চাঁদপুর, শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর শহরে গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। আকাশমলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


 


অতিরিক্ত উচ্চাশা যেখানে, অশান্তিও সেখানে। -রূপট ব্রুক।


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


ফটো গ্যালারি
মোনালিসার কথামালা
আয়েশা কণিকা
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির অমর চিত্রকর্ম মোনালিসাকে নিয়ে কা-ের যেনো অন্ত নেই। মোনালিসাকে দেখার আগ্রহ ও তার সম্বন্ধে জানার কৌতূহল বিশ্বজনীন। সেই আগ্রহ নিয়ে মোনালিসাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটে চলেছে যে বিস্তর ঘটনা, বিভিন্ন সূত্র ঘেটে ফিরে দেখা হয়েছে সেগুলোর দিকে।



 



মোনালিসা চিত্রকর্মটিতে শিল্পি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির একাধিক গুণের সংমিশ্রণ ঘটেছে। আলোছায়ার সঞ্চালন, চন্দময়তা, পেছনের সজীব কিন্তু শান্ত পটভূমি সামনের মানুষটির চরিত্র অবলোকন এবং ছবিতে তা ফুটিয়ে তোলা উপস্থাপনার ত্রিমাত্রিকতা, বাস্তবিকতার সাথে আদর্শায়িত সংমিলন রয়েছে মোনালিসা চিত্রকর্মটিতে। অনেকে মনে করতেন মোনালিসা চিত্রকর্মে মডেল হয়েছিলেন নারী ও পুরুষ উভয়েই। কিন্তু না, চিত্রকর্মটি একটি মহিলার আবক্ষ প্রতিবিম্ব। ফ্লোরেনটাইনের এক রেশম ব্যবসায়ীর স্ত্রী লিসা দেল জিওকান্ডো। লিসার সাথে মাদামযুক্ত করে চিত্রকর্মটির নাম দেয়া হয়েছে মোনালিসা। কিন্তু এটি কেবল একজন নারীরই বাস্তবিক প্রতিকৃতি নয়, বাস্তবতাকে ভিত্তি করে এবং তাকে ছড়িয়ে গিয়ে ছবিটি একটি আদর্শায়িত মানুষের মুখ্যছবি হয়ে উঠেছে।



 



স্থির মানুষটি জীবন্ত মানুষের চেয়েও যেনো জীবন্ত। মোনালিসা চিত্রকর্মটি বিশেষভাবে পরিচিত তার হাসির জন্যে। আলোছায়ার খেলাতে সেই মুখের হাসিটি যেনো এক রহস্যময়তায় পূর্ণ। যে দেখে, যেভাবেই দেখে, যে কোণ থেকেই দেখে, মনে হয় তার দিকে তাকিয়েই হাসছে। মোনালিসার হাসি সম্পর্কে গবেষকেরা বলছেন, এটাই মানুষের হাসি সম্পর্কে প্রথম ড্রয়িং। যদিও মুখের শেষ দিকের সূক্ষ্ম লাইনগুলো অসম্পূর্ণ থাকে, তবু মনে হয় ঠোঁট হাসছে। কেনো এমন মনে হয়, তার ব্যাখ্যা মিলেছে আরেক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। সেখানে জোর দেয়া হয়েছে অপটিঙ্রে ওপর। বলা হয়ে থাকে, লিওনার্দো বুঝতে পেরেছিলেন, আলোকরশ্মি চোখের মধ্যে কোনো এক নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে না। এটা পড়ে সমগ্র রেটিনার ওপর। এই ধারণা নিয়ে ভিঞ্চি এই রহস্যজনক হাসি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মোনালিসার ঠোঁটের কোণের হাসির সূক্ষ্ম লাইনগুলো অনেক ধীর বা মন্থর। যদি সরাসরি মোনালিসার দিকে তাকানো হয়, তাহলে রেটিনার ক্ষুদ্র ও সূক্ষ্ম বিবরণগুলো ধরে রাখে। যাতে মনে হয় না তিনি হাসছেন। কিন্তু যদি চোখ একটু এদিক-সেদিক, যেমন গালে বা ছবির অন্যদিকে রাখা হয়, তাহলে ছবিটি আবার অন্য রকমভাবে ধরা পড়ে। তখন দেখা যায়, তার ঠোঁট হাসছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুবিজ্ঞানী মার্গারেট লিভিংস্টোন বলেছেন, 'উচ্চ স্পেসিক ফ্রিকোয়েন্সি ইমেজের চেয়ে কম স্পেসিক ফ্রিকোয়েন্সি ইমেজগুলোতে হাসি অনেক বেশি স্পষ্ট।' তাই যদি কেউ পেইন্টিংয়ে মোনালিসার ছবির অন্য কোনো দিকে তাকান, তাহলে হাসি অনেক বেশি স্পষ্ট দেখতে পাবেন।



