চাঁদপুর, বুধবার ৮ জানুয়ারি ২০২০, ২৪ পৌষ ১৪২৬, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছেলেটির করোনা ভাইরাস নেগেটিভ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নয়। তথ্য সূত্র: আরএমও ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল। || বৈদ্যনাথ সাহা ওরফে সনু সাহা করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় নি : সিভিল সার্জন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬০-সূরা মুমতাহিনা


১৩ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১১। তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেহ হাতছাড়া হইয়া কাফিরদের নিকট রহিয়া যায় এবং তোমাদের যদি সুযোগ আসে তখন যাহাদের স্ত্রীগণ হাতছাড়া হইয়া গিয়াছে তাহাদিগকে, তাহারা যাহা ব্যয় করিয়াছে তাহার সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করিবে, ভয় কর আল্লাহ্কে, যাঁহাতে তোমরা বিশ্বাসী।


 


বুদ্ধিজীবীরাই দেশের সম্পদ, তারাই দেশের সম্পদ তুলে ধরে।


-লংফেলো।


 


 


 


বিদ্যালাভ করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্যে অবশ্য কর্তব্য।


 


 


ফটো গ্যালারি
বৃদ্ধাশ্রম ও বাবা-মা
গাজী সালাহ উদ্দিন
০৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের দেশে বৃদ্ধ বাবা-মাকে অবহেলা, অযত্নের শিকার হওয়া সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক বাবা-মাই সন্তানের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্যে সাধ্যমত চেষ্টা করেন। সন্তান মেধাবী হলে বাবা-মা তাদের পেছনে পয়সা খরচ করতে কৃপণতা করেন না। সোনা-গয়না প্রয়োজন হলে বাড়ি-গাড়ি সব বিক্রি করে সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বড় হয়ে এ সন্তানগুলোই ভালো অবস্থানে গিয়ে বাবা-মাকে কষ্ট দেয়। অধিকাংশ উচ্চ পদস্থর বাবা-মায়ের আশ্রয়স্থল হয় 'বৃদ্ধাশ্রম'। এ ঘটনাগুলো প্রায়ই পত্রিকার পাতা খুললে দেখতে পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কিছু কিছু ঘটনা ভাইরাল হয়। এ লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক ঘটনাগুলো যখন চোখে পড়ে তখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্যে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা প্রয়োজন।



 



এক. কবি আল মাহমুদ দুই সন্তানের পিতা। সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিক্রি করে দেন বনানীর বাড়িটি। বিদেশে পাঠান দুই ছেলেকে। সে আদরের সন্তানরা আর ফিরে আসেনি। সব হারিয়ে কবি কিছুদিন আগে নিজের গ্রামের বাড়িতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বৃদ্ধাবস্থায় শেষ বয়সে তাঁকে দেখার কেউ ছিলো না। শেষ পর্যন্ত এভাবেই চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। (তথ্যসূত্র : সংগৃহীত)।



 



দুই. বিশিষ্ট অভিনেতা আনোয়ার হোসেন পাঁচ সন্তানের পিতা। এক ছেলে সুইডেন, বাকি তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন আমেরিকায়। জীবনের সব আয় খরচ করেছেন সন্তানদের পেছনে। পেটের তাগিদে জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত করতে হয়েছে চাকর-বাকরের অভিনয়। মৃত্যুর সময় একটি ছেলে-মেয়েও দেশে আসেনি। (তথ্যসূত্র : সংগৃহীত)।



