চাঁদপুর, বুধবার ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪ কার্তিক ১৪২৬, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৪। মুনাফিকরা মু'মিনদিগকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, 'আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? তাহারা বলিবে, 'হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজদিগকে বিপদগ্রস্ত করিয়াছ। তোমরা প্রতীক্ষা করিয়াছিলে, সন্দেহ পোষণ করিয়া ছিলে এবং অলীক আকাঙ্ক্ষা তোমাদিগকে মোহাচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল, অবশেষে আল্লাহর হুকুম আসিল। আর মহাপ্রতারক তোমাদিগকে প্রতারিত করিয়াছিল আল্লাহ সম্পর্কে।'


 


 


 


নিজের হাত ও পায়ের উপর যে ভরসা করে সে ঠকে না। -জন গে।


 


 


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়ুই পাখির ন্যায় একটি ছোট্ট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।


 


 


ফটো গ্যালারি
নাগরকোটে ভ্রমণ
গাজী মুনছুর আজিজ
৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নাগরকোট যাওয়ার জন্য কাঠমান্ডুর থামেল থেকে ট্যাঙ্েিত উঠলাম। সফরসঙ্গী বন্ধু বেলাল। নেপালের মানচিত্র অনুযায়ী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পূর্বে নাগরকোটের অবস্থান। ভক্তপুর জেলার বাগমাটি এলাকার একটি গ্রাম নাগরকোট। ট্যাঙ্ িকিছুক্ষণ চলার পরই শহর ছেড়ে গ্রামের দেখা পাই। গ্রামের ধুলোমাখা অাঁকাবাঁকা পথ দিয়ে ট্যাঙ্ িচলছে। রাস্তার দুইপাশে নানা ফসলের ক্ষেত। শরষে ক্ষেতও চোখে পড়ল। ঠা-া লাগবে বলে গাড়ির জানালা খুলছি না, তবে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। দূরে দেখি মেঘমাখানো সারি সারি পাহাড়।



 



রাস্তার বাঁকে বাঁকে আর ক্ষেতের পাশ দিয়ে বাড়িঘর আছে। অধিকাংশ বাড়িঘর কাঠের তৈরি একতলা। বাড়িঘরগুলো খুব একটা বড় নয়, কিংবা দেখতেও সুদৃশ্য নয়, তবে ছিমছাম। বেশ কিছুক্ষণ চলার পর গ্রাম ছেড়ে ট্যাঙ্ িএবার পাহাড়ি পথে চলছে। পাহাড় কেটে কেটে তৈরি উঁচুনিচু আর অাঁকাবাঁকা পথ। এছাড়া পাহাড় ঘেঁষা এ পথের বাঁকগুলোও বেশ খাড়া। শুধু পাহাড়ই নয়, পাহাড়গুলো সবুজ গাছগাছালিতে ভরা।



 



নাগরকোট গ্রামের বাসস্ট্যান্ডে যখন ট্যাঙ্ িথামে তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। ট্যাঙ্ িথেকে নেমে হোটেল খুঁজতে শুরু করি। কয়েকটি হোটেল দেখে অবশেষে নাগরকোট প্যারাডাইস নামের হোটেলে উঠি। ট্যাঙ্ িচালক আমাদের ছেড়ে চলে যান, কাল সকালে এসে আবার আমাদের নিয়ে যাবেন বলে। আগেই জেনেছি এখান থেকে ফেরার জন্য ট্যাঙ্ িখুব একটা মেলে না, তাই রিজার্ভ করে রাখা। রিজার্ভ করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাভেল সলিউশন বিডি ডেস্কের হাসান ভাই। অবশ্য নেপাল ট্রিপের অনেক পরিকল্পনা তারই দেয়া।



 



