চাঁদপুর, শনিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৫। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৭৬। উহারা হেলান দিয়া বসিবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে।


৭৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৭৮। কত মহান তোমার প্রতিপালকের নাম যিনি মহিমময় ও মহানুভব!


 


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


কাহারো উপর অত্যাচার করা হইলে সে যদি সবর করিয়া চুপ থাকিতে পারে, আল্লাহ তাহার সম্মান বৃদ্ধি করিয়া দেন।


 


ফটো গ্যালারি
তবু পুণ্যজ্ঞানে
মেহেরুন নেছা রুমা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃতিতে বৃষ্টি নামে। ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলে ক্লান্ত মানুষেরা ঘুমিয়ে পড়ে নতুন একটি সকালের আশায়। আর দারোগার ক্ষয়ে যাওয়া মন আসমানির উঠোনে আলো খোঁজে অতৃপ্ত নয়নে। যেখানে ভালোবাসার অনুভবেরা দিনের প্রথম সূর্যের মতো রেণু ছড়ায় অন্তরজুড়ে। আত্মিক পুণ্যের গৌরবে জগতের পঙ্কিলতা সেখানে নিরাশ্রয়ে কাঁদে অবিরাম



ঘন অন্ধকারে পা টিপে টিপে হেঁটে এসে আসমানির বাড়ির উঠোনে দাঁড়াতেই বিন্তীর মায়ের কল আসে। বৃষ্টির পাল্লায় পড়ে সেলফোনটি সাইলেন্ট করতে ভুলে যাওয়াতেই এ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হলো বাদল দারোগাকে। নীরব রাত্রির স্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে দারোগার ফোনটা ঝনঝনিয়ে বেজে ওঠে। রাত-বিরাতের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে কল রিসিভ করেই এক তুবড়ি গালি ছুঁড়ে মারে বিন্তীর মায়ের দিকে। সেই গালি লক্ষ্যস্থলে পেঁৗছালো কি না পেঁৗছালো তাতে সন্দেহ থাকলেও আসমানির ট্যারা জামাইটার কানে ঠিকই পেঁৗছে গেলো।



 



চোখ একটা ট্যারা হলেও কান তো আর ট্যারা না।



পালানোর পথ না পেয়ে জল ছপছপ ঘাস-কাদায় দাঁড়িয়ে থাকে বাদল দারোগা। ছিঁচকাঁদুনে বর্ষার প্যানপ্যানানি মাথায় নিয়ে ছোট্ট করে একটি কাশি দেয়। বলে, ন্যাড়া মাথার এক ছোকরাকে যাইতে দ্যাখছোনি জয়নাল মিঞা? ট্যারা চোখের জয়নাল উঠোনে নেমে বলে, না তো দারোগা সাব। ক্যান, বলেন তো?



তা আছে এ্যাকখান কেস। আইচ্ছা ঠিক আছে, তোমরা ঘরে যাও, আমি দেখতাছি_এই বলে বাগানপথে আসমানির বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে দারোগা। পুলিশের লোক। যে কোনো পরিস্থিতিতে মাথায় চট করে বুদ্ধি এসে যায়। তাই জয়নালের কাছে ধরা খেয়েও দারোগার মাথায় 'ন্যাড়া মাথার ছোকরা' আসতে দেরি হয়নি।



আসমানির সাড়ে পাঁচ বছরের ন্যাংটা ছেলেটা গড়াতে গড়াতে এসে দরজার কাছে ঠেক দিয়ে দাঁড়ায়। জন্ম থেকেই ছেলেটার একটি পা ধনুকের মতো বাঁকা। কথাও ঠিকমতো বলতে পারে না। সারাক্ষণ মুখ দিয়ে লালা পড়ে, শরীরজুড়ে খোস-পাচড়া শুকিয়ে সাপের খোলসের মতো মরা চামড়া সে নখ দিয়ে ইচ্ছামতো খামচায় সারাক্ষণ।



 



ভিজতে ভিজতে বাড়ির দিকে হাঁটা দেয় বাদল দারোগা। বিগড়ে যাওয়া মেজাজ তার বৃষ্টির জলেও শীতল হয় না। অন্ধকারে পথের ধারে ছ-সাত বছরের একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখতে পায়। কাছে যেতেই দারোগাকে দেখে ভয়ে কান্না করে দেয় মেয়েটি। পকেট থেকে একমুঠো চকলেট বের করে চোখের সামনে ধরতেই কান্না ভুলে গিয়ে চকলেটগুলো লুফে নেয় সে।



