চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮ আশ্বনি ১৪২৬, ৩ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


 


 


 


মহৎ কারণে যার মৃত্যু ঘটে সে অপরাজেয়। -বার্জিল।


 


 


সদর দরজা দিয়ে যে বেহেশ্তে যেতে চায়, সে তার পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


 


 


ফটো গ্যালারি
আমাদের স্বাস্থ্যসেবা
সুধীর বরণ মাঝি
০৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমরা সবাই জানি এবং মানি- স্বাস্থ্যই সম্পদ। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সবার আছে। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সবার জন্যে অপরিহার্য। একজন মানুষকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে যে ছয়টি মৌলিক অধিকার রয়েছে স্বাস্থ্য তার মধ্যে একটি। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয়। আমাদের কোনো হাসপাতালই স্বাস্থ্যসেবায় পরিপূর্ণ নয়। রোগী আছে তো চিকিৎসক নাই, চিকিৎসক আছে তো ওষুধ নাই, ল্যাব আছে তো টেকনেশিয়ান নাই, অপরারেশন থিয়েটার আছে তো কার্যকর নাই, সিলিন্ডার আছে তো অক্সিজেন নাই ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত দেশের প্রতিটি হাসপাতাল। পরিপূর্র্ণ এবং পর্যাপ্ত সেবা দেয়ার আমাদের হাসপাতালগুলো অনেক পিছিয়ে। টাকা না হলে সেবা পাওয়া দায়। যা আমাদের জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যসেবার প্রতিচ্ছবি। কোনো এক গোলক ধাঁধায় ঘুরপাক খাচ্ছি আমরা প্রতিনিয়ত। হাঙ্গরের মতো হা করে বসে আছে শিকার ধরার নেশায়। আমরা সাধারণরা এক একটা শিকার। তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমাদের স্বাস্থ্যসেবার মান অনেক নিচে। এর প্রধান কারণ এবং দুর্বলতা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, যদি আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করতে চাই। চিকিৎসকরা ঠিকমতো গাইড করছেন না রোগীদের। রোগীরা বিপাকে, জিম্মি কতিপয়ের নিকট। চিকিৎসকরা তাদের সেবাব্রত ভুলে ব্যবসাব্রতে বেশি মনোযোগী। এই যখন অবস্থা তখন সামাজিক বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে ওঠে।



আমাদের হাসপাতালগুলোতে অপারেশনের প্রাথমিক পর্যায় ঠিক থাকলেও অপারেশনের পর্যায় এবং অপারেশনপরবর্তী পর্যায় প্রায় ত্রুটিপূর্ণ। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগী এবং তার অভিভাবককে মিস গাইড করেন। এখানেও থাকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের লোভ। সকল লোভ ও লাভের ঊর্ধ্বে চিকিৎসকদেরকে সেবার মানসিকতায় থাকতে হবে। চিকিৎসা মহৎ এবং মহান পেশা। এটা সকল লোভ এবং লাভের ঊর্ধ্বে। সেবা দিতে পারাই এখানকার তৃপ্তি। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র তার বিপরীত। যা সত্যিই হতাশাজনক এবং দুঃখজনক। পৃথিবীর প্রতিটি উন্নত দেশের দিকে তাকালেই দেখতে পাই তারা স্বাস্থ্যসেবার স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর অন্যতম কারণ তাদের নৈতিকতা, দায়বোধ এবং সচেতনতা।  কিন্তু আমাদের দেশে তার বিপরীত চিত্র। যে যেভাবে পারছে মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চত করতে না পারলে স্বাস্থ্যখাত হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে। খাদে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার তোলার জন্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

সুস্থ জাতি উন্নয়নের পরিপূরক। পরিবেশ দূষণ স্বাস্থ্যসেবার পরিপন্থী। যা আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। কি বাতাসে, কি পানি, কি মাটি সর্বত্র-ই পরিবেশ দূষণের হিড়িক। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হুমকির মুখে পড়বে। জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের কর্মঘণ্টা অপচয় হবে, কর্মক্ষমতা হ্রাস পাবে, শারীরিক ও মানসিক শক্তি হ্রাস পাবে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে। অসুস্থ জাতি কখনো শক্ত ভীতের উপর দাঁড়াতে পারে না।  



স্বাস্থ্যসেবার সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হয় আমাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় অর্থনীতি এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের পরিপন্থী। দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পরিপূর্ণ করতে হবে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষভাবে আমাদের স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ ও  বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিতে হবে। যেমনÑচিকিৎসকদের অনিয়ম, স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট, খাদ্যে ভেজাল, দালাল চক্র, ঘুষ, দুর্নীতি, অতি লাভের মানসিকতা, ওষুধশিল্পের মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ব্যবসায়ী, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত মুনাফা, অনৈতিক সুবিধা, চিকিৎসক ও টেকনেসিয়ান সঙ্কট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সঙ্কট ইত্যাদি।

পরিবেশ দূষণ এবং আত্মসচেতনতার সঙ্কট উন্নত স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা।  সঙ্কট বা সমস্যা সমাধানে নিরপেক্ষভাবে এবং আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করলে স্বাস্থ্যখাতের চিহ্নিত সমস্যা সমাধান করে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবার কোনো ঝুঁকি নেয়া যাবে না। আমাদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্যে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে কাজ করতে  হবে। ব্যক্তিচিন্তা ও গোষ্ঠীচিন্তার ঊর্ধ্বে কাজ করতে হবে। মুষ্ঠিমেয় লোকের স্বার্থের কারণে কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ বিসর্জন হতে পারে না। স্বাথ্যসেবা পরিপূর্ণতা  লাভ  করলে দেশ ও জাতির জন্যে তা মঙ্গলময় এবং কল্যাণকর। এর সুফল সবাই ভোগ করবে। একজন মানুষের যদি কোনো অঙ্গহানি ঘটে এই মানুষ যখন পঙ্গু হয়ে বোঝা হয় ঠিক তেমনি দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিপূর্ণ না থাকলে তা দেশের অর্থনৈতিক এবং উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্যে বোঝা। কিছু লোকের সুবিধা ভোগ আমাদের স্বাস্থ্যসেবা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে আইন প্রয়োগে কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া যাবে না। আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যে কোনো মূল্যে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে হবে। অনিয়ম ও খাদ্যে ভেজাল রোধ করে সুষম খাদ্য এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দালাল চক্র, ঘুষ, দুর্নীতি প্রতিরোধে আরো কঠোর এবং কঠিন হতে হবে। অতি লাভের মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের বিধান রাখতে এবং কার্যকর করতে হবে। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ব্যবসায়ী, অতিরিক্ত মুনাফাকারী ডায়গনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সিলগালার করে দিতে হবে। পর্যাপ্ত গবেষণার সুবিধা রাখতে হবে। অনৈতিক সুবিধাভোগীদের কারাভোগের বিধান রাখতে হবে এবং কার্যকর করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও টেকনেশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে এবং থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কর্তাব্যক্তিদের আরো দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বরাদ্দের সবটুকুর সঠিক ব্যবহার করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যে পাঠ্যপুস্তকে স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মিডিয়ার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে মৌলিক প্রয়োজনের কোনো একটির প্রতি অবহেলা করলে তার পুরো প্রভাব পড়ে আমাদের জাতীয় জীবনে। আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। গণমুখী কাজের মধ্যেই রাষ্ট্র এবং সরকারে সফলতা ফুটে উঠে।

 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮৫৪৭
পুরোন সংখ্যা