চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪। ইহা এইজন্য যে, উহারা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল, এবং কেহ আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করিলে আল্লাহ তো শাস্তিদানে কঠোর।


 


 


assets/data_files/web

আকৃতি ভিন্ন ধরনের হলেও গৃহ গৃহই। -এন্ড্রি উল্যাং।


 


 


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


 


ফটো গ্যালারি
রেমিটেন্স দেশের চালিকাশক্তি
জমির হোসেন
১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জীবন-জীবিকার তাগিদে দেশান্তর প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি। একটি উন্নত জীবন। পরিবারের এক চিলতে সুখ আর মুখ ভরা হাসি ফোটাতে নিজের সুখকে জলাঞ্জলি দিয়ে সুখ কিনতে বিদেশে পাড়ি জমান প্রবাসীরা। কেউ সুখী হয় কেউ আবার দুঃখে ভরা জীবন পার করেন। সবাই তো সুখ চায়, কিন্তু সবাই যে সুখ পাবে এমন নিশ্চিত কথা কারো জানা নেই। তবু ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রেমিটেন্স যোদ্ধারা জীবনের সাথে অবিরত যুদ্ধ চালায়। লক্ষ্য থাকে একটাই সবাই মিলে সুখে থাকবে। দিন-রাত পরিশ্রম করে মাস শেষে যা বেতন পান সবই দেশে পাঠিয়ে দেন। নিজের কথা নিজের ভবিষ্যতের কথা একবারও ভাবেন না। বছরের পর বছর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন প্রবাসীরা। দেশের প্রতি রয়েছে তাদের অসীম মমতা আর বুকভরা ভালোবাসা। সেজন্যই দেশে টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখেন। একটাই দুঃখ জীবন যৌবন বিলিয়ে দেন প্রবাসে, অথচ বেলা শেষে দেখা যায় চারদিকে শূন্যতা। এতোদিন উপার্জন করা টাকা তার জন্যে অবশিষ্ট থাকেনি। এমন অসংখ্য প্রবাসী আজ দুঃখ দুর্দশার জীবন অতিবাহিত করছে। কিছুই যেন করার নেই। ইচ্ছে করলেই এখন আর আগের যৌবনে ফিরে যাওয়া সম্ভব না। পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হরহামেশা মানসিক বিপর্যয় নিয়ে থাকতে হয়। অতিরিক্ত মানসিক চিন্তার ফলে অকালে প্রাণ ঝরে যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা আছে। রোম বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) এরফানুল হকের তথ্য অনুসারে ২০১৭ অর্থবছরে ২০১৮ মার্চ পর্যন্ত ৮৩ জন ইতালি প্রবাসী মারা গেছেন। জীবিকার জন্য বিদেশে এসে এরা সবাই এখন না-ফেরার দেশের বাসিন্দা। এরমধ্যে ২০১৭ সালে মারা যান ৭২ এবং ২০১৮ সালের মার্চ মাসের হিসাব মোতাবেক ১২ জনের বেশি। বিভিন্ন সমস্যায় তাদের মৃত্যু হয়।



 



প্রবাসে মরে গিয়েও শান্তি নেই। লাশ নিয়ে চলে হানাহেচড়া। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে হিমাগারে লাশ পড়ে থাকে অনেক দিন। আর যদি আত্মীয়-স্বজন না থাকে তবে তো মরার পরেও দুর্ভোগের শেষ নেই। মৃত্যুর পর সঠিক তদারক করার কেউ থাকলে মাঝে মাঝে বাংলাদেশ দূতাবাস অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে। গত দুই বছরে ৮৩ জন লাশের মধ্যে দেশে লাশ প্রেরণ করতে দূতাবাস ১৭ জনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরমধ্যে ১২ জনকে ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে ৫ জন প্রবাসীকে সাহায্য দেন। দেখা যায় বেশির ভাগ লাশ নিজ খরচে দেশে যায়। তবে দেশে লাশ পাঠাতেও দুভর্োগের শেষ নেই। কারণ বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো বিমান নেই ইতালিতে। ভিনদেশের বিমানে মৃতদেহকে ট্রানজিট ঝামেলায় পড়তে হয়। ফলে আট ঘণ্টার বদলে প্রায় পনের ঘণ্টা লেগে যায় বাংলাদেশে লাশ পৌঁছতে। লোকসানের অজুহাতে প্রায় তিন বছর ধরে রোম-ঢাকা রোম ফ্লাইট সরকার বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ইতালি প্রবাসীদের ক্রমান্বয়ে দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। গত কয়েক বছর বিমান বাংলাদেশ পুনরায় চালু হওয়ার আশার আলো দেখলেও সেই আলো দেখা এখনও শেষ হয়নি প্রবাসীদের। তবে ২০১৮ ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী আইএফডি (ইফাদ)-এর ৪১তম গভর্নিং কাউন্সিলে যোগ দিতে এসে ইতালি শাখা আওয়ামী লীগের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, আপাতত রোমা ঢাকা রোম রূটে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নেই। এরপরেও প্রবাসীরা দুর্ভোগ থেকে লাগব পেতে এখনো আশার আলো দেখছেন। যদি প্রধানমন্ত্রী সদয় হন এবং ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করেন সেই আশা নিয়ে বাসা বেঁধেছেন মনে।



