চাঁদপুর, সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
সৌম্য সালেকের কবিতা : শিল্পের নতুন শব্দভাষ্য
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কবিতা কী? রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, 'কবিতা বলে না, কবিতা বাজে'। বাস্তবিক, কবিতা কোন নিছক কথামালা নয়। কবিতা হচ্ছে কবির বাদ্য। কবির বাদনশৈলীতে কবিতা মূর্ত হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে। যার কবিতার একটা নিজস্ব বাদনশৈলী নির্মিত হয়েছে তিনিই হয়ে উঠতে পেরেছেন শিল্পী। কবিতার শিল্পী। কবি সৌম্য সালেক এমনই একজন বাদন শিল্পী যার কবিতারা নিজস্ব বাদনভাষ্য নিয়ে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে অভ্যস্তের কাছে। তার কবিতার নিজস্ব বয়ান, শব্দের স্বকীয় সমাবেশ এবং ভাবনার উৎকর্ষে শিল্পের এক নতুন ঝর্ণাধারার সৃষ্টি হয়েছে। তারুণ্যদীপ্ত কবির কবিতায় অল্প বয়সী চপলতা নেই, যুগের উন্মাতাল হাওয়ার উদ্দামতা নেই, আছে কালকে ছাপিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যের দিকে পথ চলার অভিনিবেশ। কবি কাব্য রচনায় মনোনিবিষ্ট নন, কবি শিল্পের প্রণোদনায় প্রণোদিত এক শব্দ-ভাস্কর, যিনি নির্মাণ করেছেন বিমূর্ত শব্দের মূর্ত অবয়ব যার বিমূর্ত ভাষ্য পাঠকের চিন্তায় মূর্ত হয়ে ওঠে আপন বাদন শৈলীতে।



আধুনিকোত্তর ও অধুনান্তিক কবিতা নিয়ে কবিতার ময়দানে চলছে শিল্পের লড়াই। কবিরা ঢাল-তরোয়াল নিয়ে লড়াইয়ের এ ময়দানে নিজেকে জাহির করেন না, কবির কবিতা নির্মাণশৈলীই তার উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। কবি সৌম্য সালেকের কবিতায় অধুনাবাদী কাব্যের জীনগত বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই, যার একটি বড় প্রবণতা প্রচল-অপ্রচল শব্দ নিয়ে কবিতার আঙ্গিক নির্মাণের প্রয়াস। তার কবিতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য চারিত্র আমরা অবলোকন করি তার কাব্যভাষ্যের অসম্পূর্ণ চলন-চমকতায়। কবিতা পাঠে পাঠকের মনে হবে তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা বুঝি অসমাপিকা ক্রিয়ার মতোই অসম্পূর্ণ। কিন্তু কবিতার শেষ পর্যন্ত পৌঁছুতে পারলে সম্পন্ন ভাবের দেখা মেলে। অধুনাবাদী কবিতা যেমন কোন নির্দিষ্ট একটি ভাবে আবদ্ধ থাকে না তেমনি কবি সৌম্য সালেকের কাব্যশস্যেরও বিচিত্রমুখ, একাধিক গলিপথ। গন্তব্য শেষে কোন পথটি যে প্রধান হয়ে ওঠে তা নির্মাতারও অভিজ্ঞানে নেই। শিল্পের সার্থকতা এখানেই, তাকে আপন পথে চলতে দেয়া। পরিচিত শব্দ প্রয়োগের অপরিচিত সক্ষমতা কবির কবিতাকে সাধারণ্যের কাছে করে তোলে অসাধারণ। আর তাতে সৌম্য সালেকের কবিতা হয়ে ওঠে আকাশের জোছনাপ্লাবিত চাঁদের মতো, প্রতিদিন তারে দেখি,তবু সে অনেক দূরে। দৃষ্টি-নৈকট্যের চাঁদ চিরচেনা তবু সুদূরের বাসিন্দার মতোই। এটাই তার কবিতার শিল্পপ্রয়াস। যে পাহাড়, যে আদিবাসীদের প্রতিদিন মানুষ দেখে, সৌম্য সালেকের কবিতায় তারাই হয়ে ওঠে অচেনা। যেন নতুন এক জগতের খোঁজ দিয়ে যায় কবিতার পংক্তিগুলো। যে নদী, যে জল প্রতিনিয়ত জীবনের বারতা নিয়ে প্রবাহিত হয়, সৌম্য সালেকের কবিতায় তারাই নবরূপে রূপায়িত হয় চিরচেনা শব্দের অচেনা প্রয়োগে, নতুন বিন্যাসে। প্রেম ও প্রকৃতির কবি তার কবিতা-যাত্রায় কখনো কখনো আধ্যাত্মিকতার শরণ নিয়েছেন রুমির কাছে। কখনো হাত পেতেছেন ইতিহাস ও পুরাণের কাছে। চারপাশের সম্পর্কগুলোও তার কবিতায় নতুন আঙ্গিক পেয়েছে শব্দ-বাদনে। তার কবিতায় কবি দর্শনকে যেমন ধারণ করেছেন তেমনি কখনো কখনো সমকালীনতার সংবেদনে সাড়াও দিয়েছেন। ক্ষুধায় কাতর ফুলের মতো মেয়ে সোনাবরু যে ক্ষোভে আত্মাহুতি দিয়ে জীবনের ক্ষুধাকে পরাজিত করে, সে-ই কখনো হয়ে ওঠে সৌম্য সালেকের কবিতার আখ্যান। কখনো মা-বাবার সম্পর্ক কিংবা মায়ের কালো বর্ণের অযোগ্যতাই পাঠকের অশ্রু ঝরায় কবিতায় প্রাণ পেয়ে। কবি সৌম্য সালেকের কবিতার বিষয় বিচিত্র ও বিস্ময়কর। প্রাচ্য ও প্রতীচ্য তার কবিতায় যেন তাম্বুরার সুগন্ধে মাতিয়ে তোলে শিল্পের দহলিজে বসে। আরব্য কবি ইমরুল কায়েস যেমন এখানে জায়গা পায়, তেমনি জায়গা হয় দেশি কণ্ঠকন্যারও। দীর্ঘ কবিতার প্রতি তার অদ্যাবধি প্রণয়ের দেখা না মিললেও দু'একটি কবিতার কলেবর দীর্ঘ হতে চেয়েছিল। কবির অযত্নে তারা আর বেড়ে ওঠেনি।



