চাঁদপুর, শনিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী ভোর ৪টায় ঢাকায় কিডনী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে --------রাজেউন)। || বাদ আসর চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। || চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরী ভোর ৪টায় ঢাকায় কিডনী হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহে --------রাজেউন)।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। আকাশমলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


 


অতিরিক্ত উচ্চাশা যেখানে, অশান্তিও সেখানে। -রূপট ব্রুক।


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


ফটো গ্যালারি
পেঁয়াজলামি
অমৃত ফরহাদ
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নতুন বউ বাড়িতে এনে শাশুড়ি বলছে, 'বউ মা, দুটার বেশি তিনটা নয় একটা হলে ভালো হয়।' নতুন বৌ তো লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। তারপরও এ যুগের বৌ বলে কথা। শাশুড়িকে বলেই বসলেন, 'মা, আপনারতো সাত সাতটি ছেলে-মেয়ে আমার ব্যাপারে এতো কঠোর কেনো'? বৌয়ের কথায় শাশুড়ি কিছুটা বিব্রত হলেও দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, 'আরে মা, বাচ্চা-কাচ্চার কথা বলছি না; বলছিতো তরকারিতে পেঁয়াজ দেয়ার কথা'।



 



গল্পটি কৌতূকের বসে বললেও বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে পেঁয়াজ নিয়ে খুঁনসুটি লেগেই আছে। স্বামী পেঁয়াজ ছাড়া তরকারি রান্না করতে বলে, স্ত্রীর এক কথা পেঁয়াজ ছাড়া রান্না হবে না। কি এক বিপদ! পেঁয়াজের বাজারের যে অবস্থা তাতে সারাদেশের মানুষ এই নতুন বৌয়ের মতো লজ্জিত আর যারা দেশপ্রেমিক তারা শাশুড়ির মতো বিব্রত। আমাদের রাষ্ট্র যন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষ চরমভাবে হতাশ। পেঁয়াজের জন্যে অতি ভারতনির্ভর গোটা দেশকে আজ ঝাঁজিয়ে দিচ্ছে। আমরা কেউ কেউ না বুঝে ভারতকে দুষছি। আমরা বুঝতে অক্ষম যে 'ভাতে মারা, পানিতে মারা'র মতো করে ভারত আমাদের পেঁয়াজে মারার উদ্দেশ্যে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়নি। নিজেদের ঠেলা সামলাতে দিশা পাচ্ছে না বলেই তারা সারা পৃথিবীতে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।



 



পেঁয়াজের অতি মূল্য বৃদ্ধিতে সংবাদপত্রগুলো ক্রিকেটিয় শব্দ প্রয়োগ করে শিরোনাম করেছে। ১৫ নভেম্বর ২০১৯-এর অধিকাংশ পত্রিকারই প্রধান শিরোনাম ছিলো 'পেঁয়াজের ডাবল সেঞ্চুরি'। এছাড়াও অন্যান্য শিরোনামের মধ্যে ছিলো, 'লাগামহীন ডাবল সেঞ্চুরি', 'পেঁয়াজের ঝাঁজ সংসদেও', 'পেঁয়াজের ঝাঁজে উত্তপ্ত সংসদ', 'চট্টগ্রামে লাগামহীন পেঁয়াজ বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি', 'পেঁয়াজের ঝাঁজে তেতে উঠছে বাজার' ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব মজাদার শিরোনামের কারণে পাঠক আগ্রহ নিয়ে পড়ছে পত্রিকা। পেঁয়াজ এখন বাংলাদেশের তারকা পণ্য।



 



মানুষ যে পেঁয়াজকে এতো ভালোবাসে দাম না বাড়লে আসলে বুঝাই যেতো না। পেঁয়াজের ঝাঁজ এমনই ঝাঁজ যে, কিনতেও কাঁদায় ছিলতেও কাঁদায়। এতো কাঁদায় তারপরও মানুষের পেঁয়াজ চাই। এ পরিস্থিতি দেখেই হয়তো কবি লিখেছিলেন বিখ্যাত সেই কথাটি, 'ভালোবাসি বলে-রে বন্ধু আমায় কাঁদালে'।



মানুষ কাঁদুক অথবা হাসুক তাতে পেঁয়াজের কি। পেঁয়াজের পৌষ মাস আর সাধারণ মানুষের সর্বনাশ। পেঁয়াজের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বি। পেঁয়াজের প্রভাব এবং নামে দামে তার ধারে কাছে কেউ নেই। তাকে সমীহ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তার লাগম টেনে ধরবে এমন সুপার পাওয়ার এই মুহূর্তে কেউ নেই। তাই তো তার দাম ২০ টাকা থেকে চিতা লম্ফ দিতে দিতে ২৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ভাবা যায়! বাংলাদেশের মতো ভূমিতে এ রকম কা- ঘটবে? পেঁয়াজ উঠতে উঠতে এমন স্থানে উঠেছে, গরিব অসহায় মানুষদের কাছে তা সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। পেঁয়াজের দাম এমন পর্যায়ে গিয়ে পেঁৗছেছে যে, সাধারণ মানুষদের এটুকু বলারও সাহস হারিয়ে গেছে যে, 'তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার পেঁয়াজ চাই'।



