চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮ আশ্বনি ১৪২৬, ৩ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


 


 


 


মহৎ কারণে যার মৃত্যু ঘটে সে অপরাজেয়। -বার্জিল।


 


 


সদর দরজা দিয়ে যে বেহেশ্তে যেতে চায়, সে তার পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


 


 


ফটো গ্যালারি
শারদীয় দুর্গোৎসব
তৃপ্তি সাহা
০৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাঙালির জীবনযাত্রা আবর্তিত হয় ছয়টি ঋতুকে ঘিরে। আর ঋতুর কথা যদি বলি তবে শরৎকাল নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বদেহী সুন্দর ও কল্যাণময় একটি ঋতু। এটা তো সত্যি এই বাংলায় প্রত্যেকটি ঋতুর আছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য, আলাদা আলাদা মোহনীয় সৌন্দর্য। আর অন্য সব ঋতুর কিছু সুবিধা যেমন আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। ধরা যাক, বাঙালির কথিত ঋতুরাজ বসন্তের কথা। রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন_বসন্তে কি শুধু ফোটা ফুলের মেলা রে।/দেখিস নে কি শুকনো পাতা ঝরা ফুলের খেলা রে।...



 



কিন্তু শরৎ প্রকৃতিকে উজাড় করে দিয়ে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলে চারপাশ চারিদিক। শরৎ কোমল স্নিগ্ধ মায়াময় এক ঋতু। বর্ষার শেষে চারিদিক স্বপ্নের মতো সবুজ থাকে। গাছগুলোকে দেখে মনে হয় ভরা যৌবনা। সজীব পত্র-পল্লবে, ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ এক ঋতু। সূর্য উঠে সোনারবরণ রূপ নিয়ে। সোনাঝরা স্নিগ্ধ রোদ ঝরে পরে মাঠের ফসলের ওপর আর উঠোনে। ঝির-ঝির ঠা-া বাতাসে দোল খায় ধানের শীষ, মাঠের ফসল। কৃষকের মন নেচে উঠে নিজের অজান্তে। স্বচ্ছ পরিষ্কার স্বপ্নালু নীল আকাশে তুলোর মতো মেঘেরা ঘুরে বেড়ায় মনের আনন্দে। ছেলে-মেয়েরা রং-বেরংয়ের ঘুড়ি ছেড়ে দেয় আকাশের বুকে। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারার মেলা, যাকে বলে শুকতারা। আর পূর্ণিমার রাতে এতো বড় মায়াবী চাঁদ আকাশের বুকে দেখে মানবজীবন আরো একবার ধন্য হয়। নদীতীরে কাশফুলেরা হাতছানি দিয়ে উচ্ছ্বাসিত প্রকৃতিকে ডাক দেয়। গাছভরা শিউলি ফুলগুলো টুপটাপ করে গাছ থেকে ঝরে পরে শিশিরভেজা নরম ঘাসের উপর, আর নিকোন উঠানে। নৌকার পাল তুলে ভাটিয়ালি গান গেয়ে মাঝিরা এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে যায়। মনোমুগ্ধকর এই শরতের রূপের বর্ণনা রবীন্দ্রনাথ ছাড়া পূর্ণতা পায় না_



আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা_



নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা।।



এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে,



এসো নির্মল নীলপথে,



এসো ধৌত শ্যামল আলো-ঝলমল-বনগিরি পর্বতে_



এসো মুকুটে পরিয়া শ্বেতশতদল শীতল-শিশির-ঢালা।।



 



অথবা,



শরতে আজ কোনো অতিথি এলো প্রাণের দ্বারে।



আনন্দ গান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে।।



নীল আকাশে নীরব কথা শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা



বেজে উঠুক আজি তোমার বীণার তারে তারে।।



শস্যক্ষেতের সোনার গানে যোগ দে রে আজ সমান তানে,



ভাসিয়ে দে সুরভরা নদীর অমল জলধারে।



 



অথবা,



শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি



ছড়িয়ে গেলো ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি।।



শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে



বনের-পথে-লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে



আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।...



