চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৭ ভাদ্র ১৪২৫। ৩০ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,


৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮। আমি উদ্ধার করলাম তাদেরকে যারা ঈমান এনেছিল এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করতো।


১৯। যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নাম অভিমুখে সমবেত করা হবে সেদিন তাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বিভিন্ন দলে।


২০। পরিশেষে যখন তারা জাহান্নামের সনি্নকটে পেঁৗছবে তখন তাদের কর্ণ, চক্ষু ও ত্বক (চামড়া) তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


চমৎকার একটা নাম জীবনে কৃতিত্ব বৃহন করে না।


-আব্রাহাম কাত্তলি।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর স্টেডিয়ামে অক্টোবরের ২য় সপ্তাহে শুরু হচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর স্টেডিয়ামে অক্টোবরের ২য় সপ্তাহ থেকে শুরু হচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ গ্রামীণ খেলা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় গত ২-৩ বছর আগেও এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এবার ৮টি ইভেন্ট নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতা উপলক্ষে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে।



জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু জানান, গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো আমরা আশা করি আগামী মাসেই শুরু করবো। তবে দেশের সার্বিক অবস্থা ভালো থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই এ খেলার আয়োজন করা হবে। এর আগে যখনই এ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছিলো, আমরা জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। আশা করি এ বছরও গ্রামীণ এ খেলাধুলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃফূর্তভাবে অংশ নেবে। গ্রামীণ খেলাধুলা প্রতিযোগিতায় দড়িলাফে অংশ নিতে পারবে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর বালক ও বালিকা। মোরগ লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে ৬ষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। হাড়িভাঙ্গা ও ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে শুধুমাত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বালিকা। অংক দৌড়ে অংশ নিতে পারবে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বালিকা ও ব্যাঙ লাফে অংশ নিতে পারবে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বালক এবং সাইকেল র‌্যালিতে অংশ নিতে পারবে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর বালক, আর মিউজিক্যাল চেয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে শুধুমাত্র নারী অভিভাবকগণ।



শিক্ষার্থীদের জন্যে গ্রামীণ খেলাগুলোর কিছু নিয়মাবলি তুলে ধরা হলো :



 



দড়িলাফ খেলার নিয়মাবলি :



আবহমানকাল থেকে বাংলার গ্রাম-গঞ্জ, মফস্বল শহর বা শহরতলীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাধুলা ছিলো দড়িলাফ খেলা। গ্রামঞ্চলে এই খেলাটা যতটা জনপ্রিয় বড় বড় শহরে সেটা তেমন চোখে পড়ে না। দড়িলাফ শুধু আনন্দের একটি খেলা নয় এটি অ্যারোবিক ব্যায়াম হিসেবে অপ্রতিস্থাপনীয়। এ খেলাটির জন্যে বড় কোনো মাঠের প্রয়োজন হয় না। বাড়িতে বা স্কুলের সামনে একটু খোলা স্থান হলেই এই খেলাটি খেলা সম্ভব। এই খেলাটিতে যে পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ে তা অন্য খুব ব্যায়ামে খুবই কম পোড়ে। অনেকেই জিমে যেতে পারছেন না, দৌড়ানোর জন্যে পর্যাপ্ত সময় নেই, তাহলে খুব সহজে ঘরে কিংবা ছাদের ছোট জায়গাতে দড়ি লাফের মাধ্যমে আপনি মুক্তি পেতে পারেন অতিরিক্ত ক্যালরি এবং চর্বি থেকে। দড়িলাফকে দৌড়ানোর পরিবর্তে সবচে' কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে ধরা হয়। তবে পা, বাহু, বাট, কাঁধসহ পুরো শরীরের হাড় এবং মাসলকে শক্তিশালী করার জন্য এর জুড়ি নেই। সাইড অ্যাবসের চর্বি কমাতে জিমনেশিয়ামগুলোতে সব সময়ই দড়ি লাফের কথা বলা হয়ে থাকে। প্রথম দিকে প্রতি এক মিনিটে পুরো দশ ক্যালোরির উপরে বার্ন করা যায় এই ওয়ার্কআউটটির মাধ্যমে। কাজটিতে দক্ষ হলে দশ মিনিটে ২০০ ক্যালোরির উপরে বার্ন করতে পারবেন খুব সহজেই। অল্প জায়গায় করা যায় বিধায় দিনের যে কোনো সময়ই যে কেউ এই দড়ি লাফের মাধ্যমে ব্যায়াম সেরে নিতে পারবে। দড়িলাফে ব্যবহৃত দড়িটি খুব সহজেই ঘরে বানানো যায়। তবে সস্তা এবং ভালো করে ধরার জন্য গ্রিপের সুবিধা থাকায় বাজার থেকে কিনে আনাই ভালো। খালি পায়ে দড়ি লাফ করা গেলেও ছোটখাট ইনজুরি থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা হিসেবে রানিং কেডস পরে নিলে কোনো সমস্যাতেই পড়তে হবে না। দড়িলাফ প্রথম অবস্থায় তিন সেটে পাঁচ, তিন, দুই মিনিট করে দশ মিনিট কন্টিনিউ করে আস্তে আস্তে সেট সংখ্যা এবং সময় যত বাড়ানো যাবে ততই লাফাতে আনন্দ পাওয়া যাবে।



