চাঁদপুর, শনিবার ৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৩-সূরা মুয্যাম্মিল


২০ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১০। লোকে যাহা বলে, তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সৌজন্য সহকারে উহাদিগকে পরিহার করিয়া চল।


১১। ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং বিলাস সামগ্রীর অধিকারী সত্য অস্বীকারকারীদিগকে; আর কিছু কালের জন্য উহাদিগকে অবকাশ দাও,


 


 


শিল্পকে ব্যবসার আত্মা এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি বলা হয়। -ডিকেন্স।


 


 


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি।


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
তোমাকে পাবো ভাবিনি
শরীফ উল্লাহ
০৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রিয়া তুমি কেনো ব্যাপারটা বুঝতে চাও না। আমি গরিব। গরিবরা কখনো ভালোবাসার স্বপ্ন দেখে না। আর এখানে আমি পড়তে এসেছি, কাউকে ভালোবাসতে নয়। আমার বাবা খেতে-খামারে কষ্ট করে আমার পড়ার খরচ জোগাড় করেন। সুতরাং তুমি বুঝতেই পারছো আমার দিন কেমন করে চলে। তুমি যাও। মাথা থেকে প্রেমের ভূত ঝেড়ে লেখাপড়ায় মন দাও তাতে কাজে আসবে।



 



-এ তোমার শেষ কথা। তাহলে শোনো, আমি যদি তোমাকে না পাই তাহলে লঙ্কাকা- করে ছাড়বো জেনে রেখো।



 



রিয়া সজিবকে পছন্দ করে। শুধু পছন্দই নয়, ভালোবাসে। সজিব বাংলা আর রিয়া ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী। যদিও দুজন আলাদা বিভাগের তারপরও এক দেখাতেই রিয়া সজিবকে ভালোবেসে ফেলে।



 



একদিন সজিব লাইব্রেরিতে বসে নোটস্ করছে। এমন সময় রিয়া তার পাশে ঘুরঘুর শুরু করলো। উদ্দেশ্য সজিবের মনোযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। যেনো সজিব রিয়ার দিকে তাকায়। কয়েকবার তার সামনে হাঁটার পর হঠাৎ রিয়ার পা সজিবের পায়ে লেগে যায়। সজিব বিরক্ত হয়ে বললো, তোমার আর কোনো কাজ নেই? কেনো এখানে এসে ঝামেলা করছো। রিয়া বললো, ঝামেলা কোথায় করলাম। আপনি যেমন নোটস্ করতে এসেছেন আমিও তাই করতে এসেছি।



 



-তাহলে এখানে এমন করো কেনো, সামনের বেঞ্চ খালি আছে সেখানে বসতে পারো না।



-বারে আমি এখানে বসতে চাই বলেই তো আপনার কাছে আসছি।



-কাছে নয়, বলো আপনার পাশে।



-ওই একই হলো।



-না, এক হলো না। আমি বাংলা নিয়ে পড়ছি আর তুমি? 'আমি ইতিহাস' রিয়া বললো। হ্যাঁ ইতিহাস নিয়ে পড়ো। দুজন দুই জগতের।



-দুই জগৎ যদি এক করে নিই।



-মানে?



-মানে কিছু না। ইতিহাস কিন্তু খারাপ বিষয় না_প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে রিয়া অন্য কথা বলতে শুরু করলো।



সজিব রিয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে বিরক্তির নজরে বললো, তোমার কি খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই শুধু বক বক কর কেনো। রিয়া বললো, আচ্ছা আপনি কি এভাবে কথা বলেন নাকি। আপনার মেজাজ সবসময় এমন থাকে।



-কি বলতে চাও? রাতে কি আপনার ঘুম কম হয়, না সারারাত শুধু পড়েন।



-শুনুন, আপনাকে একটা কথা বলি_রাতে যদি ঠিকমতো ঘুম না হয় তাহলে সারাদিন মেজাজ থাকে কড়া যে রকম এখন করেন। মানে খিটখিটে মেজাজ। এটা একটা বাজে অভ্যাস। এ অভ্যাস যার আছে তার ভেতরে কখনো ভালোবাসা আসে না।