দেশে এখনো এমন অনেক মানুষ আছে যারা অর্থের অভাবে আমিষ এবং সবজি কেনার সামর্থ্য রাখে না। তারা ভাতের সাথে কোনো রকম লবণ, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে সকালের নাস্তা, দুপুর এবং রাতের খাবার খেয়ে দিনাতিপাত করে। একটু চিন্তা করে দেখুন, এ অসহায় মানুষদের প্রতি আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কি নিদারুণ রসিকতা করছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ এবং লবণের লেজে মাঝে মাঝে বাইল বেঁধে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়; তাতেই পণ্যগুলোও লাফায়, সাধারণ মানুষেরাও লাফায়। গ্রামে একটি কথা প্রচলিত আছে 'হাডা হুতার ঘষা-ঘঁষিতে মইচ্চের ধপা শেষ'। রাষ্ট্রযন্ত্র আর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে যারা লবণ, মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়ে লাঞ্চ এবং ডিনার করেন তাদের অবস্থা কাহিল।



 



ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে ধাঁধার প্রতিযোগিতা করে বুদ্ধির খেলা খেলতাম। তেমনি একটি ধাঁধা হলো, 'বাজার থেকে এলেন সাহেব কোট-প্যান্ট পরে/কোট-প্যান্ট খুলতে গেলে চোখ জ্বালা করে।' কে জানতো ছোটবেলার সেই ধাঁধার পেঁয়াজ বড়বেলায় এসে সত্যিই বাস্তব রূপ নিবে। নামে এবং দামে পেঁয়াজের বর্তমানে যে অবস্থা সত্যিই সে কোট-প্যান্ট পরা সাহেবই। এক সময় কোট-প্যান্ট খোলার পর চোখ জ্বালা করতো; এখনতো খোলার আগেই চোখ জ্বালা করে। এমনকি জ্বালার যন্ত্রণার তীব্রতা জ্যামিতিক হারে বেড়ে গেছে। শুধু কী চোখ জ্বালাই করে? পেঁয়াজ এখন অন্তর জ্বালারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন, পেঁয়াজের ঝাঁজে কাঁদছে স্বদেশ।



 



পেঁয়াজের জনপ্রিয়তা এতোই তুঙ্গে যে, সে এখন ভিসা, পাসপোর্ট ছাড়াই বিমানে যাতায়াত করছে। তার এ জনপ্রিয়তা অনেকে আবার সহ্য করতে পারছে না। ওই যে 'যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা'। তাইতো আমাদের বাড়ির মুখলেছ পেঁয়াজের বদলে একই দামে এক কেজি আউয়ালের মিষ্টি কিনে নিয়ে এসেছে। পাশের বাড়ির মফিজ পেঁয়াজের টাকায় ফল কিনেছে। কেনো সবাই এমন করছে বুঝতে পারছি না। সেদিন বাড়ি থেকে বৌ ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো তার জন্যে সিঙ্গারা নিয়ে যেতে। তার আবার সিঙ্গারার প্রতি দুর্বলতা আছে। সিঙ্গারা না নিয়ে গেলে বৌ আবার ধর্মঘট ডাকতে পারে। তাই হোটেলে ঢুকে ৪টি সিঙ্গারা দিতে বললাম। সে দিলো পাঁচটা। তাকে বললাম ভাই ৪টি দিতে বললাম, আপনি দিলেন ৫টা। আর পেঁয়াজ দিলেন না কেনো? সে বললো, আমি জানি আপনি এ কথাটিই বলবেন। তাইতো পেঁয়াজের বদলে আরেকটা সিঙ্গারা দিয়ে দিলাম।



বাড়িতে বৌয়ের সাথে সিঙ্গারা খাচ্ছি আর টিভি দেখছি। হঠাৎ খবরে দেখলাম বিমানবন্দরে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। তার আন্ডারওয়ারের ভেতর থেকে এক কেজি পেঁয়াজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পেঁয়াজ নিয়ে কি যে শুরু হলো ভাই! এক একবার হিংসা হয়; ইস্, পেঁয়াজের মতো আমার যদি এতো জনপ্রিয়তা থাকতো। আমার অফিসের কলিগ পুক্কা মোল্লা সেদিন আমাকে বললো, 'শ্বশুর বাড়িতে এবার যাওয়ার সময় ২ কেজি পেঁয়াজ আর লবণ নিয়ে যাবো, সাথে এক বস্তা চালও'। গত শুক্রবার আমাদের খলিলের বিয়ে গেছে। তার বিয়েতে নিমন্ত্রণ পেয়ে কাউসার আর শামীম উপহার হিসেবে ৩ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে গেছে। যা দিন-কাল শুরু হয়েছে কয়েক দিন পর সবাই গাড়ি ভাড়া হিসেবে পেঁয়াজ দেয়ার রেওয়াজ চালু করতে পারে।



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,২৩,৪৫৩ ১,৬২,২০,৯০০
সুস্থ ১,২৩,৮৮২ ৯৯,২৩,৬৪৩
মৃত্যু ২,৯২৮ ৬,৪৮,৭৫৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬১২৪১
পুরোন সংখ্যা