চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮। ২৫ কার্তিক ১৪২৫। ২৯ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫২। 'আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হইতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলিতেও অক্ষম।


৫৩। 'মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ-বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশ্তাগণ দলবদ্ধভাবে?


৫৪। এইভাবে সে তাহার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করিয়া দিল, ফলে উহারা তাহার কথা মানিয়া লইল। উহারা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


assets/data_files/web

যদি বইটা হয় পড়ার মতো তবে তা কেনার মতো বই। -জন রাসকিন।


 


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ইত্তেফাকের কল্যাণে 'সূর্যমুখী'র 'বাবলু ভাই'কে চেনা
কাজী শাহাদাত
০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১৯৬৯ সালের উত্তাল দিনগুলো কাটাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি রেল স্টেশনে। বাবা ছিলেন এই স্টেশনের বড় মাস্টার। প্রতিদিন বিকেলে বাসা থেকে প্ল্যাটফর্মে আসতাম খেলার উদ্দেশ্যে। দেখতাম ওয়েটিং রুমের সামনে বিদ্যমান পাকা বেঞ্চে বসে আছে কিছু মানুষ। তাদের আলাপচারিতায় ফুটে উঠতো উদ্বেগ ও কৌতূহল। একটি ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা করতেন তারা। ট্রেনটি আসতো সূর্যাস্তের অল্প আগে কিংবা পরে। ট্রেনটি স্টেশনে থামলেই অপেক্ষমান ওই মানুষগুলো গার্ডের কক্ষের দিকে দ্রুত হেঁটে যেতো। গার্ড সাহেব পাইপের মত লম্বাটে-গোল একটি কাগজের প্যাকেট 'পোর্টার' পদবীধারী স্টেশন-পিয়নের হাতে ধরিয়ে দিতেন। তারপর এই প্যাকেটটিকে অনেকটা ছোবল মেরেই নির্দিষ্ট এক ব্যক্তি পোর্টার থেকে নিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে যেতেন। তিনি দ্রুত খুলতেন সেই প্যাকেটটি। তারপর মোড়ানো ভাঁজ থেকে বের করে আনতেন একটি পত্রিকা, যার নাম দৈনিক ইত্তেফাক। এ ইত্তেফাকে কী সংবাদ বেরিয়েছে, তা জানতেই ওই মানুষগুলোর ছিলো যতো কৌতূহল। এই কৌতূহল মেটাতে পারলেই কেটে যেতো তাদের উদ্বেগ। তখন পত্রিকা পড়ার মতো শিক্ষিত লোকের সংখ্যা ছিলো নগণ্য। সেজন্যে একজন পত্রিকার সংবাদ পড়তেন, অন্যরা তাকে ঘিরে ধরে তা শুনতেন।

আমার বড় ভাই কাজী তাহেরুল ইসলাম বাচ্চু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ডাক বিভাগের অধীনস্থ রেলওয়ে মেইল সার্ভিস (আরএমএস)-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতিদিন এই ইত্তেফাক কিনতেন এবং বাসায় নিয়ে এসে আমাদের পড়াতেন। যেদিন ইত্তেফাকে 'কচি-কাঁচার আসর' নামক শিশুদের পাতা বেরুতো, সেদিন ওই পাতাটি পড়ার জন্যে তিনি আমাদের উৎসাহ দিতেন। আর এই পাতায় যদি মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার সংবাদ ছাপা হতো, তাহলে তো কথাই নেই, তিনি বিপুল নৈকট্যে আন্দোলিত হতেন। তিনি ওই সংবাদে মাকসুদুল হক বাবলুর নাম খুঁজে পেলেই হলো, জোর গলায় বলতে থাকতেন, এই বাবলু হচ্ছে আমার ক্লাসমেট। আমি মতলবগঞ্জ জে.বি. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে আমার সাথে পড়তো। খুবই ভালো ছাত্র ছিলো সে, তার হাতেই গড়ে উঠেছে সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা।