 



ঘুুড়ি উড়ানো



মোঘল আমলে ঢাকার অভিজাত লোকদের বিনোদনের জন্য ঘুড়ি উড়ানোর আয়োজন করা হত। ১৭৪০ সালের দিকে নায়েবে নাজিম নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানের আমলে ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানো উৎসব একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়। তখন থেকেই আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে ঘুড়ি তৈরি শুরু হয়। বাড়ির ছাদ, খোলা মাঠ থেকে আকাশে অনেক ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়। বর্তমান কালে বিনোদনের এতসব উপকরণ থাকা সত্ত্বেও ঘুড়ি উড়ানো একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, বলা যায় কোনো রকম টিকে আছে।



ধারণা করা হয়, আজ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮শ' বছর আগে চীনে ঘুড়ি উড়ানো শুরু হয়। পরবর্তীকালে এটি এশিয়ার অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ, ভারত, জাপান এবং কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও ইউরোপে ঘুড়ি উড়ানো খেলাটির প্রচলন ঘটে প্রায় ১৬শ' বছর আগে । কাগজ দিয়ে সাধারণত ঘুড়ি বানানো হয়। এর ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহার হয় বাঁশের কাঠি বা শক্ত অথচ নমনীয় কাঠ। এছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে সুতা কিংবা পাতলা দড়ির ব্যবহার তো আছেই। আধুনিক কালের ঘুড়িগুলোয় সিনথেটিক জাতীয় পদার্থের প্রচলনও রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত। কোনোটি আকারে খুব বড় ও দেখতে খুব সুন্দর। আবার কোনোটি আকারে খুবই ছোট কিন্তু এগুলো দ্রুত উড়তে পারে না।



বিভিন্ন দেশে ঘুড়ির বিভিন্ন রকম নামকরণ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে চারকোণা আকৃতির বাংলা ঘুড়ি. ড্রাগন, বঙ্, মাছরাঙা, ঈগল, ডলফিন, অক্টোপাস, সাপ, ব্যাঙ, মৌচাক, কামরাঙা, আগুনপাখি, প্যাঁচা, ফিনিঙ্, জেমিনি, চরকি লেজ, পাল তোলা, জাহাজ, জাতীয় পতাকা প্রভৃতি সব নামের ঘুড়ি বানানো হয়। চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঘুড়ি বানানো হয়।



আমাদের দেশের অনেক এলাকায়ই ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। আর শুধু আমাদের দেশে কেন, চীন, জাপানসহ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে শত শত বছর ধরে ঘুড়ি উড়ানো জনপ্রিয় একটি খেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশসহ এশীয় দেশে শীত এবং গ্রীষ্মকালের শেষভাগে ঘুড়ি উড়ানোর খেলা উৎসবের আকার নেয়।



