চাঁদপুর, শনিবার ৫ অক্টোবর ২০১৯, ২০ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৩। পরন্তু কেন নয়-প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়


৮৪। এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক


৮৫। আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
মুখোমুখি
মেহেরুন নেছা রুমা
০৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ভাবনার আকাশে মেঘ ভাসিয়ে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক দিন পর নিজেকে ভালো করে সাজিয়ে নিলেন সাবিহা। কাজলটা চোখের কাছাকাছি নিয়েও রেখে দিলেন। নাহ, এই বয়সে চোখে কাজল দিলে সে কী ভাববে



যেন হাজার দেশের মানচিত্র অাঁকা মুখ। চোখের সেই দীপ্তিভরা দৃষ্টিও এখন বড় ম্রিয়মাণ। একটা সময় মনে হতো তোমাকে ছাড়া আমার কিছুতেই বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কী যে মুমূর্ষু সেই সময়টা ছিলো! প্রতিটি নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে মনে হতো এই বুঝি প্রাণ হারাচ্ছি। কলিজা ছেঁড়া ছেঁড়া অংশগুলো কেউ যেনো টেনেটুনে বের করে আনছে টুকরো টুকরো করে।



 



পার হলো কতটা সময়! আজ সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। শুধু জীবনের গতিটাই যা বদলে গেছে। তুমিময় জীবন হয়তো যাপন করছি না, কিন্তু মনটা সেই তুমিময়ই আছে, আজও, অবিকল। তবুও তো আছি বেঁচে। ভালোই হয়তো আছি। পরিপূর্ণ সংসার, প্রতিষ্ঠিত ছেলেমেয়ের ঘরে নাতি-নাতনিও ঘর আলো করে আছে, জীবনে সম্মানও কুড়িয়েছি অনেক। পরকালের পাথেয়ও সঞ্চয় করেছি যতটুকু পেরেছি। খোদাতায়ালাই জানেন কতটুকু তার শুদ্ধ হয়েছে।



 



ভাবনার আকাশে মেঘ ভাসিয়ে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক দিন পর নিজেকে ভালো করে সাজিয়ে নিলেন সাবিহা। কাজলটা চোখের কাছাকাছি নিয়েও রেখে দিলেন। নাহ, এই বয়সে চোখে কাজল দিলে সে কী ভাববে! কানের কাছাকাছি গোছা গোছা পাকা চুল ঢেকে রাখার যতই চেষ্টা করুক না কেনো সে উঁকি দিচ্ছেই।



 



নিজের সঙ্গেই বলেন, আমাকে কী সে চিনতে পারবে? চিনতে পারলেও আমার এই এখনকার আমিকে তার ভালো লাগবে? প্রশ্নটা কেমন নিজের কাছেই অবান্তর মনে হলো।



 



এখন কি আর সেই ভালোলাগা-মন্দলাগার ব্যাপার আছে নাকি?



 



ঘিয়ে রঙের শাড়ির ওপরে হালকা আকাশি রঙের চাদরটা কাঁধে ঝুলিয়ে নিলেন। এখনও শীত পুরোপুরি কাটেনি। দখিনের বারান্দায় দাঁড়ালে ঝিরঝিরে ফাগুনের হাওয়া এসে গায়ে লাগে। দিনের শুরুটা শীত শীত লাগলেও বিকেলটা কেমন ভ্যাপসা গরম হয়ে ওঠে, আবার শেষ রাতে পাতলা কাঁথার চেয়ে আর একটু মোটা কিছুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করার মতো আবহাওয়া।



 



যেতে যেতে ভাবনাগুলো মেঘের মতো করে ভেসে ওঠে মনে।



আমাদেরও একটা সময় ছিল! রোজ সকাল সন্ধ্যা রাত দুপুর পলকে পলকে আমরা ভালোবাসতাম। আর আমাদের নিজস্ব সেই সময়ের ডালি নিয়ে প্রায়ই আমরা ঝালাই করে নিতাম পুরনো সুখময় স্মৃতিগুলো। সেগুলো আমাদের মনে নতুনের মতো প্রাণসঞ্চার করত।



