চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১১ জুন ২০১৯, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৭ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫১-সূরা যারিয়াত


৬০ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৯। তখন সে ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরাইয়া লইলো এবং বলিলো, 'এই ব্যক্তি হয় এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ।'


৪০। সুতরাং আমি তাহাকে ও তাহার দলবলকে শাস্তি দিলাম এবং উহাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম, সে তো ছিলো তিরস্কারযোগ্য।


 


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী যে স্বল্পাহারে সন্তুষ্ট থাকে, অল্প হাসে এবং লজ্জাস্থান ঢাকিবার উপযোগী বস্ত্রে পরিতুষ্ট।


 


 


ফটো গ্যালারি
সাকিবের ব্যাটেই বাঘের গর্জন
ক্রীড়াকণ্ঠ প্রতিবেদক
১১ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের খেলা হলেই দেখা যায় যে সাকিবের ব্যাটেই বাঘের গর্জন শোনা যায়। জাতি হিসেবে বাঙালি আবেগপ্রবণ। যেকোন বিষয়ে আবেগ-উত্তেজনা বেশি। অর্জনে, কৃতিত্বে বাঙালির উচ্ছ্বাস ও উল্লাস বোধকরি সবচেয়ে বেশি। এমনকি বাংলাদেশের প্রেসে সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহদের প্রতি ইংলিশদের বিনয়, ভদ্রতা আর সৌজন্যতাবোধের গল্প অনেক পুরানো। কম-বেশি সবার জানা, সাংবাদিকরাও তেমনি। পরিমিতিবোধ অনেক, বাড়তি উচ্ছাস খুব কম। শনিবার কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনের প্রেস বঙ্ওে মিললো তার প্রমাণ। প্রথম সেশনে জেসন রয়ের অমন ঝলমলে ব্যাটিং দেখেও ইংলিশ সাংবাদিকরা যথারীতি ভাবলেশহীন, হৈচৈ নেই একটুও। নিজেদের মধ্যে খুব নিচু স্বরে একে অন্যের সাথে একটু আধটু প্রশংসাসূচক কথোপকোথন, ব্যস ঐটুকুই। বরং সাকিব আল হাসানের বুক চিতানো ব্যাটিং আর সংগ্রামী শতরানের প্রশংসা করলেন অনেকেই।



বাংলাদেশের এক নম্বর পারফরমার। ওর সাহস আছে বেশ। জায়গামত নিজেকে মেলে ধরতেও পারে। কেউ দাঁড়াতে না পারলেও সাকিব একাই লড়লো সাহসী বীরের মত। এমন সাহসী যোদ্ধার প্রশংসা না করে কি পারা যায়?' সাকিবের সাহসী ও লড়িয়ে মানসিকতা এবং দারুণ ব্যাটিংয়ের প্রশংসা এখন সবার মুখে। সত্যি ৩৮৬ রানের হিমালয় সমান স্কোরের চাপ মাথায় নিয়েও কি অবলীলায়, স্বচছন্দে ব্যাট করা যায়- সাকিব তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। তিনি কেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার, দেশের বাইরে তার কদর কেন সবার চেয়ে বেশি কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে সে সত্য আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হলো।



এতকাল বাংলাদেশে সাফল্যের পরম ভেন্যু হয়েই ছিলো কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন। এই মাঠে দুই ম্যাচে তিন তিনটি সেঞ্চুরি ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। যার প্রথমটি অতি অবশ্যই মোহাম্মদ আশরাফুলের। ২০০৫ সালে এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করে নিজের নামকে ইতিহাসের পাতায় লিখে রেখেছেন নন্দিত ও নিন্দিত আশরাফুল। আর পরের সেঞ্চুরি দুটি এক ম্যাচে- সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।



২০১৭ সালের ৯ জুন এই কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। ঐ অবিস্মরণীয় জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন সাকিব। সেঞ্চুরিসহ ১১৫ বলে ১১৪ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। তার সাথে জয়ের আরেক রুপকার ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ষষ্ঠ উইকেটে সাকিবের সঙ্গে ২২৪ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপে রিয়াদের অবদান ছিল ১০৭ বলে ১০২।



তারপর কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। এ সময়ে সাকিব ওয়ানডে খেলেছেন ২৪ টি। যার ২২ ইনিংস ব্যাট করে শতরানের দেখা মেলেনি। মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গায়ানায় ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে একটি ৯৭ রানের ইনিংস আছে। কিন্তু তিন অংকে পেঁৗছানো সম্ভব হয়নি।



অবশেষে ঠিক দুই বছর পর আবার সেই কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে সেঞ্চুরি করলেন সাকিব। এমন নয় সাকিবের সেঞ্চুরিতে দল জিতেছে। সাকিবের শতরানের ওপর ভর করে ইংলিশদের ৩৮৬ রানের হিমালয় সমান রান টপকে বিশ্ব রেকর্ড জন্ম দেয়নি বাংলাদেশ।



কিন্তু তারপরও সাকিবের সেঞ্চুরির প্রশংসা চারিদিকে। কারণ একটাই, সাকিব একা লড়েছেন। ব্যাটিংয়ের মত ইংলিশ বোলিংও যে দারুণ সমৃদ্ধ আর শক্তিশালী। ক্রিস ওকস, জোফরা আর্চার, লিয়াম প্লাঙ্কেট, মার্ক উডের ফাস্ট বোলিং আর বেন স্টোকসের মিডিয়াম পেস এবং লেগস্পিনার আদিল রশিদের সাঁড়াশি বোলিংয়ের বিপক্ষে একদম একা একবুক সাহস নিয়ে সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বড় ইনিংস খেলেছেন সাকিব।



