চাঁদপুর, মঙ্গলবার ৮ অক্টোবর ২০১৯, ২৩ আশ্বিন ১৪২৬, ৮ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


০৩। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত; তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।


৪। তিনিই ছয় দিবসে আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর 'আরশে সমাসীন হইয়াছেন। তিনি জানেন যাহা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যাহা কিছু উহা হইতে বাহির হয় এবং আকাশ হইতে যাহা কিছু নামে ও আকাশে যাহা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না কেনো_তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যাহা কিছু করো আল্লাহ তাহা দেখেন।


 


assets/data_files/web

সংশয় যেখানে থাকে সফলতা সেখানে ধীর পদক্ষেপে আসে।


-জন রে।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


ফটো গ্যালারি
নারী শক্তি
অর্পণা মজুমদার
০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে নারীকে আল্লাদিনী শক্তির আধার বলা হয়েছে। কথাটা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। আমরা শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহে দেখতে পাই পরম পুরুষ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অসাধ্য সাধনের মূল প্রেরণায় ছিলেন শ্রীমতি রাধা। মানবসভ্যতার অগ্রগতির ক্ষেত্রে নারী পুরুষের ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। অথচ সভ্যতার ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সব যুগেই নারী দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছে। স্বার্থপর পুরুষ নারীকে ব্যবহার করেছে ভোগ্যপণ্য রূপে। যুগে যুগে দেশে দেশে নারী হয়েছে উপেক্ষিত, অবহেলিত। নারীর ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়েছে বার বার। জল ছাড়া আমাদের একদ-ও চলে না, অথচ সংসারে জলের বড়ই অনাদর। অনুরুপভাবে বলা যায় যে, নারী ছাড়া পুরুষের জীবন অচল। অথচ সংসারে নারীর অবদান স্বীকার করা হয় না। দরজা, জানালা বন্ধ থাকলে সূর্যের আলো যেমন আমাদের শয়নকক্ষে প্রবেশ করতে পারে না, ঠিক তেমনি শিক্ষার আলো যুগ যুগ ধরে প্রবেশ করতে পারেনি নারীর অন্তঃলোকে। রক্ষণশীল প-িত ব্যক্তিরাও নারী শিক্ষার প্রচেষ্টাকে ব্যঙ্গবিদ্রূপের বাণে করেছেন জর্জরিত। আবার কোনো কোনো প-িত ছিলেন, নারীশিক্ষার ঘোরতর বিরোধী। অথচ ভাবতেও অবাক লাগে এসব প-িত নারী শিক্ষার ব্যয়কে ভস্মে ঘি ঢালার সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় থেকে শুরু করে ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরও এসব রক্ষণশীল প-িতদের বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু তাদের দমানো যায়নি। তারা নারীর শিক্ষা ও অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন শত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। নারীর অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে সমাজে নারী স্বার্থবিরোধী নানা কুপ্রথার প্রচলন হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলকভাবে মেয়েদের বাল্যবিবাহ, সতীদাহ প্রথার কথা উল্লেখ করা যায়। আইন শাস্ত্রের প-িত ব্যক্তিরাও নারীদের পৈতৃক বিষয় সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের দাবিকে করেছেন অস্বীকার। তারা যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, বিষয় সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্যে সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তি প্রয়োজন। আর ঈশ্বর নারীদের সে বুদ্ধিবৃত্তি থেকে বঞ্চিত করেছেন। অথচ বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলে। বাস্তবে দেখা যায়, বহু বুদ্ধিমান বিশৃঙ্খল জীবনযাপন করে পূর্ব পুরুষের বহুকষ্টে অর্জিত বিষয় সম্পত্তি নষ্ট করেছেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, নারী তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের অনুকূল পরিবেশ পায়নি। ইতিহাসের পাতায় নারীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় পাওয়া যায় বিস্তর। রাশিয়ার জরিনা ক্যাথরিনের শাসনকালে, ইংল্যান্ডের রাণী এলিজাবেথের শাসনকালে এবং ভারতের সুলতানা রাজিয়া ও নূরজাহানের শাসনকালের গৌরবদীপ্ত অধ্যায়ের কথা স্মরণ করা যায় কৃতজ্ঞতাচিত্তে। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীও ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরল উদাহরণ। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও অনুরূপ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। যাঁকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি, আর এরাও নারী। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আল্লাদিনী শক্তি তথা আদ্যাশক্তি নারীকে উপেক্ষা বা অবহেলা করা যায় না। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন সুদূরে নয়, যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়। তাই মনে রাখতে হবে : পেলে সেবা, পেলে যত্ন, কন্যাও হতে পারে অমূল্য রত্ন। তবে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, বিরোধিতার জন্যে বিরোধিতা নয়, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। নারীকে এগিয়ে যাবার প্রেরণা যোগাতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে। আমার সোনার বাংলার সমৃদ্ধি রক্ষা করতে হবে। এদেশ সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ। এদেশের মাটিতে সোনা ফলে। এদেশের মাটিতে ঘুমিয়ে আছে বাংলার অবিসংবাদী নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক জ্ঞানী-গুণীজন। এদেশ আমার গর্ব। এ সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় যারা অশান্তির আগুন জ্বালাতে চায়, যারা আমার তরুণ যুব সমাজকে বিপথগামী করার লক্ষ্যে মাদক-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাতে চায়, যারা আমার মা, বোনদের সম্মানহানি করার লক্ষ্যে ইভটিজিংসহ নানা অপকর্মের মদদ দিতে চায়, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। আমার এ দেশ সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির দেশ। এ সমপ্রীতির মূলে যারা আঘাত হানে তারা আমার আপনার সকলের শত্রু। তাদের কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই, মনুষ্যত্ব নেই। আসুন তাদেরকে সবাই মিলে ঘৃণা করি। ভালো মানুষকে সম্মান করি। শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করি 'সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই'। 'জীবে প্রেম করে যে জন, সেজন সেবিছে ঈশ্বর।' আমাদের ধর্মেও অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় স্থাপনের শিক্ষা দিয়েছে। দেবী দুর্গাই তার প্রমাণ। তিনি ন্যায় স্থাপনের লক্ষ্যে মহা পরাক্রমশালী মহিষাসুরকে নিধন করে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপন করেছেন বলেই আজ সকলের দ্বারা পূজিত হচ্ছেন মহাআনন্দে মহাসানন্দে। সাবিত্রী তার মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন যমরাজ থেকে। যখন মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দেবকুল স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন, তখন নারী শক্তির দ্বারাই উদ্ধার হয় স্বর্গরাজ্য। ধর্মগ্রন্থ পুরাণেও রয়েছে নারীর আত্ম ত্যাগ আর সফলতার কথা। দ্রৌপদী দোর্যধন আর দুঃশাসন দ্বারা নিপীড়িত হয়েও ভেঙ্গে পড়েনি। ধর্ম রক্ষায় প্রেরণা যুগিয়েছেন পান্ডবদিগকে। বেহুলা স্বামীর জীবন রক্ষায় ছুটে গিয়েছেন স্বর্গের দ্বার প্রান্তে। আর পৃথিবীর শান্তি রক্ষায় অসুর নিধনে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী দুর্গা। এমনই বহু প্রমাণ আছে যেখানে নারীর সফলতা লক্ষণীয়। তাই দেবী দুর্গার কাছে আমাদের বিনীত প্রার্থনা : হে দেবী, মহিষাসুরমর্দিনী, তুমি আমাদের শক্তি দাও, সাহস দাও, কৃপা কর, আমরা যেন পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকি। আমরা যেন সকল অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়তে পারি, সমাজের সকল ক্ষেত্রে ন্যায় নীতি ও আদর্শ স্থাপন করতে পারি। সুখী সমৃদ্ধ অসামপ্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলতে পারি।



 



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৯১০
পুরোন সংখ্যা