 



ওর নাম মিনা। মিনার মা মেম্বার বাড়িতে কাজ করে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর রাতের খাবার নিয়ে বাড়ি এলে তারা এক সাথে ভাত খায়। আজ এতো রাতেও মা আসছে না দেখে সে তার মায়ের কাছে যাচ্ছিল। মিনাকে নিয়ে মেম্বার বাড়ি পেঁৗছে যায় বাদল দারোগা।



 



ঘরের ভেতর জরুরি বৈঠক বসেছে। মিনার মা একটি চেয়ারের পায়ের কাছে জড়ো হয়ে বসে আছে। দৃষ্টি তার ভূমির দিকে। সেই দৃষ্টির সাথে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে গায়ের কাপড় ভিজিয়ে ফেলছে সে। মাকে ও রকম অবস্থায় দেখে ভড়কে যায় মিনা। দৃশ্যটি দেখে তার মনে হয়, এই সমাবেশে তার মা একজন আসামি। উপস্থিত লোকগুলা দারোগাকে দেখে খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। মেম্বার বলে, দারোগা সাব আসছেন; এখন আর চিন্তা কী? সে-ই বিচার করুক মিনার মার। চোর-বাটপার নিয়ে কাজ করতে করতে মানুষ চিনতে ভুল হয় না দারোগার। মিনার মায়ের ওপর মিথ্যা অপবাদ সে সহজেই ধরতে পারে। সেই মোতাবেক মীমাংসাও একটা করে দেয়। মেম্বারের কুকীর্তির বহু দলিল দারোগার জানা আছে_সেই কথা মনে করিয়ে দিতেই মেম্বারের হম্বিতম্বি একেবারে থেমে যায়।



 



বৃষ্টি তখন মুষলধারে শুরু হয়েছে। ফোন বাজতে বাজতে ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে কখন যে বন্ধ হয়ে গেছে খবর নেই। বাড়ি পেঁৗছে ক্লান্ত শরীরে অনেকক্ষণ ধরে পানি ঢেলে শীতল হয় বাদল দারোগা। বিশ্রামের ঘরে যেতেই সংসারের ফর্দ নিয়ে হাজির হয় বিন্তীর মা। ক্ষুধার্ত মাছির মতো বিন্তীর মায়ের ঘ্যানরঘ্যানর দারোগার চোখে ঘুম এনে দিতে দেরি করে না।



 



আসমানির খোঁড়া ছেলেটা তার সারা মুখে থু-থু মেরে ছুটে পালাচ্ছে। ছেলেটার পায়ে একদম সমস্যা নেই। তার পেছনে ধাওয়া করতে করতে স্বপ্নটা ভেঙে জেগে উঠে নিজের মুখম-ল মুছতে থাকে দারোগা। না, কোথাও কোনো থু-থু লেগে নেই। তবু ঘিনঘিনে একটা ব্যাপার নিয়ে কলপাড়ে গিয়ে মুখ ধোয়। ফিরে এসে অন্ধকারে ঘুমন্ত বিন্তীর মায়ের নিঃশ্বাস খুঁজে খুঁজে আস্তে করে জাগিয়ে তোলে তাকে। জেগে ওঠে নিজেও।



 



প্রকৃতিতে বৃষ্টি নামে। ঝড়-বৃষ্টি থেমে গেলে ক্লান্ত মানুষেরা ঘুমিয়ে পড়ে নতুন একটি সকালের আশায়। আর দারোগার ক্ষয়ে যাওয়া মন আসমানির উঠোনে আলো খোঁজে অতৃপ্ত নয়নে। যেখানে ভালোবাসার অনুভবেরা দিনের প্রথম সূর্যের মতো রেণু ছড়ায় অন্তরজুড়ে। আত্মিক পুণ্যের গৌরবে জগতের পঙ্কিলতা সেখানে নিরাশ্রয়ে কাঁদে অবিরাম।



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৭৮৩১
পুরোন সংখ্যা