ইংলিশ ফাস্ট বোলাররা প্রায় প্রতি ওভারে একটি বা দুটি শর্ট বল করে তার সাহস ও ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছেন। কখনো অফস্টাম্পের বাইরে বল করে তাকে প্রলুব্ধও করেছেন। কিন্তু সাকিব অবিচল, অনড় ছিলেন। খাট লেন্থের ডেলিভারিকে মিড উইকেট, ওয়াইড লং অন আর স্কোয়ার লেগ দিয়ে পুল খেলেছেন স্বচ্ছন্দে, কাট ও ড্রাইভ খেলায়ও দেখিয়েছেন পারদর্শিতা।



শুধু ফাস্ট বোলারদের স্বচ্ছন্দে আর সাবলীলভাবে খেলাই নয়, লেগি আদিল রশিদকেও একবারের জন্য স্বস্তি দেননি সাকিব। সাকিব আউট হবার পরই আদিল রশিদ জেঁকে বসেন। প্রথম ৬ ওভারে ৪৮ রান দেবার পর ১০ ওভারের বোলিং কোটা শেষ করেন ৬৪ রানে।



সাকিব দেখিয়ে দিলেন আসলে ভাল খেলতে হলে চেষ্টা, অধ্যবসায় আর দৃঢ় সংকল্প থাকা খুব জরুরি। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মাঠে জায়গামত নিজেকে মেলে ধরা। সেই কাজটি সাকিব এবারের বিশ্বকাপে যেন পাল্লা দিয়ে করছেন। আগের দুই ম্যাচে দুই হাফ সেঞ্চুরি আর তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়া।



সে জায়গায় তামিম, মুশফিক, সৌম্য, মাহমুদউল্লাহ, মিঠুন ও মোসাদ্দেকরা এখনো অনেক পিছনে। দুই বছর আগে সাকিব যার সাথে জুটি বেঁধে নিউজিল্যান্ডের সাথে দলকে ঐতিহাসিক জয় উপহার দিতে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা, সেই মাহমুদউল্লাহ আর সাকিব কিছুক্ষণ একসাথে ব্যাট করেছেন। সত্যি বলতে সাকিবের দ্যুতিমাখা ব্যাটিংয়ের সামনে রিয়াদকে রীতিমত অনুজ্জ্বল মনে হয়েছে।



অথচ সাকিব যখন আইপিএল খেলার জন্য ভারতে, তখন তাকে নিয়ে কত কথাই না হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, সাকিব আইপিএলে ম্যাচ পান না, দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেন না কেন? সাকিব ম্যাচ কম খেললেও বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে ঠিকই প্রস্তুত করেছেন।



গুরু মোহাম্মদ সালাউদ্দীনকে নিজের খরচে হায়দ্রাবাদ উড়িয়ে নিয়ে অনুশীলন করেছেন। ফিটনেস ট্রেনিং করে ৪-৫ কেজি ওজন কমানোর পাশাপাশি ব্যাটিং ও বোলিংয়ের টেকনিক উন্নত করতে বাড়তি কাজও করেছেন।



কোচ সালাউদ্দীন দেশে ফিরে জানিয়েছিলেন, আমার দেখা ফিজিক্যালি ও মেন্টালি সাকিব অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ফিট। আর ব্যাটিং ও বোলিং ফর্মও বেশ ভাল। তারই পুরস্কার আসলে এবারের বিশ্বকাপে পরপর তিন ম্যাচে যথাক্রমে ৭৫, ৬৪ ও ১২১ রানের তিন তিনটি দারুণ ইনিংস।



ব্যক্তিজীবনে অন্তর্মুখী সাকিব এবার শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও অনেক বেশি সিরিয়াস, অনেক সক্রিয়। সহযোগীদের সাথে আগে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি মিশছেন। তাদের সাথে অনেক কিছু শেয়ার করছেন। ফিল্ডিংয়ের সময় বোলার ও ফিল্ডারদের এটা ওটা বলে উজ্জীবিত করছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছেন।



সেই জায়গায় বাকিরা কিন্তু অনেক পেছনে। দল বড়সড় কিছু করতে পারবে কি পারবে না, তার জবাব দিবে সময়। তবে কে জানে সাকিব না এবার আসর সেরা পারফরমার বনে যান! ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন কিন্তু এরই মধ্যে সে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন।



লন্ডনে ঈদের দিন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সাথে আলাপে সুজন বলেছিলেন, মাঠ ও মাঠের বাইরে সাকিবের পদচারণা, আন্তরিক প্রচেষ্টা আর মাঠের কার্যকর পারফরমেন্স দেখে মনে হচ্ছে সাকিব এবার বিশ্বকাপের সেরা পারফরমার হতে চায়! বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের তকমা তার গায়ে অনেকদিন। তিনি যদি সত্যিই বিশ্বকাপের সেরা পারফরমার হতে চান, সেটা নিশ্চয়ই আকাশ কুসুম কল্পনা নয়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০৮১৮৮
পুরোন সংখ্যা