চাঁদপুর, শনিবার ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫২। উহাদের সমস্ত কার্যকলাপ আছে আমলনামায়,


৫৩। আছে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ।


৫৪। মুত্তাকীরা থাকিবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে,


৫৫। যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সানি্নধ্র্যে।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
ছায়ার কাছে হেরে যাওয়া প্রেমিক
সোহেল নওরোজ
২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


(গত সংখ্যাার পর)



কয়েক দিন যাবৎ একটা বিষয় লক্ষ করছে মাইশা। তাকে এড়িয়ে চলতে চাইছে রাশিক। তার দিকে সেভাবে আর তাকাচ্ছে না। চোখে চোখ পড়লেও দৃষ্টি নামিয়ে নিচ্ছে। কথাও বলছে না তেমন। ফোন রিসিভ করলেও ব্যস্ততার অজুহাতে রেখে দিচ্ছে। দেখা হলে কাজের দোহাই দিয়ে সরে পড়ছে। হঠাৎ কী এমন হলো যার জন্য এভাবে বদলে যাবে রাশিক! আগে কখনো এতটা নিষ্প্রভ দেখেনি তাকে।



সে কি এমন কিছু করেছে, যাতে কষ্ট পেয়ে দূরে সরে যাবে! হিসাব মেলাতে পারে না। যত সময় গড়াচ্ছে রাতগুলোকে দীর্ঘ মনে হচ্ছে। দীর্ঘ সে রাত নির্ঘুমতার যন্ত্রণা দিয়ে মাইশাকে পোড়াচ্ছে। বদলে যাওয়ার এ অধ্যায় কখনোই প্রার্থিত ছিল না তার।



ছুটির দিন। সারা রাত জেগে থাকার পর ভোরবেলায় ঝিমুনি আসতেই মাইশার ফোন বেজে ওঠে। রাশিকের মেসেজ! বিকেলে দেখা করবে বলে জানিয়েছে। মাইশার মনটা খুশিতে নেচে ওঠে। দুপুরের পর থেকেই সাজতে বসে। গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরেছে। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে টিপ লাগিয়েছে। চুড়ি আর জুতাতেও নীলের ছাপ আছে। নীল-সাদা ব্যাগটা হাতে নিয়ে বের হয় মাইশা। আজকের আকাশকে ঠিক শরতের আকাশ মনে হচ্ছে না। নীল আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ানোর কথা। অথচ ধূসর আকাশে ছোপ ছোপ ছাইরঙা মেঘ ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাতাসও বইছে না তেমন। রাশিক তাকে নিয়ে নদীর ধারে গিয়ে বসে। শুভ্র কাশফুলের সারি পেছনে রেখে একটু আড়াল হয়ে। যেন কেউ দেখলেই বিপদ! মাইশার ভালো লাগে না ব্যাপারটা।



'এতটা আড়ালে বসেছ, মনে হচ্ছে আমরা পালিয়ে দেখা করতে এসেছি!'



একটু সময় নেয় রাশিক। আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা কথাগুলো বললেই শুধু হবে না, মাইশাকে বুঝিয়ে রাজি করাতে হবে।



'আমাদের সম্পর্কটা আর টেনে নেওয়া যাবে না। এখানেই থেমে যেতে হবে।'



'এ কথা কেন বলছো? কী হলো হঠাৎ?'



'কোনো ব্যাখ্যা দেব না, তবে এটাই আমাদের জন্য ভালো হবে।'



'তুমি আমার কাছ থেকে কিছু একটা লুকাচ্ছ। আমি সব শুনব।'



রাশিকের মুখ মলিন আকাশের চেয়েও বেশি ফ্যাঁকাসে। হাতে ধরা পত্রিকাটা মাইশার দিকে বাড়িয়ে দেয়।



'এই খবরটা পড়।'



মাইশা শিরোনামে চোখ বুলিয়েই রেখে দেয়। সম্ভ্রম হারানো তরুণীর আত্মহত্যার খবর।



'প্রতিদিনই এমন সংবাদ ছাপা হয়। এর সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক?'



'বেশ কয়েক দিন থেকেই আমি একটা ছায়া দেখছি। ছায়াটার অনেক ক্ষমতা। যার একটা রূপ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বাকিগুলো হয়তো আড়ালেই থেকে যাবে। ছায়াটা আমার পিছু নিয়েছে। আমাকে বাগে আনতে না পেরে দুর্বল জায়গাগুলো খুঁজে বের করছে। সুযোগ পেলেই সেখানে আঘাত করবে। অনেক ভেবে দেখলাম তুমি ছাড়া এখানে আমার তেমন আর কেউ নেই। আমার কারণে তোমার সামান্য ক্ষতিও মেনে নিতে পারব না।'



'তাই বলে এভাবে পরাজয় মেনে নেবে?'



'এটা বিজয়ী হওয়ার সময় নয়। বাস্তবতাটাই এমন। এ সময় প্রেমিককে সাহসী হতে দেয় না। প্রেমিকাকে আবেগের বদলে হিসাবি হতে বলে। না হলে পরিণাম হয় ভয়াবহ।'



'তারপরও...।'



'এবার না হয় আমি ছায়ার কাছে হেরে দূরে সরে যাই! নিয়তি চাইলে আবার ফিরে আসব।'



মাইশা কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায়। থেমে থাকা প্রকৃতি একটু নড়েচড়ে ওঠে। মৃদু বাতাস বইতে শুরু করেছে। তাতে মেঘগুলো অলস ভঙ্গিতে সরে যাচ্ছে। কাশফুলগুলো দুলে দুলে উঠছে। একে অন্যকে ছুঁয়ে দেখার অবাধ অধিকার প্রকৃতি কাশফুলকে দিয়েছে, সামনে বসে থাকা দুজন মানুষকে দেয়নি।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯৬৭০৪
পুরোন সংখ্যা