চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২০, ৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৩ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা : জনক-দুহিতার রসায়ন
মুক্তা পীযূষ
১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিশ্বপিতার এ নান্দনিক জগতে কন্যার যত আনন্দ তা আবর্তিত হয়ে আসছে পিতাকে কেন্দ্র করেই। কন্যার কাছে পিতাই তার হিরো, পিতাই তার নায়ক। নিজের জীবনে তার যে সঙ্গীই আসুক না কেন, কন্যার কাছে তাকে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় পিতার প্রতিচ্ছবির বিপরীতে। পিতাহীন এ সংসার অচল-অসার। কন্যার কাছে তার বাবাই যেমন জগতের সেরা বাবা, তেমনি বাবার কাছে তার মেয়েই রাজকন্যা। নিজের দীনহীন অবস্থাকে বাস্তবতায় এনেও আত্মজাকে বাবা রাজকন্যা ভাবতেই পছন্দ করেন। পিতা-পুত্রীর সম্পর্কের রসায়ন জগতে অনন্য ও অদ্বিতীয়। পিতা ও পুত্রী উভয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এমন নজির জগতে বিরল নয়। ভারতের নেহেরু-ইন্দিরা গান্ধী, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্ণ-মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী, শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে-শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে এদের উদাহরণ আমাদের হাতের কাছেই আছে। বাঙালির কাছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর দুহিতা শেখ হাসিনার দেশ শাসন করার মহাকাব্যিক ঘটনা ইতিহাসের অন্যতম সুখকর দান বলেই প্রতীয়মান।



 



শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। ঊনিশশো সাতচলি্লশ সালে পাক-ভারত বিভাগের সময় শুরু হয় সামপ্রদায়িক দাঙ্গা। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সামলানোর জন্যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন যুবক শেখ মুজিবকে ডেকে পাঠান কলকাতায়। এ সময় শেখ মুজিব কলকাতা-ঢাকা আসা-যাওয়া করলেও টুঙ্গিপাড়া আর তার যাওয়া হয়ে উঠেনি। এরই মাঝে সেপ্টেম্বরের আটাশ তারিখ জন্ম নেয় শেখ হাসিনা। পিতা মুজিব সুদূর কলকাতায় বসে টেলিগ্রামেই জানতে পান তাঁর প্রথম আত্মজার জন্ম-সংবাদ। মুজিবের মনে সুখ অনুভূত হলেও নেতার ডাকে তিনি আসতে পারেননি পরিবারের কাছে। ছোট্ট হাসিনা যখন বড় হচ্ছেন একটু একটু করে তখন শেখ মুজিব দুই দফায় কারাবন্দী হন। এরপরই দেখা হয় পিতা-পুত্রীর। হাসিনা তখন হাঁটতে শিখেছেন ছোট ছোট পায়ে। মাঝে মাঝে জেল হতে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এলে কিংবা ঢাকা হতে রাজনীতির ফাঁকে ফাঁকে বাড়ি এলে হাসিনা বাবার গলা ধরে আবদার করতেন। ছোট্ট হাসিনাকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ি হতে আসতে হলে মুজিবকে রাতেই রওনা দিতে হতো মেয়েকে ঘুমে রেখে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের কারণে সুদীর্ঘ সময় জেলে থাকায় মুজিবের পক্ষে মেয়ে হাসিনার বেড়ে ওঠাটা উপভোগ করা হয়নি। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় হাসিনার বয়স ছিলো সাড়ে চার। এ সময় ঢাকায় থাকার কারণে ও জেলে বাবাকে দেখতে গেলে হাসিনা ভাষা আন্দোলনের শ্লোগানগুলো শুনতে পেতেন। শ্লোগান শুনে শুনে তার মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল অনেকটাই। বাবা কারামুক্তির পর ঘরে এলে হাসিনা গলা জড়িয়ে ধরে বলতো, 'আব্বা রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দীদের মুক্তি চাই।' আর একদিন আড়াই বছরের শেখ কামাল ও তার বড় বোন শেখ হাসিনা মেঝেতে বসে খেলতে খেলতে মাঝে মাঝেই মেয়ে এসে বাবার কাছে এসে আব্বা আব্বা ডেকে আদর নিয়ে যেত। তা দেখে ছোট ভাই বলেছিলো, হাসু আপা, হাসু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি? এ ঘটনা পরবর্তীতে শেখ হাসিনাকে আপ্লুত করে তোলে। কখনো ভুলতে না পারা এ মর্মস্পর্শী স্মৃতি মেয়েকে পিতার জেল জীবনের সংগ্রাম আর ত্যাগের কথা যেমন মনে করিয়ে দেয় তেমনি নিজেসহ ছোট ভাইবোনদের পিতৃস্নেহ হতে দূরে থাকার বেদনাকে পরিস্ফুটিত করে।



