চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২৪। মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায় ?


২৫। বস্তুত ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই।


২৬। আকাশে কত ফিরিশতা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর; যাহার জন্য ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।


 


 


 


assets/data_files/web

সৃষ্ট বস্তুতে ভালোবাসার মতো অন্য কোনো এবাদত নেই।


-রবার্ট ব্রিজ।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের সেমি ও ফাইনাল কি হবে?
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগের সেমি-ফাইনাল কিংবা ফাইনাল আদৌ হবে কি-এটাই এখন অংশ নেয়া দলসহ চাঁদপুরের ক্রীড়াঙ্গনের সকলের মাঝে আলোচনা। একটি লীগ শুরু হলেও এটা যেনো সহজে শেষ হয়েও হয় না। আর এ ধারাবাহিক নিয়মটি যেনো এখন চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান বিষয় হয়ে গেছে। মাত্র ৮টি দল নিয়ে শুরু হওয়া লীগটির মেয়াদ ৪ মাস ধরে চলছে। তারপরও জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ-কমিটির নেতৃবৃন্দ সেমি-ফাইনাল খেলা শেষ করতে পারছে না। হয়তো খেলা শুরু করলেও দেখা যায় মাঠে বৃষ্টি হচ্ছে আর নয়তো কোনো পেশীশক্তির কারণে কোনো দল মাঠে থেকে খেলা ছেড়ে প্যাভিলিয়নে এসে বসে রয়েছে। খেলা চলাকালীন দেখা গেছে, যে দলের কর্মকর্তারা অনেকটা প্রভাবশালী তারাই মাঠে নিজেদের মতো করে খেলা চলাকালীন প্রবেশ করে, আর তারাই খেলোয়াড় ও বিভিন্ন দলের কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে।



চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রিকেট উপ-কমিটির ব্যবস্থাপনায় ৮টি দল নিয়ে এ খেলা শুরু হয়। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ উদ্বোধন করেছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। উদ্বোধনের পর আয়োজকরা লীগের বেশ ক'টি খেলাও চালিয়েছিলেন। লীগের নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তিতে পয়েন্ট প্রাপ্তিতে সেরা চারটি দল সেমি-ফাইনালে উঠে। দলগুলো হলো : ক্রিকেট কোচিং সেন্টার, আবাহনী ক্রীড়া চক্র, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও প্রফেসর পাড়া ক্রীড়া চক্র।



আয়োজকরা ইতিমধ্যে ৪টি দল নিয়ে দুটি সেমি-ফাইনালের আয়োজনও করেছিলেন। এর মধ্যে প্রথম খেলায় অনেকটা পেশীশক্তির কারণেই একদল মাঠ ছেড়ে চলে যায়। পরবর্তীতে প্রথম সেমি-ফাইনালে অংশ নেয়া দুটি দলের কর্মকর্তাদের খুশি করার জন্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক'জন কর্মকর্তা ওই দুই দলকে আবার খেলানোর সুযোগ করে দেয়। এ দুটি দল হচ্ছে চাঁদপুর অবাহনী ক্রীড়া চক্র ও প্রফেসরপাড়া ক্রীড়া চক্র। খেলা চলার প্রথম ইনিংস শেষে মাঠে গিয়ে দেখা যায় আবাহনী ক্রীড়া চক্রের ক'জন খেলোয়াড় আম্পায়ারদের সাথে মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন। আর প্রফেসরপাড়ার খেলোয়াড়রা মাঠ থেকে বের হয়ে ড্রেসিং রুমে বসে আছেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রফেসরপাড়ার একজন ক্রিকেটার বোলিং করার সময় আম্পায়ার ওই বোলারের বিরুদ্ধে নো বল ঘোষণা করেন। বেশ কবার নো ডাকার পর প্রফেসরপাড়ার ক্রিকেটাররা মাঠ থেকে খেলা ছেড়ে দিয়ে ড্রেসিংরুমে চলে আসেন। ওই দলের কর্মকর্তাদের অভিযোগ ছিলো, খেলার আম্পায়ারগণ ঢাকার যে ক্রিকেটারের বলকে নো বলে বাধা দিচ্ছেন এই খেলোয়াড়কেই তো এই লীগে ভালো উইকেট লাভ করায় পুরস্কৃত করা হয়েছে। খেলা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি থেকে তখন মাঠে ছুটে চলে আসেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ-কমিটির সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ আবদুল মোতালেব। পরবর্তীতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষস্থানীয় এ কর্মকর্তারা দু দলের কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার আলাপ-আলোচনা করেন এবং ম্যাচ পরিচালনাকারী আম্পায়ারদের কাছে ম্যাচের রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তাদের অনুমতি পেয়ে ম্যাচ পরিচালনাকারী আম্পায়ারগণ তাদের রিপোর্ট প্রদান করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, এ মাসের শেষদিকে ওই দুই দলের মধ্যে পুনরায় খেলার আয়োজন করা হবে।



জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রিকেট উপ-কমিটির ব্যবস্থাপনায় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের ২য় সেমি-ফাইনালে অংশ নেয় চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমী ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এ দুদলের মধ্যে ম্যাচের প্রথমাংশের ৩৫ ওভারের মতো খেলা হয়। এরপরই ওইদিন বৃষ্টির জন্যে আয়োজকরা আর কোনো খেলার ব্যবস্থা করতে পারেননি। ১৭ দিন পার হয়ে গেলেও আয়োজকরা কবে এ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের সেমি-ফাইনাল কিংবা ফাইনালের আয়োজন করবেন সেই অপেক্ষায় স্থানীয় ক্রিকেটারসহ দলের কর্মকর্তাগণ।



জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুকে মুঠোফোনে পাওয়া গেলেও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ-কমিটির বেশ ক'জন কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদকের কাছে ক্রিকেট লীগ সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খেলার আয়োজনের জন্যে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে বৃষ্টির জন্যে খেলার আয়োজন করা হচ্ছে না। 'খেলা আদৌ হবে কি না, এর আগে ৪ বছর আগের ক্রিকেট লীগের সেমি-ফাইনালের মতে খেলা বন্ধ হয়ে যাবে কিনা' জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করি বৃষ্টি কমলেই খেলার আয়োজন করা হবে। এছাড়া পরপর দুদিন দুটি সেমি-ফাইনাল খেলা শেষ করে একদিন পরেই আমরা ফাইনাল খেলার আয়োজন করবো।



সেমি-ফাইনালে উঠা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের টিম ম্যানেজার ও ক্রীড়া সংগঠক এবিএম রেজওয়ানের সাথে মুঠোফোনে খেলা সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খেলার জন্যে প্রস্তুত রয়েছি। এর আগে অনুষ্ঠিত সেমি-ফাইনালের খেলা নিয়ে ক্রিকেট উপ-কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও ক্রিকেট উপ-কমিটির সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোতালেব হোসেনসহ আমরা বসেছি। খেলার নিয়ম অনুযায়ীই আমরা খেলতে চাই। লীগের বৃহত্তর স্বার্থেই আয়োজকরা সেমি-ফাইনালের খেলাগুলো পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করছেন। আমরা খেলার দিন প্রফেসরপাড়ার ভাড়াকৃত ক্রিকেটার হুমায়ন কবিরের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আপত্তি করেছি। আমাদের এ আপত্তি সঠিক ছিলো। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি যে, ওই বোলার বেশি নো বল করার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও তার জেলা দল তাকে বল করতে বারণ করেছে। তিনি শুধু ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করতে পারবেন। কিন্তু আমাদের আবাহনী দলের খেলার সময় তিনি একের পর এক নো বোল করতে থাকেন। আর আমাদের ব্যাটসম্যানগণ এ বোলারের বিরুদ্ধে আম্পায়ারের কাছে আপত্তি জানান।



