চাঁদপুর, শনিবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৩ ভাদ্র ১৪২৬, ৭ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪০। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিব?


৪১। অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাইবে উহাদের লক্ষণ হইতে, উহাদিগকে পাকড়াও করা হইবে মাথার ঝুঁটি ও পা ধরিয়া।


 


 


 


 


assets/data_files/web

কোনো কোনো সময় প্রকৃতি বিদ্রোহ করলে মানুষ তার সুযোগ গ্রহণ করে। -ইয়ং।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলো মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


ফটো গ্যালারি
আমাদের শহুরে মায়েদের সময়
মেহেরুন নেছা রুমা
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অয়নের মা, তাহার মা, সিয়ামের মা, নাফিসের মা-সন্তানের নামেই তারা পরিচিত এবং সন্তানের জন্যই ব্যয় করেছেন মুঠি মুঠি সময়। বেলা এগারোটায় বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসেন এসব মায়েরা। কারো কারো স্কুলের আগে বা পরে কোচিং থাকলে সেভাবেই আসতে হয় তাদের। স্কুল ছুটি হয় বিকেল পাঁচটায়। উইলস লিটল স্কুলের অভিভাবক ছাউনিতে শুধু দিবা শাখায়ই বসে থাকেন প্রায় হাজার তিনেক 'মা'। তারা বসে-দাঁড়িয়ে দলে দলে বিভক্ত হয়ে আড্ডা, ফোনে কথোপকথন, ফেসবুকিং,পরচর্চা, রূপচর্চা, খানাপিনা এসব নিয়েই কাটিয়ে দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক মাকে দেখা যায় বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করছেন, কেউ বা ছেলেমেয়ের ক্লাসের বা কোচিংয়ের পড়াগুলো অন্যের খাতা দেখে তুলে নিচ্ছেন। দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেলে কেউ কেউ বাড়ি থেকে নিয়ে আসা ভাত-তরকারি বের করে খাচ্ছেন, কেউ নামাজ পড়ছেন, কেউবা অলস দুপুরে মুঁদে আসা চোখের পাতা বন্ধ করে অন্যের কোলে ঢলে পড়ছেন, উঁকুন বাছছেন। এদের আবার নানারকম উৎসব আছে, যা তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে বানিয়ে নেয়। একেক দিন একেক জন মা সবার জন্য খাবার নিয়ে আসে। আবার কারো বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন থাকলে উপহারের আদান-প্রদান চলে। এসব নিয়ে রমরমাই কেটে যায় তাদের সময়গুলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি প্লাস্টিকের মোড়ায় বসে বা মাদুর কিংবা খবরের কাগজ বিছিয়ে তাদের আড্ডা চলে। অসহনীয় গরমে কেউ অসুস্থ হয়ে যান। বিরামহীন কথোপকথনে চারদিক গমগম করে। একটানা অতিশব্দের মধ্যে থেকে তাদের শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাস পায়, মাথাব্যথায় কাতরাতেও দেখা যায়। সেই শব্দ সহ্য করতে করতে এসব মা ঘরে গিয়ে আর নিম্নস্বরে কথা বলতে পারেন না। বাচ্চা, স্বামী, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন, সারাদিন ওই পরিবেশে থেকে তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। তাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রকাশ পায়। পরচর্চায়, পরনারী কিংবা পরপুরুষেও আসক্ত হয়ে যান খুব সহজেই।



 



মায়মুনা একজন এলএলবি ডিগ্রিধারী মা। বিয়ের পর কিছুদিন প্রাকটিস করলেও ওয়াসিফ হওয়ার পর একেবারে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। নাফিজকে স্কুলে ভর্তি করানোর পর নিপা ভুলে গেছেন সেও একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। এমনকি নিজের হাতের লেখাটাও এখন ভুলতে বসেছেন তিনি। বললেন, আমি এখন সেভাবেই লিখি যেভাবে আমার বাচ্চাকে লিখতে হয়, সেসবই পড়ি যা আমার বাচ্চাকে পড়াতে হয়।



 



সিয়ামের মা লিপিকা ভাবিদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। সেজেগুজে স্কুলে আসেন রোজ। দামি ফোন, দামি গহনা, পোশাকের বাহার দিয়ে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণে তার পরিশ্রমের অন্ত নেই। স্কুলের গেটেই নানা ধরনের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন দোকানিরা। এসব মায়ের ভিড় সেখানে লেগেই থাকে। স্কুল এলাকার আশপাশের বিউটি পারলার এবং শপিংমলগুলোতে এই মায়েদের স্বাধীন বিচরণ। যারা হস্তশিল্প তৈরি করছেন তাদের হাত এবং মুখ একই সঙ্গে চলে। মুখে গল্প হাতে কাজ। প্রতিদিনই কিছু না কিছু তৈরি করছেন তারা। এসব মায়ের মধ্যে শিক্ষিত মায়ের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তবু সন্তানের পাহারাদার হয়ে দিনের পর দিন এরা নিজেদের সময় এবং শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। যে শ্রমের কোনো মূল্যায়ন নেই, মজুরি নেই। এটাই যেন তাদের কাজ। হিসাব করলে দেখা যায় প্রতিটি মা বছরে কত কত ঘণ্টা ব্যয় করেছেন এভাবে স্কুলের অভিভাবক ছাউনিতে আড্ডা দিয়ে! এদের মধ্যে ভালো কাজে ব্যস্ত থাকার সংখ্যা একেবারেই কম। খুব কম সংখ্যক নারীকেই দেখা যায় খবরের কাগজ কিংবা বই পড়তে। কেন জীবনের এই মূল্যবান সময়গুলো এভাবে ব্যয় করছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, উপায় কি? বাচ্চাকে স্কুলে দিতে হলে নিজেকেই তো নিয়ে আসতে হবে। কারো কারো বাসা দূরে থাকার কারণে বাচ্চা দিয়ে বাসায় গিয়ে আবার ফিরে আসতে আসতে সময় এবং যাতায়াত খরচও ব্যয় হয় অনেক। সবদিক ভেবে তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের এভাবেই সপে দিয়েছেন। অনেক ক্ষতি হলেও তারা সন্তানের স্বার্থে অন্য সবকিছুকে বাদ দিয়েছেন। আর এখানে খুঁজে নিয়েছেন সময় কাটানোর নানান উপায়। মানুষ হিসেবে সবারই নিজের ইচ্ছাগুলো বাস্তবায়নের অধিকার আছে। কিন্তু আমাদের এই শহুরে মায়েদের অর্জন কি? এতটা সময় যদি ভালো একটি বইও তারা পড়তেন তাহলেও তাদের মেধা এবং মননে জং ধরে যেত না। তাদের নীতি-নৈতিকতার পতন হতো না। কিন্তু ওই পরিবেশে যেন লোভনীয় আড্ডার থেকে বই পড়াটা শোভনীয় নয়। এভাবেই দিনের বৃহদাংশ, একসময় জীবনের অনেকটা সময় তারা পার করে দেন স্কুল ছাউনির উদ্দেশ্যহীন আড্ডার মাঝে। এরাও এক সময় ওই রকম স্কুলের মেধাবী ছাত্রীটি ছিলেন, তাদেরও কিছু স্বপ্ন ছিল! আজ পরিস্থিতি বলে দেয়, এরই নাম জীবন।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯৭৩৯৮
পুরোন সংখ্যা