চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৩। এবং নিশ্চয়ই সমুচ্চ আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা; তিনি গ্রহণ করেন নাই কোন পত্নী এবং না কোন সন্তান।


৪। এবং আরও এই যে, আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা আল্লাহর সম্বন্ধে অতি অবাস্তব উক্তি করিত।


 


দুঃখ অনেক ক্ষেত্রে জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।


-বায়রন।


 


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য অবশ্য কর্তব্য।


 


ফটো গ্যালারি
আমার জীবন আছে দেশের মাটির সঙ্গে বাঁধা আছে মানুষের সঙ্গে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ১৪ জুলাই নতুন বাংলার রূপকার গণতন্ত্রের প্রবর্তক নয় বছরের সফল রাষ্ট্রপ্রধান, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার পল্লীবন্ধু হুসেইন মূহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় নেতাকে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। বাংলাদেশে এমন একজন দেশ প্রেমিক রাষ্ট্রপ্রধান আর কখনো আসবে কিনা জানি না। কারণ, এ যাবৎকালে তার শাসনামলকে স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।



জাতীয় পার্টির সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আমাদের মহান স্বাধীনতার মূল স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে গণতন্ত্র। ইতিহাস সাক্ষ্য দেশের কোন পেক্ষাপটে ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপর দেশের শাসনভার অর্পিত হয়েছিল। দেশ সেদিন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, শাসকদের দুর্নীতি-দুঃশাসন আর প্রশাসনিক পঙ্গুত্বের কষাঘাতে জর্জরিত। তখন আহত গণতন্ত্র আরোগ্য লাভের জন্য আত্মচিৎকার করেছিলো। তৎকালীন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছাত্তারের নেতৃত্বাধীন সরকারের চরম ব্যর্থতাকে স্বীকার করে সেনাবাহিনীর হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। সে সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন বলেই রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। তখন সে জায়গায় যিনি থাকতেন তাকেই এ দায়িত্ব নিতে হতো। কিন্তু তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, তাই প্রকৃত অর্থে সামরিক শাসক হতে পারেন নি। আর তা পারেন নি বলেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি টিকে ছিলেন। পৃথিবীতে কোন সামরিক শাসকই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেনি ইতিহাস তাই বলে। গণতন্ত্রই ওনাকে টিকিয়ে রেখেছিলেন-কারণ, চলমান এই গণতন্ত্রকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন।



হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব পালনের মাত্র দুই বছরের মধ্যে বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে আবার সুস্থ স্বাভাবিক-দুর্নীতি মুক্ত পরিবেশ আর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়ে ১৯৮৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আবার ব্যারাকে ফিরে যাওয়া। সে সময় যদি সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসতো-তাহলে আর জাতীয় পার্টির সৃষ্টি হতো না। তারপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি আজকের এই জাতীয় পার্টির জন্ম হয়। দেশ তখন গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়। দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে সেইদিনের নবগঠিত জাতীয় পার্টি মাত্র ছয় মাস বয়সেই নির্বাচনের মাঠে অবতীর্ণ হয়।



১৯৮৬ সালের জুন মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অত্যান্ত দুঃখের বিষয় তার কদিন আগে আকস্মিক ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৬.১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ৭৬ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসন লাভ করে। এর আগে ৭৯'র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৪ ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পেয়েছিলো ৩৯টি। জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী বিরোধী জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে ৪১ ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৫৩ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে।



সেই জাতীয় পার্টির সরকারের অবদান হচ্ছে আজকের চলমান গণতন্ত্র এবং ঐ বছরই ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদের ভাষণে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জাতীয় পার্টির ইতিহাস গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ইতিহাসই নয়-একই সাথে সুশাসন-সংস্কার-উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাস, যুগান্তকারী প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ইতিহাস। ৬৪টি জেলা ৪৬০টি উপজেলা সৃষ্টির মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে স্বাধীন দেশের উপযোগী গণতান্ত্রিক স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন এই জাতীয় পার্টির। উপজেলা ছিল একটি সামাজিক বিপ্লব, নতুন অর্থনৈতিক সূতিকাগার। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন। পূর্ববর্তী সরকারের সময় যে গণতন্ত্র ছিল সংসদের সুরম্য অট্টালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ সেই গণতন্ত্রকে তিনি ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ৬৮ হাজার গ্রাম-বাংলার মানুষের মাঝে। নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সবই ছিল জনগণের হাতের নাগালে। প্রত্যেকটি উপজেলা ছিল একটি জাগ্রত বিকাশমান এলাকা। শুধু তাই নয়, জাতীয় পার্টি সরকার নির্মাণ করেছিল দাউদকান্দি, মেঘনা, বুড়িগঙ্গ, যমুনা সেতুসহ ৫০৮টি ছোট বড় ব্রিজ-কালভাট এবং হাজার হাজার মাইল পাকা রাস্তা। আমরা হিসাব করে দেখেছি জাতীয় পার্টির শাসনামলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মিত হয়েছে। নদী বহুল বাংলাদেশে নদ-নদী খাল বিলের কারণে সড়ক যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক বিপ্লবের সূচনা হলো। বাংলাদেশের যে কোন উপজেলা থানায় গাড়ি দিয়ে ভ্রমণের চিন্তা যেখানে ছিল অকল্পনীয় তা-ই বাস্তবায়িত হলো। সকল উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হল।



