চাঁদপুর। শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮। ২৫ কার্তিক ১৪২৫। ২৯ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যূখরুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫২। 'আমি তো শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তি হইতে, যে হীন এবং স্পষ্ট কথা বলিতেও অক্ষম।


৫৩। 'মূসাকে কেন দেওয়া হইল না স্বর্ণ-বলয় অথবা তাহার সঙ্গে কেন আসিল না ফিরিশ্তাগণ দলবদ্ধভাবে?


৫৪। এইভাবে সে তাহার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করিয়া দিল, ফলে উহারা তাহার কথা মানিয়া লইল। উহারা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


assets/data_files/web

যদি বইটা হয় পড়ার মতো তবে তা কেনার মতো বই। -জন রাসকিন।


 


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্মৃতিপটে মতলব মেলা
কে. এম. লোকমান হোসেন
০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন খালাম্মা আমাকে নিয়ে মুকুল দির বাসায় যান। আমাকে দেখে মুকুল দি অনেক খুশি হলেন, আমাকে আদর করলেন এবং চা-বিস্কুট ও আচার খেতে দিয়ে তাঁর ছোট ভাই (প্রয়াত) 'সমর মজুমদার'কে ডেকে আমাকে মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে বললেন। আমি সেইদিন না গিয়ে পরে যাবো বলে খালাম্মার শরীর ঘেঁষে অনেকটা ভয়ার্তভাবে বসে রইলাম। খালাম্মা ও তার বান্ধবী শেফালী খালার ছোট ভাই শাহজাহান সাজুর সঙ্গে পাঠাবার পরামর্শ করে মুকুল দির বাসা থেকে বিদায় নেন। সম্ভবত তার দুদিন পর 'বন্ধু' শাহজাহান ও দ্বিজেনসহ কচি-কাঁচার মেলায় যাই এবং সমর দার মাধ্যমে জনাব মাকসুদুল হক বাবলু ভাইয়ের নিকট হাজির হয়ে মেলায় ভর্তি হই।

কচি-কাঁচায় পেঁৗছে আমার পুরানো সব বন্ধুকে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠি। প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে, আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় মতলব বালিকা বিদ্যালয়ে। এখানে শিশু ও প্রথম শ্রেণি পড়ি। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে মতলব মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৯৭০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী করে মতলব জেবি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। তারপর ১৯৭৪ সালে টিসি নিয়ে ঢাকার গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ রাজা-রাজেন্দ্র নারায়ণ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হই। সে কারণেই মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার অবস্থানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত এই ছয় বছরে মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলায় সক্রিয়ভাবে পর্যায়ক্রমে সদস্য, কর্মী ও সাথী হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে আমি মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলায় একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে জড়িত আছি।

মতলব বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াকালীন কাছের বন্ধুদের মধ্যে ছিলো হুমায়ুন কবির রেবন, শাহজাহান, ডালিম, কাজল ভট্টাচার্য, মহিউদ্দিন ও সুব্রত মজুমদার। ডালিম, শাহজাহান ও সুব্রত ছাড়া অন্য সবাই এখনো কচি-কাঁচার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। কচি-কাঁচার বন্ধুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বিজেন, গণেশ, দিলীপ, হরিনাগ, বিমল, মিলন, সুদর্শন, জাফর হাকিম, বাদশা (প্রয়াত), পাপ্পু, খোকন, অপু ইলিয়াছ, লিটন, ফারুক (১), ফারুক (২), রাধা, গৌরাঙ্গ, নরেশ নকূল প্রমুখ। তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও কচি-কাঁচার মেলার সঙ্গে কাজ করে শিশু আন্দোলনে ভূমিকা রাখছে।

১৯৭৫ সালে গাজীপুরের কালীগঞ্জে অবস্থানকালে আমি 'প্রভাতী শিশু ও কিশোর সংঘ' 'দৃষ্টিপাত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী' এবং ওয়াসিস ক্লাব, কালীগঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি থাকাবস্থায় মতলব মেলার ড্রাম্বেল, কাঠি ও অন্যান্য খেলার সরঞ্জামাদি কালীগঞ্জে নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে শিশু-কিশোরদেরকে জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাই। তারা সেখানে ক্রীড়ানৈপুণ্য ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। সেখানে মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা আমার মূল শিশু সংগঠন থেকে আমি এসব শিখেছি বলে প্রচার করেছি।