এরপর দেশে বসে পরিবারের লোকজন মনে করে তারা কত সুখে আছে বিদেশ। তাদের সুখের সীমা নেই। কিন্তু সে-ই জানে সে কতটা সুখে আছে। দেশে পরিবার পরিজন তাকিয়ে থাকে বিদেশ থেকে কবে টাকা পাঠাবে। আর একের পর এক আবেদন আসতেই থাকে। আজ এটা লাগবে কাল ওটা লাগবে। এটা নেই, ওটা নেই। নেই আর নেই বারমাস এরকম বুলি শুনতে শুনতে এক প্রকার হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে প্রবাসীদের মন। আর এ হতাশা থেকেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান অনেক প্রবাসী। আয়ের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় হতাশা বৃদ্ধির ফলে অকালে ঝরে পড়ে অসংখ্য জীবন। যেসব পরিবার প্রবাসীর আয়ের ওপর সংসার চলে তাদের দুঃখের সীমা থাকে না। মৃত্যুর পরে অনেক পরিবারের শুভবুদ্ধি উদয় হয়। কেন তাকে বারবার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলো। প্রবাসে একটি প্রাণ ঝরে গেলে তাদের কথা মতো ডিম পাড়া একটি মুরগি কমে যায়। তাতে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা প্রভাব পড়ে কি না বছরের হিসাব টানতে গেলে বোঝা যায়।



 



প্রবাস কোন আরামের জায়গা নয় যে মন চাইলেই বসে বসে খাওয়া যায়। এখানে প্রতিটি সেকেন্ড, মিনিটের হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় কষতে হয়। তা না হলে মাস শেষে টাকার হিসাব মেলানো কষ্ট হয়ে যায়। নিয়মের বাইরে একদম চলা যায় না। সময়ের রেশ ধরে এগিয়ে যেতে হয় সব বাধা অতিক্রম করে। টগবগে যুবক হয়ে পাড়ি জমায় বিদেশ। এরপর বার্ধক্যে, তারপর শেষ ঠিকানা সাড়ে তিন হাত মাটির ঘর। এর মাঝে জীবনের অনেক চাওয়া-পাওয়া রেখেই চলে যেতে হয় অচেনা অজানা দেশে। থাকতে হবে সেখানে অনন্তকাল। এই চিরন্তন কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে প্রবাস জীবন পার করতে হয় এক-একজন রেমিটেন্স যোদ্ধাকে। ভাগ্যের চাকা সচল রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে প্রতিটি প্রবাসীকে। ভাগ্যের কাছে কেউ আবার পরাজয় বরণ করে জীবনযাত্রার হিসাব উপযুক্তভাবে কষতে না পেরে। আর এই ভুলের মাশুল দিতে হয় যতদিন দেহে থাকে প্রাণ।



 