 



এ রকম শরতের রূপের বর্ণনা বিশ-ত্রিশখানা গান এক নিশ্বাসে বলা যায়।



 



স্বভাবগত অচঞ্চল বাঙালি চঞ্চলমুখর হয়ে ওঠে। ঢাকিরা জেগে ওঠে, কুমোরেরা জেগে ওঠে। জেগে ওঠে পাখিরা। বর্ষার তোড়ে লুকিয়ে থাকা পাখিগুলো কুহুকুহু ডাকে চারিদিক মুখরিত করে তোলে। কর্মব্যস্ততা বাড়ে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। বাড়ির বৌ-ঝিরা আরো ব্যস্ত।



প্রত্যেকটি কাশফুল জানান দেয় মা আসছেন। প্রতিটি ঝরা শিউলি ফুল জানান দেয় মা আসছেন। নতুন পত্র-পল্লব জানান দেয় মা আসছেন। শিশির বিন্দু জানান দেয় মা আসছেন। ঢাকি, ঢাক বাজিয়ে প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে মায়ের আগমনি বারতা ঘনীভুত করে। ঘরে ঘরে ধোয়া-মোছা,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আল্পনা অাঁকার ধুম পড়ে যায়। জানালায় নতুন পর্দা, বিছানায় নতুন চাদর ওঠে। ছোট-বড় সবার জন্যে চাই নতুন জামাকাপড়, নতুন জুতো আর কারো করো জুয়েলারি। দোকানগুলোতে কিনা-বেচার ধুম পড়ে যায়। দর্জিবাড়ি জমে ওঠে। দোকানিদের মুখে হাসি ফুটে। পূজার ম-বে মৃৎশিল্পী, কারুশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করে। আলোকসজ্জা ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। 'উৎসব কথাটির অর্থ যাহা 'সুখ প্রসব করে'। সুখ ও আনন্দ তো বটেই, সেই সুখ যেনো সবার কাছে পেঁৗছায়। সেজন্যে যেনো উৎসব শব্দটির মধ্যে 'সব' শব্দটি রয়েছে। আর শরৎ মানেই বাঙালির স্বপ্নপ্রণোদিত হওযার, মন রঙে রঙে রাঙিয়ে উৎসবে ভেসে যাওয়ার ঋতু। পূজো একটি বিশেষ ধর্মের কিন্তু উৎসব কোনো বিশেষ শ্রেণি বা ধমের্র মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। উৎসব হয়ে উঠে প্রতিটি মানুষের সকলের তরে। বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি।



 



প্রতীক একটি পরিচয় জ্ঞপক চিহ্ন। এর মূল গ্রীক শব্দের এর অর্থ যার দ্বারা কোনো বস্তুকে জানা অথবা অনুমান করা সহজতর হয়। একটি প্রতীক কিছু বিশিষ্ট সমধর্মী গুণাবলি অথবা বস্তু অথবা তার প্রতিভূ হিসেবে মনে উদ্ভাসিত হয়। প্রতীক একটি চিহ্ন_যার দ্বারা অদৃশ্য কোনো দৃশ্য অথবা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুকে প্রকাশ করা হয। বহিজগতের সাথে আমাদের যোগাযোগের ভিত্তি প্রতীক। 'সব' ভাষারই শেষ আশ্রয়স্থল 'প্রতীক' এবং ধর্মীয় ভাষার ক্ষেত্রে তা একটি বিশেষমাত্র পায়; কারণ ধর্ম যেনো সত্যকে প্রকাশ করতে চায়, যার গভীরতাকে অক্ষর স্পর্শর্ করতে পারে না। কোনো দেবমূর্তি বা ঈশ্বরের প্রতীক আমাদের সেই উদ্দেশ্যই সিদ্ধ করে যাতে আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যোগ্য কোনো বস্তুর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে আমাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে পারি। ভাবের সহজ আদান-প্রদানের জন্যে প্রতীক ব্যবহার করা হয়।



অন্যদিকে_পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো। আর তাইতো ফুল, দুর্বা, তুলসিপাতা, বেলপাতা, চন্দন, মধু আতপচাল, ধুপ, দীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে পূজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুর্গাপূজার উপকরণ আরো বিস্তৃত আরো তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্গাপূজা কোনো একটি ঘরের পূজা নয়। সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করার উৎকর্ষতা এই পূজার মাহাত্ম। তাই জ্ঞানচর্চাকারী ব্রাক্ষ্মণ, দেশ শাসনকারী ক্ষত্রিয়, ব্যবসার কাজে নিয়োজিত বৈশ্য আর খেটে খাওয়া মানুষ শুদ্র_সকলেরই সমান অংশদারিত্ব এই পূজোতে। কথিত আছে যে, দেবতারা যখন_বরপ্রাপ্ত অপ্রতিরোধ্য অসুরকূল দ্বারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলো। তখন অসুরকুলকে বধ করার উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে তাঁর এক নাম মহিষমর্দিনী। মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট বিনাশ করেন বলে তাঁর আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী দেবী।