 



বড় মেয়ে হাসিনাকে তিনি ফরিদপুরের স্থানীয় উচ্চারণে হাচিনা বা হাচু ডাকতেন। যেদিন হাসিনার প্রথম স্কুলে যাওয়া হলো সেদিনও বাবা ছিলেন না, ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল। পিতার রাজনীতিজনিত অনুপস্থিতিতে ধীরে ধীরে হাসিনাই হয়ে উঠছিলেন মায়ের হাতের লাঠি। বাবাকে জেলে দেখতে গেলে হাসিনাই কোলে নিয়ে রাসেলকে সামলাতো। এইচএসসি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পাওয়ার আশঙ্কা করে বাবার কাছে বললে বাবা মুজিব তাকে বাকী পরীক্ষাগুলো ভালো প্রস্ততি নিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন।



 



বাবাকে কাছে কম পেলেও হাসিনা বাবার সমর্থন পেতে মুজিবের শরণাপন্ন হতেন। অনার্স পড়াশোনা শেষ না করে বিয়ে না করার জন্যে বাবার সমর্থন চাইতে গেলে দূরদর্শী মুজিব কেবল বলেছিলেন, তোমার মা যা বলেন তুমি তাই করো। ঊনিশশো সাতষট্টিতে মেয়ের বিয়ের দিনেও মুজিব ছিলেন কারাবন্দী। বড় অনাড়ম্বরে বিয়ে হয়েছিলো ভাবীকালের প্রধানমন্ত্রীর। এমনকি ঊনিশশো একাত্তরের সাতাশ জুলাই তারিখে ঢাকা মেডিকেলে যখন শেখ হাসিনা জন্ম দিলেন তার প্রথম সন্তান 'জয়'কে তখনও বাবা ছিলেন না কাছে। নানীই তার নাম রাখেন নানার নামের সাথে মিলিয়ে 'সজীব'। বাবা মুজিব যখন মৃত্যুবরণ করেন নির্মমভাবে ঘাতকের হাতে, শেখ হাসিনা সেদিনও ছিলেন তাঁর কাছ থেকে দূরে। অর্থাৎ বাবা ও মেয়ের নিয়তি যেনো বিরহের সূতোয় বাঁধা। মেয়ে যেমন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে বাবাকে কাছে পায়নি তেমনি বাবাও তাঁর জীবনের অন্তিম দিনে প্রাণের দুহিতার ওই সি্নগ্ধ মুখখানা দেখে যেতে পারেননি।



 



কিন্তু কোন এক সময় বাবা মেয়েকে বলেছিলেন, শেষ জীবনে তিনি মেয়ের কাছেই থাকবেন। যদিও সশরীরে তাঁর থাকা হলো না, তবু তাঁর আদর্শ ও স্বপ্নগুলো তাঁর দুহিতা হাসিনা সযত্নে লালন ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন একের পর এক। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন হাসিনার হাতে আজ পরিণতি লাভের দ্বারপ্রান্তে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের চেতনায় শেখ হাসিনা আজ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে পেঁৗছে দিয়েছেন উন্নয়নের মহাসড়কে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তিনি আজ বঙ্গবন্ধুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন মহাবিশ্বে। শুধু তাই নয়, নিজে ওয়ান-ইলেভেনের কারাবন্দী দশায় পিতাকে আবিষ্কার করেন নতুনভাবে তাঁর স্বহস্তে লিখিত 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র মাধ্যমে। পিতার জীবনকে, পিতার দর্শনকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে কন্যা হাসিনাই আজ শক্ত হাতে হাল ধরেছেন বাংলাদেশের।



 



পিতা শেখ মুজিব ও কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও উত্তরণে দুই কালজয়ী কা-ারি। জনক মুজিবের চেয়ে স্বাধীন দেশের স্থপতি মুজিবকে যেমন পুত্রী অনেক ভালো ধারণ করতে পেরেছেন, তেমনি মুজিবও তাঁর প্রজ্ঞায় বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর এই কন্যার মেধা-মনন। আর একারণেই হয়তো নিয়তি তাঁকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছে সেই অমোঘ বাণী, যে বাণীতে তিনি শেষ জীবনে কন্যার হাতে নিরাপদ মনে করেন নিজেকে।



 



সত্যিকার অর্থেই শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা দূরদর্শিতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য রসায়ন যেখানে জনক-দুহিতা সম্পর্ককে ছাপিয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্বপ্ননির্মাতার যুগলবন্দিতা তৈরি হয়েছে। জাতির জনকের জন্মশতবর্ষে এ যুগলবন্দিতা যাতে কালজয়ী হয়ে বাঙালিকে অমর করে রাখে জগতের আনন্দযজ্ঞে; তারই প্রত্যাশা করি।



 



লেখক : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৪৭১৯
পুরোন সংখ্যা