চাঁদপুর, বুধবার ১৩ মে ২০২০, ৩০ বৈশাখ ১৪২৭, ১৯ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৮-সূরা কালাম


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪৭। উহাদের কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, উহারা তাহা লিখিয়া রাখে।


৪৮। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়, তুমি মৎস্য-সহচরের ন্যায় অধৈর্য হইও না, সে বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করিয়াছিল।


 


-ইয়ং


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সময় থাকতে সাবধান হোন
তাসমিম সুলতানা
১৩ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চীনে দেখা দিলেও এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মরণঘাতী ভাইরাস করোনা (কোভিড-১৯)। দিনকে দিন অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চীন করোনার ধাক্কা সামলে উঠলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালী, স্পেনের অবস্থা এখন ভয়াবহ। আক্রান্ত ও মৃতের মিছিল প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত হওয়া এ ভাইরাস থাবা বসিয়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের মানুষও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন বিশেষ করে ওষুধ, খাদ্যপণ্য কেনা বাদে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নিজের, পরিবার এবং সমাজের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় গৃহে অবস্থান বা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। তবে এই নির্দেশ মানছেন না অনেক মানুষ, যা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কখনই কাম্য নয়। এমন একটা পরিস্থিতিতে আমাদের সবার উচিত, কোনোভাবে আতঙ্কিত না হয়ে বরং নিজে সতর্ক হতে হবে, পরিবারকে সচেতন করতে হবে, সচেতন করতে হবে প্রতিবেশীকে। আর কোনো গুজবে কিংবা ভুল তথ্যে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্যটি জানতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ মহামারী রোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও সাধ্য অনুযায়ী মানবসেবার উদ্দেশ্যে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। করোনা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন_এটা খুবই ঘৃণ্য কাজ। এ অবস্থায় মুনাফা অর্জন কিংবা যাচ্ছেতাইভাবে চলাফেরা করে পরিবার, স্বজন কিংবা আশপাশের মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক হবে না। কোভিড-১৯ স্বভাবগতভাবেই অতিশয় সংক্রমণশীল এবং এর ঝুঁকিতে থাকা সর্বসাধারণের কোনো প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা নেই। ফলে কেউ-ই যে সংক্রমণের ঝুঁকির বাইরে নেই, তা সবার মনে রাখতে হবে। বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসের গতি-প্রকৃতি দেখে অনেক দেশ নিজেদের সুরক্ষিত করেছে। এর মাঝে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার নাম আসতে পারে সর্বাগ্রে।



 



এসব দেশের কৌশল ছিলো একটাই। তা হচ্ছে_যে যখনই আক্রান্ত হচ্ছে তাকে চিহ্নিত করা। কোয়ারেন্টাইনে কিংবা আলাদা জায়গায় রাখো। তাহলে সংক্রমণ থেকে অন্যরা রেহাই পাবে। সংক্রমণ থামাতে পারলেই রোগের বিস্তার হতে পারবে না। হয়েছেও তাই! করোনার বিস্তার সারণিতে একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা স্পষ্ট হবে।



 



ধরা যাক, একজন আক্রান্ত যদি প্রতি ৫ দিনে ২.৫ জনকে আক্রান্ত করে তাহলে ৩০ দিনে সে একাই ৪০৬ জনকে আক্রান্ত করবে। এভাবে চলতে থাকলে ভাবুন তো কোন্ পর্যায়ে দাঁড়াবে অবস্থা! এ বিষয়টা বুঝতে পেরেই এশিয়ার ওইসব দেশ তাদের সব শক্তি দিয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করতে পেরেছে। আর যারা করতে পারছে না বা পারেনি_তাদের অবস্থা তো দেখাই যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথমে আসবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম।



'হোম কোয়ারেন্টাইন' মেনে চলতে হবে। নয়তো ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে যাবে। তখন শত প্রস্তুতি নিয়েও মোকাবিলা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে বিদেশ প্রত্যাগত হাজার হাজার মানুষ দেশে ফিরে জনজীবনে মিশে গেছেন। তাই চোর পালানোর পর গৃহস্তের হুঁশ ফিরে এলে কোনো লাভ হবে না। যথাসময়েই সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা জরুরি।



 



আসুন, এ পরিস্থিতিতে আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকি, অন্যদেরও সুরক্ষিত রাখি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সামাজিক দূরত্ব মেনে সরকার নির্দেশিত পথে না চললে পরবর্তীতে কারোর পক্ষেই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। দেশের সর্বত্র প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা সংক্রমণের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমগ্র বাংলাদেশকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সরকারি নির্দেশাবলী কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংক্রামকব্যাধি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। অবস্থা দেখে স্পষ্ট হচ্ছে, সামনে করোনা মোকাবিলা একটা বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলার জন্যে যে সক্ষমতা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা আমাদের সামান্যই রয়েছে। এরপরও সরকার, প্রশাসন ও জনগণ মিলে এ যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতে হবে।



 



প্রথমদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মানুষজন কম বের হলেও এখন রাজধানীতে মানুষ ও যানবাহনে চলাচল বেড়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমাদের চরমভাবে খেসারত দিতে হতে পারে। নিতান্ত প্রয়োজনে তো বটেই, কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ বেরিয়ে আসছেন ঘর থেকে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ বলছেন, পেটের প্রয়োজনে বের না হয়ে উপায় নেই। অতিদরিদ্ররা দলবেঁধে সাহায্যের আশায় বসে পড়ছেন মোড়ে মোড়ে। নানা ছুতোয় রাস্তায় ভিড় করছেন তরুণরা। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত সর্বত্র দেখা গেছে শত শত মানুষ। রাজধানীর সড়কগুলোতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চলছে। গ্রামে দলবেঁধে মানুষ চা-দোকানে আড্ডা দিচ্ছে। কিশোর যুবকরা মাঠে ফুটবল খেলছে। এমন চিত্র প্রায়ই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। অবস্থা এমনই মানুষকে ঘরে রাখতে পারাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রমজীবী ও প্রান্তিকজনের খাদ্যসহায়তাসহ আনুষঙ্গিক সবকিছু নিশ্চিতকল্পে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের গৃহীত সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এ দুর্যোগে আমরা কেউ ঝুঁকির বাইরে নই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা সবাই মিলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করবো। তা না হলে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আর সেজন্যে আমরা প্রত্যেকে দায়ী থাকবো। আমাদের আরো সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, নোভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের যে স্তরবিন্যাস রয়েছে, তার তৃতীয় ধাপে পেঁৗছেছে বাংলাদেশ_এখন সবাই সাবধান না হলে চতুর্থ ধাপ অর্থাৎ মহামারীর মুখোমুখি হতে হবে। তাই এখন সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ে গুরুত্ব অনেক। এটা যদি যথাযথভাবে পালন করা না হয় তবে চতুর্থ স্তরে চলে যেতে পারি। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এই মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে 'সামাজিক দূরত্বকে'।



লেখক : সাংবাদিক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৭৫৯৮
পুরোন সংখ্যা