চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২৯ আগস্ট ২০১৯, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৬। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


১৭। তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্তা।


১৮। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


 


মানুষকে প্রশ্ন করার জন্য নহে, ভক্তি করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।


-ইয়ং।


 


 


স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।


 


ফটো গ্যালারি
অপরাধীরা নিপাত যাক
২৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সুধীর বরণ মাঝি?'জন্মিলে মরিতে হবে জানে তো সবাই/কভু সব মরণ নয় সমান'। মরণে মরণে অনেক ফারাক আছে ভাই। জন্ম-মৃত্যু প্রাকৃতিক নিয়মেই হয়ে থাকে। জন্মের পরে মৃত্যু এটাই স্বভাবিক কিন্তু সেই মৃত্যু যদি হয় অস্বাভাবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আর তখনই প্রশ্ন জাগে। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা মানুষের অধিকার। রাষ্ট্রে একটি স্বাভাবিক মানুষের নিশ্চয়তা যতটুকু স্বাভাবিক এবং সুসংহত ঠিক ততোটই সুসংহত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অন্যান্য দিকের সমৃদ্ধি। কিন্তু ইদানীংকাল যা ঘটছে তাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা ব্যহত হচ্ছে। বাসা থেকে বের হয়ে পুনঃরায় বাসায় সুস্থভাবে ফেরার কোন ভরসা পাই না। সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হয় এই দেশ খুনীদের নয়। এই দেশ ধর্ষকদের নয়। এই দেশ মাদককারবারী মাফিয়াদের নয়। এই দেশ লুটেরাদের নয়। এই দেশ দুর্নীতিবাজ ভেজালকারীদের নয়। এই দেশ গুজবকারীদের নয়। এই দেশ আমাদের দেশ। এই দেশ সোনার বাংলা দেশ। এই দেশ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের দেশ। এই দেশ সম্প্রীতির দেশ। এই দেশ ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা আমার স্বাধীন বাংলাদেশ। খুনী, লুটেরা, ধর্ষক, মাদককারবারী, কালোবাজরী, দুর্নীতিবাজ, ভেজালকারীদের রাজত্ব কায়েম করার জন্য এই দেশ স্বাধীন হয়। এই দেশ স্বাধীন হয়েছে স্বাধীন হয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। একটি খুনের রেশ কাটতে না কাটতে আরেনকটি খুন! একটি ধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি ধর্ষণ! একটি লুটপাটের রেশ কাটতে না কাটতে আরেকটি লুটপাট! একটি পর আরেকটি অপরাধ! এটা কোন স্বাধীন গণতান্ত্রিক সভ্য দেশের চিত্র হতে পারে না। গুজব ছড়ানো মারাত্মক অপরাধ। কারণ এতে প্রাণনাশ ঘটে, এতে দেশের নিরাপপত্তা বিঘি্নত হয় এবং প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। সর্বত্র অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ এবং এবং একটি চক্র এই অবস্থায় পরিবেশকে আরো অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় হয়ে উঠে। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে আরেকটি অপরাধ সংঘটিত হওযার সম্ভবনা তৈরি হয়। একজন খুনী, অপরাধীকে প্রথমেই আটকে দিতে হয় তা না হলে সে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরেকটি খুন বা অপরাধ করার সুযোগ পায়। আমরা প্রায়শ দেখি একজন অপরাধী বা খুনী একাধিক খুন বা অপরাধ সংঘটিত করার পর তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয় এবং সেখানেও ঘটে নানান ঘটনা। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ সময় ধরে বিচারিক কার্যক্রম যা অন্য অপরাধীদেরকে উৎসাহিত করে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন অপরাধ এবং উন্নয়ন একসাথে চলতে পারে না। যেখানে অপরাধ আছে সেখানে উন্নয়ন ব্যহত হয়। অপরাধ দেশের উন্নয়ন এবং মানচিত্রকে খামছে ধরে। দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতিশীলতা স্থিতিশীল রাখতে খুন, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, লুটপাট, দুর্নীতি, ভেজাল, কালোবাজরী বন্ধে রাষ্ট্রকে তার প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হতে এবং প্রয়োজনে আইনের সংশোধন আনতে হবে। আইন প্রয়োগে সচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচারকার্যে সকল আপোষকে উপেক্ষা করতে হতে হবে। কারো স্বার্থে যেন কোন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় সেই দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু খুনী, ধর্ষক বা অপরাধীদের শাস্তি দিলেই অপরাধ দমন ও নির্মূল করা সম্ভব নয়। অপরাধ দমন ও নির্মূল করতে হলে খুনী বা অপরাধীদের সাথে সাথে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারীকেও আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দেশে যে চলমান অর্থনৈতিক বৈষম্যবিদ্যমান তা নিরসন করতে পারলে অনেক অপরাধ দমন সহজেই সম্ভব হবে। সামাজিক আন্দোলনকে কাজে লাগাতে হবে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের অপরাধ দমন সম্ভব। একজন অপরাধীর পরিচয় সে একজন অপরাধী। এই পরিচয়েই তার বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। যে ব্যবস্থা এই অপরাধীদের জন্ম দিচ্ছে সেই ব্যবস্থারও সংস্কার করতে হবে। অপরাধ দমনের জন্য সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ভালো রাখার এবং ভালো থাকার মনোভাব তৈরি করতে হবে এক্ষেত্রে মিডিয়া, সাংকৃতিক কর্মী এবং শিক্ষাকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের পরিসর বৃদ্ধি করতে হবে। অভিভাবকদেরকে সন্তানের প্রতি আরো দায়িত্ববান এবং যত্নশীল হতে হবে। সৃজনশীল মনন তৈরি সৃজনশীল কর্মকা- পরিচালনা করতে হবে। ভালো কাজে হ্যাঁ বলি এবং খারাপ কাজে না বলার উৎসাহ তৈরি করতে হবে। নৈতিক শিক্ষার প্রসার, মানবিকতা ও মূল্যবোধের প্রসার ঘটাতে। কেউ যেন ভালো কিছুকে পুঁজি করে কোন অনৈতিক কাজ বা উগ্রতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে না সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন অপরাধী রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে পারে না। অপরাধের কারণ উদঘাটন করে সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপরাধের ধরন লাগব করা সম্ভব বলে মনে হয়। কোন অপরাধীর লালন-পালন রক্তে কেনা বাংলায় হতে পারে না। আমরা বিবেকসর্বস্ব তাই এত কিছু। বিপন্ন মানবতা তাই এত কিছু । ভোগবাদী ও দখলদারিত্ব চিন্তার বিকাশ তাই এত কিছু। নৈতিক অধপতন তাই ধর্ষণ অহরহ। সংকীর্ণ ও উগ্র মানসিকতা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস তাই এত কিছু। স্বার্থপরতা আর স্বার্থপরতা তাই খুন লুটপাট সর্বত্র। ভালো মানুষদের অনিহা তাই খারাপদের উদরপূর্তি ক্ষমতার জয়। আমরা এর অবসান চাই, উন্নত রুচি চাই, বিকশিত জীবন চাই। চলমান সঙ্কটের সমাধান এবং অপরাধ দমনের মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ হবে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের, নাগরিক মর্যাদা এবং একজন নাগরিকের সকল অধিকার লাভ করবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। সবাই মিলে গড়বো দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ।



 



লেখক : শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, হাইমচর, চাঁদপুর।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৪০৩৮
পুরোন সংখ্যা