চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৯ মে ২০১৯, ২৬ বৈশাখ ১৪২৬, ৩ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
পরিবহন যাত্রায় নিরাপত্তা
রহিমা আক্তার মৌ
০৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বর্তমান সময়ে নিরাপত্তাহীনতা আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। আর এ সমস্যার প্রধান একটা বিষয় হলো পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা। কথায় কথায় আমরা নারী অধিকার, নারী আন্দোলন, নারীর অগ্রযাত্রা ও নারীর আলোর পথের কথা বলি। কিন্তু এ আলোর আড়ালে কতটা অন্ধকার তা অনেকেই জানেন। আর জেনেও যেনো কিছুই করার নেই তাদের। দেখেও না দেখার ভান করেন তারা। আমাদের সমাজে, পরিবারে কী অফিস-আদালতে ছেলে-মেয়েদের প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতায় মেয়েদের কতটা বাধা অতিক্রম করতে হয় তা যারা ভোগেন তারাই কেবল ভালো জানেন। চলার পথে কোথায় আছে মেয়েদের নিরাপত্তা? কে ভাবে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে? তবে কি নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে নারীরা হাতে তুলে নিবে ঘরোয়া অস্ত্র, যা দিয়ে সে নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখবে?



আমার বড় সন্তান রৌদ্র সিএ পড়ে। সিএ ক্লাস শেষ হয় রাত ৯-১৫ মিনিটে, এরপর বাসায় আসে। মাঝে মাঝেই ছুটির সময় আমি বের হয়ে ওকে নিয়ে আসি। নিজে অসুস্থ থাকার জন্যে সেদিন যাওয়া হয়নি। ও আমায় কল করে বের হতে বলে, আমি বের হই। ও ইশারায় আমায় জানিয়ে দেয় পেছনের লোকটা ওকে ফলো করে। আমি লোকটার মুখোমুখি হই, সে অস্বীকার করে। পরিস্থিতিতে পড়ে সে স্বীকার করে। লোকটার ছবি ও ভিজিটিং কার্ড রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন আমি ওকে আনার জন্যে বের হতাম, হাতে ৫/৭ ইঞ্চি মোটা লোহার তারকাঁটার মতো একটা কিছু নিয়ে যেতাম। মনের মাঝে একটাই ভাবনা ছিলো_যদি কেউ ফলো করে বা পথে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়তে হয় তাহলে এটা দিয়ে আঘাত করতে পারি। আমার প্রশ্ন হলো_সন্তানের নিরাপত্তা দিতে, সন্তানের যাত্রাপথ সুগম করতে আমি বের হচ্ছি, কিন্তু আমার নিরাপত্তা কোথায়?



 



গত ১৩ এপ্রিল ২০১৮ রোজ শুক্রবার বিকেলে সাভার যাবো বলে আমরা বাসা থেকে বের হই। মূলত মায়ের সাথে বৈশাখের দিন থাকার জন্যে। নিজেদের গাড়ির সমস্যা থাকায় গাড়ি ভাড়া নিতে চাই, কিন্তু ভাড়া গাড়ি না পেয়ে বাসে যাবো বলে ঠিক করি। ফার্মগেট থেকে আমরা উঠি। ড্রাইভারের আচরণ খুবই বেগতিক। সামনে-পেছনে সাভারের আরো দু-তিনটা বাস থাকায় সে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালাতে থাকে। কয়েকবার নিষেধ করি, সে বলে, এটা কোনো ব্যাপার না।



 



যাত্রী নামছে, উঠছে। অধিকাংশ যাত্রী নেমে যায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে। আমরা নামবো রেডিও কলোনিতে, মানে সামনের স্ট্যান্ডে। বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস সামনে এগুচ্ছে, আমরা মিনিট দুই পরেই নামবো। বাসের যাত্রী আমরা চারজন, পেছনে দুই জন লোক। হঠাৎ চোখে পড়ে সামনের থেকে চার-পাঁচ নং সিটে একটা মেয়ে ঘুমিয়ে আছে। আমার মনে হলো দুমিনিট পর আমরা নেমে যাবো, পেছনের দুই লোক নেমে গেলে বাসের যাত্রী শুধু ওই মেয়েটা। মেয়েটা কখন ঘুমিয়েছে বা কোথায় নামবে কিছুই জানি না। দেখে মনে হলো হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, নয়তো চাকুরিজীবী হবে। বোরকা-হেজাব পরা। সাথে সাথে মেয়েটাকে ডাক দিই_তুমি কোথায় নামবে?



