চাঁদপুর, শনবিার ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদউিল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬২-সূরা জুমু 'আ


১১ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৫। যাহাদিগকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পন করা হইয়াছিল, কিন্তু তাহারা উহা বহন করে নাই, তাহাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ। কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যাহারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


 


 


মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতিটাই হল বিবেক। -সুইডেন বোর্গ।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


ফটো গ্যালারি
সামাজিক ব্যবধান
দীপশিখা
২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রাকিব আর সোহেল সমবয়সী। আর পাঁচটা বাচ্চা ছেলের মতোই তাদের ভালো লাগা ও মন্দ লাগা ছিলো। দুজনের স্বভাবের মধ্যে মিল থাকলেও দুজনের মধ্যে ব্যবধানও ছিলো বিস্তর। রাকিব হলো ধনী বাড়ির ছেলে, আর সোহেল গরিব ঘরের। সোহেলের মা রাকিবদের বাড়িতে কাজ করে। সোহেলের মা কোনোমতে তাদের মা-ছেলের সংসার চালায়। দুজনের খাওয়ার খরচ, জামা-কাপড়, সোহেলের পড়াশোনা চালাতে খুব কষ্ট করতে হয় তার মাকে। সোহেলের যখন একবছর বয়স তখন তার বাবা তাকে আর তার মাকে ছেড়ে চলে যায়। সোহেলের বাবা বেঁচে আছেন ঠিকই, কিন্তু তাদেরকে ছাড়া। সোহেলই এখন তার মায়ের একমাত্র অবলম্বন।



 



আজ রাকিবের জন্মদিন। বিশাল আয়োজন। কত রং-বেরংয়ের বেলুন আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে রাকিবদের বাড়ি। তার জন্মদিন উপলক্ষে কত আত্মীয়-স্বজন আসবে তাদের বাড়িতে। খাওয়া-দাওয়া সে এক এলাহি কা-। রাকিব আজ মহাখুশি। তাকে তার মা আজ খুব পরিপাটি ও সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। নীল রংয়ের একটা জামা পরেছে সে। আজ তার জন্মদিন বলে কথা!



 



সোহেলের মাও আজ অনেক খুশি। তবে তার খুশির কারণটা ছিলো ভিন্ন। রাকিব আর তার বাবা-মা খুশি কারণ, আজ রাকিবের জন্মদিন। আর অন্যদিকে সোহেলের মা খুশি কারণ এই জন্মদিন উপলক্ষে তারাও ভালো ভালো কিছু খাবার খেতে পারবে। এমন খাবারতো আর তাদের ভাগ্যে সব দিন জুটে না! রাকিবের নীল জামা দেখে সোহেলের খুব ইচ্ছে হলো তার মতো সেও নীল রংয়ের একটা জামা পরবে। সোহেল তার মায়ের কাছে গিয়ে বললো, 'মা, মা আমাকে রাকিব ভাইয়ার মতো একটা নীল জামা কিনে দাও না। আমিও এমন একটা জামা পরে ঘুরতে যাবে।' সোহেলের মা তাকে বললো, 'বাবারে, আমগোতো আর ওগো মতো এতো টেকা-পয়সা নাই, আমি কেমনে তোরে ওমন জামা আইনা দেই বল্ বাবা?' সোহেলের খুব মন খারাপ হলো। মায়ের সাথে কিছুটা অভিমান করেই সে চলে গেলো। কিছুটা কান্নাও করেছিলো।



 



একদিন সকালবেলা সোহেল দেখলো, রাকিব ড্রইং রুমে বসে তার দামী দামী সুন্দর খেলনা দিয়ে খেলছে। সোহেল শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছে। তারও তো ইচ্ছে করে এমন সুন্দর খেলনা দিয়ে খেলতে! কিন্তু তার মায়ের এতো সামর্থ্য কোথায়, যে তাকে এতো দামী খেলনা কিনে দেবে! সোহেল বয়সে ছোট হলেও সে সবই বুঝতে শিখে গেছে। রাকিবদের মতো বায়না করা তার সাজে না! তার যেটুকু আছে, তাই নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ওইদিন রাকিবের জন্মদিনে সোহেল তার মায়ের কাছে নীল জামা চেয়েছিলো। তার মায়ের সেই উত্তরে সে সবটা বুঝে গেছে। তাই ওইদিনের পর থেকে সে আর তার মায়ের কাছে কোনো কিছুর জন্যে কখনো বায়না করেনি।



 



রাকিব বড়লোকের ছেলে, তাই সে বড় স্কুলে মাসে মাসে অনেক টাকা বেতন দিয়ে পড়াশোনা করে। সোহেলেরও ইচ্ছে এমন বড় নামী-দামী স্কুলে পড়াশোনা করার। কিন্তু তার ভাগ্যটা এতোটাই খারাপ যে, সে যেই সাধারণ স্কুলে পড়ে, ওই স্কুলের বেতন দিতেই তার মাকে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়! তাই সোহেলের এমন বড় স্কুলে পড়ার স্বপ্্ন দেখাটা মানায় না!



