চাঁদপুর, শনিবার ২১ মার্চ ২০২০, ৭ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৬-সূরা তাহ্রীম


১২ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


১২। আরও দৃষ্টান্ত দিতেছেন 'ইমরান-তনয়া মার্ইয়ামের-যে তাহার সতীত্ব রক্ষা করিয়াছিল, ফলে আমি তাহার মধ্যে রূহ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং সে তাহার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁহার কিতাব-সমূহ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল, সে ছিল অনুগতদের অন্যতম।


 


বিদ্যালয়ের শিক্ষক হইতেছেন একজন মিস্ত্রী, যিনি গঠন করেন মানবাত্মা।


-আল্লামা ইকবাল।


 


 


কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে উভয়লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


 


ফটো গ্যালারি
কোনোদিন জানলে না
মেহেরুন নেছা রুমা
২১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এ চিঠি যখন তোমাকে লিখতে বসেছি তখন আমাদের মন এবং জীবনের দূরত্ব সীমাহীন। অথচ আজও আমি মনের আঙিনায় এক ফোঁটা নিঃশ্বাস নিতে গেলেই তুমি ঢুকে পড় নিঃশব্দে। তোমার এই মনদখল চিরকাল আমাকে পোড়ায়। কোনোদিন জানলে না তুমি সেই বেদনার গভীরতা কতখানি বুকের গহিনে।



 



কখনও ভাবিনি এতদিন পর তোমাকে লিখতে বসবো। তবু কীসের এক প্রচ্ছন্ন মায়ায় নিজেকে আজ নিংড়ে দিতে বড় ইচ্ছে করছে। কতদিন ভেবেছিলাম আমার এলোমেলো ভাবনাগুলো একদিন গুছিয়ে তোমাকে লিখবো। মনে মনে সাজিয়েও নিয়েছিলাম সবকিছু। সেই যে বাংলা একাডেমির পুকুরপাড়ে তুমি-আমি কফির পেয়ালায় ঠোঁট ভেজাতে ভেজাতে রাজহাঁস দম্পতির সংসার দেখছিলাম, তখন আচমকা তুমি তোমার বিয়ের কথাটি বললে। মা-বাবা তোমার জন্য মেয়ে দেখেছেন, সামনের সপ্তাহে বিয়ে। শুনে এতটাই চমকে গিয়েছিলাম যে, গরম কফি ছলকে পড়েছিল আমার হাতে। এরপর আর ওভাবে মুখোমুখি দাঁড়ানো হয়নি কোনোদিন। আজ দীর্ঘশ্বাসের বাষ্পে ঘনিয়ে আসা আমার ছলছল অাঁখি মুখের হাসিতে লুকাই। আর মনের গভীরে তুমি সেই চির নতুন অনুভব আমার।



 



মনে আছে তোমার, সেদিন তোমাকে আমি দুটি কবিতার বই দিয়েছিলাম? একটা বইয়ের মাঝে তোমার জন্য চিঠি লিখে রেখেছিলাম, যা বলার জন্য কতবার কতভাবে প্রস্তুতি নিয়েও বলা হয়ে ওঠেনি।



সেদিন আমার পরনে ছিলো লাল শাড়ি আর কপালে ছোট্ট লাল টিপ। এরপরে আর কখনও কপালে টিপ পরিনি। লাল শাড়িকেও আর ভালো লাগেনি কখনও। মনে হচ্ছিলো আমার জীবনের সব রং সেদিন ধুয়ে-মুছে গিয়েছে। নিজের ভেতরটা কেবল ধূসর এক ধু-ধু মরুভূমির মতো মনে লাগলো। সব রং শুষে নিয়ে অস্তমিত সূর্যের মতো তুমি তোমার গন্তব্যে রওনা করেছিলে আমাকে জনমের মতো একা-নিঃসঙ্গ করে দিয়ে।



 



অনেকদিন পর ফেসবুকে তোমাকে আবিস্কার করি। দেখবো না বলেও তোমাকে দেখে দেখে আমার জ্বলতে থাকা ক্ষতকে আরও তা দিয়ে বাড়িয়ে তুলি। সেদিন দেখলাম ছবিতে তোমার পাশে খুব মিষ্টি একটা মেয়ে। জায়গাটা ছিলো শিল্পকলা একাডেমির মাঠ, কখনও কি ভুলতে পারি সেসব স্মৃতি? সেই শিল্পকলার সিঁড়ি, সেই মাঠের সবুজ ঘাসে বসে আমড়া ভর্তা, কফি আমাকে প্রায়ই নির্ঘুম করে রাখে। মনে আছে, একদিন রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' মঞ্চনাটক দেখতে গিয়েছিলাম? আমি পত্রিকায় দেখে তোমাকে খবরটি দিয়েছিলাম। নাটক দেখতে গিয়ে দেখি শেষের কবিতা সেদিন নেই। অন্য একটি নাটক দেখে আমরা ফিরে এলাম। আজ এতকাল পরেও আমার মনের আঙিনাজুড়ে তোমার বিচরণ এবং বেড়ে ওঠা। আমার বেহায়া মন বড় যত্নে লালন করে সেই তোমাকে...ভালো থেকো তুমি।



 



ইতি



পুরোনো চেনামুখ।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৮১১২
পুরোন সংখ্যা