চাঁদপুর, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৪। যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া লয় সে জানিয়া রাখুক আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


 


 


 


 


 


আমরা বই পড়ে মানুষ চিনতে পারি না। -ডিজরেইলি।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
স্মৃতিভরা মায়ের দিনলিপি
আকিব শিকদার
০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মা, তোমার গোবরগুলে গৈঠা বানানো হাতে একমুঠো ভাত খাইয়ে দিয়ে যাও। বাবা, ও বাবা, আমার গায়ের সবচেয়ে সুন্দর যে জামাটি, তাতে মোছো তোমার ভাত খেয়ে না ধোয়া হাত। তোমার সফেদ দাড়ির ভাঁজে তরকারির যে ঝোল লেগে থাকে, সেই ময়লাটি জিহ্বায় চেটে তুলে নিতে বড় ইচ্ছা জাগে আমার।



 



মা আমাকে তার মাতৃসুলভ আচরণে স্নেহের হাতে তুলে খাইয়ে দিতে চাইত। আমি সম্মতি দিইনি কখনও, তার বুড়ো আঙুলের নখটা কেমন মরা ঝিনুকের খোলসের মতো ছিল বলে। শৈশবে স্কুলে পেঁৗছবার পথে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম শিয়ালের থেঁতলানো দেহ, টানা তিন রাত ঘুমোতে পারিনি দুঃস্বপ্ন দেখার ভয়ে, পারিনি আহার করতে স্বাভাবিক। চোখের সামনে শুধু ভেসে উঠত বিচ্ছিন্ন মাথা একটা মরা শিয়াল যার উসকোখুসকো চামড়ায় জমে আছে রক্তের স্তূপ আর নীল মাছি।



 



খুব বেশি খুঁতখুঁতে স্বভাব ছিল আমার। বাবা একবার আমার গামছা দিয়ে মুছে ছিলেন তার শস্যক্ষেত থেকে ফিরে আসা ঘর্মাক্ত পিঠ। সেই অপরাধে তার চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে দিয়েছিলাম মূর্খের অপবাদ দিয়ে। এক বিছানায় ঘুমোতে গিয়ে আমার যে ভাইটা গায়ের ওপর পা তুলে দিত, আমি এক চড়ে তার কান থেকে রক্ত ঝরিয়ে বুঝিয়েছিলাম ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর খেসারত।



 



এখন আমার ঘুম আসে না। ঘুম আসে না রাতে ছারপোকা আর মশাদের উৎপাতে। উৎকট গন্ধে বন্ধ দম, শৌচাগারের পাশে বিছানায় নেই গা-ঢাকা দেওয়ার মতো টুকরো কাপড়। শীতে জবুথবু হয়ে যখন কুঁকড়ে যাই তোকে বড় মনে পড়ে, তোকে বড় মনে পড়ে ভাইরে। ঘুমঘোরে একটি পা গায়ের ওপরে তুলে দিবি না আমায় একটু আরাম উত্তাপ? বল, তুই করবি না ক্ষমা আমায়...?



ওরা যখন আমাকে নিয়ে এসেছিল ভিনদেশে, বলেছিল কাজ দেবে পাঁচতারা হোটেলে। নিদেনপক্ষে মুদির দোকান তো জুটবেই কপালে। সূর্য ওঠার আগে শাবল খুন্তি অাঁকশি হাতে লেগে যাই কাজে, নগরের নর্দমা শোধন এখন আমার কাজ। যে হাতে ধরিনি গরুর দড়ি গোবর চনার গন্ধ লাগবে বলে, সে হাত ধরে পচা ইঁদুরের লেজ, পলিথিনে মোড়া মাছি ভনভন করা মাছের পুরনো আঁশ। পরিত্যক্ত আবর্জনা তুলে নিই পিঠের ঝুলিতে। বড় অসহায়, বড় অসহায় লাগে মা, মনে হয় মরে যাই; না গেলে কাজে নিতান্ত বুভুক্ষু কাটে দিন, পানিটাও এই দেশে কিনে খেতে হয়, টাকা ছাড়া জোটে না কিছুই, কান চুলকানোর কাঠিটি পর্যন্ত।



একবার, শুধু একবার, মা, তোমার গোবরগুলে গৈঠা বানানো হাতে একমুঠো ভাত খাইয়ে দিয়ে যাও। বাবা, ও বাবা, আমার গায়ের সবচেয়ে সুন্দর যে জামাটি তাতে মোছো তোমার ভাত খেয়ে না ধোয়া হাত। তোমার সফেদ দাড়ির ভাঁজে তরকারির যে ঝোল লেগে থাকে, সেই ময়লাটি তুলে নিতে বড় ইচ্ছা জাগে আমার।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯০৭০৮৫
পুরোন সংখ্যা