চাঁদপুর, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
কন্যাশিশুর নারী হয়ে ওঠার গল্প
মাসুমা রুমা
২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


একজন কন্যাশিশুর নারী হয়ে ওঠা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রায়ই বিষয়টি সোমা আর তার বান্ধবীদের মধ্যে আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। আলোচনার মাঝপথে উদাহরণ টানতে গিয়ে সোমা অবচেতন মনেই নিজের গল্প বলতে শুরু করে। গল্পটা ঠিক এমন_সোমার পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। খারাপ সঙ্গ পড়ে জুয়া খেলা ধরে। ধীরে ধীরে মাদকে আক্রান্ত হয়ে পরিবারের প্রতি চরম অবিচার করেন। যেদিন তিনি কাউকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং সোমার মা, সোমা, এমনকি সোমার ছোট ভাই-বোনকেও অস্বীকার করেন। সোমার মা রাহেলা বেগম পড়েন মহাসমুদ্রে। কলেজপড়ুয়া সোমা প্রতিনিয়ত মার পাশে থেকে কোনোরকম চালাতে থাকে তাদের সংসার। সোমা ভাবে_পরিবারের জন্যে তাকে অনেক কিছু করতে হবে। নারী বলে নিজেকে দুর্বল ভাবার কিছু নেই। সোমার মতো মেয়েরাও সঠিক সময়ে সঠিক দায়িত্ব কাঁধে নিতে পারে, প্রমাণ করে দেখাতে চায় সোমা।



 



চোখের পানি মুছে, কোমর বেঁধে পড়াশোনা শুরু করে দেয় সোমা। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে ফলাফলও বের হয়। সোমা জিপিএ-৫ পেয়ে মায়ের বুকে সাহস সঞ্চার করে। সোমার সামনে ভর্তিযুদ্ধ। সোমা বিশ্বাস করে_নারী হোক কিংবা পুরুষ, জীবনকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেয়ার একমাত্র হাতিয়ার সুশিক্ষা। উচ্চশিক্ষার পথ প্রসারিত করতে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয় সোমা এবং পরিশ্রম, মেধা আর আত্মবিশ্বাসেরই জয় হয়। সোমা ভর্তির সুযোগ পায় একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেয়ের সাফল্যে রাহেলা বেগম দিন বদলের আভাস খুঁজে পান। দেখতে পান উজ্জ্বল এক ভবিষ্যৎ তার সামনে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছে।



 



এসব ভাবতে গিয়ে হঠাৎ তিনি লজ্জায় কুঁকড়ে যান। তার মনে পড়ে_প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়াতে বেশ কিছুদিন তার মন খারাপ ছিলো। নিজেকে বড্ড পাপী মনে হয় এখন তাই। দিন যে আর আগের মতো নেই, রাহেলা বেগম এখন তা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারেন। নারী-পুরুষের ভেদাভেদ বলে আগামীতে কিছু থাকবে না, তিনি তাও উপলব্ধি করতে পারেন। সোমা এখন পড়ার ফাঁকে টিউশনি করে। পার্টটাইম চাকরিও করে। গর্বে রাহেলা বেগমের বুক ভরে ওঠে।



 



সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে, মা-বাবার শান্তির জন্যে প্রয়োজন সুসন্তানের। সোমার পড়াশোনা প্রায় শেষের পথে। ভালো চাকরির জন্যে সে সাধ্যমতো প্রস্তুতি নেয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চায় সোমা। সোমার স্বপ্ন কেবল তার ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ে পরিবারের সবার মাঝে, এলাকার মানুষজনের ভেতর। অনেক মেয়েই সোমাকে দেখে পড়াশোনায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। পরিবারের বোঝা না হয়ে তারাও হতে চায় পরিবারের সাহসের জায়গা, নির্ভরতার জায়গা। এলাকার লোকজনের ভেতর কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দিন দিন ইতিবাচকতায় রূপ নেয়। তারা নারীদের সম্মান করতে শুরু করে, নারীর কাজের স্বীকৃতির জায়গা তৈরি হয় তাদের ভেতর।



 



রাহেলা বেগম এখন আর কাঁদে না। খোদার দরবারে শোকরিয়া আদায় করে একজন সুসন্তান দান করার জন্যে। যে সন্তান পরিবারকে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দেয়নি, বরং নিজেই আলো হয়ে আলোকিত করেছে অন্ধকার পথকে। সোমা এখন বড় প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এলাকায় তার একটি আলাদা মর্যাদা তৈরি হয়েছে। এলাকার নারীদের জন্যে সে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে, যেনো মেয়েরা পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে কাজ করে নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করতে পারে, যাতে করে বাবা-মা যেনো কন্যাশিশুকে বোঝা না ভেবে আশীর্বাদ মনে করেন।



 



শুধু বয়সে তরুণীদের জন্যেই নয়, সোমা এলাকার মধ্যবয়স্ক নারীদেরও আয়ের পথ বাতলে দিয়েছে। তারা এখন প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির ফাঁকা জায়গায় শাকসবজি, ফলমূল চাষ করে। চাষ করে নানারকম ওষধি বৃক্ষের। এতে তাদের নিজেদের শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়, এলাকার মানুষজনও টাটকা সবজি ক্রয় করতে পারে। আর অর্থনৈতিক সচ্ছলতার বিষয় তো আছেই। সোমা নিজ উদ্যোগে এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যে নিজের বাড়িতে একটি পাঠাগার স্থাপন করে। সেখানে বাংলাসাহিত্য থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশের বিখ্যাত বইয়ের অনুবাদ সে রাখে। পাঠাগারে সংযুক্ত করে কম্পিউটার। যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নারীরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের নারীদের সফলতার গল্প পড়ে উৎসাহিত হয়, সাহস সঞ্চার করে। ছেলে-মেয়েরা এখন অবসরে বই পড়ে নিজেদের জানার পরিধি বাড়ায়, নিজেদের আলোকিত করে। একজন নারী হয়ে সোমা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, এলাকার উন্নয়নে যে অবদান রেখে চলেছে তার জন্যে শুধু রাহেলা বেগমই নয়, শুধু সোমার নিজ এলাকার মানুষই নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের গর্বিত হবার কথা। যে পিতা-মাতা কন্যাশিশুর জন্ম দিয়ে নিজেদের দুর্ভাগা মনে করেন, ভাবেন_কন্যাশিশু পিতা-মাতার সুখের আশ্রয় হতে পারে না, তারা কেবল বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতেই পৃথিবীতে আসে, কে জানে আজ তারাই হয়তো সচেতন কিংবা অবচেতন মনে সোমার মতো একটি কন্যাসন্তানের জনক-জননী হতে চান!



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৮-সূরা নাবা'


৪০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৭। যিনি প্রতিপালক আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও উহাদের অন্তর্বতী সমস্ত কিছুর, যিনি দয়াময়; তাঁহার নিকট আবেদন-নিবেদনের শক্তি তাহাদের থাকিবে না।


৩৮। সেইদিন রূহ ও ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াইবে; দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন সে ব্যতীত অন্যেরা কথা বলিবে না এবং সে যথার্থ বলিবে।


 


প্রত্যেক রাষ্ট্রের ভিত হল সে দেশের শিক্ষিত যুবশক্তি।


-ডায়োগনেস।


 


 


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৪,৩৬,৬৮৪ ৫,৫৪,২৮,৫৯৬
সুস্থ ৩,৫২,৮৯৫ ৩,৮৫,৭৮,৭০৩
মৃত্যু ৬,২৫৪ ১৩,৩৩,৭৭৮
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৬৫৭৫
পুরোন সংখ্যা