চাঁদপুর, বুধবার ৮ জানুয়ারি ২০২০, ২৪ পৌষ ১৪২৬, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১১। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদিগকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে, ভয় কর আল্লাহ্কে, যাঁহাতে তোমরা বিশ্বাসী।


 


বুদ্ধিজীবীরাই দেশের সম্পদ, তারাই দেশের সম্পদ তুলে ধরে।


-লংফেলো।


 


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্যে অবশ্য কর্তব্য।


 


 


ফটো গ্যালারি
চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা
মুক্তা পীযূষ
০৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শিশুর প্রথম শিক্ষক মা। মায়ের কাছেই শিশুর নৈতিক শিক্ষার সূচনা। সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ও পরিণাম মা-ই প্রথম শিশুকে জানিয়ে দেন। দুর্নীতিকে ঘৃণা করার শিক্ষা মা-ই সন্তানের মধ্যে প্রথম বপন করেন। কাজেই চরিত্রবান আদর্শ প্রজন্ম গঠনে মায়েদের ভূমিকাই মুখ্য। মায়েদের সুশিক্ষায় সন্তান ভালো নাগরিক হয়ে ওঠে। স্বামী স্বরূপানন্দের চরিত্রগঠন আন্দোলন একটি মহতী আন্দোলন। আজ হতে একশ পাঁচ বছর আগে, ঊনিশশো চৌদ্দ সালের পয়লা জানুয়ারি চাঁদপুর শহরের অদূরে ঘোড়ামারার মাঠে তিনি তরুণ সমাজকে নিয়ে চরিত্রগঠন আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি তখনই তাঁর প্রজ্ঞায় অনুধাবন করেছিলেন, জাতীয় চরিত্রের সংশোধন না হলে কেবল শাসক বদলালেই রাষ্ট্রের উন্নতি সম্ভব নয়। তাই তিনি তরুণ সমাজের আত্মনির্মাণের উপায় হিসেবে চরিত্র গঠন আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।



চরিত্র গঠন বলতে স্বামী স্বরূপানন্দ বলেছেন, আত্মদোষ অন্বেষণ ও তা সংশোধনের চেষ্টাই হলো চরিত্র গঠন। তিনি চরিত্র গঠনের মধ্যে দেশপ্রেম ও সততার যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন তেমনি গুরুত্ব দিয়েছেন কারো কাছ থেকে উপকারের বিনিময়ে কোনো কিছু প্রাপ্তির আশা না করার ওপর। আমি নিজে ভালো হবো এবং অন্যকে ভালো হতে সহযোগিতা করবো_এ ছিলো তাঁর সারাজীবনের অঙ্গীকার। স্বামী স্বরূপানন্দের এ দর্শন আজ অত্যন্ত সময়োপযোগী। প্রকৃত মানুষ না বানিয়ে আজকাল আমরা মায়েরা জিপিএ-ফাইভধারী শিক্ষার্থী বানিয়ে চলেছি যাদের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ বা উন্মেষ কোনোটাই ঠিকঠাক হচ্ছে না। আত্মসংযমের অভাব, আত্মস্বার্থবাদিতা এবং মানসিক সংকীর্ণতার কারণে আজকের প্রজন্ম জাতির জন্যে সম্পদ না হয়ে, হয়ে উঠছে মাথাব্যথার কারণ। আজকের প্রজন্ম ভুলতে বসেছে, কেবল একার উন্নতিতে প্রকৃত উন্নতি নয়, প্রকৃত উন্নতি হলো দশের উন্নতিতে।



 



মায়েদের অতি উদাসীনতা যেমন একদিকে সন্তানদের মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে তেমনি তাদের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার মানসিকতা মনুষ্যবৃত্তি মুছিয়ে দিয়ে প্রতিটা মানবশিশুকে এক একটি যন্ত্রশিশুতে রূপান্তরিত করছে। ফলে দেশে আজ মানুষ নয়, যন্ত্রের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।



 



অনেক মা-ই তাঁর সন্তানকে সমপ্রীতি বা অসামপ্রদায়িকতার শিক্ষা না দিয়ে এক একটা ধর্মের ষাঁড়ে পরিণত করে তুলছেন। এতে শৈশব হতেই শিশুর মনে বিভেদের বিষ বিস্তৃত হচ্ছে। আজকাল প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুও হিন্দু-মুসলিম বিভেদের কথাকে বড় করে দেখে। এতে জঙ্গিবাদ যেমন প্রশ্রয় পাচ্ছে তেমনি মনুষ্যত্বও অধিক হারে লোপ পাচ্ছে। অথচ সমাজকে মনুষ্যবৃত্তির দিকে ধাবিত করতে হলে স্বামী স্বরূপানন্দের সেই অমর বাণীটির কোনো বিকল্প আজও আমরা খুঁজে পাইনা। তিনি বলেছেন, "তুমি কতটুকু হিন্দু, কতটুকু মুসলিম, কতটুকু বৌদ্ধ বা কতটুকু খ্রিস্টান তা আমি জানতে চাই না, আমি জানতে চাই শুধু তুমি কতটুকু মানুষ"। তাঁর এ কালজয়ী উক্তিই আজ সমাজে, রাষ্ট্রে শান্তি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠার বড় হাতিয়ার। কিন্তু আজকের মায়েরা স্কুলের প্রথম দিন হতেই তাঁর শিশুকে বলে দেন, ওর সাথে বোসো না, ওকে টিফিন দিয়ো না, ওর কাছ থেকে কিছু খেয়ো না ইত্যাদি।



 



সন্তান কিছু কাউকে না বলে আনলো কি না, কিংবা সন্তান কিছু চুরি করলো কি না বা মিথ্যে বললো কি না_এসব বিষয়ে মায়েরা সচেতন হলে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে সমাজে আদর্শ প্রজন্ম তৈরি হতে বাধ্য। অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে জিপিএ ফাইভ না পেয়ে বা চুরি করে, প্রশ্ন ফাঁস করে প্রথম না হয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা সন্তানকে দিতে হবে। সুসংস্কৃতিমতী মায়েরাই পারেন আগামীদিনে দুর্নীতিমুক্ত জাতি উপহার দিতে। আজ এখানে যে সকল সফল মানুষ মঞ্চে বসে আছেন তারা সবাই তাদের মায়েদের নৈতিক শিক্ষা আর সুশাসনের ফসল। কাজেই চরিত্র গঠন আন্দোলনকে সফল করে তুলতে হলে সবার আগে মায়েদের সচ্চরিত্রবতী করে গড়ে তুলতে হবে। একজন নৈতিক শিক্ষাসম্পন্ন মা-ই পারেন নৈতিক শিক্ষায় বলীয়ান একটা জাতি উপহার দিতে। যেদিন মায়েরা সবাই স্বামী স্বরূপানন্দের অমৃত বাণীকে এবং তাঁর মহাদর্শন চরিত্রগঠন আন্দোলনকে হৃদয়ে ধারণ করে সে অনুযায়ী সন্তানদের গড়ে তুলবেন সেদিনই চরিত্রগঠন আন্দোলন পূর্ণাঙ্গ সফল হবে।



 



পরিশেষে স্বামী স্বরূপ আনন্দের ভাষা দিয়েই বলি,



'আবার আসিব আবার হাসিব



আবার গাহিব গান



শুধু বলিবারে পরহিততরে



নিজেরে করগো দান।'



 



লেখক : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ ও পদক্ষেপ বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৭৮৯৮৯
পুরোন সংখ্যা