প্রফেসরপাড়া ক্রীড়া চক্রের ক্রীড়া সম্পাদক ও দলের অধিনায়ক এবং জেলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় সাইফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে সেমি-ফাইনাল নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, আদৌ সেমি-ফাইনাল হয় কি না তা নিয়ে সন্দিহান। কারণ ৩ থেকে ৪ বছর আগে শুরু হওয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের সেমি-ফাইনাল আজও আয়োজন করা হয়নি। আর খেলা হলেও আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্ব দেখা যায় বেশি। এবারের ক্রিকেট লীগ চলাকালীন আমাদের যে বোলারকে ১০ ওভারে ৬টি উইকেট লাভ করায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পুরস্কার দেয়া হয়েছে, আবার সেই বোলারকে আমাদের সাথে আবাহনীর খেলা চলাকালীন তাদের কর্মকর্তা ও দর্শকদের চাপে পড়ে খেলার চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই নো বল ঘোষণায় বিব্রত করেছে। আর আমাদের খেলা চলাকালীন আবাহনীর বেশ ক'জন কর্মকর্তা মাঠের ভেতর প্রবেশ করেন। যা অনেকটা অনৈতিক কাজ। নিয়ম হলো, খেলা চলাকালীন কেউই মাঠে প্রবেশ করতে পারবে না। অথচ ওইদিন আবাহনীর দর্শকদের উশৃঙ্খল আচরণ দেখে অনেকটা নিজেই নিজেদের ক্রিকেটারদেরকে সেইফ করার জন্যে মাঠ থেকে ড্রেসিং রুমে নিয়ে আসি। এছাড়া মাঠে খেলা চলাকালীন দেখা যায় যে, খেলা পরিচালনাকারী আম্পায়ারগণ বিভিন্ন হাই প্রোফাইলের কর্মকর্তাদের হুমকি-ধমকি খেয়ে আজেবাজে কল দিয়ে যাচ্ছেন। এ রকম হলে তো চাঁদপুর স্টেডিয়ামে কোনো দল কিংবা খেলোয়াড়রা নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলতে আসবেন না। আর প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ ২০১৯-এর সেমি-ফাইনাল খেলা কবে শুরু হবে তাও বলতে পারছি না।



আবাহনী ক্রীড়া চক্রের টিম ম্যানেজার ও ক্রীড়া সংগঠক রবিন পাটওয়ারীর সাথে মুঠোফোনে ক্রিকেট লীগ সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়োজকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমরা খেলার জন্যে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা চাই বর্তমানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ-কমিটির সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোতালেব হোসেনসহ ক্রিকেট কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে অনুযায়ীই আমরা খেলবো। সুষ্ঠু পরিবেশে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলাগুলো শেষ হোক_এ কামনা করি। আমার বিশ্বাস চলমান ক্রিকেট লীগের ফাইনাল অবশ্যই হবে।



ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠক নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে খেলা সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই সব পরিবেশে খেলার জন্যে প্রস্তুত রয়েছি। যখনই খেলার আয়োজন করা হবে আমাদের দল খেলার জন্যে প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামবে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে চাই এবারের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল খেলাটি সুন্দরভাবে যেনো শেষ হয়। যেহেতু এ খেলাটি আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় উদ্বোধন করেছেন। আশা করি এর আগের বার শুরু হওয়া ক্রিকেট লীগের মতো এ ঘটনা আর ঘটবে না।



চাঁদপুর জেলা ক্রিকেট আম্পায়ার্স এন্ড স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা অ্যাডঃ বিশ্বজিত কর রানাকে বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও খেলা সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যারা মাঠে খেলা পরিচালনা অর্থাৎ আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকি, তারা কখনও পক্ষপাতিত্ব করি না। আর চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা হয় কি না জানি না। তবে চাঁদপুরের আম্পায়ারগণ আর খেলা চালাবে না বলে আপনাকে বলতে পারি। ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা আছে, যা বলা যাবে না। তবে আম্পায়ারগণ কখনো কারো পক্ষের হয়ে খেলা চালায়নি এবং খেলা চলাকালীন কারো কথাও শুনে না।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৯১৩৭৩
পুরোন সংখ্যা