চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ২৯ ভাদ্র ১৪২৫। ২ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৩। তোমাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে তোমাদের এই ধারণাই তোমাদের ধ্বংস এনেছে। ফলে তোমরা হয়েছো ক্ষতিগ্রস্ত।

২৪। এখন তারা ধৈর্যধারণ করলেও জাহান্নামই হবে তাদের আবাস এবং তারা অনুগ্রহ চাইলেও তারা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হবে না।

২৫। আমি তাদের জন্যে নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচর যারা তাদের সম্মুখ ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল এবং তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জি¦ন ও মানবদের ন্যায় শাস্তির কথা বাস্তব হয়েছে। তারা তো ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


সব সমস্যার প্রতিকার হচ্ছে ধৈর্য ও চেষ্টা।

-প্লুটাস।


ন্যায়পরায়ণ বিজ্ঞ নরপতি আল্লাহ’র শ্রেষ্ঠ দান এবং অসৎ মূর্খ নরপতি তার নিকৃষ্ট দান।



 


ফটো গ্যালারি
এমপিওবিহীন শিক্ষকদের জীবন
সুধীর বরণ মাঝি
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৯:১০:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


সারাদেশ যখন ঈদের আনন্দে উদ্বেল আমরা, তখন আমাদের এমপিওবিহীন শিক্ষকরা ঢাকার রাজপথের লড়াইয়ে আছেন এমপিও ভুক্তি ও মাসিক বেতনের স্বীকৃতির জন্যে। জাতি তৈরির কারিগর এমপিওবিহীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যায় বিনা বেতনে চাকরি করার কারণে। যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক এবং উদ্বেগজনক। এটি কোনো ভাবেই কাম্য নয়। অনাহারে থাকলে আনন্দও বিষাদময় হয়ে ওঠে। আমরা জানি, বুঝি কিন্তু মানি না। তাই শিক্ষা ও শিক্ষকদের বেলাই আমরা একটু বেশি হিসেবী। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে শিক্ষা, শিক্ষক ও জাতীয় উন্নয়ন কোনটাতেই পূর্ণতা আসে না। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের আরেকটু বেশি আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা। আমাদের টাকা কোনো সমস্যা নয়। ব্রিটিশরা আমাদেরকে দুইশ' বছর লুটপাট করেছে, পাকিস্তানিরা চবি্বশ বছর এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সাতচলি্লশ বছরে ঋণখেলাপি ও কালো টাকার পরিমাণ ছিয়ানব্বই হাজার কোটি টাকা হয়েছে। হলমার্কের চার হাজার কোটি টাকা, ডেসটিনির প্রায় কয়েক হাজর কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া অর্থ, ঋণখেলাপি এবং কালো টাকার পরিমাণ আমাদের বাজেটের তিন ভাগের একভাগ। গত দশ বছরে শুধুমাত্র চালের বাজার থেকে দেশীয় লুটেরা হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা উদ্ধার করতে পারলে গোটা দেশের অর্থনীতির চিত্র পাল্টে যাবে।



শিক্ষাই একমাত্র বিনিয়োগের নিশ্চিত মাধ্যম যেখানে এক টাকা বিনিয়োগ করলে শত টাকা রিটার্ন পাওয়ার নিশ্চয়তা আছে। শিক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার তাই শিক্ষকের অধিকারও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অধিকার। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের মজুরি পরিশোধ করতে হয়। এটা আমরা জানি কিন্তু মানি না। সেই বাণীও অকার্যকর বেসরকারি এমপিওবিহীন শিক্ষকদের বেলায়। তাই দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিনাবেতনে অর্ধাহারে-অনাহারে থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পেশা শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। কিন্তু এইভাবে আর কত দিন ? পেট যেহেতু আছে খেতে তো হবে। তাই বেতনের নিশ্চয়তা চাই। আর কোন অবহেলা নয়। নয় কোন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ। শিক্ষকদের তো কোন জমিদারি নেই, ঠিকাদারি ব্যবসাও নেই, নেই আয়ের অন্য কোনো উৎস। যার উপর নির্ভর করে বিনাবেতনে শিক্ষকতা করে যাবেন। কর্তাব্যক্তিদের কথা শুনে মনে হয় শিক্ষকদের বেঁচে থাকার জন্যে খাওয়া-দাওয়ার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকদের জীবন আছে কিন্তু তারা জড় বস্তু যেন। সভ্য পৃথিবীর এমন কোন দেশ আছে বলে আমার জানা নেই, যেখানে শিক্ষকদেরকে দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করতে হয়। কিন্তু এইটুকু জানা আছে পৃথিবীর সকল উন্নত দেশেই শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমলাদের মোবাইল কেনার জন্য জনপ্রতি পঁচাত্তুর হাজার টাকা বরাদ্ধ হয় কিন্তু শিক্ষকদের বেতনের প্রশ্ন আসলেই কর্তৃপক্ষ টাকার সংকট বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন। যা অনেকটাই হাস্যকর। আসলে টাকার সংকট নয় সংকট মূলত নৈতিকতার। শিক্ষা ও শিক্ষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই হতদরিদ্র শিক্ষকদের দুঃখ কষ্ট আপন করে বুঝে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। তাঁর হস্তক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।



শিক্ষা সমাজ ও সভ্যতার বিবেক। আর এই বিবেক তৈরির কারিগর হলেন শিক্ষক। যাঁরা সর্বজন সমাদৃত এবং পূজনীয়। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচতে পারে না তেমনি শিক্ষক ছাড়াও শিক্ষা আলোকিত হতে পারে না। শিক্ষককে পশ্চাতে রেখে দেশের কোনো অগ্রগতিই সম্ভব নয়। আমাদের অনেক কর্তাব্যক্তিরাই বলেন শিক্ষকতা সম্মানের পেশা। আমরা তাদের সাথে শতভাগ একমত। তাই বলে বিনা বেতনে শিক্ষকতা! কয়েক হাজার শিক্ষক প্রায় ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে জ্ঞান বিতরণ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতা সম্মানের পেশা আপনারাও আসেন এই সম্মানিত পেশায় এবং বিনা বেতনে পাঠদান করুন। আর নয় অবহেলা, অযত্ন, অসম্মান। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। জাতিকে শক্ত মেরুদ-ের উপর দাঁড় করাতে হলে শিক্ষা এবং শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। কারিগর যদি মেধাবী এবং দক্ষ না হয় তাহলে তার উৎপাদনও আশানুরূপ হবে না। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্য মেধাবীদেরকে এই পেশায় আকৃষ্ট করতে না পারলে উন্নত দেশ ও জাতি গঠন কখনই সম্ভব নয়। জার্মনিতে একজন শিক্ষককে চ্যান্সেলর পদমর্যাদা দেওয়া হয়। শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল এখন সময়ের দাবি। যা কোন অজুহাতেই অগ্রাহ্য হতে পারে না। শিক্ষার অধিকার, শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদা এবং স্বতন্ত্র্য বেতন স্কেল প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে তা হবে সময়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। যেই শিক্ষকরা আজকে আন্দোলনে আছেন তারা কেউ আমাদের ভাই, কারো বোন, কারো পিতা, কারো মাতা আবার সবারই শিক্ষক। তাই আমরা আশা করি শিক্ষকদের যৌক্তিক এবং ন্যয় সঙ্গত দাবি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।



লেখক : শিক্ষক, হাইমচর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৭৩৫১
পুরোন সংখ্যা