মনে পড়ে একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরি, জাতীয় দিবসের কচি-কাঁচার মেলার বিভিন্ন কর্মসূচি, কুচকাওয়াজ, প্যারেড, পিটি, ড্রাম্বেল, কাঠি, পতাকা ও নানা ধরনের ডিসপ্লে প্রদর্শন। প্রয়াত গুরু সদরদার বজ্রকণ্ঠের কমান্ডে ঝুংকু, রিংকু, মহিউদ্দিন ও ফারুকের গার্ড অব অনার প্রদর্শন, আনিছ চৌধুরী, মিজান ভাই, কাজল, রেবন, দ্বিজেল, বিমল ও সাজুর ব্যান্ড বাজানোর ঝংকার এখনো শরীরে অনুভব করি। মিজান ভাই, নকুল ও শ্যামলের কৌতুক অভিনয়ের দৃশ্য ও কথাগুলো মনে হলে এখনো একা একাই হাসিতে আটখানা হয়ে যাই। চোখের সামনে ভেসে আসে শ্রদ্ধেয় তাফাজ্জল ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন ভঙ্গি ও মনে মনে গেয়ে উঠি ব্রতচারী গানের সুর_'ব্রতচারী হয়ে দেখ জীবনে কি মজা ভাই, হয়নি ব্রতচারী যে, সে আহা কি বেচারীটাই'। ঘিউর গির্জ্জা-ঘিউর-গির্জ্জা ওরর-... তালিতা-তালিতা তা-তা, ঘিষাঘিনীতা-ঘিজাঘিনীতা-...তাতাক, তাতাক, তাতাক তা, তাকতা 'খিতা খিতা' ইত্যাদি।

মনে পড়ে সুদূর কুষ্টিয়ার লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান ওস্তাদজি মরহুম সিরাজুল হকের শিখানো লাঠি খেলা এবং লাঠি দ্বারা আত্মরক্ষার নানা কৌশল। সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, খেলাধুলা, শিক্ষা-সমাজ উন্নয়নের পাশাপাশি সেবার ক্ষেত্রেও মতলব মেলার জুড়ি নেই। মনে পড়ে ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত স্বাধীনতার পরই দেশে দুর্ভিক্ষ, অভাব-অনটনে আর্ত-পীড়িত মানুষের মাঝে রেডক্রসের দেয়া শিশু খাদ্য বিস্কুট, গুঁড়া দুধ, গরম কাপড়, পোশাক ও নানা ধরনের সামগ্রী আমার নিজ গ্রাম নওগাঁওসহ মতলব এলাকায় আমরা কচি-কাঁচার মেলার সদস্যরা বিতরণ করি। এ কাজে অংশগ্রহণ করে শিশু মনে সেবার মনোভাব সৃষ্টি, সামাজিক দায়-দায়িত্ব ও আত্ম-পীড়িতদের সেবার মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছি তথা দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে মহান রাব্বুল আলামিনের অপার কৃপায় বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিরল ধৈর্যের অধিকারী শ্রদ্ধেয় মাকছুদুল হক বাবলু ভাইয়ের অবদানে, যিনি প্রতিষ্ঠা করেন মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের ব্রতচারী নৃত্য শিখিয়েছেন, লুসাই, কাঠি ও অন্যান্য শারীরিক কসরৎ শিখিয়েছেন, যাঁর আদর্শে আমি অনুপ্রাণিত, সেই দেওয়ান মোঃ তাফাজ্জল হোসেনের প্রতি। প্যারেড, পিটি ও ড্রাম্বেল শিখার ক্ষেত্রে আমার গুরু আজ আমাদের মাঝে নেই। প্রয়াত সমর প্রসাদ মজুমদারের আত্মার শান্তি কামনা করছি। এছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মেলার সাবেক সংগঠক নারায়ণ দা, সাথী ও বড় ভাই মনির হোসেন পাটওয়ারীসহ কচি-কাঁচার সাথে সম্পৃক্ত অনেক বন্ধু-বান্ধবের কথা গভীরভাবে মনে পড়ে।

মতলব মেলা থেকে শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যাঁদের নিকট কৃতজ্ঞ ও ঋণী তাঁদের মধ্যে অন্যতম জনাব মাকসুদুল হক বাবলু ভাই, যিনি মতলব মেলা প্রতিষ্ঠা না করলে হাজার হাজার শিশু-কিশোর উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, সৎ-নিষ্ঠাবান হওয়া, চরিত্র গঠন, আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতো। এই মহৎ কাজটি করায় মাকসুদুল হক বাবলু ভাইয়ের নিকট আমি ও মতলববাসী চিরঋণী।

ঐতিহ্যবাহী মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলায় সম্পৃক্ত হওয়ার পেছনে যাঁদের অবদান সবচে' বেশি তাঁরা হলেন : আমার খালাম্মা 'ইয়ারুননেছা', নানী, নানা মরহুম আব্দুল আজিজ প্রধান ও মতলব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা 'মুকুল দিদি' (প্রয়াত সমর মজুমদারের বড় বোন)।

সর্বোপরি কচি-কাঁচার আদর্শের কারণে স্কুল-কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের নিকট অতি পরিচিত ও প্রিয়ভাজন ছিলাম। কর্মজীবনেও কচি-কাঁচার আদর্শ ও মূলমন্ত্র পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে আমাকে অনেক শাণিত করেছে। তাই আমি মনে করি, মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলার শিক্ষাই আমার জীবনের উন্নতির একমাত্র সোপান।

লেখক : মতলব মেলার প্রবীণ সদস্য ও ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী লিমিটেড

গণ-গ্রামীণ বীমা ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৪৯০৪
পুরোন সংখ্যা