চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২। তিনিই কিতাবীদের মধ্যে যাহারা কাফির তাহাদিগকে প্রথম সমবেতভাবে তাহাদের আবাসভূমি হইতে বিতাড়িত করিয়াছিলেন। তোমরা কল্পনাও কর নাই যে, উহারা নির্বাসিত হইবে এবং উহারা মনে করিয়াছিল উহাদের দুর্গগুলি উহাদিগকে রক্ষা করিবে আল্লাহ হইতে; কিন্তু আল্লাহর শাস্তি এমন এক দিক হইতে আসিল যাহা ছিল উহাদের ধারণাতীত এবং উহাদের অন্তরে তাহা ত্রাসের সঞ্চার করিল। উহারা ধ্বংস করিয়া ফেলিল নিজেদের বাড়ি-ঘর নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতেও; অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসা মানুষকে শিল্পী করতে পারে কিন্তু প্রাচুর্য বাধার সৃষ্টি করে।


-ওয়াশিংটন অলস্টন।


 


 


কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতের উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিশু ও সোনালি শৈশব
তৃপ্তি সাহা
১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শেখ হাসিনা 'শেখ মুজিব আমার পিতা' প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুর শিশুকালের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : 'আমার পিতার শৈশব কেটেছিলো টুঙ্গিপাড়ার নদীর পানিতে, ঝাঁপ দিয়ে, মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে। বর্ষার কাদা পানিতে ভিজে। বাবুইপাখির বাসা কেমন করে গড়ে তোলে, কোথায় দোয়েল পাখির বাসা, দোয়েল পাখির সুমধুর সুর আমার আব্বাকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করতো। আর তাই ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে করে মাঠে-ঘাটে ঘুরে প্রকৃতির সাথে মিশে বেড়াতে তাঁর ভালো লাগতো। ছোট শালিক পাখির ছানা, ময়না পাখির ছানা ধরে তাদের কথা বলা ও শিষ দেয়া শিখাতেন। '



 



শেখ হাসিনা এই একই বইতে তাঁর শৈশবের দিনগুলো সম্পর্কে লিখেছেন : 'আমার শৈশবের স্বপ্নরঙিন দিনগুলো কেটেছে গ্রাম-বাংলার নরম পলিমাটিতে, বর্ষার কাদা-পানিতে, শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে, ঘাসফুল আর পাতায় পাতায় শিশিরের ঘ্রাণ নিয়ে, জোনাকজ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝিঁর ডাক শুনে, তাল-তমালের ঝোঁপে, বৈচি, দিঘির শাপলা আর শিউলি-বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, ধুলোমাটি মেখে, বর্ষায় ভিজে খেলা করে। '



যুদ্ধপরবর্তী সময়ে অর্থাৎ সত্তরের দশকের প্রথমদিকে স্কুলের রুটিনটি সাজানো হয়েছিলো শিশুমনষ্ক উপযোগী করে। শিশুর সার্বিক বিকাশের দিকে লক্ষ্য রেখে। সপ্তাহের একদিন খেলাধুলার ক্লাস_যারা ইনডোর গেম খেলতে পছন্দ করতো, তারা লুডু, কেরাম, দাবা ইত্যাদি খেলার সরঞ্জামগুলো নির্দিষ্ট শিক্ষকের কাছ থেকে এনে শ্রেণিকক্ষে খেলতো। আর যারা আউটডোর গেম খেলতে পছন্দ করতো যেমন হা-ডু-ডু, দাড়িয়াবান্ধা, বৌ-চি, ওপেন-টু-বায়োস্কোপ, দড়িলাফ ইত্যাদি খেলা খেলতো সবুজ মাঠে।



 



সপ্তাহে একদিন মেয়েদের সেলাই, ছেলেদের কৃষিশিক্ষা। সেলাই ক্লাসে শিক্ষিকার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছাত্রীরা রুমাল, টেবিলক্লথ কাটা, সেলাই থেকে শুরু করে নক্শা করা পর্যন্ত শেখানো হতো। এছাড়াও জামা পায়জামা কাটা সেলাই এসবও শেখানো হতো হাতে-কলমে। ছাত্ররা বীজ আনা, জমি প্রস্তুত করা, চারা তৈরি, অঙ্গজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করা। এসব কাজগুলো শিক্ষকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সম্পন্ন হতো। এছাড়া সপ্তাহের একদিন ছিলো গল্পের বইপড়া ক্লাস। যে গল্প বইপড়ার জন্যে আজকাল ছেলে-মেয়েরা মা-বাবা এমন কি টিচারদের কাছেও শুধু তিরস্কিত নয়, বেতও খায়। অথচ সেই সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে গল্পের বইপড়াকে শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়াও রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, জাতীয় দিবসগুলোও পালন করা হতো যথাযথভাবে। এগুলো ছিলো নিয়মিত। কিন্তু অনিয়মিতভাবে যা হতো তা ছিলো অভাবনীয় কখনও কোনো জাদুশিল্পী এসে জাদু দেখাতো, কখনো কোনো শিল্পী কাগজ দিয়ে বিচিত্র ধরণের ফুল-পাখি লতাপাতা বানাতো এবং কেটে দেখাতো।