-মানে! সজিব আরো বিরক্তিসহকারে রিয়ার দিকে তাকালো। রিয়া এবার বললো, আপনি এমন করছেন কেনো। পাশে একটা সুন্দরী মেয়ে বসে আছে। তার সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানেন না। একটু সুন্দর সুন্দর কথা বলবে তা-না শুধু কড়া কথা আর মেজাজ গরম এ বলে রিয়া মাথা নিচু করে পড়া শুরু করলো। সজিব বললো, আমাকে তোমার উপদেশ দিতে হবে না। এখান থেকে যাও_এ বলে সজিব রিয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আবার লেখা আরম্ভ করলো।



রিয়ার বাবা প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় বাজারে কয়েকটা ব্যবসার পাশাপাশি দেন-দরবার করেন এলাকায়। ভাবছেন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন। এজন্যে এলাকায় নিজের দল তৈরি করেছেন। একমাত্র মেয়ে রিয়া। পড়াশোনায় ভালো। সব বিষয়ে প্রথম। পড়ালেখার পাশাপাশি সুন্দরীও বটে। এ নিয়ে রিয়ার কোনো মাথা ব্যথা নেই। একমাত্র মেয়ে বলে বাবা-মার পক্ষ থেকে আদর-যত্ন কম পায় না। যখন যা আবদার করে তখন তাই পূরণ করে। রিয়াও সে ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের অবাধ্য কোনো কাজ করেনি।



সজিবকে দেখে তার ভালো লাগে। রিয়ার কাছে মনে হলো সজিব ভদ্র ছেলে। আসলে তাই, সজিব যে ভদ্র তা ডাকঢোল পিটিয়ে বলতে হবে না। কারণ সজিব কারও সাথে মিশে না। যখনই সময় পায় বই খুলে পড়তে থাকে। এটা আবার রিয়ার অপছন্দ। একটা ছেলে কীভাবে পারে সারাক্ষণ বইয়ের ভেতর মুখ ডুবিয়ে রাখতে। রিয়ার কথা হলো এতো পড়া কেনো অল্পতেও ভালো রেজাল্ট করা যায়। এটা মনে হয় সে জানে না বোকা ছেলে।



 



একটা সময় এসে রিয়া সরাসরি সজিবের মুখোমুখি হলো। রিয়া বললো, আচ্ছা আপনি যে এতো পড়েন আপনার বিরক্তি লাগে না?



-কি বলতে চাও তুমি?



-আমাকে দেখুন, আমার সব বিষয়ে প্রথম। আমিতো কখনো আপনার মতো পড়ি না। সজিব রিয়ার কথা শুনে কি বলবে ভেবে উঠতে পারছে না। মুখে কথা বাজিয়ে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে।



-এতো মিন মিন করে কি বলেন হ্যাঁ। এমন সময় রিয়া মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বললো, এজন্যেই আপনার মাথা হ্যাং থাকে। সারাক্ষণ কড়া মেজাজ। পড়েন তো আবার বাংলা।



রিয়ার কথা শুনে সজিব হেসে বললো, কি বলো। রিয়া সজিবের হাসি দেখে মনে মনে বললো, যাক তাহলে মরুপাথরে ফুল ফোটাতে পারলাম এতোদিনে। আমি যে মেয়েকে সহ্য করতে পারতাম না, যাকে দেখলে আমার মাথা ব্যথা করতে শুরু করে সে মেয়ের ভেতরে এতো সুন্দর কথা। ছিঃ কি করেছি আমি, ভাবলো সজিব। রিয়াও মনে মনে বলে, যে ছেলেকে আমি ভাবতাম অহঙ্কারী, তার হাসির আড়ালে যে প্রেম আছে তা কখনো বুঝিনি। হঠাৎ অন্যমনষ্ক থেকে ফিরে রিয়া বলে এ আমি কি ভাবছি। রিয়াও চুপ, সজিবও চুপ। তারা কিছুক্ষণ এভাবে চুপ থেকে রিয়াই আগে বললো, কি চুপ কেনো? হয় কথা বলেন, নয়তো বকা দেন। সজিব বললো, কি বলবো। কিছুই বলার নেই।