 



মোরগ লড়াই



এ খেলাটি স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। চাঁদপুর জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্কুলেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এই খেলা শুধু মাত্র মোরগ লড়াই হলেও স্কুল পর্যায়ে দেখা যায় যে, প্রতিযোগিতায় নামছে ছেলে ও মেয়েরা। এছাড়া রাজধানী সহ বিভাগীয় শহরে মোরগের মাধ্যমেই এ প্রতিযোগিতা হয়।



 



হাঁড়িভাঙ্গা



এই খেলাটি অনেক আনন্দের। মাঠের মাঝখানে একটি মাটির হাঁড়ি বসানো হয়। আর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীকে চোখ বেঁধে খেলায় নামতে হয়। প্রথমে অংশগ্রহণকারীকে দেখানো হয় মাঠের মাঝখানে একটি মাটির হাঁড়ি বসানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারীকে ওই মাটির হাঁড়ি দেখিয়ে চোখ বেঁধে দেয়া হয়। তারপর চোখ বাঁধা অবস্থায়ই হাতে লাঠি নিয়ে হাঁড়ি ভাঙ্গতে হয়।



 



অংক দৌড়



এটি আসলে একটা মেধার প্রতিযোগিতা। এই খেলাটি বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্য অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের একপাশে একটি টেবিলের উপর কাগজ ও কলম রেখে দিয়ে কিছু প্রশ্ন করে রাখা হয় অথবা বিভিন্ন সংখ্যা দিয়ে অংক তৈরি করার নিয়ম দিয়ে দেয়া হয়। যে আগে দৌড়ে গিয়ে প্রশ্নের দেয়া উত্তরগুলো সঠিক লিখবে তারপর সেখান থেকে পুনরায় আবার নিজের গন্তব্য স্থানে ফিরে আসতে হবে।



 



ব্যাঙ লাফ



এই খেলাটি শিশুদের জন্য একটি জনপ্রিয় খেলা। ছোট বয়সে সকল স্কুলেই এই প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে থাকে কর্তৃপক্ষ। খেলাটিতে আসলে পুরো শরীর ভেঙ্গে ব্যাঙের মতো আকৃতি করতে হয় প্রথমে। তারপর প্রতিযোগিতার আয়োজনে যারা দায়িত্বে থাকেন তাদের বাঁশির সুরে প্রতিযোগীকে মাঠের একপাশ থেকে দৌড়ে আরেকপাশে বাঙের মতো লাফ দিয়ে যেতে হয়।



 



সাইকেল র‌্যালি



এখন সারা বাংলাদেশসহ আমাদের চাঁদপুর জেলায় সাইকেল র‌্যালির জনপ্রিয়তা বেড়ে চলছে। তবে এ সাইকেল র‌্যালির প্রতিযোগিতায় সাধারণ কোনো সাইকেল নিয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছে না। ডিজিটাল যুগে নিত্যনতুন ডিজাইনের সাইকেল নিয়ে এখন এ সাইকেল র‌্যালি হয়। এর জন্যে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গ্রুপভাবে এক হয়ে সাইকেল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় প্রতিযোগীরা।



 



মিউজিক্যাল চেয়ার



এই প্রতিযোগিতাটি কয়েকটি চেয়ার নিয়ে আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ যতজন প্রতিযোগী থাকবে তার চেয়ে একটি কম চেয়ার নিয়ে এই খেলাটি শুরু হয়। একপাশ থেকে সাউন্ড বঙ্রে মাধ্যমে গান চালিয়ে দেয়া হয়। প্রতিযোগীরা চেয়ারের চারপাশে ঘুরতে থাকেন। যখন সাউন্ড বন্ধ হয়ে যায় তখনই যদি কোনো প্রতিযোগী চেয়ার দখল করতে মিস করে তাহলে তাকে ওই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩০৬৮৫
পুরোন সংখ্যা