চাঁদপুর, বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
অনিয়ম প্রতিরোধ জরুরি
সুধীর বরণ মাঝি
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


উন্নয়ন ও দুর্নীতি পাশাপাশি চলতে পারে না। গণতন্ত্র ও দুর্নীতি পাশাপাশি চলতে পারে না। যে কোনো দেশের উন্নয়নের এবং গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু হচ্ছে 'দুর্নীতি'। দুনীতি শ্রেণি-বৈষম্য এবং আয়-বৈষম্য তৈরি করে। দুর্নীতির প্রভাবে দেশের গতিশীল অর্থনীতিতে স্থবিরতা তৈরি হয়। মানুষের নৈতিক বিপর্যয় ঘটে। মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, খুন, ছিনতাই, মাদকাসক্ত, ধর্ষণ, নির্যাতন, গুম প্রভৃত অপরাধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে এ কথা ঠিক একটি দেশের সব মানুষ কিন্তু দুর্নীতিপরায়ণ বা দুর্নীতিবাজ নয়। দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আমরা নিজেদের অপরাধ লুকাতে অন্যের অপরাধকে বড় করে সামনে আনলে দুর্নীতিবাজরা প্রশ্রয় পায় এবং রাষ্ট্রশক্তির কাছে আশ্রয় খোঁজে। আমাদের উন্নয়নকে গতিশীল এবং ত্বরান্বিত করতে হলে, দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে দুর্নীতি রোধের কোনো বিকল্প নেই। দুর্নীতি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা রোধ করতে হতে হবে। তা না হলে দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ।



 



অবৈধ উপার্জন বৈধ করার সুযোগ দেশের দুর্নীতিকে উৎসাহ জোগায়। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপী একটি দেশের জন্যে সবসময়ই অভিশাপ। সামাজিক অবকাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া এগুলো বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। দুর্নীতি অনেকটাই মরণব্যাধি ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার রোধ করতে যেমন প্রথম ধাপেই চিকিৎসা করতে হয়, তা না হলে তাকে যেমন ভালো করা যায় না। ঠিক তেমনি দুর্নীতিকে প্রথমে রোধ করতে না পারলে দেশ ও জাতির জন্যে তা মহাবিপদ সংকেত হয়ে পড়ে।



 