 



বিশ মাইল। না, তুমি এখানেই নামো। আমরা এখানেই নেমে যাবো, আমরা নামলে বাসে আর কেউই থাকছে না। হয়তো পেছনের লোক দুজনও নেমে যাবে। বাসে তোমার থাকাটা ঠিক হবে না।



 



ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করি- বিশ মাইল কতদূরে? দেড় থেকে দুই কিলো। মেয়েটাকে আমাদের সাথেই নামিয়ে নিয়ে আসি। রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করি, বিশ মাইল যাওয়ার কথা। সে বলে_খালা, রিকশায় যাওয়া রিস্ক হবে। লোকাল বাসেই যাওয়া ভালো।



 



পরে অন্য বাস ধরে মেয়েটা চলে যায় নিজের গন্তব্যে। আমরাও চলে যাই মায়ের বাসায়। প্রশ্ন হলো, কবে আমাদের সন্তানরা নিশ্চিন্তে বাসে উঠতে পারবে, নিজের গন্তব্যে পেঁৗছাতে পারবে? আমরা অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে বাসে উঠি, অভিভাবক সাথে থাকার পরও সন্তানের নিরাপত্তা নেই। মায়ের হাত থেকে একপ্রকার কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে বখাটেরা। যার ঘটনা শুনে ও পড়ে বিবেক স্তব্ধ হয়ে যায়।



 



ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ২০১৮ রোজ রোববারের। রাজধানীর ভিকারুনি্নসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর লোমহর্ষক জবানবন্দি এটি। সাহস আর একটি স্টিলের টিফিন বঙ্ তাকে বাঁচিয়ে দিলো। তার ভাষায়, 'একটা স্টিলের টিফিন বঙ্ আজকে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য বাসে উঠেছিলাম সাড়ে ৬টার দিকে। বাসে দুজন কন্ডাক্টরের একজন মনে হয় ড্রিংক করেছিল। অনেক ভিড় ছিলো, তবে রামপুরা আসতে আসতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পেছনের দিকে কয়েকজন ছেলে বসেছিলো আর সামনের দিকে আমি আর আম্মু। বাসের লাইটগুলো বনশ্রীতে এসে বন্ধ করে দেয় ড্রাইভার, বলে যে তার হেডলাইট নষ্ট এজন্যে বন্ধ করেছে। কালকে (সোমবার) সকালে পরীক্ষা, হাতে সময় নেই বলে কেউ এটা নিয়ে ঝামেলা করিনি। রামপুরায় পেঁৗছে গেলে বাস জ্যামে পড়ে আর আমরা নামার জন্যে দরজার দিকে যেতে থাকি। আম্মু প্রথমে নামে। আমি দরজা পর্যন্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন আমার হাত চেপে ধরে, আম্মু ততোক্ষণে নেমে গেছে। আমি নামার চেষ্টা করি কিন্তু বাস সামনের দিকে যেতে থাকে আর পেছনে কয়েকজন বলছিলো, 'মাইয়াটারে ধর'।



 



কী করবো বোঝার মতো সময় ছিলো না। অন্য হাতে একটা স্টিলের টিফিন বঙ্ ছিলো ওইটা দিয়ে লোকটাকে বাড়ি মারলাম। কতটা লেগেছিল জানি না, কিন্তু আমাকে ধরে রাখা হাতটার শক্তি কমে গেলো। ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম। আমার ভাগ্য ভালো ছিলো যে বাস আস্তে যাচ্ছিলো আর মধুবনের সামনে জ্যাম ছিলো। নেমে পেছনে দৌড় দিলাম। দূর থেকে আম্মুকে দেখতে পেলাম, আমাকেই খুঁজছে। জানতাম যে রাস্তায় একা বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আজকে জানলাম মায়ের সঙ্গে বের হয়েও আমি নিরাপদ নই। কালকের খবরের কাগজে আমিও হয়তো একটা কলাম হয়ে যেতাম, আমার রক্ত-মাংসের শরীরটার জন্য। যে দেশে একটা মেয়ে তার মায়ের সঙ্গেও সুরক্ষিত নয়, সেই দেশ আর যাই হোক স্বাধীন নয়।'



 



প্রশ্ন : তবে কি আমরা ঘর থেকে বের হবো না? বের হলে কার সাথে বের হবো? আমরা কীভাবে আমাদের নিরাপত্তার বিধান জারি করবো? নাকি আমাদেরকেই অস্ত্র হাতে নিয়ে চলতে হবে?



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৯১৯৮
পুরোন সংখ্যা