তিন. মানিকজান, বয়স ৭৫, স্বামীর বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মৈশাইদ খলিফা বাড়ি। স্বামী ছয় বছর আগেই মারা যায়। এরপর চার ছেলে ও চার মেয়ের হাল ধরেন নিজেই। ১ বছর আগে স্ট্রোকে তার শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে যায়। এরপর মায়ের যত্ন নেয়ার পরিবর্তে অবহেলার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। বৃদ্ধা মা মানিকজানের ঠাঁই হয় শেষ পর্যন্ত এক মেয়ের বাড়িতে। দুই ছেলের অবস্থা অতো ভালো না থাকলেও বাকি দুই ছেলের অর্থ-সম্পদের কমতি নেই, আলিশান বাড়িও রয়েছে। বাবার রেখে যাওয়া টাকা-কড়ি এবং সম্পত্তি ও বাড়ি-ঘরের ভাগ ছেলেরা নিলেও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সে কোনো ছেলের নিকট ঠাঁই হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে_আমাদের সমাজটা যাচ্ছে কোন্ দিকে? মানুষের মনুষ্যত্ব দিন দিন এতো নিচে নামছেই বা কি জন্যে? এ চিত্র আমাদের দেশে এখন অহরহ। পত্রিকার পাতা খুললে আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলে প্রায়ই এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা চোখে পড়ে। কখনো মাকে বিদ্ধাশ্রমে রেখে আসছে, কখনো হাসপাতালে রেখে চলে যাচ্ছে। কখনো বা পথে রেখে চলে যাচ্ছে, এমন করুণ খবর ও দৃশ্য কি আমাদের দেখতেই হবে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে এটি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। একটি সন্তানকে ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ এবং পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখার পর থেকে প্রথম প্রায় ৫ বছর তাকে প্রতিনিয়ত আদর-যত্নে লালন-পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের আরাম হারাম করতে হয়। এরপর যখন পড়ালেখা শুরু হয়, তখন মা-বাবার নতুন আরেক যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। সময়মতো খাওয়া, বিদ্যালয়ে পেঁৗছানো, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে প্রাইভেট টিউটর দিয়ে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা একজন মা-বাবার নিত্য-নৈমত্তিক কাজের রীতিমতো অংশ হয়ে যায়। এটা মা-বাবার জন্যে একটি অঘোষিত রুটিনওয়ার্কও বলা চলে। বিপরীতে সন্তান যখন বড় হয়, তাদের বিয়ে-শাদি করানো হয় তখন অনেক মা-বাবাকে দুঃখের সাগরে ভেলা ভাসাতে হয়। আমাদের দেশে সমাজ সংসারগুলোতে সাধারণত যা দেখা যায় তা হলো, বিয়ের পর পর মেয়েরাই বাবা-মার কাছ থেকে সন্তানকে আলাদা করে নেয়ার চেষ্টা করে। ছেলেরা হয়তো প্রথম প্রথম ঠিক থাকার চেষ্টা করলেও একটা সময় তার বিবাহিত স্ত্রীর কলা-কৌশল আর ছলনার কাছে হেরে যায়। স্ত্রীকে নিয়েই তারা শেষ পর্যন্ত সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।



 



অন্যদিকে বৃদ্ধ মা-বাবা হতে থাকে অবহেলিত। রোগে-শোকে আক্রান্ত ও ভরাক্রান্ত। শেষ পর্যন্ত কারো ঠাঁই হয় মেয়ের বাসায়, কারো পথে-ঘাটে, কারো আবার বৃদ্ধাশ্রমে। কালক্রমে এ ছেলে-সন্তান ও তাদের স্ত্রীদের যে একই পরিণতি বরণ করতে হতে পারে তা কখনো তারা ভাবেই না। আমাদের সমাজে আরেকটি ব্যাধি আছে, সেটা হচ্ছে সন্তানকে উচ্চ ডিগ্রিধারী বানাবে, বড় চাকুরি করবে, বাড়ি-গাড়ির মালিক হবে, বিদেশ ভ্রমণ করবে ইত্যাদি। বেশির ভাগ অভিভাবকদের আশা পূর্ণ হয় ঠিকই কিন্তু তাদের নিজেদের ঠিকানা হয় শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধাশ্রমে। অথবা নিজের বাসা-বাড়িতে পঁচে-গলে মরতে হয়। এমন দৃশ্যও এদেশে অহরহ। বাবা-মায়ের সকল ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছে। ছেলে এখন বড় চাকুরি নিয়ে লন্ডন, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, জাপানের মতো বড় বড় দেশে অবস্থান করছে। বাবা-মায়ের সাথে এখন তাদের দেখা করার সময়ইতো নেই। অন্যদিকে উচ্চ পদস্থ অনেক সন্তান কাজ আর সুন্দরী স্ত্রীর চাপে মা-বাবার খোঁজ কি নেয়ার আর সময় থাকে? উভয় ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত মা-বাবার স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে।



 



আমাদের ধ্যান-ধারণার পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সকল লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক বিষয় আমরা নিরসন করতে পারি। অভিভাবকরা শুধু তাদের সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত না রেখে তাদের কিছু আদর্শ ও নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সন্তানকে উচ্চ শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাকে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা। সময়ের বিবর্তনে তারাও এমন একটি কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে পারে, সে শিক্ষাও তাদের দেয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি যারা মা-বাবাকে অবহেলা, অযত্ন করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো বৃদ্ধা মা, বৃদ্ধ বাবা শেষ বয়সে এসে এমন নরক যন্ত্রণার শিকার যাতে না হয়, সেক্ষেত্রে সমাজের বোদ্ধা শ্রেণি এবং সচেতন মানুষদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে।



লেখক : সাংবাদিক, শিক্ষক ও চারুশিল্পী।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৩০
পুরোন সংখ্যা