হোটেলে মালপত্র রেখে আসি দুপুরের খাবার খেতে। কিন্তু বিকেল হওয়াতে এখানকার অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ হয়ে গেছে। খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে বাসস্ট্যান্ডের পাশে ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্টে ভাত আর শাক পেলাম, সঙ্গে ডালও আছে। দোকানি তা-ই গরম করে দিলেন। খেতে খেতে কথা হয় দোকানির সঙ্গে। তিনি জানান, নেপালের রেস্টুরেন্টগুলোতে সকালের নাশতা সকালে, দুপুরের খাবার দুপুরে আর রাতের খাবার রাতেই মিলবে। অর্থাৎ দুপুরে গিয়ে সকালের নাশতা চাইলে এখানকার রেস্টুরেন্টে পাওয়া যাবে না। খুব স্বাদের না হলেও খেয়ে বেশ তৃপ্ত হলাম। কারণ ক্ষুধাটা বেশ ছিল। পেটপুরে খেয়ে টি-স্টল থেকে চা পান করলাম। ভূগোল ঘেঁটে জানলাম নাগরকোট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ১৯৫ মিটার উঁচুতে। গ্রামের বাড়িঘরগুলো পাহাড়ের কোল কেটে তৈরি। আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ফসলি জমিন। নেপালের অন্য অনেক দর্শনীয় স্থানের মতো এই গ্রামে ঐতিহ্যবাহী তেমন কোনো স্থাপনা নেই। তবুও গ্রামের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখান থেকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্ট ও অন্যান্য পর্বতমালার ভিউ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। সে কারণে নাগরকোট বারো মাসই পরিপূর্ণ থাকে পর্যটকের ভিড়ে।



 



সূর্য ডুবতে এখনও অনেক বাকি। আমরা তাই হাঁটা ধরি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের দিকে। উদ্দেশ্য টাওয়ার থেকে সূর্যাস্ত দেখা। বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে টাওয়ার। দুজনে গল্প করতে করতে হাঁটছি। পাহাড়ি পথের দুপাশ বড় বড় গাছগাছালিতে ভরা। আর ধীরে ধীরে পথটি উপরের দিকে উঠছে। তাই আমাদের হাঁটতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আবার ঠা-াও বাড়ছে। পথে মানুষের চলাচল খুব একটা দেখি না। তবে মাঝেমধ্যে পর্যটকদের গাড়ির যাতায়াত আছে। সূর্য ডোবার অল্প সময় আগে আমরা পৌঁছে যাই টাওয়ারের কাছে। পর্যটকদের বেশ ভিড় দেখি। পাহাড়ের চূড়ায় লোহার তৈরি টাওয়ার। ওঠার জন্য মই আছে। আমরা উপরে উঠি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন পর্যটকও উঠেছেন। ততক্ষণে সূর্য ডুবতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে পাহাড়ের ওপারে সূর্যটা লুকায়। সত্যিই দারুণ এ দৃশ্য! আমাদের কঙ্বাজার, কুয়াকাটা বা সেন্টমার্টিনের সূর্যাস্তের সৌন্দর্য্য যেমন আলাদা, তেমনি পাহাড়ের চূড়ায় প্রচ- ঠা-ার মধ্যে টাওয়ারে দাঁড়িয়ে এভারেস্ট ভিউ থেকে সূর্যাস্তের সৌন্দর্যও অন্যরকম। ঠা-ার কারণে আমাদের কাঁপুনি উঠে গেছে। ঠিকমতো ক্যামেরাও ক্লিক করতে পারছি না। তবু ভালো লাগছে!



 



টাওয়ারের নিচে কয়েকটি ছোট্ট রেস্টুরেন্ট বা টি-স্টল আছে। শরীর গরম রাখতে চা-পানের বিকল্প নেই। সঙ্গে আমাদের দেশের জিলাপির মতো মিস্টি জাতীয় খাবারও খেলাম। এরপর রওনা হলাম হোটেলের দিকে। সন্ধ্যার পর নাগরকোট গ্রামটি অন্যরকম লাগে। পথে মানুষের তেমন চলাচল নেই। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে থাকা হোটেলগুলো থেকে কিছু আলো দেখা যায়। আর কিছু হোটেল থেকে গানবাজনার শব্দ আসে। পর্যটকরা সময় কাটানোর জন্য গান শোনেন। রাতের খাবার খাই আমাদের হোটেলের রেস্টুরেন্টে। খাবারের অর্ডার দেয়া ছিল আগেই। তবে খাবারের স্বাদ যেমন-তেমন হলেও দামটা বেশি। খেয়ে আমরা কিছুক্ষণ হোটেলের ছাদে আড্ডা দিই।



 