 



দেবী দুর্গা দশভূজা। অর্থাৎ দশটি হাত আর তিনটি চোখ। তাই তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। তাঁর বাম চোখ চন্দ্র, ডান চোখ সূর্য আর কপালের চোখটি জ্ঞান বা অগি্নকে নির্দেশ করে। দশ হাতে দশটি অস্ত্র রয়েছে। শক্তিধর প্রাণী সিংহ তাঁর বাহন।



শরতের আকাশ, শরতের প্রকৃতি, শুভ্র কাশফুল, শিউলি ফুল, শিশিরভেজা সবুজ ঘাস আর ঢাকির ঢাক আর শঙ্খ বাজিয়ে চ-ীপাঠের মাধ্যমে মায়ের আগমনী সংগীত রচিত হয়। যাকে মহালয়া বলে। বাঙালির মন অপার্থিব আনন্দে ভরে যায়। চারিদিকে আনন্দসংগীত ধ্বনিত হয়।



মাতলোরে ভূবন বাজলো তোমার আলোর বেনু।



আজ প্রভাতে যে সুর শুনে



খুলে দিনু মন



বাজলো তোমার আলোর বেনু...



মা আসেন অতসী ফুলের আলো ঝলমল সোনার রং নিয়ে।



পাঁচদিনব্যপী ধাপে ধাপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।



 



প্রথম দিন : ষষ্ঠী পূজা : বোধন অর্থ জাগরণ। আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেলগাছ তলায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই আমন্ত্রণ বা আবাহন। বোধনে দেবী জাগরিত হয় আবাহনে দেবীকে নিয়ে আসা হয়। তারপর অধিবাস। অধিবাস মানে বিশেষ বাস বা অবস্থানকরা। বাইশটি উপকরণ দিয়ে অধিবাস সম্পন্ন হয়। তৈলহরিদ্রা, গন্ধ, মহী, শিলা, ধান্য, দুর্বা, পুষ্প, ফল, দধি, ঘৃত, সিঁন্দুর, শঙ্খ, কাজল, গোরচনা, স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, চামর, দর্পণ, প্রদীপ, বরাহদন্ত ও খড়গ_এই বাইশটি উপকরণ 'প্রশস্তিপাত্রে' সাজানো থাকে। ইহাকে বরণডালাও বলা হয়ে থাকে।



 



দ্বিতীয় দিন : মহাসপ্তমী : নবপত্রিকা অর্থাৎ নব মানে নয় আর পত্রিকা হল পাতাযুক্ত গাছ বা গাছের ডাল। শরতে সবুজের প্রাচুর্য 'নবপত্রিকা' পক্ষে ভারি অনুকুল। এই নয়টি গাছ দিয়ে সপ্তমী পূজার সূচনা। প্রথমটি 'রম্ভা' অর্থাৎ কলাগাছ। এর সঙ্গে আরো আটটি গাছ। সাদা অপরাজিতা লতা জড়ায়ে শাড়ি পরিয়ে কলাগাছের মাঝের ডগাটির মাথায় সিঁদুর দিয়ে দেবীর ডান দিকে গণেশের পাশে রাখা হয় নাম কলাবউ। দেবীর এক এক রূপের প্রকাশ এক এক নাম। দেবীর ব্রক্ষ্মাণী রূপটি কলাগাছে অধিষ্ঠিত। কচু গাছে 'কলিকা' হলুদ গাছে 'দুর্গা', জয়ন্তী গাছে 'কার্তিক' বেল গাছে 'শিবা', ডালিম গাছে 'রক্তদন্দকা', অশোক গাছে 'শোকরহিতা' মানগাছে 'চ-িকা', ধানগাছে 'লক্ষ্মী'। প্রত্যেকটি গাছের ভিন্ন ভিন্ন পূজা হয়। অবশেষে একসঙ্গে নবপত্রিকার পূজা 'নবপত্রিকাবাসিন্যৈ দুর্গায়ে নমঃ' সম্পন্ন হয়। এটি দুর্গাপূজার অসাধারণ অঙ্গ। ঘটে, প্রতিমায়, নবপত্রিকায় দেবীর আবির্ভাব হয়। মৃন্ময়ী প্রতিমা চিন্ময়ী রূপে আবিভূত হলেন।



 