'দেশ হতে দেশান্তর' সুস্থ স্বাভাবিক বুক ভরা আশা নিয়ে বিদেশ আসেন সবাই। কিন্তু সবাইকে সুখে রাখার দায়িত্ব একা নিতে গিয়ে মানসিক চাপে জীবন তেজপাতা হয়ে যায় প্রবাসীর। দেশ থেকে বেশ হাসি খুশি বিদেশ যাবে, অনেক টাকা উপার্জন করবে। নিজে স্বয়ংসম্পন্ন হবে, সংসারের দুঃখ গুছানোর প্রত্যাশা নিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এসে কর্মময় জীবনের অধ্যায় শুরু করে। তারপর বিদেশের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথেই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়। সূর্যাস্ত এবং উদয়ের মাঝে ভাগ্যের চাকা প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায়। জীবনের চাকা সচল রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে প্রতিটি প্রবাসী। প্রবাস এমন একটা জায়গা একদিন অসুস্থ হলে দেখার কেউ থাকে না। মন থাকা সত্ত্বেও সময়ের অভাবে কেউ কারো জন্য কিছু করতে পারে না। রানারের মত চলতে থাকে বিরতিহীন জীবন। 'প্রবাসের শ্রমের বিভাজন' এশিয়াতে যে সমস্ত শ্রমিকরা কাজ করেন তারা প্রায় বন্দীশালায় থাকেন। স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। কর্মে পিষ্ট হয় জীবন। বিনোদন যেন তাদের কাছে একটি স্বপ্ন। তবু নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে অন্যদের সুখী করতে সবসময় কত আন্তরিক তারা। সুখে না থেকে সারা বছর সুখের অভিনয় করে যায়। বোঝার কোনো উপায় নেই। অবশ্য বুঝতে কেউ চেষ্টা পর্যন্ত করে না।



 



তবু যাচ্ছে সময় চলছে প্রবাস জীবন। এত দুঃখে-কষ্টে জীবন-যাপন করে মৃত্যুর পর অর্থাভাবে লাশ পড়ে থাকে হিমাগারে। কোন কোন সময় আত্মীয় পরিজন না থাকলে লাশ বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে থাকে। এতকিছুর পরেও এক একজন প্রবাসীকে বিভিন্ন সময় পরিবার থেকে কত যে অপবাদ পেতে হয়_তা কল্পনাও করা যায় না। এতে করে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি। প্রবাসে কর্মের মাঝে সুখ-দুঃখ। কর্মের এত ব্যস্ততা থাকে আত্মতৃপ্তি মেলে না ঘুমের ঘরেও। চোখের পাতা দুটি একত্রিত হতে না-হতেই কাজে যাওয়ার ঘণ্টা বাজতে থাকে। শান্তি নেই ঘুমের দেশে। সুস্থ-অসুস্থ বুঝে না কর্ম। মধ্যপ্রাচ্যে বেশির ভাগ কোম্পানিতে ভোর চারটা পাঁচটায় কাজে রওনা দিতে হয়। সেই তুলনায় ইউরোপে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা ভালোই আছেন। নিজের দেশের মত স্বাধীন চলাফেরা করতে পারছেন। ইচ্ছে করলেই ব্যবসা করতে পারছেন। যখন ইচ্ছে দেশে যেতে পারেন। যা মধ্যপ্রাচ্যের জন্যে স্বপ্ন। নিজের পাসপোর্টটি পর্যন্ত কোম্পানির কাছে জমা রাখতে হয়। ব্যবসা তো দূরের কথা। এরপরেও কষ্টকে মেনে নিয়ে দেশের রেমিটেন্সের চাকা সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। বিনিময়ে সরকারের কাছ থেকে কী সুযোগ-সুবিধা পায় প্রবাসীরা? এরকম প্রশ্ন থেকেই যায় সরকারের কাছে। সবসময় অভিযোগ পাওয়া যায় বহির্বিশ্ব ঘুরে বাংলাদেশে বিমান পৌঁছামাত্রই হয়রানি শুরু হয়ে যায়। সারাবছর পরিশ্রম করে দেশে একটি স্বস্থির নিঃশ্বাস নিতে এসে বিমানবন্দরে বিভিন্ন অফিসারের অযৌক্তিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অথচ ইতোমধ্যে অন্য দেশের ইমিগ্রেশন পার করতে সমস্যা পোহাতে হয়নি। কিন্তু নিজ দেশের বিমানবন্দরে আসার পর অনেকেই আল্লাহর নাম আগের তুলনায় বেশি জপতে শুরু করে। এমন হওয়াটা কতটা যৌক্তিক। এই হয়রানির মানেই বা কি?



 