প্রচ- ঠা-ার মধ্যেও সূর্য ওঠার কিছুক্ষণ আগে ছাদে উঠি। অবশ্য আমার সফরসঙ্গী ঘুমেই ছিলেন। ছাদে গিয়ে দেখি আরও অনেকেই আছেন। আর শুধু আমাদের হোটেলের ছাদেই নয়, আশপাশের সব হোটেলের ছাদেই দেখি অসংখ্য মানুষ পশ্চিমমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে- তাদের উদ্দেশ্যও সূর্যোদয় দেখা। পাহাড় বেয়ে সূর্য উঠতে কিছুটা দেরি হলো। তবে ধীরে ধীরে তার দেখা পাই। আগুনের মতো রঙ নিয়ে তার উদয় হয়। এভারেস্ট ভিউয়ের এ সূর্যোদয় সত্যিই অনন্য। নাগরকোটের প্রধান আকর্ষণ এই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সে কারণে এখানকার প্রায় সব হোটেলও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে তৈরি পূর্বমুখী।



 



সূর্যোদয় দেখে রুমে আসি। তারপর দু'জন বের হলাম নালডুম গ্রাম দেখতে। ছিমছাম নিরিবিলি এই গ্রামের মানুষ পাহাড়ের ভাঁজের খালি জায়গায় চাষাবাদ করেন। স্থানীয় কৃষক জানান এখানে ধান, গম, সরষে, বাদাম জাতীয় শষ্যের চাষাবাদ বেশি হয়। বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ানোর পর বাসস্টান্ড বা বাজারে আসি। পুরো নাগরকোটে বাজার একটাই। তবে মাঝেমধ্যে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট গিফটশপ বা মুখোশ তৈরির ছোট্ট কারখানা আছে। আর গিফটশপ বা বাজারের দোকানিরা অধিকাংশ নারী। বাজারের এক রেস্টুরেন্টে নাশতা সেরে হোটেলে এসে দেখি আমাদের ট্যাঙ্ািলক চলে এসেছেন। ব্যাগ ঘুছিয়ে তার সঙ্গেই রওনা হলাম থামেলের উদ্দেশে।



 



কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বিমান যায় নেপালের কাঠমান্ডু। আগে থেকে ভিসা নেয়ার প্রয়োজন নেই। বিমানবন্দর থেকে বিনামূল্যে অনঅ্যারাইভাল ভিসা পাবেন। তবে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার গেলে ২০ ডলার ভিসা ফি লাগবে। বিমানবন্দর থেকে ট্যাঙ্ িবা মাইক্রোবাসে থামেল আসতে পারেন। ভাড়া নিবে ৬০০ থেকে ৭০০ রুপি। থামেল থেকে পরদিন সকালে নাগরকোট রওনা হতে পারেন। আসা-যাওয়ার ভাড়া ট্যাঙ্েিত ২ থেকে আড়াই হাজার রুপি নিবে।



 



আবাসন ও রেস্তোরাঁ : পুরো নাগরকোটেই রয়েছে অসংখ্য হোটেল। ১ হাজার থেকে ৫ হাজার রুপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের আছে। খাওয়ার জন্য হোটেলগুলোতে রেস্টুরেন্ট পাবেন। এছাড়া বাইরেও ছোটবড় রেস্টুরেন্ট আছে। নেপালি, ভারতীয়, চীনা বা থাই সব খাবার পাবেন। নেপালি খাবার অনেকটা ভারতীয় খাবারের মতো। প্যাকেজ হিসেবে নেপালি থালি খেতে পারেন। এক থালিতে ভাত, সবজি, ডাল, সালাদ ও ভর্তা পাবেন। দাম ২৫০ থেকে ৫০০ রুপি।



 



মনে রাখুন : বিমানবন্দর থেকে ডলার ভাঙিয়ে নিতে পারেন। থামেলেও ডলার ভাঙানোর জায়গা আছে। ভিসার জন্য পাসপোর্ট সাইজের এককপি ছবি লাগবে। নেপালি সিমকার্ড নেয়ার জন্যও এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। ট্যাঙ্েিত একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবেন। তবে দরদাম করে নেয়া ভালো। আর শহরের মধ্যে হেঁটেই বেড়ানো ভালো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২২১৫০
পুরোন সংখ্যা