চাঁদপুর, বুধবার ৩০ অক্টোবর ২০১৯, ১৪ কার্তিক ১৪২৬, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৪। মুনাফিকরা মু'মিনদিগকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিবে, 'আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? তাহারা বলিবে, 'হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজদিগকে বিপদগ্রস্ত করিয়াছ। তোমরা প্রতীক্ষা করিয়াছিলে, সন্দেহ পোষণ করিয়া ছিলে এবং অলীক আকাঙ্ক্ষা তোমাদিগকে মোহাচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিল, অবশেষে আল্লাহর হুকুম আসিল। আর মহাপ্রতারক তোমাদিগকে প্রতারিত করিয়াছিল আল্লাহ সম্পর্কে।'


 


 


 


নিজের হাত ও পায়ের উপর যে ভরসা করে সে ঠকে না। -জন গে।


 


 


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়ুই পাখির ন্যায় একটি ছোট্ট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।


 


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষা হোক আনন্দময়
মাছুম বিল্লাহ
৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালিত হলো সারা দেশে। এবার প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালনের প্রতিপাদ্য ছিল 'প্রাথমিক শিক্ষার দীপ্তি, উন্নত জীবনের ভিত্তি'।



 



শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতা-২০১৯ আয়োজনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ১২ থেকে ১৮ মার্চ, ঢাকা মহানগর ও ২৫টি উপজেলা পর্যায়ে ২০ থেকে ২১ মার্চ, জেলা পর্যায়ে ২৪ থেকে ২৫ মার্চ ও মহানগর পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩১ মার্চ এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২ থেকে ১৩ মে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে উদ্যাপন নীতিমালা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান, নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, জারি গান, লোকনৃত্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে চমৎকার উদ্যোগ। তবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এবং কিছু উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো।



 



প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালনের উদ্বোধনী দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অভিভাবকদের ভাবনা, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে যেসব বাণী উচ্চারণ করেছেন সেগুলো শিশু শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'অনেক সময় আমরা দেখি প্রতিযোগিতাটা শিশুদের মধ্যে না হলেও মায়েদের মধ্যে বা মা-বাবার মধ্যে একটু বেশি হয়ে যায়। এটি কিন্তু একটু অসুস্থ প্রতিযোগিতা বলে আমি মনে করি। কারণ সব শিক্ষার্থীর তো সমান মেধা থাকবে না। সবাই সমানভাবে করতে পারবে না।



 



স্বভাবতই স্বাভাবিকভাবে যার যতটুকু আসবে তাকে সেভাবে সহযোগিতা করতে হবে। শিক্ষাটাকে আপন করে নিয়ে সে যেন শিখতে পারে। শিশুরা শুধু ঘরে বসে শিখবে না, দেখেও শিখবে। ' শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'তোমরা আমাদের ভবিষ্যৎ। নিজেদের গড়ে তুলবে, লেখাপড়ায় মনোযোগ দেবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা, যার যে গুণ আছে, সেটা যাতে বিকশিত হয়। ' শিশুদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে জন্য আমাদের সবার কাজ করতে হবে। আজকের শিশুরাই ভবিষ্যৎ কর্ণধার। হয়তো এর মধ্য থেকেই কেউ আমার মতোই প্রধানমন্ত্রী হবে। যাদের বিশেষ চাহিদা রয়েছে, তাদের শেখাতে হবে। এরাও মানুষ। একই সঙ্গে পাশাপাশি থাকবে। তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব যারা সুস্থ শিশু তারাই নেবে, তারাই বন্ধু হবে, তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করবে।' চমৎকার উক্তি, শিক্ষাবান্ধব পরামর্শ!



