চাঁদপুর, বুধবার ৮ জানুয়ারি ২০২০, ২৪ পৌষ ১৪২৬, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • শাহরাস্তিতে ডাকাতি মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। || 
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১১। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদিগকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে, ভয় কর আল্লাহ্কে, যাঁহাতে তোমরা বিশ্বাসী।


 


বুদ্ধিজীবীরাই দেশের সম্পদ, তারাই দেশের সম্পদ তুলে ধরে।


-লংফেলো।


 


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্যে অবশ্য কর্তব্য।


 


 


ফটো গ্যালারি
স্বপ্নের শহর দেখে এলাম
জমির হোসেন
০৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মনের ক্লান্তি দূর করে স্বস্তির নিঃশ্বাসকে প্রশস্ত করে ভ্রমণ। ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষের সামাজিকতা, ভদ্রতা, আচার-আচরণ শিক্ষা দেয়। তাই বছরের পর বছর লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে লন্ডনের ভিসার জন্যে আবেদন করি। আমার কাছে আবেদনটা মনে হয়েছে একটি লটারি আর ভিসাটা মনে হয়েছে লটারি পাওয়া। কারণ আমাদের প্রত্যেকের জানা আছে লন্ডনের ভিসার জটিলতা। যাই হোক আবেদনের সাথে পাসপোর্ট ও ভিসা ফি জমা দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ভিসা অফিস ইমেল পাঠাল আমাকে পাসপোর্ট ফেরত আনতে। যথারীতি দেরি না করে চলে গেলাম পাসপোর্ট ডেলিভারী অফিসে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে ভিতরে প্রবেশ করতেই পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাকে একটা পার্সেল ধরিয়ে দিয়ে ইতালিয়ান ভাষায় বলল, (চাও) তার মানে সালাম। স্বপ্নপূরণের কৌতূহল আরো বেড়ে গেল। পার্সেল খুলেই দেখি গ্রেট ব্রিটেনের ভিসা পেয়ে গেছি। বাকিটা লন্ডন পেঁৗছার পর। এবার অপেক্ষা কবে যাবো লন্ডন! অপেক্ষার পালা শেষ হলো ১৫ পনের জানুয়ারি। সব গুছিয়ে নিয়ে আমি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ইতালি ত্যাগ করলাম। ডমেস্টিক রাইএনার একটি বিমানে উঠেই ভীষণ আনন্দে মনটা ভরে গেল। চামপিনো বিমানবন্দর থেকে পাঁচটা বিশ মিনিটে বিমান ছাড়লে দুই ঘণ্টা বিশ মিনিটের মধ্যে লন্ডন স্টানস্টিট বিমানবন্দরে এসে পেঁৗছি। খুব একা একা মনে হলো। একদিকে আনন্দ আর অন্যদিকে নতুন একটি জায়গা। অপরিচিত রাস্তা এক প্রকার বিষণ্ন মনে হলো। তবু পথ চলতে লাগলাম। ইমিগ্রেশনের কাছে আসতেই ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী মাসুদকে পেয়ে গেলাম। ক্ষণিকের মধ্যে মনে চাঞ্চল্য ফিরে এলো। এবার ইমিগ্রেশন ক্রস করার পালা। নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়ালাম। এরাইভেল কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে প্রায় বিশ মিনিট দাঁড়ানোর পর ইমিগ্রেশন অফিসার আমাকে ডাকল। কয়েকটি প্রশ্ন করেই থ্যাঙ্কস বলে ছেড়ে দিল। কিন্তু ইতালি অভিবাসী মাসুদ সাহেব ঠিকই আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি ইমিগ্রেশন পার হতেই তিনি ফের ডাক দিলেন। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। তিনি বললেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছি। সত্যি মনোবল বেড়ে গেল। সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো তার বাসা আর আমার গন্তব্য কাছাকাছি। স্বপ্ন আর স্বপ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধতা রইল না। ছুটলাম বাস টার্মিনালে। ন্যাশনাল এঙ্প্রেসের দুটি টিকিট নিলাম ষোল পাউন্ড দিয়ে। আধাঘণ্টা পর বাস ছাড়ল স্টাটফোড স্টেশনে। আনুমানিক রাত সাড়ে আটটায় এসে পেঁৗছলাম। এরপর ইলফোডের উদ্দেশ্যে ছিয়াশি নাম্বার বাসে উঠলাম। আমি পনের বিশ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে এসে পড়লাম। আর তিনি চলে গেলেন তার গন্তব্যে। এরই মধ্যে আমার শুভাকাঙ্ক্ষি শ্রদ্ধাভাজন আহমেদ হাসান ম্যানর পার্কে অপেক্ষা করছেন। আমি সেখানে নেমে তাকে পেয়ে যাই। চলে গেলাম বাসায়। রাত প্রায় দশটা। ফ্রেস হয়ে হাসান ভাবী, তার ছেলেমেয়ে সবাই খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমাতে ঘুমাতে বেজে গেল রাত বারোটা। চিন্তা একটাই সকাল কখন হবে। আমাকে ভ্রমণ করতে হবে। সময়টা বেশ সুন্দর। হাসান ভাইয়ের ছেলে তানভীরের কলেজ বন্ধ। তাই তাকে নিয়ে এদিক-সেদিক যাওয়ার অনুমতি পেলাম। ১৬ জানুয়ারি শনিবার ভোরে ঘুম ভেঙে যায়। ইতালির মাইনাস তাপমাত্রা আমার সহ্য হলেও লন্ডনের ঠা-া আমাকে প্রচ-ভাবে কাবু করেছে। এতো ঠা-া যে, রাতে ঘুমাতেও অনেকটা কষ্ট হয়েছে। তবু কষ্ট লাগেনি মনে। কারণ, এটাই ছিল প্রথম লন্ডন আসা। সবাই একসাথে নাস্তা খেলাম। আমি আর তানভীর আহমেদ দ্রুত তৈরি হলাম। লন্ডন শহর ঘুরে বেড়াবো। বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্টপিস এলাম। অপেক্ষার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস চলে এলো। আমরাও উঠে পড়লাম। প্রায় পনের-বিশ মিনিটের মধ্যে স্টামফোড বাসস্টেশন এসে নামলাম। সেখান থেকে আবার আরেকটি বাসে উঠে সরাসরি চলে এলাম চোখ ধাঁধানো, মনের প্রশান্তির জন্য পর্যটনদের বিশেষ আর্কষণ সেই সেন্টার লন্ডন। সেখান থেকে আর্কষণীয় মনোরম দৃশ্যবলি শুরু। লন্ডন ব্রিজের উপর বেশ কতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। নিচেই বহমান সেই বিখ্যাত টেমস নদী। লন্ডন ব্রিজ বলতে আমরা বুঝি টেমস নদী। কারণ লন্ডন শহর অবস্থিত এই নদীর উপর। আর সেতুটি নির্মিত হয়েছে ৪২ বছর আগে ১৭ মার্চ ১৯৭৩। শেষ রাতে লন্ডন ব্রিজ উত্তর উদ্ভাসিত। সন্ধ্যায় যাত্রীরা রাতের সৌন্দর্য্য দেখার জন্যে এর উপর দিয়ে পারাপার হয়। লন্ডন সেতুর অদূরে শহর। আমরা দুজনে মনের সুখে ব্রিজের ওপর, পাশে দেয়ালে খোদাই করা লন্ডন ব্রিজ লেখা_ সেখানে ছবি তুললাম। এরপর সেতুর পাশ ঘেঁষে হাঁটা শুরু করলাম লন্ডন টাওয়ার ব্রিজের দিকে। পথিমধ্যে দেখলাম গ্রেট ব্রিটেনের ঐতিহাসিক যুদ্ধ জাহাজ। এটি সংরক্ষণ করে জাদুঘর হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকরা ভিড় করে দুশ আটান্ন বছর পূর্বে তৈরি যুদ্ধ জাহাজ দেখতে। তারই পথ ধরে আমি আর তানভির ৩২ পাউন্ড দিয়ে দুটি টিকিট নিলাম। সেই সাথে দুটি ওকিটকি। রয়াল নেভী এতো বড় জাহাজ যে, যাতে পথ হারিয়ে গেলে কল করা যায়। যাইহোক দুই-তিন ঘণ্টা ঘুরেও পুরো জাহাজ দেখা শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর ভিতরে একটি উন্নত হাসপাতাল, একটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে যা যা প্রয়োজন সবই আছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ব্যবস্থার কি নেই! অপারেশন থেকে শুরু করে একজন দাঁতের ডাক্তারও রয়েছেন এখানে। এ যেন এক আশ্চর্য আবাসস্থল। সম্পূর্ণ একটি নিরাপদ ব্যবস্থা। যা যা পেলাম ভিতরে : অপারেশন রুম, দাতব্য চিকিৎসালয়, রান্নাঘর, রোগীদের বেড, বার, মিট শপ ইত্যাদি। প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই রয়েছে বিশাল ওই যুদ্ধ জাহাজে। ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত রয়াল নেভী। সময়ের রেশ ধরে চলতে হয়। তাই ঐতিহাসিক সেই যুদ্ধ জাহাজ থেকে একটু পায়ে হাঁটলেই আরেক ঐতিহাসিক লন্ডন টাওয়ার ব্রিজ। সেই টেমস নদীর ওপর বহমান বিশ্বখ্যাত টাওয়ার! এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এর উত্তরে টাওয়ার হ্যামলেটস এবং দক্ষিণে রয়েছে সাউথওয়ার্ক। টাওয়ার ব্রিজের ওপর উঠলে পুরো লন্ডন শহর দেখা যায়। যার ফলে কৌতূহল আরো বেড়ে গেল টাওয়ারে ওঠার। তারপর আবার রানী এলিজাবেথ দ্বিতীয় সেতু দ্বারা অনুসৃত। তাই পনের পাউন্ড দিয়ে দুটি টিকিট কিনে ভিতরে প্রবেশ করলাম। দুশ তের ফিট উচ্চতা সিঁড়ি বেয়ে উঠলাম। সত্যি পুরো লন্ডন শহরের সৌন্দর্য ওপর থেকে চোখে ভাসমান। একটি আশ্চর্য ব্যাপার হলো টাওয়ারের উপরে আটাইশ ফিট চলার পথ স্বচ্ছ কাচের, ফলে নিচে নদীর ধীরে বহমান স্রোত খুব সহজেই দেখা যায়। কেউ আবার ভয়ে কাচের ওপর সরু দিয়ে হাঁটতে ভয় পায় বলে কার্নিস ঘেঁষে টাওয়ারের এপার-ওপার পারাপার করে। কেউ আবার নিচে তাকাতেও ভয় পায়। এর চারিদিকে অপরূপ সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে। যেদিকে চোখ যায় নয়ন জুড়িয়ে যায়। ব্রিটিশ ইতিহাস বর্ণনা করার কিছু নেই। এর শুরু আছে শেষ কোথায় জানা নেই।



লন্ডনে থাকা আমার শ্রদ্ধাভাজনদের খুব মনে পড়ে। কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমার প্রতি তাদের যে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে তা ভোলার নয়। আমি কৃতজ্ঞ রোম থেকে প্রকাশিত মাসিক স্বদেশ বিদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক ইকবাল হোসেন, শ্রদ্ধেয় মেজবাউল ইসলাম বাবু, ইউরোপের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শতাব্দী কর ও রতন করের প্রতি। তারা লন্ডনে অবস্থান করা পর্যন্ত নানাভাবে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের কারণে আমি স্বপ্নের লন্ডন শহর ভ্রমণ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৪১৯০৫
পুরোন সংখ্যা