তৃতীয় দিন : অষ্টমী পূজা, বিশেষ ভাবগাম্ভীর্য্য ও মহাত্মপূর্ণ দিন। অষ্টমীতিথিতে মহাস্নান, কুমারীপূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপূজা এবং নারায়ণ সেবা। কুমারী পূজা সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ আছে। তবে এক থেকে ষোল বছরের জলজ্যান্ত একটি কুমারী কন্যাকে মাতৃরূপে পূজা করা হয়। রাণী রাসমণি প্রতিবছর কুমারী পূজা করতেন। বেলুড় মঠে দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। ১৯০১ সালে ১৯ অক্টোবর স্বামী বিবেকানন্দ প্রথম কুমারী পূজা করেন। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করাই এর অন্যতম কারণ।



 



সন্ধিপূজা : অষ্টমী ও নবমীতিথির সন্ধিতে দেবীর যে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয় তাকেই সন্ধি পূজা বলা হয়। অষ্টমীর শেষ চবি্বশ মিনিট আর নবমীর প্রথম চবি্বশ মিনিট মোট আটচলি্লশ মিনিটের মধ্যে এই পূজা সম্পন্ন করতে হয়।



সন্ধি পূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দেবীর পূজা করা হয়। এ সময় দেবী দুর্গাকে বিভিন্ন ধরণের ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রচুর ভক্তের সমাগম হয় এদিন।



 



নবমী পূজা : নবমী তিথিতে নবমীবিহিত পূজা করা হয়।



 



দশমী পূজা : দশমী তিথিতে পূজাবিধি অনুসারে দেবী দুর্গার দশমবিহিত পূজা করা হয়। এইদিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি মুখ করা হয়। নারীরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি মুখ করে এক অপরকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিজয়া দশমী নামে এটি পরিচিত। দুর্গাপ্রতিমা নদী, পুকুর, প্রভৃতি জলাশয়ে বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।



 



দেবী দুর্গা যেনো আমাদের ঘরের মেয়ে। তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন। চারদিন থাকার পর তাঁর ছেলে-মেয়ে কার্তিক গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীকে নিয়ে কৈলাস ভবনে যাত্রা করেন।



 



মহিষাসুরকে বধ করে অর্থাৎ অসুভ শক্তিকে পরাজিত করে বিজয়া দশমীর মাধ্যমে বিজয় পালিত হয়। অন্যায়-অবিচারকে প্রতিহত করা হয় এই পূজার মাধ্যমে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের মধ্যে সৃজনশীলতা তৈরি করে। মৃৎশিল্পী, অলঙ্কার শিল্পী, আল্পনা শিল্পী, ম-প তৈরিকরণ শিল্পী, শোলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম একদিকে যেমন নান্দনিক সৃজনশীলতা চোখে পড়ার মতো তেমনি জীবিকা নির্বাহের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। পূজারিদের, রাঁধুনিদের, মিষ্টি বিক্রেতাদের, ফেরিওয়ালাদের সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে কর্মযজ্ঞ তৈরি হয়। তাই পূজার আরেক নাম 'সৃজনশীলতা'। যে সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের সুবিধার জন্যে সৃষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একেই মঞ্চে একত্রিত করে, পৃথিবীর সকল মানুষ, সকল প্রাণির জন্যে মঙ্গল কামনা করা হয়। পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রত্যেকটি প্রাণি প্রত্যেকটি উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ধুপ, চন্দন ফুল, বেলপাতা, তুলসি পাতা, দুর্বাঘাসের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে মমত্ববোধ, প্রেম, ভালোবাসা জাগ্রত করাই পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য।



 



দেবী দুর্গা আমাদের সমাজের নারীর প্রতিচ্ছবি। নারী শুধু মমতাময়ী মা, প্রেমময়ী স্ত্রী, স্নেহময়ী কন্যা_তা নয়। নারীর ভেতরের যে শক্তি, যে তেজ, যে ক্ষমতা_তারই বহিঃপ্রকাশ দেবী দুর্গার মধ্যে প্রকাশিত। একমাত্র নারীই নতুন জীবনের সূচনা করতে পারে। নারী শুধু চুল বাঁধে আর রান্না করে না। নারী যে কোনো অশুভ শক্তির বিরদ্ধে, অবিচার-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাই আজকের নারী যেমন সন্তান ধারণ, লালন-পালনে পারঙ্গম তেমনি চুল বাঁধাতে, রান্নাতেও পারঙ্গম।



 



নারী স্থান আজ শুধু গৃহে নয়, যেমন আছে যুদ্ধক্ষেত্রে, তেমনি খেলার মাঠে, আকাশে, জলে সবজাগাতেই নারী তার পারঙ্গমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তাই দেবী দুর্গা আমাদের আরাধ্য যুগ যুগে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩২৮০৭
পুরোন সংখ্যা