চাঁদপুর, শনিবার ৯ নভেম্বর ২০১৯, ২৪ কার্তিক ১৪২৬, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৪। যাহারা কার্পণ্য করে ও মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয় এবং যে মুখ ফিরাইয়া লয় সে জানিয়া রাখুক আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।


 


 


 


 


 


আমরা বই পড়ে মানুষ চিনতে পারি না। -ডিজরেইলি।


 


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
নয়নাভিরাম টেনেরিফ দ্বীপ
জমির হোসেন
০৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অপার সৌন্দর্যে ঘেরা আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত স্পেনের দক্ষিণ টেনেরিফ। স্রষ্টার সৃষ্টি কত বৈচিত্র্যময় তা সরাসরি না দেখলে বিশ্বাস হবে না। সাগরের নীল রঙের পানি তার কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে জনবসতি, নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। মানুষ যদি প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায় তবে টেনেরিফ দক্ষিণ দ্বীপের সৌন্দর্য একবার হলেও দেখা দরকার। অর্থ, প্রাচুর্য্য সবই মানবজাতির ভোগ-বিলাসের জন্য। তাই আনন্দকে অর্থ দিয়ে বিবেচনা করা সমীচীন হবে না। প্রকৃতির আসল রূপ দেখতে হলে সমুদ্রের খুব সনি্নকটে আসা প্রয়োজন মানবগোষ্ঠীকে। ব্যস্ততা মানুষের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত থাকবে এটাই বাস্তবতা। আমার জীবনও তার আর ব্যতিক্রম নয়। এক যুগের বেশি ইউরোপে বসবাস, কিন্তু ইউরোপের সৌন্দর্যের রূপরেখায় পা রাখার সময় হয়ে ওঠে না ব্যস্ততা নামক ঘোড়ার কারণে। কর্মব্যস্ততা, নিজ পরিবারের দিকে চেয়ে বিনোদন যেন মন থেকে অনেক আগেই ফুরিয়ে গেছে। বয়সের ভারী চাপ না হলেও মনের মাঝে ভারী কোনো কিছু ভর করেছে যা অদৃশ্য।



 



সব কিছুর পরেও জীবনকে নিয়ে সামনের পথগুলো অতিক্রম করতে হবে। তাই এবার ভিন্ন পরিকল্পনায় মনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় ইতালির ভেনিস ভ্রমণের পর স্পেনের প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে দক্ষিণ টেনেরিফের দ্বীপে সপরিবারে যাওয়া হয়। এটাই ইউরোপের প্রথম লম্বা সফর। দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়েই টেনেরিফ ভ্রমণ। তাও আবার ভুলের মাঝে আনন্দ খুঁজে পাওয়া।



 



আগস্ট মাসের ছুটিতে স্পেনে আসার কথা টিকেট অনলাইনে তাড়াহুড়ো করে কাটতে গিয়ে তারিখটা ভালো করে না দেখে কনফার্ম করে ফেলি। পরে যখন যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকি। বোর্ডিং পাস নিতে গিয়ে দেখি ভুলবশত সেপ্টেম্বরের বার রিখ টিকেট বুকিং হয়েছে। কি আর করা সব প্ল্যান ধুলোয় মিশে গেল। ছুটিও প্রায় কাছাকাছি দেরি না করে ছুটি শুরু হওয়ার আগেই আবার নতুন করে অফিসে সেপ্টেম্বরের জন্য আবেদন করি। অফিস আবেদন মঞ্জুর করে। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম। ছুটি শুরু হয়ে শেষ হল যথারীতি ডিউটিও শুরু করলাম। টানা দশদিন কাজ করার পর ছুটি পেয়ে দক্ষিণ টেনেরিফ পরিবার নিয়ে যাত্রা শুরু করি রাতের একটি ফ্লাইটে। লম্বা এক বিমান ভ্রমণ যেন ইউরোপ থেকে ইউরোপ নয় মাতৃভূমি যাচ্ছি। রোম টু মাদ্রিদ, মাদ্রিদ টু স্পেন টেনেরিফ দ্বীপ। রাতের অন্ধকারে যাত্রা শুরু করে পরের দিন ভোরে গন্তব্যে পেঁৗছাই।



