চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৯ মে ২০১৯, ২৬ বৈশাখ ১৪২৬, ৩ রমজান ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।৩৯। অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
সিনেমা হল নিয়ে ভাবনা
আজমাল হোসেন মামুন
০৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সিনেমা ইংরেজি শব্দ। বাংলা অর্থ চলচ্চিত্র বা ছায়াছবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের কাছে সিনেমা 'বই' হিসেবেই সুপরিচিত। একটা সময় জেলার সাধারণ মানুষের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিলো সিনেমা। এই জেলায় স্বাধীনতার পর থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত সিনেমা হলের আঙিনা দর্শক পদচারণায় মুখরিত থাকতো। রাস্তার পাশে দেখা যেতো সিনেমার রঙিন পোস্টার। কখনও ভ্যানগাড়ি, কখনও ঘোড়ার গাড়িতে মাইকিং শোনা যেতো, আসিতেছে, আসিতেছে বা চলিতেছে, চলিতেছে... ইত্যাদি সিনেমার নাম। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর সন্ধ্যায় সিনেমা হলে ভিড় জমাতো সাধারণ দর্শক। মানুষের মুখে একটি কথা প্রচলিত ছিলো, যে যতো বেশি সিনেমা দেখেছে সে ততো বেশি চালাক হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান অর্থাৎ পরিবারের সবাই একসঙ্গে সিনেমা উপভোগ করতো। সেদিন আজ অতীত।



 



তথ্যমতে, জেলায় ২০টি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে মাত্র ২টি। সেগুলোও আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। নেই তেমন জৌলুস। শোনা যায় না সাধারণ মানুষের মুখে মুখে সিনেমার কাহিনী বা সিনেমার নাম। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে শিবগঞ্জ বাজারে শিবগঞ্জ সাংস্কৃতিক পরিষদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত 'পদ্মা' সিনেমা হলটি আজও টিকে আছে। তবে আগের মতো দর্শক নেই। এরপর ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে শিবগঞ্জ বাজারে এদ্রিশ আহমেদ মোল্লা নামক স্থানীয় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে 'লাকি' সিনেমা হল প্রতিষ্ঠিত হয়। হলটি একসময় দর্শকের ভিড়ে মুখর থাকতো। কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হলটি বন্ধ হয়ে যায়। বিনোদপুর বাজারে রফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন 'ঝুমুর হল'। দাদনচকে 'স্মৃতি', কানসাট বাজারে 'শাপলা', রাণীহাটি বাজারে 'স্মরণিকা' সিনেমা হল নব্বই দশকের দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শিবগঞ্জের এক প্রত্যন্ত অঞ্চল আড়গাড়ার হাটে স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন 'আশা' সিনেমা হল। হলটি ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ভোলাহাট উপজেলায় 'স্বপ্না' ও 'কিরণ' নামে দুটি সিনেমা হল খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও এখন বন্ধ। হল ভেঙে বহুতল ভবন তৈরি করা হয়েছে। গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরের ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক আলম ১৯৮৬ সালে 'রংধনু' হল প্রতিষ্ঠা করেন। রহনপুর বাজারের আরেকটি জনপ্রিয় সিনেমা হল 'মুক্তাশা' যা প্রতিষ্ঠা করেন মুশা সরকার। 'অভিলাষ' নামের সিনেমা হলটি গোমস্তাপুর উপজেলার সব মানুষের কাছে অতি পরিচিত ছিলো। কিন্তু এখন গোমস্তাপুর উপজেলার সব সিনেমা হল বন্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে কোনোমতে টিকে আছে অত্যাধুনিক সিনেমা হল 'রাজমহল'। হলটির মালিক স্থানীয় ব্যবসায়ী সাবের মীর। অথচ একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে আক্তার ইমাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 'গুলশান' হল। পরবর্তীকালে মোঃ রুহুল আমিন হলটি কিনে নিয়েছিলেন। সুপার হিট সব সিনেমা প্রদর্শিত হতো সেখানে। হলটি ভেঙে ক্লাব সুপার মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। নেই হলের কোনো চিহ্ন। একইভাবে 'সন্ধ্যা' সিনেমা হলে সিনেমা দেখা খুব গর্বের বিষয় ছিলো একসময়। এখন সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। উদয়ন মোড়ে অবস্থিত 'উদয়ন' সিনেমা হলে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি সিনেমা চলতো। দূর থেকে দর্শক আসতো দলে দলে। এখন সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। নাচোল উপজেলায় ছিলো 'আশা' ও 'প্যারাডাইস' নামে দুটি সিনেমা হলো। বর্তমানে দুটিতেই পোল্ট্রি মুরগির খাদ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সেগুলো গোডাউন।



 



জেলার সিনেমা হলগুলোতে দুই ঈদে থাকতো তরুণ-তরুণীদের উপচেপড়া ভিড়। চলতো টিকেট কেনার প্রতিযোগিতা। টিকেট না পেয়ে অনেক সিনেমাপ্রেমী দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে সিনেমা দেখতো। বাংলা সিনেমার সেইদিন আর নেই। কোথায় যেনো হারিয়ে গেছে। শুধু রয়েছে কতিপয় হলের নাম মানুষের মুখে মুখে। অধিকাংশ সিনেমা হলের স্মৃতি চিহ্ন বলতে কিছুই নেই। অথচ একসময় সিনেমা হলের নামানুসারে নামকরণ হয়েছিলো বিভিন্ন রাস্তা ও মোড়ের নাম।



 



সিনেমাসংশ্লিষ্ট যারা আছেন বিষয়গুলো তারা নিশ্চয়ই ভাবেন। কিন্তু এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় মিলছে না। দেখা যাচ্ছে না কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। উল্টো এফডিসি এখন পাল্টাপাল্টি দলনির্ভর। সেখানে সমিতির শেষ নেই। তাদের মধ্যে নেই কোনো ঐক্য। পত্রিকার পাতায় প্রায়ই এ ধরনের সংবাদ আমাদের পড়তে হয়। তবে এটা ঠিক অশ্লীলতার জোয়ার থেকে বাংলা চলচ্চিত্র বেরিয়ে আসতে পেরেছে। এখন দরকার ভালো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সমন্বয়ে ভালো গল্পের সিনেমা। দরকার মেধাবী পরিচালক। ভালো সিনেমা দর্শক দেখবেই। ইতিমধ্যে 'আয়নাবাজি', 'ঢাকা অ্যাটাক' সিনেমা দুটি একথা প্রমাণ করেছে। সুতরাং হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশের যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে তাদের হাতে সুস্থ বিনোদন তুলে দিতে হবে। ভালো বাংলা সিনেমা ছাড়া এর বিকল্প নেই।



লেখক : সহকারী শিক্ষক।



সূত্র : রাইজিং বিডি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৬৯৯
পুরোন সংখ্যা