 



রাকিব একদিন তার বাবার কাছে বায়না করে বললো, 'বাবা, বাবা, আমি আমাদের বাসার পাশে যেই সুন্দর একটা পার্ক হয়েছে, সেখানে ঘুরতে যেতে চাই। তুমি আমায় নিয়ে যাবে তো?' রাকিবের বাবা ছেলের কথায় হাসতে হাসতে উত্তর দিলো। 'আচ্ছা বাবা, নিয়ে যাবো।' এ কথা শুনে রাকিবতো মহাখুশি! পরের দিন তার বাবা তাকে পার্কে ঘুরতে নিয়ে যায়। একদিন সোহেল যখন রাস্তা দিয়ে তার মায়ের সাথে যাচ্ছিলো, তখন সে ওই পার্কটিতে ঢুকতে চেয়েছিলো। কিন্তু সে যখন গেটের সামনে গেলো আর বললো সে পার্কের ভেতর ঢুকতে চায়, তখন দারোয়ান তাকে ঢুকতে দেয়নি। পার্কে নাকি ফকির আর ভিক্ষুকদের ঢুকতে দেয়া বারণ! কথাটা সোহেলকে ভীষণভাবে আঘাত করলো! সে গরিব কিন্তু ভিক্ষুকতো নয়! হয়তো তার পুরানো জামা দেখে দারোয়ান তাকে ভিক্ষুক ভেবেছে। ওইদিনের পর থেকে সে আর কখনো পার্কে ঘুরার নামও নেয়নি।



 



এক সপ্তাহ হলো, সোহেলের মা রাকিবদের বাড়িতে কাজ করতে আসছে না। খবর নিয়ে জানা গেলো সোহেলের ভীষণ জ্বর! জ্বর নাকি কিছুতেই কমছে না। এক সপ্তাহ ধরে সে বিছানায় পরে আছে। ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়াও করতে পারছে না। তার মা দিনরাত তার পাশে বসে সেবা-যত্ন করছে। তাদের পাড়ায় একটা ঔষধের দোকান আছে। সোহেলের মা যখন তার ছেলের জন্যে ঔষধ কিনতে যায়, ওই দোকানদার বললো, 'খালাম্মা, এভাবে দোকান থেকে জ্বরের ঔষধ খাওয়ালেই আপনার ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে না। ওকে কোনো বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। এ জ্বর মনে হয় ভাইরাস জ্বর। ডাক্তার না দেখালে সারবে না মনে হয়।' সবইতো ঠিক আছে, কিন্তু বড় ডাক্তার দেখানো মানে তো অনেক খরচ। এতো টাকা তো সোহেলের মায়ের কাছে নেই! নিরূপায় হয়ে সোহেলের মা ছুটে গেলেন রাকিবদের বাসায়। সোহেলের অবস্থা সব খুলে বললেন। সব শুনে রাকিবের বাবা সোহেলের মায়ের হাতে কিছু টাকা দিয়ে বললেন, 'যাও তোমার ছেলেকে ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও। যা দিলাম এতেই হয়ে যাবে।' তারপর সোহেলকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে দিলেন। রিপোর্ট দেখে বললেন, 'ভাইরাসজনিত ইনফেকশন থেকে জ্বর হয়েছে।' তিনি ঔষধ লিখে দিলেন সেবারের মতো সোহেল সুস্থ হয়ে উঠলো। রাকিবের বাবা যদি সেদিন টাকা না দিতো তাহলে নাজানি আজ সোহেলের কি অবস্থা হতো!



 



অর্থ কারো বিলাসিতা, আর কারো প্রয়োজন। অর্থের কারণে যেমন সামাজিক ব্যবধান সৃষ্টি হয়, তেমনি এই অর্থের দ্বারাই সামাজিক ব্যবধান হ্রাস করাও সম্ভব। তার জন্যে চাই অর্থের সুষম বণ্টন।


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯২৯৬৫
পুরোন সংখ্যা