প্রবাসীদের পক্ষে বিশেষ করে যে সকল প্রবাসী মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন তাদের হয়ে সমপ্রতি রাজধানীর প্রবাসীকল্যাণ ভবনের ব্রিফিং সেন্টারে দফতর বা সংস্থার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (২০১৮-১৯) ও নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্যচিত্রের একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, অভিবাসন খাতে অসাধু দালালদের চিহ্নিত করে তাদের প্রতিহত করুন। অভিবাসী কর্মীদেরকে প্রতারিত বা হয়রানি করলে সে যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে। ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান আমাদের কর্মীরা। কিন্তু অদক্ষতা, ভাষাজ্ঞান না থাকা এবং চুক্তিপত্র না বোঝা, দালালের খপ্পরসহ বিভিন্ন কারণে অনেকেই প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত দালালদের কোনো ছাড় নেই। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীর এ কথা ইতিবাচক তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু আদেশ যখন কোনো গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, এটা যদি কার্যকর না হয় তখন সেই আদেশ প্রবাসীদের কোনো উপকারে আসবে না। এরকম একবার নয় একাধিকবার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রবাসীদের হয়রানি করেছেন কিছু অসাধু অফিসার। হয়তো ভুক্তভোগীর হয়রানির আর্তনাদ মন্ত্রণালয়ের দরজা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, ফলে বিচার পায় না ভুক্তভোগীরা। প্রবাসীদের জন্য দেশের মন্ত্রীদের অনেক সময় মায়া কান্না করতে দেখা যায়। প্রবাসীদের এই সুযোগ ওই সুযোগ আরও কত সুবিধা দেয়ার অনেক প্রতিশ্রুতি দেন তারা, কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন হয়েছে বলে আমার প্রবাস জীবনে দেখিনি। প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা কিছুটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি একটি সম্মেলনে চরম কিছু সত্য কথা বলেন, আজকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে যে দাঁড়িয়ে আছে সেটির মূল ভিত্তি কে? এর মূল ভিত্তি হল আমাদের দেশ থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ শ্রমিক হয়ে বিভিন্ন দেশে চলে গেছে। এই দেশ তাদের/প্রবাসীদের কোনো কিছুই দেয়নি। এই দেশের কাছে তাদের কোনো ঋণ নেই। কিন্তু ওই দেশে গিয়ে তারা পরিবারের জন্য সন্তানের জন্য টাকা পাঠায়। আজকে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের বড় একটা অংশ হয়েছে সেই টাকা দিয়ে। বাংলাদেশ যে স্টেবল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেটা এই টাকার ওপর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দেশ থেকে শিক্ষিত একটা অংশ প্রফেশনালরা বিদেশ গেছেন। তারা দেশের জন্য কি পাঠায়? কিছুই পাঠায় না, দেয়ও না। কিন্তু তারা বড় বেতনে চাকরি করেন। এ দেশের কাছে তাদের ঋণের কোনো শেষ নেই। এ দেশে থেকে তারা অনেক কিছু নিয়েছে তারা গরীবের টাকায় লেখাপড়া শিখেছে বড় ডিগ্রি নিয়েছে। এরপর একদিন দেশকে টা-টা দিয়ে চলে যায়। ওই দেশে গিয়ে তারা অনেক টাকা আয় করে, তবু দেশে টাকা পাঠায় না। বরং তাদের বাবা মারা গেলে বাড়ি বিক্রি করতে বাংলাদেশে আসে শেষ সম্বলটুকু নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রবাসীদের দুঃখকে উপলব্ধি না করে তাদের জন্য সরকারের করণীয় অনেক কিছুই আছে। কিন্তু সরকার প্রবাসীদের কাছ থেকে ধারাবাহিক ভাবে নিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে কিছুই দিচ্ছে না। সরকার থেকে এমন কি পেয়েছে প্রবাসীরা যা উল্লেখ করার মত। বরং প্রবাসীরা বিদেশ গিয়ে কর্মস্থলে বিপদে পড়লে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর অফিসাররা অসদাচরণ করেন। এরকম অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রবাসীদের হাড়ভাঙা শ্রমের টাকায় তাদের বেতন আসে। সরকারের উচিত বিমানবন্দরে এক একজন প্রবাসীকে ভিআইপি মর্যাদা দেয়া। কারণ প্রবাসীদের কাছে দেশ ঋণী হয়ে আছে, প্রবাসীরা দেশের কাছে নয়। এক একজন প্রবাসীর আয়ের টাকায় এক পরিবারের চার-পাঁচজন নির্ভর করে। যদি প্রবাসীরা শ্রমিক হয়ে বিদেশ পাড়ি না দিতেন তবে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে হতো সরকারকে। যা অসম্ভব সরকারের পক্ষে। তাই মানবিক কারণেও প্রবাসীদের নানাভাবে হয়রানি বন্ধের জন্যে সরকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা উচিত। অনেক প্রবাসী দেশে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। শুধুমাত্র হয়রানি ও জীবনের অনিশ্চয়তায় ভোগার কারণে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন না তারা। তাই প্রবাসীদের জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশে বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এর ফলে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮১
পুরোন সংখ্যা