 



মোনালিসা চিত্রকর্মটির পটভূমিটা কিছুটা চঞ্চল, কিন্তু সামনের মানুষটি কিছুটা স্থির যদিও অত্যন্ত জীবন্ত। কি ধরনের মানুষ ছিলেন এ মানুষটি? সে নিয়েও নানা মত আছে। তিনি কি বধির? বিয়োগব্যথায় কাতর? নাকি অন্য কিছু? যে কারণে এমন পূর্ণতা তার ভেতর। এসব প্রশ্নের উপরে আসল একটি সত্য হলো সে রহস্যময়। কারণ সে শিল্পির তুলিতে অাঁকা।



 



মোনালিসা চিত্রকর্মটি কখন অাঁকা হয়েছে তার নির্দিষ্ট কোনো সময় জানা নেই। তবে মনে করা হয়, ১৫০৩-১৫০৬ সালের মধ্যে মোনালিসা চিত্রকর্মটি অাঁকা হয়েছে। চিত্রকর্মটি অাঁকতে সময় লেগেছে প্রায় ৪ বছর। চিত্রকর্মটি দৈর্ঘ্যে ৩০ ইঞ্চি আর প্রস্থে ২১ ইঞ্চি। একটা আশ্চর্যজনক কথা হলো, মোনালিসা চিত্রকর্মটির ভ্রূ নেই। এটা নিয়েও দুটি মতবিরোধ আছে। কেউ মনে করেন চিত্রকর্মটি সংরক্ষণের সময় ঘটনাক্রমে ভ্রূ মুছে গেছে। আরেকটি তত্ত্ব হলো ভিঞ্চি চিত্রকর্মটি অাঁকা শেষ করেননি।



১৫১৬-তে ৬৪ বছর বয়সে ভিঞ্চি যখন ইতালি থেকে ফ্রান্সে আসেন, সে সময় ফ্রান্সের রাজা চার হাজার সোনার মুদ্রার বিনিময়ে ভিঞ্চির কাছ থকে চিত্রকর্মটি সংগ্রহ করেন। সংগ্রহ করে সেটাকে রাখেন ভার্সাইয়ের রাজপ্রাসাদে। এরপর প্রথম ফ্রান্সিসের জামাতা নেপোলিয়ন বোনাপার্ট মোনালিসাকে নিয়ে যান টুইলিরাইসে, নিজের শয়ন কক্ষে। ১৮২১ সালে নেপোলিয়নের মৃত্যুর পর মোনালিসাকে উপহারস্বরূপ দেয়া হয় লুভর জাদুঘরকে।



 



যেহেতু আগেই বলেছি এ চিত্রকর্মটি নিয়ে কা-ের শেষ নেই, সে রকম ২টি কা- হলো মোনালিসার চুরি হওয়ার ঘটনা আর ভাংচুরের ঘটনা। দিনটি ছিলো সোমবার, ১৯১১ সালের ১১ আগস্ট মোনালিসা চুরি হয়েছিলো প্যারিসের লুভর থেকে। খোঁজখবর নেয়ার পর পরবর্তীতে জানা যায়, নিজের দেশে ফেরৎ নিয়ে যাবার আশায় এক ইতালিয় এই চিত্রকর্মটি চুরি করেন প্যারিসের লুভার থেকে। ১৯৫৫ সালে মোনালিসার উপর ২টি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। একজন এ চিত্রকর্মটির উপর অ্যাসিড ছুড়ে মারে, আরেক বলিভিয়ান পর্যটক এর উপর পাথর ছুড়ে। তারপর থেকে মোনালিসাকে বুলেট প্রুফ কাচের উপর সুরক্ষিত হয়। প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামের হিসাবমতে মোনালিসা চিত্রকর্মটি বছরে ৬০ লাখ লোক পরিদর্শন করে।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৪৮৬০২
পুরোন সংখ্যা