 



বর্তমানে শিশুদের প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক নেই বললেই চলে। সাঁতার কাটার পুকুর নেই, খেলার মাঠ নেই, সবুজের সমারোহ নেই, দিগন্তরেখা নেই, ঘুড়ি উড়াবার আকাশ নেই। যে সময় শিশুর ছুটে চলার কথা, প্রকৃতিকে দেখার কথা গাছের ফল, ফুল পাড়ার কথা। বাহারী রংয়ের প্রজাপতি ফড়িং দেখার কথা, শিশিরভেজা ঘাসের উপর দিয়ে পা রেখে চলতে গিয়ে লজ্জাবতী গাছের প্রাণের স্পন্দন দেখার কথা, নিজের মনে অজস্র প্রশ্ন জাগার কথা_সে সময় শিশুকে নিষ্প্রভ, প্রাণহীন পাঠ্যবইয়ের পাতায় আটকে দেয়া হচ্ছে। শিশু ক্লান্ত দেহে বিষণ্ন মনে কোচিং থেকে স্কুল, স্কুল থেকে প্রাইভেট, প্রাইভেট থেকে মা অথবা বাবার তত্ত্বাবধানে পড়তে বসা। এদেশ সম্পর্কে শ্বাশত কাব্যিক উক্তি, 'সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং শস্য শ্যামলং। '



 



সময় পাল্টেছে_ইটপাথরের নীচে ঢাকাপড়ে গেছে সবুজ মাঠ, পুকুর, খাল-বিল, গাছ-গাছালি। শিশুদের খেলার মাঠ, পুকুর, ডোবা বাণিজ্যকেন্দ্রিক বহুতল ভবনের নীচে চাপা পড়ে গেছে। বহুতল ভবন শিশুর দৃষ্টিকে প্রসারিত হতে বাধাগ্রস্ত করে। সমুদ্রের গভীরতা, নদীর ছুটে চলা, আকাশের বিশালতা এসব তার দৃষ্টির বাইরে। দার্শনিক রুশো বলেছেন, জগৎ-ই শিশুর একমাত্র বই, আর তথ্যই তার একমাত্র শিক্ষা।



 



আগে শিশুকে কোলে নিয়ে মা ছড়া শোনাতেন, 'আয় আয় চাঁদমামা টিপ দিয়ে যা/চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা, /ধানভাঙ্গলে কুড়ো দিবো, মাছ কাটলে মুড়ো দিবো, /কালো গাইয়ের দুধ দিবো/দুধ খাওয়ার বাটি দিবো/চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা।



 



বর্তমানে দেয়ালের পিঠে দেয়াল, তালার উপর তালা_এতো আকাশচুম্বী হয়ে গেছে যে চাঁদকে দেখা অতোটা সহজ কম্ম নয়। ঝল্মলে কৃত্রিম আলোয় মা নিজেও জানতে পারে না কোন্ দিন রূপোলি রংয়ের বড় চাঁদ স্নিগ্ধ আলো ছড়িয়ে গেলো পৃথিবীর আনাচে-কানাচে, সবুজ মাঠে। মান্নাদের গাওয়া চাঁদকে নিয়ে সেই গান: ও চাঁদ সামলে রাখো জোৎস্নাকে/ঝল্মল্ করিও নাগো তোমার ওই অতো আলো/বেশি রূপ হলে পড়ে সাবধানে থাকাই ভালো। সেই জোৎস্নার আলোয় হাত ধরে হাঁটা হয়না গ্রামের পথটি ধরে অথবা শিউলি ফুল পাশ দিয়ে।



 



খেলার জন্যে সবুজ বিস্তৃর্ণ খেলার মাঠ নয় বরং চার দেয়ালের মাঝখানে কম্পিউটারের কী-বোর্ডের উপর হাত রেখে শিশু ফুটবল-ক্রিকেট খেলে। যন্ত্রই হয়ে উঠে তার খেলা আর বিনোদনের মাধ্যম। শেষ করি সুনির্মল বসুর কবিতাখানি দিয়ে_ আকাশ আমায় শিক্ষা দিলো/উদার হতে ভাইরে/কর্মী হবার মন্ত্র আমি বায়ুর কাছে পাইরে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০১০১৮
পুরোন সংখ্যা