কবি সৌম্য সালেকের আজ অব্দি যে শব্দ-ভাস্কর্য গড়ে উঠেছে তাতে উপসর্গের স্বনির্মিত প্রয়াসের ঘনঘটা লক্ষ্যণীয়। নতুন শব্দ তৈরির প্রবণতায় কবিকে কখনো কখনো অধিক বাঙ্ময় মনে হয়েছে। কবি বর্তমানকে নিয়ে যেমন সচল তেমনি কবিতায় স্মৃতিকাতরতারও প্রবাহ আছে। প্রণয় যেমন এসেছে কবিতার সরোবরে তেমনি এসেছে অনুতাপের মরুময়তা। কবির কবিতায় যৌনতার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ নয়। সুযোগ ও সময়মত তারা জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন কবিতার ছত্রে ছত্রে।



কবি সৌম্য সালেক একজন অধুনাবাদী কবি যার আজ পর্যন্ত তিনটি কাব্যগ্রন্থের জন্ম হয়েছে। তিনটি কাব্যগ্রন্থই কবিকে কিছুটা নতুন করে চিনিয়েছে প্রতিবার। তার তিনটি কাব্যগ্রন্থের নামগুলোও খুব সুন্দর। প্রথমটি 'আত্মখুনের স্কেচ', দ্বিতীয়টি 'ঊষা ও গামিনী' এবং তৃতীয়টি 'পাতাঝরার অর্কেস্ট্রা'। 'আত্মখুনের স্কেচ' কাব্যগ্রন্থে আখ্যানধর্মী কবিতার প্রবণতা অধিক। 'ঊষা ও গামিনী' যেন অনুতাপঋদ্ধ কাব্যগ্রন্থনা আর সর্বানুজ কাব্যগ্রন্থ 'পাতাঝরার অর্কেস্ট্রা'তে বেজে ওঠে নিবেদনধর্মী শব্দশিল্পের নিপুণতা। তার কবিতার সাথে, কবিতাশৈলীর সাথে পরিচিত হতে হতে এটুকুনই মনে হয়েছে, কবির আছে এক নিজস্ব অভিধান। কবির সেই অভিধানে তার শব্দেরা যেভাবে খেলা করে, কবি তার কবিতাতে সেই কাঠামোতেই শব্দগুলোকে খেলতে ডাকেন। ফলে পাঠক যতই সৌম্য সালেকের কবিতার নিজস্ব পাঠ তৈরি করুক না কেন, তবু তা অস্পষ্ট থেকে যায় শব্দের বিচিত্রমুখিতার কারণে। এতেই কবির সার্থকতা। কবি এখানেই পাঠকের কাছে বিস্ময়ের। আমরা কবি সৌম্য সালেকের তিনটি কাব্যগ্রন্থেরই পাঠোত্তর পর্যালোচনা ও ব্যবচ্ছেদে প্রয়াসী।



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৮৩-সূরা মুতাফ্ফিফীন


৩৬ আয়াত, ১ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১। দুর্ভোগ তাহাদের জন্য যাহারা মাপে কম দেয়,


২। যাহারা লোকের নিকট হইতে মাপিয়া লইবার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে,


৩। এবং যখন তাহাদের জন্য মাপিয়া অথবা ওজন করিয়া দেয়, তখন কম দেয়।


 


অনেকের নিকট সুযোগ সবার শেষে আসে।


-শিলার।


 


 


 


 


মানবতার সেবায় যিনি নিজের জীবন নিঃশেষে বিলিয়ে দিতে পারেন, তিনিই মহামানব।


 


ফটো গ্যালারি
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৫,১২,৪৯৬ ৮,২৪,৩৫,৪৮২
সুস্থ ৪,৫৬,০৭০ ৫,৮৪,৪৩,৫১৫
মৃত্যু ৭,৫৩১ ১৭,৯৯,২৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
২১২৮৪০
পুরোন সংখ্যা