-তাহলে আমি বলি। সজিব মাথা নেড়ে জবাব দিলো। রিয়া বললো, আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি? সজিব বললো, অবশ্যই। কেনো নয়। এই বলে সজিব রিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো।



রিয়ার সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে সজিব আর রিয়া সবসময় দুজন একসাথে চলাফেরা করে। রিয়া সজিবকে বলে তুমি যে বাংলা নিয়ে পড়ছো, তোমার খারাপ লাগে না।



-খারাপ লাগবে কেনো? বাংলা কি খারাপ বিষয়?



-না খারাপ নয়, তবে আমার কাছে এ বিষয়টা অসহ্য লাগে। তুমি অন্য বিষয় নিয়েও তো পড়তে পারতে। সজিব বললো, হ্যাঁ পারতাম। তাহলে পড়ছো না কেনো?



-কারণ এই বিষয় নিয়ে পড়ছি আমার বাবার ইচ্ছায়। তিনি চান আমি যেনো একজন আদর্শবান বাঙালি হই।



-কেনো এখন তুমি বাঙালি নও?



-রিয়া শুধু বাংলা ভাষায় কথা বললে বাঙালি হতে পারে না, এতে চাই শুদ্ধ বাংলা চর্চা। আমরা অনেকেই তো বাংলা ভাষায় কথা বলি। কখনো কি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলি? আমরা শুধু ফেব্রুয়ারি মাস আসলে বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটাই। কখনো তো দেখি না বাংলাকে অন্তর থেকে ভালোবাসতে। আমরা যদি ভাষাকে আদর-যত্ন না দিয়ে সম্মান না করি তাহলে কেনো আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণ দিলেন। আমরা চাই পৃথিবীর দরবারে উজ্জ্বল পরিভাষায় বাংলাকে তুলে ধরতে। রিয়া আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভাষা আন্দোলনে করেছেন। তিনি বলেন, মায়ের ভাষা বাংলা। এ বাংলার জন্যে কত মানুষ জীবন দিয়েছেন। সেই বাংলা ভাষা পরিশুদ্ধ না হলে ভাষার অবমাননা হয়। অসুন্দর ভাষার চেয়ে শুদ্ধ ভাষার বিকাশ গঠন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আচ্ছা আমি না হয় বাংলা নিয়ে পড়ছি, তুমি ভালো ছাত্রী হয়ে ইতিহাস নিয়ে পড়তে এলে কেনো?



-আমার কোনো উদ্দ্যেশ নেই। আমি আমার নিজ থেকে ইতিহাস বিষয় নিয়ে পড়ছি।



রিয়া আর সজিবের বন্ধুত্বের সম্পর্ক যখন অনেক দূর এগিয়ে গেলো তখন দুজনের ভেতরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলো। যদিও সজিব রিয়াকে পছন্দ করে তা অদৃশ্য বাতাসের মতো। সে মুখ ফুটে বলতে পারেনি। অনেকবার বলার চেষ্টাও করেছে তবে বলার সাহস পায়নি। রিয়া হলো মেধাবী ছাত্রী এবং ভালো মেয়ে তার উপর সুন্দরী। যে কেউ তাকে ভালোবাসতে সিরিয়াল ধরে যাবে। তার ভেতরে কোনো অহঙ্কার নেই। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। বিশাল অবস্থা তাদের। সবকিছু বিবেচনা করে সজিব রিয়াকে তার মনের কথা বলতে সাহস পারছে না। আর রিয়ার ফ্যামিলি কখনো এ সর্ম্পক মেনে নিবে না।



 



তবে রিয়া একদিন সজিবকে ডেকে বললো, সজিব আমি তোমাকে একটা কথা বলবো, তুমি মনে কিছু নেবে না তো?



