চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আলোচিত জয়ন্তী চক্রবর্তীরর খুনি আটক, ১৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় চাঁদপুর পিবিআই কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৪। মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায় ?


২৫। বস্তুত ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই।


২৬। আকাশে কত ফিরিশতা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর; যাহার জন্য ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।


 


 


 


assets/data_files/web

একজন অল্প বয়স্ক মেয়ে স্ত্রী হিসেবে অথবা মা হিসেবে কোনোটাতেই ভালো নয়। -নজ এডামস।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


 


 


ফটো গ্যালারি
নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন সাকিব
১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার ধরা হয় মোহাম্মদ আশরাফুলকে। বাঘা বাঘা বোলারদের চোখে চোখ রেখে পাল্টা আক্রমণ করার অমিত সাহসটা বাংলাদেশ প্রথম দেখেছিল আশরাফুলের ব্যাটে। মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমরাও ক্যারিয়ার জুড়ে নান্দনিক ধারাবাহিকতায় বিশ্ব ক্রিকেটে গৌরবের উপলক্ষ এনে দিয়েছেন।



তবে বিশ্বসেরা হওয়ার স্বাদটা বাংলাদেশ প্রথম পেয়েছিল সাকিব আল হাসানের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ অলরাউন্ডার হয়েছিলেন এই বাংলাদেশি ক্রিকেটার। তারপর থেকে ক্রমাগত নিজের সাথে সাথে দেশকেও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে 'রেকর্ডের বরপুত্র' সাকিব।



অলরাউন্ডার হিসেবে ক্রিকেটের অভিজাত তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, অনেক রেকর্ডের মালিক হয়েছেন। শুধু বোলার বা শুধু ব্যাটসম্যানের ভূমিকায়ও তার প্রতিভা, সামর্থ্যরে দ্যুতি ছড়িয়েছে রেকর্ড বইয়ের আনাচে-কানাচে।



সময়টা একটু এদিক-ওদিক হতে পারে, তবে বচনটা সত্য। সম্ভবত বছর দুই আগে (২০১৭ সাল) সাকিব ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রান পূর্ণ করেছিলেন। তখন সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন হয়েছিল, তিনি আরও রান করতে পারতেন কি না। সাকিবের জবাব ছিল এমন, 'অবশ্যই সম্ভব হতো। অনেক ইনিংসে ভালো শুরু করেও আউট হয়ে গেছি। হাফ সেঞ্চুরিগুলো বড় করা যেত। তবে যেহেতু আমি মিডল অর্ডারে খেলি, এখানে অনেক সময় বড় ইনিংস খেলার সুযোগ থাকে না। টপ অর্ডারে খেলা ব্যাটসম্যানরা যে সুযোগটা পায়, তেমন সুযোগ পেলে হয়তো আমার রান আরও বেশি থাকতো। আমাকে তো আবার বোলিংটাও করতে হয়।'



 



ওই সময়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস, সর্বাধিক রানের মালিক ছিলেন তামিম ইকবাল। টেস্টেও একই রেকর্ডগুলো তামিমের দখলে ছিল। আর তখন থেকেই ব্যাটসম্যান সাকিবের রানক্ষুধা স্পষ্ট ছিল। ২০১৭ সালেই নিউ জিল্যান্ডে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন সাকিব। ২০১৮ সালটা খুব ভালো যায়নি তার, এবং সেটা বারবার ইনজুরির হানায়।



বিশ্বকাপের আগে গোটা বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেছে মিরপুর স্টেডিয়ামে, যেই ক্যাম্পে ছিলেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ডেরায় ছিলেন তিনি। ম্যাচ খুব বেশি পাননি, তবে আইপিএলের আড়ালে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিই নিয়েছেন তিনি। ঢাকা থেকে উড়িয়ে নিয়ে গেছেন ছেলেবেলার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। তার সঙ্গে দিন দশেক কাজ করেছেন হায়দরাবাদের নেটে, যেখানে ব্যাটিংয়ের স্কিলগুলোই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।



ডায়েট চার্টে বড়সড় পরিবর্তন এনে ওজন কমিয়েছেন ৬ কেজি। বিশ্বকাপের জন্য নিজের সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি নেয়ার কথাও সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন সাকিব। গত মে মাসে তিনি বলেছিলেন, 'বিশ্বকাপ সামনে ছিল। একটি লক্ষ্য নিয়েই করেছি। সবারই লক্ষ্য থাকে, বিশ্বকাপ খেলা প্রতিটি ক্রিকেটারেরই নিজস্ব লক্ষ্য আছে। একটি কথা বলতে পারি, গত ৮-৯ বছরে মনে হয় এত কষ্ট করিনি, যতটা পরিশ্রম ও প্রস্তুতি এই বিশ্বকাপের জন্য নিয়েছি। আমার তরফ থেকে যতটুকু করার সম্ভব ছিল, করেছি। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা ও আমার চেষ্টা।'



বিশ্বকাপ নিয়ে সাকিবের মনের কোণে লালিত স্বপ্নটা হয়তো আমরা কেউই জানতে পারিনি। তবে বিশ্বকাপ শুরু হতেই পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে স্পষ্ট, কী সংকল্প-স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন তিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে।



যেন স্বপ্ন বিস্ময়কে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তার হাত ধরে বাংলাদেশের সাফল্যের রথও নতুন দিগন্তের সন্ধান পাচ্ছে। বিশ্বকাপে ঈর্ষণীয় ফর্মে ছিলেন সাকিব। সেমি-ফাইনালের আগেই বাংলাদেশ ছিটকে পড়েছে বটে, তবে তাতে সাকিবের অবস্থানটা একদমই নড়বড়ে হয়নি। ব্যাট হাতে ৮৬.৫৭ গড় এবং ৯৬.০৪ গড়ে করেছেন ৬০৬ রান, যা এই বিশ্বকাপে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া বল হাতে রয়েছে ১১ উইকেট, যা স্পিনারদের মধ্যে ইমরান তাহিরের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তার বুদ্ধিদীপ্ত এবং নির্ভুল লাইন-লেংথে নিয়মিত বোলিং।



বিশ্বকাপের মাঝপথেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। এছাড়া তামিম ইকবালের পর টানা ৫ ওয়ানডেতে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার গৌরবও অর্জন করেছেন তিনি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের আট ম্যাচের সাতটিতেই পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০১২ সালে এশিয়া কাপে টানা পাঁচ হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম।



এই সাকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। কিংবদন্তিরা, সাবেক ক্রিকেটাররা, ক্রিকেট বিশ্লেষক, ধারাভাষ্যকাররা বিমোহিত এই বাংলাদেশির ক্রিকেট নৈপুণ্যে। সন্দেহাতীতভাবে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার তিনি। এখন বিশ্ব ক্রিকেটে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কি সাকিব? হয়তো এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে অচিরেই ক্রিকেটবিশ্বকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের 'পোস্টার বয়'।



তবে বাংলাদেশে সাকিবের সতীর্থ, বন্ধু, সাবেক ক্রিকেটাররা সাকিবের রানের স্রোতধারা দেখে বিস্মিত নন। বরং তাদের চোখে এই বাঁহাতি অলরাউন্ডারের কাছে এটাই প্রত্যাশিত এবং এই পারফরম্যান্সের সামর্থ্য তার রয়েছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭২৭৩৩
পুরোন সংখ্যা