চাঁদপুর, শনিবার ৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


০১। আকাশমলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।


 


assets/data_files/web

অতিরিক্ত উচ্চাশা যেখানে, অশান্তিও সেখানে। -রূপট ব্রুক।


 


 


পবিত্র হওয়াই ধর্মের অর্থ।


 


 


ফটো গ্যালারি
অপূর্ব স্কুলে একদিন
এইচএম জাকির
০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

পর্যটন এক ধরনের বিনোদন। অবসর অথবা ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থান কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করাকে পর্যটন বুঝায়। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী অবসরকালীন কর্মকা-ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পর্যটন।

যিনি আমোদ-প্রমোদ বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে অন্যত্র ভ্রমণ করেন তিনি পর্যটক নামে পরিচিত। এমনই কয়েকজন সফরসঙ্গী ও 'ভালো কাজ আন্দোলন' সস্নোগানে প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুরের সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'চাঁদমুখ'-এর সদস্যদের নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসটি উদ্যাপন করেন 'চাঁদমুখ'-এর প্রতিষ্ঠাতা এইচএম জাকির।

চাঁদপুর জেলা সদরের ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নস্থ লক্ষ্মীপুর গ্রামের মোঃ শাহাবুদ্দিন খান নিজের প্রতিষ্ঠিত শাহাবুদ্দিন খান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ। ১১৬ শতাংশ ভূমির উপর নান্দনিক আদলে তৈরি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে ১১ অক্টোবর ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১ জানুয়ারি ২০১৬ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

বিদ্যালয়টি দ্বিতলবিশিষ্ট ভবন। ছাদের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে কারুকাজে সজ্জিত সিমেন্ট শীটের ছাউনি। ভবনের মাঝখানে এবং একেবারে পূর্ব পাশে রয়েছে দুটি প্রশস্ত সিঁড়ি। পূর্বপাশের সিঁড়ির নিচে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ রয়েছে। উভয় তলাতে প্রশস্ত বারান্দা রয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে শুধু শ্রেণিকক্ষগুলোর অর্ধেক উঁচু পর্যন্ত রঙিন টিনশেডে আবৃত। শ্রেণিকক্ষগুলোর আশপাশে বাঁশের তৈরি থলিতে মোড়ানো এনার্জি বাল্ব লাগানো রয়েছে। নিচতলার পশ্চিম কোণে রয়েছে দুটি আলাদা ওয়াশরুম। রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্যে নানা রকমের ক্রীড়াসামগ্রী। এর প্রবেশমুখের ডান দিকে কারুকার্যখচিত বাহারি নকশার একটি জামে মসজিদ। মসজিদ আর স্কুল আঙিনা মিলে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। আঙিনার একপাশে রয়েছে শহীদ মিনার। মূল ভবন ইট ও কংক্রিটের তৈরি, তবে ছাদের নকশায় কাঠ এবং নানা রঙের ঢেউটিন ব্যবহারে করা হয়েছে।

এই বিদ্যালয়ে চলতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৮ জন। বর্তমানে নার্সারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত এখানে পড়াশোনা চলছে। প্রতি বছর একটি শ্রেণি করে বৃদ্ধি হয়ে বিদ্যায়লটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে রূপান্তিত হবে এমনটাই জানান একাধিক পর্যটক।

১টি মাত্র দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাসে ৪টি একাডেমিক ভবনে ১০টি শ্রেণিকক্ষ এবং ১টি জামে মসজিদ সংযুক্ত সবুজ ঘাসের উপর ও সবুজ দেয়ালে নির্মিত এই স্কুলটিতে ৩ জন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ও ১৫ জন শিক্ষকের পরিচর্যায় সপ্তাহে ৬ দিন ও দৈনিক ৭ ঘণ্টা করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান হয়।

শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজটি বর্তমানে চাঁদপুরের একটি নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশব্যাপি বিস্তৃতি লাভ করেছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০১৯-এ এখানে দিনব্যাপি হাজার হাজার পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্বপরিবারে এখানে আশা চাঁদপুর ড্যাফোডিল স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আব্দুল খালেক মুন্সীর সাথে আলাপচারিতায় জানা যায়, তিনি এখানে স্ত্রী-বাচ্চা নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এসেছেন। এই স্কুলটির নান্দনিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছেন। তিনি জানান, আমি দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু এই স্কুলের মতো এতো সুন্দর প্রতিষ্ঠান চোখে পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিদ্যালয়টির নান্দনিকতা আমার চোখে পড়ে। তাই এর সুন্দর নিজে দেখতে এবং আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এর নান্দনিকতা ও সুন্দর্য দেখাতে দ্বিতীয়বারের মতো এখানে নিয়ে এসেছি। আমরা মুগ্ধ। বারবার আসতে মন চায়।

কথা হয় এখানে প্রথমবারের মতো আসা একজন পর্যটকের সাথে। ফরিদগঞ্জ উপজেলাধীন ধানুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, শুনেছি বিদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আদলে আমাদের চাঁদপুরেও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো, তাই চলে আসলাম। তিনি আরো জানান, সত্যিই মনোমুগ্ধকর নির্মাণশৈলী। শিক্ষার আসল পরিবেশ এমনটাই হওয়া দরকার ছিলো এবং হয়েছেও। ইউরোপ, চীন, জাপানের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এখন আমাদের দেশে হচ্ছে এটা যেমন গর্বের তেমনি নিজেদের সংস্কৃতিরও একটা অংশ। দ্বিতীয়বার আসার সময় স্ত্রী-বাচ্চা নিয়ে আসার প্রত্যাশা করেন তিনি।

চাঁদপুর সদরের খলিসাডুলি এলাকার আহসান কনক জানান শুক্রবার আসলেই একটু ঘুরতে মন চায়। তাছাড়া দিনটি বিশ্ব পর্যটন দিবস হওয়ায় আগ্রহের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই তিনি ছোট বোন ও বান্ধবীদের নিয়ে এসেছেন। সবাই মিলে স্কুলটির উপর-নিচসহ চারিদিক ঘুরে ঘুরে দেখেছেন ও অনেক ছবি তুলেছেন। তিনি স্কুলটির প্রশংসা করেন এবং পরিবারের লোকজন নিয়ে বার বার আসার কথা জানান।

লেখকের সাথে স্কুল ভবনের দোতলায় দেখা হয় পুরাণবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রোটাঃ রফিকুল ইসলামের সাথে। দেখা যায় তিনি ভাই, বোন, স্ত্রীসহ পরিবারবর্গকে স্কুলটির চতুর্দিক ঘুরে এর সুন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সবার মাঝে তুলে ধরেন। তিনি বলেন এই স্কুলটি চাঁদপুরকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চাঁদপুরের গ-ি পেরিয়ে এটি দেশব্যাপি ইতিমধ্যে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পরিবারের সবাই স্কুলটি দেখার জন্যে বহুদিন ধরে বলে আসছে, তাই সবাইকে নিয়ে স্কুলটি দেখতে আসলাম। তিনি আরো জানান, স্কুলের পরিবেশটি শিক্ষাবান্ধন। এ ধরনের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা যেমন বিনোদন পাবে, তেমনি পড়ায় মনেযোগী হবে। তিনি স্কুলটির প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

ইট, পাথর, কাঠ ও টিন দিয়ে আধুনিক ও নান্দনিক শৈলিতে নির্মিত শাহাবুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজটি চাঁদপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে। শহরের পালবাজারের সম্মুখ হতে নতুনবাজার-পুরাণবাজার সংযোগ ব্রিজের উপর দিয়ে হরিণা ফেরিঘাট রূটে অটো বা সিএনজিযোগে জনপ্রতি মাত্র ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় সরাসরি স্কুল গেটে যাওয়া যায়।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৯৫২০৭০
পুরোন সংখ্যা