-মনে নেয়ার কি আছে, তুমি বলো কি বলবে? রিয়া এক বাক্যে বলে ফেললো, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে বিয়ে করতে চাই। সজিব বললো, তোমার কি মাথা ঠিক আছে? এ তুমি কি বলছো।



-আমি যা বলছি তা তোমার সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, তুমি কোনো স্বপ্ন দেখছো না। আসলে যেদিন তোমাকে দেখেছি সেদিন থেকে তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। তোমার কাছাকাছি হওয়ার সাহস পাইনি। তাই প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক করে তোমার কাছে এসেছি। এখন যা বলছি ভেবেচিন্তে বলছি। এখন আমরা সাবলীল, ইচ্ছে করলে আমরা অনেক কিছু করতে পারি।



-না পারি না। ইচ্ছা করলেই তুমি অনেক কিছু করতে পারলেও আমি পারি না। কারণ তোমার সাথে আমার যায় না।



-কেনো?



-কারণ তুমি বড়লোক আর আমি একজন কৃষকের ছেলে। রিয়া বললো, তোমাদের একটা সমস্যা কি জানো নাটক-সিনামার মতো এই একটা ডায়ালগ তোমাদের মুখে লেগে থাকে। তোমরা বড়লোক। এই বলে বলে ভালোবাসা ভালোলাগা শব্দগুলো জীবন থেকে মুছে দিতে চাও। কেনো তুমি গরিব হয়েছো তো কি হয়েছে। তুমি কি কাউকে ভালোবাসতে পারো না। তাছাড়া আমরা গ্র্যাজুয়েশন শেষ করবো কিছু দিন পর। দুনিয়ার ভালো-মন্দ আমরা এখন বুঝি।



রিয়া তুমি কেনো ব্যাপারটা বুঝতে চাও না। আমি গরিব। গরিবরা কখনো ভালোবাসার স্বপ্ন দেখতে পারে না। আর এখানে আমি পড়তে এসেছি, কাউকে ভালোবাসতে নয়। আমার বাবা কষ্ট করে আমার পড়ার খরচ জোগাড় করে। সুতরাং তুমি বুঝতেই পারছো আমার দিন কেমন করে চলে। তুমি যাও। মাথা থেকে প্রেমের ভূত ঝেড়ে লেখাপড়ায় মন দাও তাতে কাজে আসবে।



-এ তোমার শেষ কথা। তাহলে শোনো, আমি যদি তোমাকে না পাই তাহলে লঙ্কাকা- করে ছাড়বো। তুমি তাহলে আমাকে জানো না। আমি মুখে যা বলি, তা করে ছাড়ি।



আজ রিয়ার বাসর। তবে অন্য কারো সাথে নয়। সজিবের সাথে। রিয়ার একরোখা জিদের কারণে সজিবকে আপন করে পেয়েছে। রিয়ার বাবা-মায়ের পছন্দে রিয়ার সাথে সজিবের বিয়ে হয়েছে। যেহেতু তাদের কোনো ছেলে নেই তাই সজিবকে তারা ছেলে হিসেবে মেনে নিয়েছে।



বাসরঘরে রিয়া সজিবকে বললো, এ পড়াপোকা ভদ্রলোক বলুন তো কার বিজয় হয়েছে? বললে না বিয়ে করবে না এখন...। রিয়ার হাসিমাখা মুখ ও আনন্দ দেখে সজিব রিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে, তোমাকে এভাবে পাবো কখনো ভাবিনি।



 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫৯৬৭৫
পুরোন সংখ্যা