এলজিইডি প্রতিষ্ঠিত করে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ করে গরুর গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন জাদুঘরে। ঘুমন্ত গ্রামগুলো জেগে উঠেছিল কেবল এখানেই শেষ নয়, করেছিলেন ঔষুধনীতি, ভূমি সংস্কার, গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশ এবং অসংখ্য সংস্কার কর্মসূচি। বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হলো। হাজার কিলোওয়াটের নিচে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রায় আড়াই গুণ বর্ধিত করা গেল। শহর-বন্দর, উৎপাদন কেন্দ্র, থানা হেডকোয়ার্টার এবং কলকারখানা লোডশেডিং হ্রাস পেল। বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ কল কারখানা স্থাপিত হলো। মানুষ তাদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পেল। ব্যাংক এবং বিভিন্ন ঋণদান সংস্থা জনগণকে নব নব উদ্যোগ গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করল। ব্যবসায়ীরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দৃঢ় পদক্ষেপ এগিয়ে যেতে লাগল। সর্বত্রই একটি কর্মযজ্ঞ শুরু হলো। সামান্য পান দোকানদার নয় রিকশাচালকও দিগুন, তিনগুণ অর্থ উপার্জন করতে সমর্থ হল। সরকার ব্যয় করলেই জনগণ আয় করে। সরকার সর্বক্ষেত্রে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল। জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার দর্শণীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল জাতীয় পার্টির সরকারের শাসনামলে।



শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হলো প্রায় প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষায়তন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণ করে তাদেরকে মর্যাদাজনক বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হলো। অসংখ্য কলেজকে সরকারিকরণ করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলো। শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতি এক নবজাগরণের ধারায় উপনীত হলো। সমাজের সর্বত্রই নতুন জীবন-জোয়াড় পরিলক্ষিত হলো। আমাদের সন্তানরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে কেবল যে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করল তা নয়, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিত্বের নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করলো। দেশ-বিদেশে বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে বিবেচিত নয়। বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা সমূহ এবং সাহায্যদাতা দেশ সমূহ ও অধিকতর আর্থিক সহায়তা প্রদানে উৎসাহিত হলো। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ এবং বিশ্বের অনত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষায় প্রেরিত হয়ে প্রভুত সুনাম অর্জন করল। সমাজের সকল ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় উন্নয়ন সাধিত হলো। শুধু তাই নয়, জাতীয় পার্টির সময়ে ছিল না কোন গুপ্ত হত্যা, শিশু হত্যা, বোমাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি সহ কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। নারী নির্যাতন রোধে নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী কোর্ট করে ছিলেন। এসিড নিক্ষেপকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ে আইন করেছিলেন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। সমাজে ছিল না কোন আতংক ও অস্থির পরিবেশ। জাতীয় পার্টির সরকার সৃষ্টি করেছিল ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ। তাই আজ মানুষের মুখে মুখে জাতীয় পার্টির সরকারের উন্নয়নের কথা শোনা যায়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে-ততদিন উপজেলা ব্যবস্থা থাকবে, ৬৪ জেলা থাকবে। আর তার সাথে চিরদিন থেকে যাবে জাতীয় পার্টির নাম। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির একটি অনিবার্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আজও প্রতিষ্ঠিত।



প্রিয় জাতীয় পার্টির সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থক ভাইদের বলছি_আমরা এমন একটি দলের সদস্য যে দলটি এদেশের এক স্বর্ণোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ। আমরা বঞ্চিত হতে পারি-নির্যাতিত হতে পারি-আমাদের আকাশে কালো মেঘ থাকতে পারে বা আসতে পারে-কিন্তু সেই মেঘের আড়ালে উজ্জ্বল সূর্য অবশ্যই আছে। সে সূর্য উঠবে, আলো ছড়াবে এবং জাতীয় পার্টিও স্ব-মহিমায় এগিয়ে চলবে। হয়তো ক্ষমতায় যাওয়া অত্যান্ত কঠিন কাজ-তাই বলে অসম্ভব নয়। ক্ষমতায় যাওয়ার পথ অত্যান্ত সরু হতে পরে-কিন্তু পথ একটা থাকেই। উপযুক্ত সময়ে সেই পথ প্রসস্ত হয়ে যায়। এখন যে ভাবে দেশ চলছে-একটি গণতান্ত্রীক শাসনের দেশ এ ভাবে চলতে পারে না। অস্বাভাবিক কোন কিছুই বেশি দিন টেকে না। পরিবর্তন আসবেই_আর পরিবর্তনের জন্যই জাতীয় পার্টি।



পরম করুণাময় আল্লাহপাক জাতীয় পার্টিকে হেফাজত করুন। জাতীয় পার্টির সকল নেতা-কর্মী ও সমর্থককে হেফাজত করুন। আল্লাহ হাফেজ।



 



লেখক পরিচিতি : প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর, যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় পার্টি চাঁদপুর জেলা শাখা ও সদস্য, কার্যকরী পরিষদ জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি।



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫৬৩২৯
পুরোন সংখ্যা