চাঁদপুর। সোমবার ২৮ মে ২০১৮। ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ১১ রমজান ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৮-সূরা ছোয়াদ

৮৮ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৬। তারা বলে, হে আমাদের পরওয়ারদেগার, আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসাব দিবসের আগেই দিয়ে দাও।

১৭। তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।

১৮। আমি পর্বতমালাকে তার অনুগামী করে দিয়েছিলাম, তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করত;   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঈশ্বরের পরবর্তী স্থানই হল পিতামাতার   

 -উইলিয়াম পেন।


নারী পুরুষের যমজ অর্ধাঙ্গিনী 


ফটো গ্যালারি
চাঁদের লক্ষ্যে
মূল : সীমা খালেদ হামাদ শাকুর, অনুবাদ : সালাহ উদ্দিন
২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আগ্রাসনবাদী ইহুদীরা ১৯৪৮ সাল থেকে আমাদের দেশের লোকদেরকে নিজস্ব ভূখ- থেকে উচ্ছেদ করতে শুরু করে। ওই বছরেই তারা আমাকে আমার বাড়ি ত্যাগ করতে বাধ্য করে। আমি ঘরের মেঝের মধ্যে জ্বালানো উনানের পাশে বসে আমার বাচ্চাসহ গা গরমের জন্যে চা পান করছিলাম। এমন সময় কে যেন ঘরের দরজায় প্রচ-ভাবে আঘাত করলো। আমার মনে হলো সবকিছু ভেঙ্গে ফেলার বাসনা নিয়ে কেউ এমনটা করেছে। আমার স্ত্রী এবং বাচ্চা বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে রইলো। আমি দরজা খুলে দিলাম। আমার সামনেই দেখতে পেলাম একদল ইসরাইলী সৈন্য। আমি তাদেরকে বললাম, 'আমার কি কোনো কিছু অপরিশোধিত রয়ে গেছে যার জন্য তোমরা এসেছ?' একজন সৈন্য আমাকে আরবি ভাষায় বাড়ি ত্যাগ করার নির্দেশ দিলো। আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। বাচ্চাকে আমি কী বলবো এবং আমরা সম্ভাব্য কোথায় যাবো!



তবুও আমার স্ত্রীকে সব খুলে বললাম। সে আমার কথা শুনে কাঁদতে লাগলো। ওই মুহূর্তে তার কাঁধে হাত রেখে তাকে শান্ত করার জন্যে বললাম, 'স্রষ্টার ওপর ভরসা রাখো এবং ধৈর্য্য ধর। একদিন পর আমরা আবার এখানে ফিরে আসবো।'



আমাদেরকে মালামাল গোছানোর জন্য বেশি সময় দেয়া হয়নি। যার জন্যে আমরা সামান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাথে নিতে পেরেছি। আমার ছেলে জিহাদের বয়স তখন মাত্র সাত বছর। সে আমাকে বলল, 'বাবা আমি কি আমার সব কাপড়-চোপড় সাথে করে নিয়ে যাবো?'



'না বাবা', আমি বললাম। 'আমরা স্রষ্টার ইচ্ছায় সম্ভবত কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরে চলে আসবো।' আমরা যখন বাড়ি ত্যাগ করি তখন ছিল খুব অন্ধকার রাত্রি। পরের দিন সকালে সিরিয়ার সীমানা অতিক্রম করার আগ পর্যন্ত ওই রাত্রিতে আমাদের থাকার এবং ঘুমানোর জন্যে কোনো জায়গা ছিলো না। তখন শীতকাল চলছিলো এবং রাস্তা ছিলো বরফে ঢাকা। আমার ছেলে প্রচ- শীতে অসুস্থ্য বোধ করলেও নির্বাসিত জীবনচলার পথে তাকে সাহস দিয়ে রাখতে হয়েছিল। অবশেষে ইয়ারমক ক্যাম্পে আমাদের ঠাঁই হলো। আমরা সেখানে যেই বাড়িতে থাকতাম ওই বাড়ির ছাদ ও দেওয়াল ছিল খুবই জীর্ণ।



পরের বছর নভেম্বরের তিন তারিখে আমার মন দৃঢ়ভাবে প্রত্যয়ী হলো। কারণ ওই দিনটি ছিল এমনই একটা দিন যেদিন আমাকে আমার প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে আসতে হয়েছিল। এদিনটি আমি কখনো ভুলতে পারবো না।



সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। আমার ছেলে জিহাদ বড় হয়েছে। তার বয়স এখন আঠারো। একদিন সে আমাকে এসে বললো, 'বাবা, আমার মনে আছে যেদিন আমরা আমাদের জন্মভূমি ছেড়ে চলে আসি তখন তুমি আমাকে বলেছিলে, আমরা কয়েক দিনের জন্য চলে যাচ্ছি। এখন অনেক বছর হয়ে গেল কিন্তু আমরা ফিরে যাচ্ছি না। আমাদের দেশ দেখতে কেমন আমি তা প্রায় ভুলে গেছি। আমাদের শহর কি আমাদের ভুলে গেছে? সে কথা বলা থামায় না। সে আরো বলে, তুমি কি মনে কর আমরা আর কখনো আমাদের প্রিয়ভূমি দেখতে পাবো?