অর্থনৈতিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী দেশে থেকে প্রতি বছর বিদেশে পাচার হয় ৭৫ হাজার কোটি টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারের সাফল্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মধ্যে ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ওয়াসা, খাদ্য, পুলিশ বিভাগ, এলজিআরডি, এলজিইডি, বন্দর, রেল, বিআরটিসি, বিআরটিএ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির শীর্ষে। এ দুর্নীতি কার স্বার্থে কতিপয় ব্যক্তি না কি রাষ্ট্রের স্বার্থে? একটা বিষয় আমাদের অর্থাৎ যারা রাষ্ট্রের এ দুর্নীতি রোধ করবেন তাদের মনে রাখা দরকার, ব্যক্তি কখনো রাষ্ট্রের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষমতাবান হতে পারে না। ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপীর কারণে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হলে সেই রাষ্ট্র বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারে না। আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তারা যেই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখে নিজের জীবন দিয়েছেন। আমরা সেই সোনার বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কিন্তু রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কেউ যদি দুর্নীতির কোনো বিষয় বা চিত্র নিয়ে বলেন এগুলো ছিঁচকে কাজ, তাহলে পক্ষান্তরে অপরাধীরা এবং দুর্নীতিবাজরা আরো বড় অপরাধ এবং দুর্নীতির জন্যে সায় পেয়ে যাচ্ছেন। একজন সাধারণ মানুষ যা খুশি বলতে পারেন, তবে সেটাও তার সীমার মধ্যে থাকা উচিৎ। কিন্তু রাষ্ট্রের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোনো কিছু সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে ভেবে-চিন্তে করা উচিৎ বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ আমরা তাদেরে কাছ থেকেই শিখি এবং শিখবো। ব্যক্তি এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলাকালীন সময়েই তা ভেঙ্গে পড়ছে আমরা তা মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারি। দুর্নীতিকে সহায়তা করে ঘুষ এবং পারসেন্টটিজ নামের দোষবাচক বিশেষেণ। আর এর খেসারত দেয় রাষ্টের সাধারণ জনগণ এবং ভর্তুকি দেয় রাষ্ট্র। আর্থসামাজিক উন্নয়নের জোয়ারে বেড়েছে দুর্নীতিও। দুর্নীতিবাজরা সবসময় ক্ষমতাশীলদের ছত্রছায়ায় থাকছে। জানি না আমার মতো আর কজন এমন আহত হন ঘুষখোর, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারীদের নামের সাথে বিশিষ্ট সমাজসেবক, জনদরদি ইত্যাদি বিশেষণগুলো দেখে। দুর্নীতির কারণে এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে বটগাছ হচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের সম্পর্কে প্রায় নীরব। রাষ্টের এই নীরবতা অন্যদেরকে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপীতে উৎসাহিত করছে। দুর্নীতির কারণে সরকারের প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে কাজ করছে না। বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা দুর্নীতির একটি বড় কারণ। দুর্নীতিকে রোধ করতে একটি গণজাগরণের প্রয়োজন। একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও সফলতা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্র ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কতটা সোচ্চার, কতটা কঠোর এবং তা প্রতিরোধ করতে কতটুকু সামর্থ অর্জন করেছে তার উপর। ঘুষখোর, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারীরা দেশ, সমাজ এবং একটি জাতির জন্যে যেমন ভয়ঙ্কর, বিপদজ্জনক ঠিক ততোটাই ভয়ঙ্কর বিপদজ্জনক একটি রাজনৈতিক দলের জন্যে, একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যে। সমাজের পরতে পরতে দুর্নীতি বাসা বুনতে শুরু করেছে। এটা এক ধরনের সন্ত্রাস। দুর্নীতির লালন-পালনে সামাজিক সঙ্কট তৈরি হয়। দুর্নীতির কারণে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই ফণা তোলার আগেই বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলে, গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকলে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপী রোধ করা সম্ভব নয়।



দুর্নীতির ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না। আমরা সবাই কম-বেশি দুর্নীতি সম্পর্কে, দুর্নীতিবাজদের সম্পর্কে জানি। ভয় এবং সামাজিক ঐক্য ও সামাজিক আন্দোলন না থাকার কারণে আমরা তা বলতে পারছি না। দুর্নীতিবাজরা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারের দিকে। দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানে পরিণত হচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার কখনো দুর্নীতির দায়কে এড়াতে পারে না। দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে কোনো মূল্যে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপী রোধ করতে হবে। এসব রোধ করতে হলে সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ সচল রাখতে হবে। দুর্নীতিবাজদের তালিকাভুক্ত করে জনসম্মুখে তা উন্মোচন করে দিতে হবে। এ ঘুষখোর, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারীরাই একদিন শাসক এবং রাষ্ট্রের জন্যে কাল হয়ে দাঁড়াবে। স্বজনপ্রীতি ও দলবাজি রোধ করতে পারলে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব। অবৈধ উপার্জন বিদেশে পাচার বন্ধ করতে পারলে দুর্নীতির সিংহভাগ রোধ হয়ে যাবে। সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন আনতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগের পথকে সবসময় সরল ও বাধাহীন রাখতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে হবে এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধী যেই হোক তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং তার উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী, পাচারকারী, ঋণখেলাপী, মাদক ব্যবসায়ী প্রমাণ হওয়ার পর তার সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় খাতে জমা দিতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থের ঊধর্ে্ব উঠে রাষ্ট্র ও সরকারকে দেশ ও জনগণকের অধিকার বিবেচনায় রেখে তদারকি করলে এসব অপরাধ রোধ করা যাবে।



আশা করি, সরকার আমাদেরকে ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাট, পাচার, ঋণখেলাপিমুক্ত সোনার বাংলাদেশ উপহার দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নপূরণ করবেন। এক্ষেত্রে অপরাধীদের সাথে কোনো আপস করবেন না বলে আমরা বিশ্বাস করি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯০৭১৭
পুরোন সংখ্যা