চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ৯ মে ২০১৯, ২৬ বৈশাখ ১৪২৬, ৩ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, কিংবদন্তীতুল্য সমাজসেবক আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর আর বেঁচে নেই। আজ ভোর ৪টায় ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন।বাদ জুমা পৌর ঈদগাহে জানাজা শেষে বাসস্ট্যান্ড গোর-এ-গরিবা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
এসএসসির ফলাফল
ফল যাই হোক এগিয়ে যেতে হবে
উত্তম কুমার সাহা
০৯ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গত ৬ মে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হল। বেলা ১১টায় ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চাঁদপুরের কৃতীসন্তান, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন। একটি পরীক্ষায় সবাই পাস করবে না কিংবা ভালো ফলাফল করবে না এটা স্বাভাবিক বিষয়। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী। যার মধ্যে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন ছাত্র-ছাত্রী পাস করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি পাস করতে পারেনি। সদ্য দেওয়া এসএসসির ফলাফলে যারা পাস করেছো, ভালো ফল অর্জন করেছো এবং যারা পাস করোনি অথবা ভালো ফল অর্জন করতে পারোনি তাদের সবার উদ্দেশ্যে আজকের লেখাটি লিখছি।



যারা পাস করেছো অথবা ভালো ফলাফল করেছো তাদের যেতে হবে অনেকদূর। সবে তো যাত্রা শুরু হল। এরপর এইচএসসি, অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডিসহ রয়েছে পর্যায়ক্রমিক নানা পড়াশোনা। সবাই জিপিএ-৫ পাবে না। এটা মনে রাখতে হবে, সফল মানুষ হতে হলে জিপিএ-৫ পাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের পরিচয় কেবল দেশব্যাপী নয়, বিশ্বব্যাপীও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। আবার কেউ কি আমরা জানতে চাই বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, নিউটন কোন পরীক্ষায় কত জিপিএ পেয়েছে? জানতে চাই না। ভালো জিপিএ না পেয়েও তাঁরা কিন্তু সফল মানুষ। আবার অনেকে স্কুল-কলেজে ভালো ফলাফল করেও সফল হতে পারেন না। তাই জিপিএ-৫ পেলেই যে সফল মানুষ হবে এটা ভাবা বোকামি। সুতরাং যে যেমন ফলাফল করেছো সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। সন্তুষ্ট থেকেই কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে। যাতে এসএসসি থেকে এইচএসসিতে আরো ভাল ফল অর্জন করতে পারো। তোমরা নিশ্চয়ই জানো অতীত নিয়ে আফসোস না করে ভুলত্রুটি শুধরিয়ে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই হল জ্ঞানীর কাজ। কাজেই আমি বলতে চাই তোমরা এসএসসিতে যে যেমনই ফল অর্জন করেছো সেটা নিয়ে মন খারাপ না করে এইচএসসিতে যেন আরো সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করতে পারো তা নিয়ে পরিকল্পনা করো। পাশাপাশি বেশি করে সৃজনশীল কাজে নিজেকে নিয়োজিত করো। দেখবে সাফল্য তোমার আসবেই। যারা ভালো ফল অর্জন করতে পারোনি তাদের মনবেদনা আমরা বুঝতে করতে পারি। এসএসসিতে অকৃতকার্য হলে পরবর্তীতে সে আর কৃতকার্য বা ভালো ফল অর্জন করতে পারবে না এমন কোনো কথা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, 'হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন থেকেই মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে। আগামীতে তোমরা আরো ভালো ফল করবে, এটা আমার প্রত্যাশা। অভিভাবকদের এ মুহূর্তে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।' সত্যিই তাই, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। অকৃতকার্য যারা হয়েছো তারা আবার নতুন করে নিজেদের তৈরি করো। এখন থেকেই ভালো করে পড়াশোনা শুরু করো। যাতে পরেরবার সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হতে পারো। এমন প্রতীক্ষা করলে তোমাদেরই জয় হবে। একবার অকৃতকার্য হয়ে যদি তোমরা থেমে যাও, পড়াশোনা থেকে দূরে যাও সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না। কবি বলেছেন একবার না পারিলে দেখ শতবার। রবার্ট ব্রুসের গল্পটাও সবাই জানি। সাতবারের চেষ্টায় তিনি রাজ্য জয় করেছিলেন। কাজেই নতুন করে আবার চেষ্টা করতে হবে। নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে ছিনিয়ে আনতে হবে সাফল্য।



অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে দুয়েকটি কথা বলে লেখাটা শেষ করতে চাই। যারা ভালো ফল করেনি এবং যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তাদের পাশে অভিভাবকদের দাঁড়াতে হবে। শিক্ষার্থীর পাশে থেকে তাদেরকে সাহস দিতে হবে। ভবিষ্যতের জন্যে প্রস্তুত হতে উৎসাহ দিতে হবে। ফল সন্তোষজনক না হওয়ার কারণে অভিভাবকরাই যদি সন্তানকে বকাবকি করেন তাহলে সেই শিক্ষার্থী আরো হতাশ হয়ে পড়বে। পরীক্ষার ফল নিয়ে তাকে মানসিক চাপ দেয়া যাবে না। বরং ফলাফলের ধকল কাটিয়ে উঠতে ছাত্র-ছাত্রীকে সহযোগিতা করুন। তাহলে সে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি সন্তানের সৃজনশীলতার চর্চা বৃদ্ধি করুন। তাহলে শিক্ষার্থী দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করতে পারবে।



লেখক : জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁদপুর।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৮৫০৯
পুরোন সংখ্যা