স্মৃতিতে মস্নান হয়ে যাওয়া আমাদের প্রাণের শহরের কথা মনে করে আমি অস্ফূট স্বরে বললাম, 'আমি নিশ্চিত আমাদের মাতৃভূমি এখনও আমাদেরকে স্মরণ করছে। একজন মা কখনো তার সন্তানকে ভুলে যায় না। যখনই তুমি তার কাছে যাও না কেন সে তোমাকে গ্রহণ করবে। আমি এখনও মনে করি স্রষ্টা মহানুভব। তুমি তাঁর প্রিয় পাত্র। নিশ্চিতভাবে মনে রাখবে যে, আমাদের পবিত্র গ্রন্থে স্রষ্টা আমাদেরকে ধৈর্য্যধারণ করতে বলেছেন। আমরা যার প্রত্যাশায় থেকে অধৈর্য্য হয়ে যাই সে প্রত্যাশিত ঘটনার চেয়েও আরো ভালো কিছু দ্রুত ঘটে যেতে পারে।'



আমি জিহাদকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্যে বললাম, 'যখনি দেশের জন্যে তোমার মন অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠবে তখনই তুমি চাঁদের দিকে তাকাবে। কারণ তার মুখ মুক্তির আলোয় পরিপূর্ণ। একদিন ওই চাঁদই তোমাকে তোমার দেশে নিয়ে যাওয়ার আশা জাগিয়ে রাখবে।'



ওইদিনের পর থেকে আমি প্রায়শ' লক্ষ্য করতাম, জিহাদ অত্যন্ত উদ্বিগ্নতার সাথে চাঁদের দৃশ্য অবলোকন করার অপেক্ষায় থাকতো। ক্ষীণ আশায় তার চোখ ভালোবাসার উজ্জ্বল আলোয় জ্বলজ্বল করে উঠতো। সময়ের সাথে আমার বয়স বাড়ছে এবং আমি বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। দাদা হওয়ার ব্যাকুল মনবাসনায় আমি অধৈর্য্য হয়ে পড়েছি। তাই জিহাদকে বিয়ে করানোর জন্যে বিরক্ত করতে শুরু করলাম। আমি তাকে প্রায়ই বলতাম, 'আর কতদিন পর তুমি পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে শুরু করবে?' সে সবসময় একই উত্তর দিত। বলতো, 'আমি যখন আমার উপযুক্ত ফিলিস্তিনি মেয়ে পাব তখন বিয়ে করবো।'



আমি স্রষ্টাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। কারণ অবশেষে সে তার পছন্দ মতো একজন মেয়ে খুঁজে পেল। মেয়েটি শরণার্থী ছিলো। তার নাম সামিরা। তার চোখ এবং চুল কালো রংয়ের। মেয়েটির মধ্যে আরব নারীদের সম্পূর্ণ গুণাগুণ ছিলো। বিয়ের একবছর পর তাদের ঘরে পুত্র সন্তান জন্ম নিল। জিহাদ তার নাম রাখলো সাবির। জিহাদ পরবর্তীতে আমাকে বলেছিল, 'বাবা আমি আশা করেছিলাম আমার ছেলে আমাদের নিজ ভূখ-ে জন্ম নিবে। সে তার শৈশব আমার মতই আনন্দ উল্লাসে সেখানে কাটাবে। আমার মনে আছে তুমি বলেছিলে, আমরা অতিদ্রুত সেখানে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমরা এখন চাঁদে অবতরণের খুব কাছাকাছি। সেখানে আমরা আমাদের ভূ-খ-ের নাম অঙ্কিত করবো। তারপর চাঁদ নিজেই আমাদেরকে সেখানে নিয়ে যাবে।



আমি তার কাঁধে হাত রেখে বললাম, 'আমাদের ভূ-খ- দেখতে চাঁদের মতো।' আরো বললাম, 'জোরপূর্বক দখলের কারণে সেই ভূমিই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে। স্রষ্টার সহায়তায় আমরা সূর্য হবো। যার তেজ্যোদীপ্ত আলোর বিচ্ছুরণে অন্ধকার দূর হয়ে যাবে। প্রিয় পুত্র, এই জীবনে তোমাকে তোমার মতো করে কাজ করা শিখতে হবে। চাঁদের দিকেই লক্ষ্য করলে দেখবে, চাঁদ যেন কতদূর। সমস্ত হতাশা ত্যাগ করে তোমার সমস্ত মেধা ও শক্তিকে উৎসর্গ করতে হবে। কখনো আশা ত্যাগ করবে না। তোমাকে তোমার স্বপ্ন অন্বেষণ করতে হবে। এমনকি তা যদি শূন্যেও ভেসে থাকে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৩৮৮৩
পুরোন সংখ্যা