলকাতা কলেজ স্কোয়ারে একটানা ৯২ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতার কেটে তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে অবদানই রাখেন নি, একটানা সবচেয়ে বেশি সময় সাঁতারে বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধরত বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেন। রেকর্ডটি তিনি গড়েন মার্কিন সাঁতারু বিসিমুরের রেকর্ড ভেঙে। অরুণ নন্দীর এ সাফল্যগাঁথার সংবাদ সেদিন ইথারে পেঁৗছে গিয়েছিল সারাবিশ্বে। স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে সন্তরণশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেছিল।



বর্তমান প্রজন্ম চেনা তো দূরে থাক, নামও হয়তো শোনেনি এই কীর্তিমান সাঁতারুর। অরুণ নন্দীর মতো অনেক কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ ধুঁকছেন। কিন্তু তাদের খবর নেয়ার কেউ নেই। ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির সময় অরুণ নন্দীর ভাই-বোনরা স্বদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। কিন্তু স্বজনহীন সংসার ত্যাগী অরুণ নন্দী বাংলাদেশ ত্যাগ করেননি। তার কথা ছিল, 'আমি দ্যাশ ছাড়ব না। দ্যাশ ছেড়ে কই যাব?' স্বদেশ প্রেমকে সম্বল করে প্রায় নিঃসম্বল অবস্থায় দিন কাটাতেন। এই অকৃতদার সাঁতারু ও দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর পর বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছেন। বিজয় দিবসের মাসেও তাকে স্মরণ করে কোনো আলোচনা সভা, সেমিনার হয় না ক্রীড়াঙ্গনে। সভা-সেমিনার দূরে থাক, অরুণ নন্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি প্রেস রিলিজ দেয়ারও ফুরসত নেই সাঁতার ফেডারেশনের। যে কীর্তির জন্য অরুণ নন্দী দেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছিলেন, সেই ১২ অক্টোবর দিনটিকেও স্মরণ করে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় না।



শুধু অরুণ নন্দী কেন? স্বাধীনতা যুদ্ধে যেসব ক্রীড়াব্যক্তিত্বের অসামান্য অবদান রয়েছে, তাদেরও স্মরণ করা হয় না। পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের সম্পাদক দুলাল মাহমুদ অরুণ নন্দীর জীবদ্দশায় 'আমার সাঁতার জীবন' শিরোনামে ধারাবাহিক লেখা লিখেছিলেন। কীর্তিমান এই সাঁতারুর মৃত্যুর পর ক্রীড়া সাংবাদিক কামাল হোসেনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অরুণ নন্দীর বইটি প্রকাশিত হয়। এ বই প্রকাশে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন ব্যাডমিন্টন তারকা এনায়েত উল্লাহ খান। ক্রীড়াজগতের সম্পাদক মাহমুদ হোসেন খান দুলাল বলেন, 'অরুণ নন্দীদের মতো আমাদের অনেক কীর্তিমান ক্রীড়াব্যক্তিত্ব কালের গর্ভে হারিয়ে গেছেন। তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেই। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের তারকাদের স্মরণীয় করে রাখতে কত কিছুই না করে থাকে। আমার অনুরোধ, একটি ক্রীড়া জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হোক। সেই জাদুঘরে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে।'



প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, 'বেঁচে থাকতে প্রতিষ্ঠা পাননি নন্দী। এক কাপড়ে চাঁদপুরের বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন ঢাকায়। তার বাড়িটি দখল হয়ে গিয়েছিল। জীবনে কারও কাছে হাত পাতেননি তিনি। হোটেলে কখনও ম্যানেজার, আবার কখনও হিসাব-রক্ষক, সবশেষে অফিসার্স ক্লাবের সুইমিং কোচ হিসেবে হাজার পাঁচেক টাকা বেতনে নিজের পেট চালানো ছাড়াও অন্যান্য খরচ চালিয়ে গেছেন। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, চাঁদপুরে অরুণ নন্দীর বাড়ি উদ্ধার করে তার নামে অন্তত একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হোক। তাহলে হয়তো অরুণ নন্দীর কীর্তি যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবে।'



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯০০২৩
পুরোন সংখ্যা