চাঁদপুর, শনিবার ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চাঁদপুর জেলা লকডাউন ঘোষণা করলেন জেলা প্রশাসক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫২। উহাদের সমস্ত কার্যকলাপ আছে আমলনামায়,


৫৩। আছে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ।


৫৪। মুত্তাকীরা থাকিবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে,


৫৫। যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী আল্লাহর সানি্নধ্র্যে।


 


 


assets/data_files/web

আমার নিজের সৃষ্টিকে আমি সবচেয়ে ভালোবাসি।


-ফার্গসান্স।


 


 


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


 


ফটো গ্যালারি
বর্ষাপ্রহর
সাদিয়া আফরোজ নাবিলা
২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কলেজ ছুটি হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। সামান্য হেঁটে গিয়ে যে রিক্শা নিবে সেই সময়টুকুও হয়নি, তার আগেই ঝুম বৃষ্টি নেমে এলো শহরজুড়ে। আজ সাথে বান্ধবীরাও নেই কেউ। কিছুটা শঙ্কিত বোধ করে মেয়েটি। বোরকার পাশ গুটিয়ে নিয়ে খানিক দৌড়ে পাশের দোকানটায় ঢুকে পড়ে। বর্ষাপ্রহর শেষের প্রার্থনা করতে থাকে সে প্রাণপণে।



আফরিন, তুমি! ভরদুপুরে এভাবে ওকে দোকানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয় রানা।



-এতোক্ষণে তোমার সময় হলো? কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি।



-আচ্ছা ওয়েট, আমি রিক্শা নিয়ে আসছি।



এরই মধ্যে দোকানের ভেতরটা ভালো করে দেখে নেয় আফরিন। এতোক্ষণে যেনো কিছুটা সাহস পেলো পেছন ফিরে তাকাবার। চাদরাবৃত আকরাম চাচা তখনো ঘুমুচ্ছে। এই দোকানে চুরির ভয় নেই এমনটাই তার বিশ্বাস। ছোট থেকেই যেখানে বেড়ে ওঠা সেখানে তিনিই তো সর্বেসর্বা। তাছাড়া বর্ষাস্নাত এই দুপুরে বৃষ্টি দেখতে দেখতে ঘুমানোর মজাটাই অন্যরকম। সামান্য কটুগন্ধও আসছে দোকানের ভেতর থেকে। ক্রমাগত তা বেড়েই চলছে। ড্রাগস্ নাতো! ওর ভেতরটা অজানা ভয়ে অাঁতকে উঠে।



রানা এখনো আসছে না কেনো? ভয় দূর করতে ও দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করে। দোকানের বিপরীত গলির প্রথমেই টিনের চালার একটা ঘর দেখতে পায় আফরিন। ঘরের দুটো শিশুকে মেঝেতে বসে খেলতে দেখা যাচ্ছে। টিনের ফুটো গলে বৃষ্টির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে মেঝেতে। বাচ্চা দুটো খুব আগ্রহে হা করে আছে বৃষ্টির ফোঁটা ওদের মুখে পড়বে বলে! বাকি দৃশ্য দেখার আগেই জেগে ওঠে দোকানি। চাদর সরিয়ে কুৎসিত এক হাসি দিয়ে ওর দিকে তাকায়। লোকটির দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হতে ভুলে যায় আফরিন। দোকানির চেয়ারে বসে থাকা লোকটি তো আকরাম চাচা নন!



 



দুই



রানা অবাক হয়ে বলে, কী ব্যাপার? চলে এলে যে? কোনো সমস্যা?



-না। রিক্শা নাও।



-রিক্শা তো পাচ্ছি না। বৃষ্টির জন্যে...কথা শেষ না হতেই আফরিন বলে, তাহলে চলো হেঁটেই যাই। বৃষ্টি তো কমে গেছে। এই বলে আর অপেক্ষা না করেই হাঁটতে থাকে আফরিন। রানার কণ্ঠে উদ্বেগ।



-আমার কিছু কাজ ছিলো আফরিন। এ এরিয়ায় আকরাম নামে একজন লোক খুন হয়েছে গত রাতে। পেশায় মুদি দোকানি। তার দোকানটা খুঁজে বের করতে হবে আজই। হেড অফিসারের অর্ডার। তোমাকে...



কথার মাঝেই ওকে থামিয়ে দিলো আফরিন।



-কী বললে? আকরাম চাচা খুন হয়েছেন? ঠিক শুনেছো তো?



রানা শান্ত কণ্ঠে বললো, তুমি চেনো উনাকে? বৃষ্টির ঝরঝর শব্দে এই প্রশ্ন শুনতে পায় না আফরিন। ও তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে। যেখান থেকে অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে বৃষ্টিকণা, যার সমাপ্তি ঘটে মাটির স্পর্শে। বৃষ্টির সাথে মানুষের মিল কি এখানেই?



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৪৫১১০
পুরোন সংখ্যা