 



স্থানীয় সময় রাত প্রায় তিনটা অনুজ ভাই এমডি হাসান খান ও তার সহধর্মিণী তানজিলা ডমেস্টিক বিমানবন্দরে দক্ষিণ টেনেরিফ অপেক্ষমান গাড়ি নিয়ে। নেমেই তাদের পেয়ে গেলাম। অনেক রাত যথারীতি দেরি না করে সমুদ্রের তীরে বাসা সেখানে চলে গেলাম। রাত বেশি হওয়ায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম। একটি সপ্তাহ টেনেরিফের প্রান্তরে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াই। পুরো দ্বীপ জুড়ে রয়েছে নান্দনিক দৃশ্য। সৌন্দর্যের দিক থেকে এক একটি এলাকা ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য যা সহজে মন জুড়ায়। তবে দ্বিতীয় দিন লোরো পার্কো গেলাম। দ্বীপ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। প্রবেশ ফি স্থানীয়ভাবে বসবাসকারীর জন্য মাত্র ১৯ ইউরো (বাংলায় প্রায় ২ হাজার টাকা)। আর পর্যটকদের জন্য ৩৮ ইউরো (প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা)। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ফ্রি। সবাই প্রবেশ করলাম। এই পার্কটি বলা যায় বাংলাদেশের চিড়িয়াখানা। তবে সৌন্দর্যের দিক থেকে অতুলনীয়। প্রবেশ পথে ভাসমান বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এরপর বনমানুষ। পার্কের প্রতিটি দৃশ্য নিবিড়ভাবে দেখতে হলে সারাদিন লেগে যাবে। প্রতি কয়েক মিনিটের মাথায় সরাসরি ডলফিন, পাখিসহ সামুদ্রিক আশ্চর্য ধরনের শো করা হয়। যা সত্যি নয়নাভিরাম। টেনেরিফ দ্বীপে পর্যটকরা আসলে এই পার্কে না গেলে যেন ভ্রমণ শুদ্ধ হয় না। তাই বারো মাস পর্যটকদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা বেশ জমজমাট। বার মাস পর্যটকদের ভিড় থাকায় সাগরের তীরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল। পর্যটকরা বারো মাস যাওয়ার মূল কারণ টেনেরিফ দ্বীপে সবসময় একই আবহাওয়া বিরাজমান। না ঠা-া না গরম তাই স্থানীয়রা সবসময় স্বাভাবিক জামা কাপড় পরে।



 



দ্বীপে এক যুগের বেশি ধরে বসবাসরত হাসান খানের সঙ্গে আলাপ হলো। তিনি জানান, স্পেনের সাতটি দ্বীপের মধ্যে টেনেরিফ অন্যতম। এই দ্বীপে মোট জনসংখ্যা তিন লাখ ৩৯ হাজার। তবে বাংলাদেশি তেমন একটা নেই বললেই চলে। মাত্র ছয়শ বাংলাদেশির বসবাস এখানে। আর সবাই পরিবার নিয়ে থাকেন। পর্যটকদের অধিক আনাগোনার কারণে সবাই কর্ম নিয়ে ব্যস্ত। আবার যারা পুরোনো বাংলাদেশি তারা আবার ব্যবসা করছেন। সব মিলিয়ে সবাই মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করছেন। তাই বেকারত্ব তেমন চোখে পড়ে না। তবে ভাষা জানা অত্যন্ত জরুরি কাজ পাওয়ার জন্যে। এখানে যে যার যার মতো বাংলাদেশকে তুলে ধরছে সামাজিক কর্মকা-ের মাধ্যমে। এখানে আস সুন্না নামে একটি মসজিদ রয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশিরা।



