চাঁদপুর, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩ ভাদ্র ১৪২৬, ৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
রুপার ইন্টারভিউ
ফরিদুল ইসলাম নির্জন
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কত দিন পর দেখা হলো রুপার সঙ্গে। তা মনে করতে পারছি না। চোখে চোখ পড়তেই কিছুটা থমকে গেলাম। চিন চিন করে উঠল বুকের ভেতর। ভেতর-বাইর শুরু হলো জ্বলন-পোড়ন। কথা বলব কি-না তা বুঝে ওঠার আগেই সে এলো এগিয়ে। আমাকে বলল, সায়েম তুমি এখানে?



 



আমার ইন্টারভিউ আজ। তোমারও কি তাই?



হ্যাঁ। আমারও তাই। কেমন আছ তুমি?



হ্যাঁ, আমি ভালো আছি।



 



দুজন কথা বলতেই পেছন থেকে বলল, এই রুপা বাবু কান্না করছে। একটু থামিয়ে দাও। আমি চোখ মেলে তাকালাম লোকটির দিকে। ফর্সা গায়ের রঙ। ছয় ফিটের মতো উচ্চতা। মুখ গোলাকার। বুঝতে বাকি রইল না লোকটি রুপার স্বামী। ভদ্রলোকটির কোলে একটি শিশু। তাকাল আমার দিকে। রুপা বলল, আরিয়ান ও আমার ভার্সিটির ক্লাসমেট। পড়াশোনা শেষ করার পর আর দেখা হয়নি। রুপার স্বামী আমার দিকে বাড়িয়ে দিল হাত। আমিও মেলালাম হাত।



রুপার এমন স্বাভাবিক আচরণ আমাকে কিছুটা হলেও পীড়া দিল। মানুষ মানুষকে ভুলে যায়। এভাবে ভুলে যায় সেটা রুপাকে না দেখলে জানতাম না।



 



রুপার সঙ্গে আমার একটা অন্যরকম সম্পর্ক ছিল। যে সম্পর্ক বিয়ে ছাড়া অন্য কিছু ভাবা ছিল কল্পনার বাইরে। আমার পারিবারিক অবস্থা তেমন সুবিধাজনক ছিল না। রুপাই বেশিরভাগ মাসে প্রাইভেটের টাকা পেমেন্ট করত। কোর্সের বই কিনে দিত। ম্যাথ বোঝাত। অনেক সাপোর্ট দিত। আমার পারিবারিক এমন করুণ অবস্থা, রুপা কখনও কিছু বলেনি। সে বরং আমাকে মানসিকভাবে অনেক বোঝাত। কখনও বলত সবার জীবন সব সময় এক থাকে না। মানুষের জীবন পরিবর্তন হয়। মানসিক ও অর্থনৈতিক দুটোই। কিন্তু সেটা সময়ের দাবি। তা ছাড়া আমার পূর্বপুরুষদের বংশক্রমে উন্নতি হয়েছে। যেটা তোমার আমার হবে। আমাদের সব দারিদ্র্য দূর করব দুজনার ভালোবাসায়।



 



রুপার এমন কথায় আমি স্বপ্ন দেখতে থাকি। ঘর বাঁধতে থাকি। মনের আঙিনায় ফুলের বাগান গড়ে তুলি। যে ফুলের বাগানে একটি ফুল তার নাম রুপা। হৃদয়ের হার্ডডিস্কে একটি মাত্র পাসওয়ার্ড তার নাম রুপা। এমন স্বপ্নে যখন বিভোর ইয়ারের শেষ সেমিস্টার। তখন রুপার পাগলামি বেড়ে যায়। এক রাতে ফোন করে আমাকে বলে, তুমি কী আমাকে ভালোবাস?



 



রুপার এমন প্রশ্নে কী উত্তর দেব। তা ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেকটা হৃদয় যাচ্ছিল স্থবির হয়ে। আমি রুপাকে পাল্টা প্রশ্ন করলাম। তাহলো তুমি এমন প্রশ্ন করছ কেন?



সে কথা না বলে সোজা উত্তর চেয়ে বসল।



 



আমি বললাম, এত বছর একসঙ্গে পড়াশোনা করলাম দুজন। কত মায়া দুজনার জন্য। তোমাকে ছাড়া আমি চলতে পারব। অন্য কেউ আমার হবে। এটা কল্পনা করতেও বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে।



 



তোমাকে ছাড়া আমিও বাঁচব না সায়েম। কিন্তু বাবা বা আমার পরিবার তোমার সঙ্গে বিয়ে দেবে না। তাদের কথা ছেলের জব নেই। একই বয়সের। পারিবারিক অবস্থাও খারাপ। তোমাকে এমন কথা বলতে চাইনি। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না। চলো আমরা পালিয়ে বিয়ে করি। ঢাকায় গিয়ে জব করে জীবন পারি দেওয়া যাবে।



 



রুপার এমন প্রস্তাব মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। পারিবারের একমাত্র ভরসা আমি। নিজের সুখের জন্য পরিবারকে বিপদে ফেলা ঠিক হবে না।



 



তুমি কী আমার সঙ্গে যাবে।



রুপা একবার চিন্তা করো।



কোনো চিন্তা নয়।



আমার পক্ষে সম্ভব নয় রুপা।



 



কথাটি বলতেই রুপা হাউমাউ করে কাঁদল। আমাকে প্রতারক, অনেক গালি দিল। আমি হজম করলাম সব। চোখের জলে ভাসিয়ে দিলাম বুক। কিছুক্ষণ পর রুপার নম্বরে ফোন করলাম আর পেলাম না। কয়েকদিন যুদ্ধ করে চললাম। পরে আর কখনও সে যোগাযোগ করেনি। তার নম্বরে অনেক চেষ্টা করেছি। পাইনি তাকে। আমি একটি ব্যাংকে চাকরি করি। আজ বিসিএস ইন্টারভিউ দিতে এসে তার সঙ্গে দেখা। রুপা তার স্বামীর সঙ্গে পরিচয় করানোর পর শিশুটিকে নিয়ে হাঁটতে বলল। নিচে গিয়ে বলল কিছু কিনে দিতে। এর মাঝেই শুরু হলো রুপার ইন্টারভিউ নেওয়া। জীবনের এই অতিবাহিত সময়গুলো পাড়ি দিলাম কেমন করে। নিল তার ইন্টারভিউ। এর মাঝে রুপার চোখে জল আসল। সে অন্যদিক তাকিয়ে জল মোছার চেষ্টা করছে। আমিও সেই সুযোগে চোখটি মুছে ফেলি। আবার শুরু হলো রুপার ইন্টারভিউ...।



 



 



 



 



 



 



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮৬৩০০
পুরোন সংখ্যা