মুখ ফুটে বলতে হতো না ভালোবাসি। জ্বরে পুড়ে ওঠা তোমার কপালে হাত রাখলেই তোমার দুই চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুই জানিয়ে দিত আমার জন্য তোমার হৃৎপি-ের ভেতরে যে হৃদয়খানি রয়েছে কতখানি তার পুড়ে পুড়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির প্রতিরোধে যখন কঠিন সংকটেও তোমাকে কাছে পেতাম না তখন নিজের হৃদস্পন্দই জানান দিত তুমি আমার কতখানি। বহুদিনের ব্যবধানে তোমার সাক্ষাতে যখন মুখের কথার চেয়ে কম্পমান হৃদয় আর চোখের জলে দুজন মাখামাখি করতাম তখনই জানা হয়ে যেত প্রাণের এক ছিদ্র পরিমাণ জায়গাও খালি নেই তুমি ছাড়া। আমার বারবার ভুল করার অভিযোগে তুমি যখন কথা বলা বন্ধ করে দিতে আর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে অভিমান ভাঙিয়ে যখন বলতে সারাদিন খুব ভালোই ছিলাম, তোমাকে একটুও মনে পড়েনি। সেই 'মনে না পড়া' কথাটির মধ্যেই বুঝে নিতাম আমাকে তুমি সারাদিনেও মন থেকে সরাতে পারনি।



 



আজ সেই প্রণয়ের দিনটিই বেছে নিলে তুমি। এতোটা বছর পর যখন জানতে পারলাম তুমি আসছ এই শহরে আর আমাকে স্মরণ করছো, তখন মনের সব খেদ অভিমান ভুলে তোমার কাছে যাচ্ছি আমি। আর কোন অজুহাতেই বা দূরে থাকবো? আমি তো কখনোই তোমার কাছে থেকে দূরে যাইনি। তুমি তাড়িয়ে দিলেও না।



মনে পড়ে সেই দিনটির কথা। সিঁড়ি বেয়ে তুমি উঠে এসেছিলে ওপরে। যেনো অনাদিকালের জন্যে উঠে এসেছিলে আমার জীবনে আশীর্বাদ হয়ে। আমি দাঁড়িয়েছিলাম দরজার কাছে। দুজনের দৃষ্টি মিলে গিয়েছিল সিঁড়ির ঠিক মাঝামাঝিতে। মুখে ছিল হাসি। তোমার হাতে ছিল রজনীগন্ধা আর আমার মনের ঢেউগুলো পাড় ভেঙে পড়তে ছিল ভীষণ আক্রোশে। তুমি বললে, কোথায় তোমার চাঁদ? চলো দুজনে মিলে জোছনা দেখি। কেমন করে বলি, তুমিই আমার সেই আকাশভরা পূর্ণিমার চাঁদ, তোমার আলোয় আমি অবগাহন করি।



 



গাড়িটি যখন থামলো ভাবনায় ছেদ পড়লো সাবিহার। ওপরের দিকে তাকিয়ে ঠিকানাটি মিলিয়ে নিলো একবার। অনেককাল অভ্যাস নেই, তবু ছোট্ট আয়নাটা ব্যাগ থেকে বের করে মুখটা একবার দেখে নিলো। চেহারা কি খুব বেশি বদলে গেছে আমার! যাক না একটু বদলে, সেও নিশ্চয়ই বদলেছে কিছুটা। সেই প্রথম দিনটির মতো অনুভূতি জাগানিয়া ভাবনাগুলো হৃদয়ের উঠানজুড়ে নেড়েচেড়ে বসছে। আবারও সেই একই দিন, সেই সন্ধ্যা, সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছি আমি। আমার হাতে রজনীগন্ধা আর তোমার বুকে ঢেউ। অন্য বাড়িতে, অন্য জীবনে, হয়তো অন্য কোনো সময়ে আমি আবার তোমার মুখোমুখি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৯৩১৭
পুরোন সংখ্যা