বলা যায় ১৯৬৯ সাল থেকে দৈনিক ইত্তেফাকের কল্যাণে বাবলু ভাইয়ের নামটি আমার কাছে ছিলো ঠোঁটস্থ। কিন্তু তাঁর মুখোমুখি হতে আমাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৮ বছর। ১৯৮৭ সালের কোনো একদিন ইত্তেফাকের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া জীবনের সাথে মতলব গেলে কচি-কাঁচা বিদ্যালয় গিয়ে দেখা পাই বাবলু ভাইয়ের। তিনি পরিচয় জানতেই খানিকটা স্মৃতিজর্জর হলেন। মুহূর্তেই জড়িয়ে ফেললেন স্নেহের জালে এবং বললেন, দুপুরে আমার বাসায় খেয়ে যেতেই হবে। এভাবে প্রথম দেখার পর থেকে মতলবে গিয়ে কতোবার যে বাবলু ভাইয়ের বাসায় খেয়েছি, তার হিসাব মিলানো কঠিন।

চাঁদপুর সহ বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় এবং অধিকাংশ উপজেলায় কচি-কাঁচার মেলার শাখা রয়েছে। কিন্তু মতলবের সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার মতো সক্রিয় শাখা খুব কমই রয়েছে। এ শাখার মাধ্যমে কচি-কাঁচা শিশু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেটি এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, যেটি মতলব দক্ষিণের একটি উন্নত বিদ্যালয় হিসেবে সকল বিবেচনায় স্বীকৃতি পেয়েছে। একজন শিশু সংগঠক হিসেবে মাকসুদুল হক বাবলু শুধু কচি-কাঁচার মেলার মাধ্যমে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও মেধার বিকাশ ঘটাননি, তিনি আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে দুটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবেও নিজের পরিচয় ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি নিজের নামে কিছু না করে কচি-কাঁচার নামে যা যা করেছেন, তাতে তাঁর ঔদার্যেরই পরিচয় মিলেছে প্রকটভাবে। কে কে কীভাবে তাঁর মূল্যায়ন করেছে, তার বিবরণ তুলে না ধরে চাঁদপুর কণ্ঠ তার এক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁকে শিশু সংগঠক হিসেবে মূল্যায়ন করার যে সুযোগ পেয়েছে, তাতে পুরো চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারই নিজেদের ধন্য মনে করছে।

মাকসুদুল হক বাবলুকে আমি এবং আমার মতো বয়সী কিংবা তদুর্ধ্ব বয়সী কিছু লোক 'বাবলু ভাই' বললেও মতলব দক্ষিণের অধিকাংশ লোকই তাকে 'বাবলু স্যার' নামেই চিনে এবং শ্রদ্ধা ও সমীহ করে। আমার বড় ভাই ক' বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। আল্লাহর কাছে শোকরিয়া এজন্যে যে, অকালে ছেলে হারানোর শোক বুক চেপে রেখেও বাবলু ভাই আমাদের মাঝে এখনও বেঁচে আছেন, শারীরিক অসুস্থতার ধকল সামলেও মানসিক শক্তিতে শিশুদের কল্যাণে এবং সমাজের কল্যাণে বহুবিধ কাজ করে চলছেন। তিনি মতলব দক্ষিণের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও মতলবকে আধুনিক রূপে গড়ার পেছনে এবং এর ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষার জন্যে যে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই অপরিসীম। চাঁদপুর জেলায় শিশু সংগঠক হিসেবে বাবলু ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে। আমার অহংবোধের বিষয় হলো এই যে, এই বাবলু ভাই আমার অগ্রজপ্রতিম। আমার বড় ভাই আজ বেঁচে নেই, কিন্তু বাবলু ভাই বেঁচে আছেন বলে তাঁকে দেখলে আমি বড় ভাইয়ের সত্তাকে যেনো খুঁজে পাই তাঁর মাঝে। মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার ৫০ বছরপূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে এ মেলার দীর্ঘ স্থায়িত্বই শুধু কামনা করবো না, সুস্থতার সাথে বাবলু ভাইয়েরও সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি। কেননা আমাদের সমাজের কল্যাণে একজন বাবলু ভাইয়ের ভীষণ প্রয়োজন-অতীব প্রয়োজন।

লেখক : প্রধান সম্পাদক, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ; মহাপরিচালক, সাহিত্য একাডেমী-চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৬৩১২৭
পুরোন সংখ্যা