টেনেরাইফের দক্ষিণে উপকূলরেখার বেশিরভাগ অংশ বেঁধে রাখা হয়েছে বালুকাময় ঘিরে। তাই এই দ্বীপের সৈকতগুলি অত্যন্ত বিখ্যাত। সুন্দর মনোরম আবহাওয়া এবং সারাবছর রোদ-জলের উষ্ণতা থাকে, তাই পানির খেলাধুলা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে অবসরে যাবতীয় কাজের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা। টেনেরাইফের দক্ষিণে পর্যটকদের এমন পছন্দের অনেকগুলির মধ্যে ল্যান্ডস্কেপগুলি বাড়তি আনন্দ জোগায় কারণ বেড়াতে যাওয়া, সমুদ্রের ধারে রেস্তোরাঁয় খাওয়া বা সিয়াম পার্কে দিন কাটানো অন্যতম। দেখার মধ্যে অন্যতম একটি শপিংমল লাস ভেগাস সাফারি। এটি দেখতে প্রতিদিন পর্যটক ভিড় করে। প্লেয়া দে লাস অ্যামেরিকাস নামে পরিচিত সৈকতটি, অ্যারোনা এবং আদেজের মধ্যে অবস্থিত, সমুদ্রের সম্মুখভাগে বিশালাকার বার, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে এবং নাইটক্লাব রয়েছে।



দিনের বেলা সর্বোত্তম হল সমুদ্রের প্রশান্তিমূলক শব্দ। এটি শুনতে শুনতে যেন পরিবারের সঙ্গে একটি সার্ফিং বা ডাইভিং পাঠ গ্রহণ করা যায়। টোরিফের দক্ষিণ উপকূল পরিষ্কার, উষ্ণজলে স্নান করে কোস্টা দেল সিলেনসিওর অঞ্চলটিতে আশ্চর্যজনক জলছবির মধ্যে সুন্দর লুকায়িত উপসাগর বিদ্যমান। অন্যদিকে, কোস্টা আজেজে দোকান, বুটিক এবং বিলাসবহুল হোটেল। নৌকা ভ্রমণে দেখা যায় তিমি ও ডলফিনের খেলা। ফলে দ্বীপটির সৌন্দর্য সবার মুখে মুখে, পর্যটকরা কাঙ্ক্ষিত স্থানে পূর্ব থেকে বুকিং দিয়ে রাখেন।



সিয়াম পার্ক অত্যন্ত চমৎকার। পার্কটি আর্টিফিশিয়াল হলেও দেখে মনে হবে না কারো হাতে তৈরি। ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম তরঙ্গ পুল। এর দৈর্ঘ্য ২৮ মিটার অর্থাৎ ৯২ ফুট। শিশু-কিশোর বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় লেগেই থাকে সবসময় জলের সস্নাইডটি দেখতে। ডলফিন রিয়ামের সঙ্গে অ্যাকুয়াল্যান্ড ওয়াটার পার্কে কিছুটা অ্যাড্রেনালাইন ভিড়ের জন্যে আকর্ষণ করেছে সিয়াম পার্ক এবং এমন কিছু স্থান রয়েছে ভেতরে যেখানে বুঁদ-বুঁদ কৃত্রিম নদীর স্রোত দৃশ্যমান। লস ক্রিশ্চিয়ানোসের লাস ভিস্টাস সমুদ্র সৈকতটি রোদের জন্য উপযুক্ত একটি স্থান, রয়েছে কিছু ঐতিহ্যবাহী টেনেরিফ রেসিপির স্বাদ। বছরের যে কোনো সময় সাগরে সাঁতার কাটা যায়।



শান্তি এবং শিথিলতা হল লস ক্রিশ্চিয়ানোসে একটি ছুটির দিনকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি আরোনার পৌরসভার লা মন্টিয়া দে চাওফিটা এবং লা মন্টিয়া দে গুয়াজার সুরক্ষিত ল্যান্ডস্কেপগুলিতে অবস্থিত। অন্যান্য বিশাল জনপ্রিয় সৈকতের মধ্যে রয়েছে প্লেয়া দে লস ক্রিশ্চিয়ানোস এবং লস তারাজলেস। লস ক্রিশ্চিয়ানোস বন্দরটি সমুদ্র সৈকতের ঠিকপাশে অবস্থিত।



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯১১৯৯৫
পুরোন সংখ্যা