শিশুদের শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। তাদের পড়াশোনাটা যেন খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে সুন্দরভাবে নিজের মতো করে করতে পারে, সে ব্যবস্থাটাই করা উচিত। সেখানে অনবরত পড় পড় পড় বলাটা বা ধমক দেওয়াটা, আরো বেশি চাপ দিয়ে শিক্ষার ওপর তাদের আগ্রহটা কমানো ও ভীতি সৃষ্টি করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। পৃথিবীর বহু দেশে বাচ্চাদের ছয় বছর, এমনকি সাত বছর বয়সে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়; কিন্তু আমাদের দেশে অনেক কম বয়সে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। আমাদের দেশে চার বছর বয়স থেকেই বাচ্চাদের স্কুলিং চলছে বহু দিন ধরে। এটিকে এখন সাড়ে তিন বছর করার প্রস্তুতি চলছে। অভিভাবকদের বিষয়টি মনে রেখে সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যে উদ্দেশ্যে বাচ্চাদের ইসিডি (আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট) সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়, অনেক মা-বাবাই তা বুঝতে চান না। তাঁরা সিলেবাস দেখতে চান, ক্লাস রুটিন দেখতে চান, বিভিন্ন ধরনের বই দেখতে চান, পরীক্ষা চান। অথচ এতটুকু শিশুর ওগুলো কোনোভাবেই প্রয়োজন নেই। শিশুদের যথাযথভাবে শিক্ষা দেওয়ার স্বার্থে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া স্কুলে ভর্তি হওয়াকে শিশুদের অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, শিশুরা যাতে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এ কথা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কে যাতে ফুলের বাগান-সদৃশ মনে করে এবং সেখানে আনন্দ-ফূর্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। শাস্তি, রাগ ও ভয়ে শিশুর মস্তিষ্কে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ক্ষণিকের জন্য বাধাগ্রস্ত করে। এই হরমোন তার মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রটিতে মেঘের মতো ছায়া ফেলে ঢেকে দেয়। শিশুরা যখন অতিরিক্ত মানসিক দুঃখ, ভয়, ক্রোধ বা মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে, তখন অতি সাধারণ কথা বা তথ্যও তারা মনে করতে পারে না। আরো দেখা যায়, এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও আকৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।



 



বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার সরঞ্জাম নেই, খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই। কোথাও থাকলেও তা থাকে আলমারিতে তালাবদ্ধ। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের, কোথাও অনেক ভালো ব্যবস্থা আছে, আবার অধিকাংশগুলোতে খেলার মাঠ নেই, বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, শুধু ফার্মের মুরগির মতো বাচ্চাদের শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। এটি কোনোভাবেই শিশুবান্ধব নয়, শিশু শিক্ষার্থীদের উপযোগী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়।



 



শিশুকে স্কুলে পাঠানোর বয়স হলেই অভিভাবকদের কপালে ভাঁজ পড়ে। কারণ সব অভিভাবক চান তাঁদের বাচ্চাটিকে তথাকথিত একটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে। সমস্যাটা শুরু হয় এখান থেকেই। কথিত ভালো স্কুলে সন্তানদের পড়ানোর জন্য অভিভাবকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর এখান থেকেই তৈরি হয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা। নামিদামি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একটির পর একটি কোচিং ও টিউটরের ব্যবস্থা করা হয়। মা-বাবা নিজেরাও পড়াতে বসে যান। টিভি দেখা বন্ধ করে, খেলাধুলা বন্ধ করে, সব ধরনের বিনোদন বন্ধ করে চলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। এগুলো যে শিশুদের মানসিক খাবার, সেদিকে যেন কারোরই খেয়াল নেই। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 'একটা বিষয় আমি দেখেছি, ক্লাস ওয়ানে ভর্তির জন্য ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ওয়ানে ভতির্র জন্য যদি ছাপানো প্রশ্নপত্র দিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়, তাহলে আর ক্লাস ওয়ানে শিখতে যাবে কী? এই প্রক্রিয়াটা বাতিল করতে হবে। এলাকাভিত্তিক এটা ঢাকা শহর হোক, সারা বাংলাদেশ হোক_ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।' আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুরো একমত পোষণ করছি। বাচ্চার ভর্তির জন্য কিসের পরীক্ষা, এটি তার জন্মগত অধিকার।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৯০৯৩
পুরোন সংখ্যা